01/03/2026
সাদ্দাম হোসেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি কিংবা ওমর আল-বশির—এক সময়ের দাপুটে এই শাসকদের পতনের ইতিহাস আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট প্রশ্ন রেখে যায়।
পশ্চিমা শক্তিগুলো বহু সময় “রেজিম চেঞ্জ” বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়েছে। কিন্তু সেই পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র কী হয়েছে, তা দেখতে হলে আজকের ইরাক, লিবিয়া ও সুদানের দিকে তাকালেই যথেষ্ট।
সাদ্দাম ও গাদ্দাফিকে শুধু ক্ষমতা থেকে সরানো হয়নি; নিজ দেশেই অপমানজনক পরিণতি হয়েছে তাদের। কিন্তু প্রশ্ন হলো—সেই পরিবর্তন কি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা এনেছে?
🔹 লিবিয়া: গাদ্দাফির আমলে আফ্রিকার অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। আজ দেশটি বিভক্ত, নানা সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তার স্পষ্ট।
🔹 ইরাক: সাদ্দাম-পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ অস্থিরতা, উগ্রবাদ ও সহিংসতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে দেশটিকে।
🔹 সুদান: বশিরের পতনের পর গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা থাকলেও দেশটি এখন গভীর রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটে জর্জরিত।
প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটি বিষয় স্পষ্ট—বাইরের হস্তক্ষেপে আসা তথাকথিত “মুক্তি” অনেক সময় নতুন অনিশ্চয়তা ও দুর্বলতার জন্ম দেয়। সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি মূল্য চুকায়।
আজ যখন ইরানসহ বিভিন্ন দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তখন এসব ঐতিহাসিক উদাহরণ বিবেচনায় রাখা জরুরি। একটি দেশের পরিবর্তন হওয়া উচিত তার জনগণের নিজস্ব প্রজ্ঞা, বাস্তবতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে—কোনো বিদেশি এজেন্ডার ছায়ায় নয়।
আবেগ নয়, প্রয়োজন দূরদর্শিতা। কারণ স্থিতিশীলতা হারানো খুব সহজ, কিন্তু ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ে তোলা—তা প্রজন্মের পর প্রজন্মের সংগ্রাম।