18/11/2025
📢 জরায়ু ক্যান্সার: নীরব ঘাতক নয়, সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য! 🛡️
মহিলাদের মধ্যে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো জরায়ু ক্যান্সার (Cervical Cancer)। তবে এটি এমন একটি ক্যান্সার যা টিকা (Vaccine) এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের (Screening) মাধ্যমে ৯০%-এরও বেশি ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করা সম্ভব! সচেতন হোন এবং সঠিক পদক্ষেপ নিন।
জরায়ু ক্যান্সার কী? (What is Cervical Cancer?)
জরায়ু ক্যান্সার হলো জরায়ুমুখের (Cervix) কোষগুলিতে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট ক্যান্সার। জরায়ুমুখ হলো জরায়ুর নিচের অংশ যা যোনিপথের সাথে যুক্ত থাকে। সাধারণত, জরায়ুমুখের স্বাস্থ্যকর কোষগুলিতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে শুরু করে, যা একসময় ক্যান্সারে রূপান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়াটি বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে।
কেন হয় জরায়ু ক্যান্সার? (Why does Cervical Cancer happen?)
জরায়ু ক্যান্সারের প্রায় ৯৯% ক্ষেত্রে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) নামক একটি সাধারণ ভাইরাসের সংক্রমণ দায়ী। HPV একটি যৌনবাহিত ভাইরাস, যার অনেক রকম স্ট্রেন আছে। কিছু নির্দিষ্ট উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ HPV স্ট্রেন (যেমন HPV 16 এবং HPV 18) জরায়ুমুখের কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটায়, যা ক্যান্সারের দিকে নিয়ে যায়।
🦠 প্রধান কারণ ও ঝুঁকির কারণসমূহ: (Causes & Risk Factors)
HPV সংক্রমণ: এটিই প্রধান কারণ। অনিরাপদ যৌন মিলন বা একাধিক যৌন সঙ্গীর ক্ষেত্রে HPV সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
কম বয়সে যৌন সম্পর্ক শুরু করা: অল্প বয়সে যৌন সম্পর্ক শুরু করলে জরায়ুমুখের কোষগুলি বেশি সংবেদনশীল থাকে, যা HPV সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
একাধিক যৌন সঙ্গী: নিজের বা সঙ্গীর একাধিক যৌন সঙ্গী থাকলে HPV সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: HIV/AIDS আক্রান্ত ব্যক্তি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে HPV সংক্রমণ ক্যান্সারে রূপান্তরের ঝুঁকি বেশি থাকে।
ধূমপান: ধূমপান জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, কারণ এটি জরায়ুমুখের কোষকে HPV সংক্রমণের প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
দীর্ঘদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ব্যবহার: ১০ বছরের বেশি সময় ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ব্যবহার করলে ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে, তবে এটি বিতর্কের বিষয়।
একাধিক সন্তান জন্মদান: এটিও একটি সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
🛑 জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ: (Symptoms)
প্রাথমিক পর্যায়ে জরায়ু ক্যান্সারের সাধারণত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। লক্ষণগুলো সাধারণত তখনই দেখা যায় যখন ক্যান্সার একটু অগ্রসর হয়।
অস্বাভাবিক যোনি রক্তপাত:
মাসিকের মাঝামাঝি সময়ে বা অনিয়মিত রক্তপাত।
যৌন মিলনের পর রক্তপাত।
মেনোপজের পর রক্তপাত।
অস্বাভাবিক যোনি স্রাব: দুর্গন্ধযুক্ত, পাতলা, জলীয়, বা রক্ত মিশ্রিত স্রাব।
তলপেটে বা শ্রোণী অঞ্চলে ব্যথা: পেটের নিচের অংশে বা কোমরের নিচের দিকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা অস্বস্তি।
যৌন মিলনের সময় ব্যথা বা অস্বস্তি।
উন্নত পর্যায়ে: প্রস্রাবে রক্ত, পায়ুপথে রক্ত, পা ফুলে যাওয়া, ওজন হ্রাস, ক্লান্তি ইত্যাদি।
✅ প্রতিরোধ ও প্রতিকার: (Prevention & Treatment)
প্রতিরোধ (Prevention):
HPV টিকা (HPV Vaccine): ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর। প্রাপ্তবয়স্করাও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই টিকা নিতে পারেন। এটি HPV-এর উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্ট্রেনগুলির সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।
নিয়মিত স্ক্রিনিং (Regular Screening):
প্যাপ স্মিয়ার (Pap Smear): ২১ বছর বয়স থেকে শুরু করে প্রতি ৩ বছর অন্তর এই পরীক্ষা করানো উচিত (যদি ফল স্বাভাবিক থাকে)। এটি জরায়ুমুখের কোষের অস্বাভাবিক পরিবর্তনগুলি (Pre-cancerous changes) শনাক্ত করে।
HPV DNA Test: ৩০ বছর বয়স থেকে প্যাপ টেস্টের সাথে HPV টেস্ট করানো যেতে পারে, যা ৫ বছর অন্তর করা হয়।
নিরাপদ যৌন সম্পর্ক: কনডম ব্যবহার HPV সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
ধূমপান ত্যাগ: ধূমপান বর্জন জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
✅ চিকিৎসা (Treatment):
জরায়ু ক্যান্সারের চিকিৎসা ক্যান্সারের পর্যায়, রোগীর বয়স এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে। প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি হলো:
সার্জারি: প্রাথমিক পর্যায়ে জরায়ুমুখের অস্বাভাবিক কোষ বা জরায়ুর অংশবিশেষ অপসারণ করা।
রেডিয়েশন থেরাপি: উচ্চ-শক্তির রশ্মি ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষগুলিকে মেরে ফেলা।
কেমোথেরাপি: ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার জন্য ওষুধ ব্যবহার করা।
টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি: কিছু নির্দিষ্ট উন্নত ক্ষেত্রে এই ধরনের থেরাপি ব্যবহার করা হয়।
নিজের যত্ন নিন, সচেতন হোন এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার একটি সিদ্ধান্ত আপনার জীবন বাঁচাতে পারে ।
Copy from online.