24/02/2026
ভার্চুয়াল অটিজম কি?
অনেক বাবা–মা আজকাল একটি শব্দ শুনছেন “ভার্চুয়াল অটিজম”। এটি কোনো অফিসিয়াল মেডিকেল ডায়াগনোসিস নয়, তবে শিশুর অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে অটিজমের মতো কিছু আচরণ দেখা গেলে আমরা এভাবে বুঝিয়ে থাকি। অর্থাৎ শিশুটি জন্মগতভাবে অটিজমে আক্রান্ত নয়, কিন্তু দীর্ঘ সময় মোবাইল, ট্যাব বা টিভিতে একা একা ডুবে থাকার ফলে তার সামাজিক যোগাযোগ, ভাষা এবং আচরণে সমস্যা দেখা দেয়।
ধরুন, দুই বছরের একটি শিশু। সারাদিন বাসায় মোবাইল হাতে বসে কার্টুন দেখে। তাকে নাম ধরে ডাকলে তাকায় না। মা কিছু চাইলে চোখে চোখ রেখে বলে না, শুধু হাত ধরে টেনে নিয়ে যায়। বাইরে পার্কে নিয়ে গেলে অন্য বাচ্চাদের সাথে খেলতে আগ্রহ দেখায় না। কিন্তু মোবাইল দিলে হঠাৎ শান্ত হয়ে যায়। অনেক সময় বাবা–মা ভাবেন, ও তো মোবাইলে সব বুঝে! নিশ্চয়ই সমস্যা নেই। আসলে এখানেই ঝুঁকি।
স্ক্রিনের দুনিয়ায় শিশুকে কোনো পরিশ্রম করতে হয় না। কথা বলতে হয় না, অপেক্ষা করতে হয় না, কারও মুখের অভিব্যক্তি বুঝতে হয় না। ফলে বাস্তব জীবনের যোগাযোগ দক্ষতা তৈরি হওয়ার সুযোগ কমে যায়। এভাবে ধীরে ধীরে ভাষা দেরি, চোখে চোখ না রাখা, নিজের জগতে ডুবে থাকা, নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া, ইশারা বা শব্দ দিয়ে চাহিদা প্রকাশ না করা এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এগুলো অনেক সময় অটিজমের মতো মনে হয়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভার্চুয়াল অটিজমের ক্ষেত্রে যখন স্ক্রিন টাইম কমানো হয় এবং শিশুকে বেশি সময় বাস্তব খেলা, গল্প, কথা বলা, বাইরে ঘোরানো, সমবয়সী শিশুদের সাথে মেশানো হয়, তখন অনেক শিশুর উন্নতি দ্রুত দেখা যায়। কারণ সমস্যা ছিল পরিবেশগত, জন্মগত নয়।
প্যারেন্টসদের জন্য সবচেয়ে বড় পরামর্শ হলো, দুই বছরের নিচে শিশুদের স্ক্রিন একেবারে না দেওয়া এবং দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের ক্ষেত্রেও সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন ব্যবহার নিশ্চিত করা। চুপ করানোর ওষুধ হিসেবে মোবাইল ব্যবহার করবেন না। শিশুটি যদি কান্না করে, জিদ করে, তাহলে তাকে সময় দিন, কথা বলুন, কোলে নিন, খেলায় যুক্ত করুন। বাস্তব যোগাযোগই ভাষা শেখার সবচেয়ে বড় মাধ্যম।
প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শিশুর সাথে ফ্লোরে বসে খেলুন। রান্নাঘরে ছোট কাজ করতে দিন, ব্লক দিয়ে টাওয়ার বানান, বইয়ের ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন করুন। এটা কি? বিড়ালটা কি করছে? বাইরে নিয়ে গিয়ে গাছ, গাড়ি, মানুষ দেখিয়ে কথা বলুন। শিশুর সাথে কথা বলা মানেই শুধু শব্দ শেখানো নয়, সম্পর্ক গড়া।
যদি দেখেন দুই বছর বয়সেও শিশু কথা বলছে না, নাম ধরে ডাকলে সাড়া দিচ্ছে না, চোখে চোখ রাখছে না—তাহলে দেরি না করে একজন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট বা শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। অপেক্ষা করলে ঠিক হয়ে যাবে এই ভরসায় সময় নষ্ট করবেন না। শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো প্রথম পাঁচ বছর। এই সময় সঠিক পদক্ষেপই তার ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।
ইকরা আর্লি লার্নিং সেন্টার এবং ডে-কেয়ার
আয়েশা প্যালেস ২১/৭,৩য় লেন, গোপীবাগ, ঢাকা - ১২০৩
০১৬৭৭২১৫৭৩৯ ; ০১৭৬৮৬০০১৫৫