Dr. Muhammad Abdur Razzak, Kidney Doctor

Dr. Muhammad Abdur Razzak, Kidney Doctor Dr. Muhammad Abdur Razzak, MBBS, MD, FASN. Clinical Fellow of Nephrology, Temerty Faculty of Medicine, University of Toronto, Canada (July, 2022-June, 2024).

Physician, General & TRANSPLANT Nephrologist. I am a physician and a kidney specialist, Transplant Nephrology is my passion ! আমি একজন চিকিত্সক এবং একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ, ট্রান্সপ্লান্ট নেফ্রোলজি আমার আবেগ!

22/01/2026

ওই প্রায় ১৮০ লিটার ফিল্ট্রেট থেকে কিডনি পুনঃশোষণের পর প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১–২ লিটার মূত্র (ইউরিন) তৈরি হয়।
www.drabdurrazzak.com

দৈনিক কিডনিতে রক্তপ্রবাহ ≈ ১৭০০ লিটার/দিন (প্রায় ২০–২৫% কার্ডিয়াক আউটপুট)।
21/01/2026

দৈনিক কিডনিতে রক্তপ্রবাহ ≈ ১৭০০ লিটার/দিন (প্রায় ২০–২৫% কার্ডিয়াক আউটপুট)।

Consult with a leading nephrologist and kidney transplant specialist in Dhaka. Advanced kidney disease diagnosis, dialysis support, and long-term renal care.

Interpretation of LFTs:
21/01/2026

Interpretation of LFTs:

রমজান মাসে রোজা: কিডনি রোগীদের জন্য খাদ্যাভ্যাস, পানি গ্রহণ, ওষুধ-সমন্বয়এবং কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের ইমিউনোসাপ্রেসি...
20/01/2026

রমজান মাসে রোজা: কিডনি রোগীদের জন্য খাদ্যাভ্যাস, পানি গ্রহণ, ওষুধ-সমন্বয়

এবং কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ ব্যবস্থাপনা

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের সময়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজা মানে হলো দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, পানি গ্রহণ সীমিত হওয়া এবং খাবার ও ওষুধের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন। সুস্থ মানুষের শরীর সাধারণত এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে পারলেও, যাদের কিডনি রোগ রয়েছে—যেমন ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD), ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপজনিত কিডনি সমস্যা, ডায়ালাইসিসে না থাকা কিডনি রোগী কিংবা কিডনি ট্রান্সপ্লান্টপ্রাপ্ত রোগী—তাদের জন্য রোজা রাখা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত।

ভুল খাদ্যাভ্যাস, পানিশূন্যতা অথবা ওষুধের সামান্য অনিয়মও এই রোগীদের ক্ষেত্রে কিডনির কার্যকারিতা হঠাৎ খারাপ করে দিতে পারে। বিশেষ করে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের ক্ষেত্রে ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধের একটি ডোজও বাদ পড়া মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

রোজার সময় কিডনি রোগীদের শরীরে কী পরিবর্তন ঘটে

রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ পানি না খেলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। এতে রক্ত ঘন হয়ে যায়, কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে এবং ক্রিয়াটিনিন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও অন্যান্য ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যা দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, রক্তচাপের অস্বাভাবিক ওঠানামা কিংবা হৃদস্পন্দনের সমস্যার কারণ হতে পারে।

রমজানে অনেক সময় ইফতারে অতিরিক্ত লবণ, তেল ও মিষ্টি খাবার গ্রহণ করা হয়, যা কিডনি রোগীদের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

রমজানে খাদ্যাভ্যাস: কিডনি রোগীদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা

সেহরি

সেহরি কিডনি রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কখনোই বাদ দেওয়া উচিত নয়। সেহরি বাদ দিলে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা ও রক্তচাপের সমস্যা দ্রুত দেখা দিতে পারে।

সেহরিতে এমন খাবার থাকা উচিত যা ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়। আটা রুটি, লাল চালের ভাত বা ওটসের মতো জটিল কার্বোহাইড্রেট উপযোগী। মাঝারি পরিমাণ প্রোটিন যেমন ডিম, মাছ, মুরগি বা ডাল প্রয়োজন, তবে অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনির ওপর চাপ ফেলতে পারে। সবজি ও শাক ফাইবার সরবরাহ করে এবং হজমে সহায়তা করে।

অতিরিক্ত লবণ, আচার, ঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার এড়ানো জরুরি, কারণ এগুলো তৃষ্ণা বাড়ায়। চা ও কফি প্রস্রাব বাড়াতে পারে, তাই সেহরিতে এগুলো সীমিত রাখা ভালো।

ইফতার

দীর্ঘ সময় রোজার পর হঠাৎ অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। ইফতারে প্রথমে পানি ও এক থেকে দুইটি খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা ভালো। এরপর কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে হালকা খাবার এবং পরে পরিমিত রাতের খাবার গ্রহণ করা উচিত।

ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মিষ্টি, শরবত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত রাখা প্রয়োজন, কারণ এগুলো রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও শরীরের ওজন বাড়িয়ে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

পানি গ্রহণ: কিডনি রোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ডায়ালাইসিসে না থাকা অধিকাংশ কিডনি রোগীর জন্য ইফতার থেকে সেহরির মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। তবে পানি একবারে অনেক না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার পান করা ভালো।

যাদের শরীরে পানি জমার প্রবণতা, ফোলা, হার্ট ফেইলিউর বা অগ্রসর কিডনি রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পানি গ্রহণের পরিমাণ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

রমজানে ওষুধ-সমন্বয়ের সাধারণ নীতিমালা (সব কিডনি রোগীর জন্য)

রমজানে ওষুধ কখনোই নিজ ইচ্ছায় বন্ধ করা যাবে না। প্রয়োজনে কেবল সময় পরিবর্তন করা যায়, ডোজ বাদ দেওয়া যাবে না।

সাধারণভাবে
দিনে একবার খাওয়ার ওষুধ ইফতারে নেওয়া যায়।
দিনে দুইবার খাওয়ার ওষুধ ইফতার ও সেহরিতে ভাগ করে নেওয়া যায়।
দিনে তিনবার বা তার বেশি ডোজের ওষুধ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ।

কিডনি রোগীদের সাধারণ ওষুধ এবং রমজান

উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ

অধিকাংশ রক্তচাপের ওষুধ ইফতারে নেওয়া যায়। প্রস্রাব বাড়ায় এমন ওষুধ (ডাইইউরেটিক) সেহরিতে নিলে পানিশূন্যতা ও মাথা ঘোরা হতে পারে, তাই অনেক সময় এগুলোর সময় পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।

ডায়াবেটিসের ওষুধ

ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে রোজা রাখার ঝুঁকি বেশি। মেটফরমিন অনেক রোগীর ক্ষেত্রে নিরাপদ হলেও কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে ডোজ সমন্বয় দরকার। ইনসুলিন ও সালফোনাইলইউরিয়া ব্যবহারে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই রক্তে শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

ব্যথানাশক ও অন্যান্য ওষুধ

নিজ ইচ্ছায় ব্যথানাশক, বিশেষ করে NSAIDs, কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর এবং রমজানে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের জন্য বিশেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ: ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ

কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীরাও কিডনি রোগীদের একটি বিশেষ ও সংবেদনশীল শ্রেণি। প্রতিস্থাপিত কিডনিকে শরীর স্বাভাবিকভাবে “বিদেশি অঙ্গ” হিসেবে চিহ্নিত করে আক্রমণ করতে চায়। ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ এই আক্রমণ দমন করে কিডনিকে বাঁচিয়ে রাখে।

এই ওষুধগুলোর একটি ডোজও বাদ পড়লে হতে পারে
একিউট রিজেকশন,
ক্রিয়াটিনিন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া,
এবং দীর্ঘমেয়াদে গ্রাফট নষ্ট হয়ে যাওয়া।

Tacrolimus বা Cyclosporine

এই ওষুধগুলো সাধারণত দিনে দুইবার নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে খেতে হয়। রমজানে একটি ডোজ ইফতারে এবং অন্যটি সেহরিতে নেওয়া যায়। ডোজের মধ্যবর্তী সময় যতটা সম্ভব সমান রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানিশূন্যতা হলে এসব ওষুধের রক্তমাত্রা বেড়ে টক্সিসিটি হতে পারে।

Mycophenolate mofetil বা Mycophenolic acid

এই ওষুধ সাধারণত দিনে দুইবার নেওয়া হয় এবং ইফতার ও সেহরিতে খাওয়া যায়। খাবারের সাথে নিলে পেটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিছুটা কম হতে পারে। কোনো ডোজ বাদ দেওয়া হলে রিজেকশনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

Prednisolone

স্টেরয়েড সাধারণত দিনে একবার নেওয়া হয় এবং ইফতারের পরে গ্রহণ করা যায়। হঠাৎ বন্ধ করা বা নিজ ইচ্ছায় ডোজ কমানো বিপজ্জনক এবং জীবননাশের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রমজানে কিডনি রোগীদের প্রধান ঝুঁকি

রমজানে কিডনি রোগীদের প্রধান ঝুঁকিগুলো হলো পানিশূন্যতা, রক্তচাপের অস্বাভাবিক ওঠানামা, ইলেকট্রোলাইটের সমস্যা, সংক্রমণ এবং কিডনির কার্যকারিতা হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়া। জ্বর, ডায়রিয়া, বমি, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত রোজা ভেঙে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কখন কিডনি রোগীদের রোজা না রাখাই উত্তম

অগ্রসর কিডনি রোগ (CKD stage 4–5), সদ্য কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট (প্রথম ৬–১২ মাস), অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ, ঘন ঘন পানিশূন্যতা, গুরুতর সংক্রমণ বা ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হলে রোজা রাখা চিকিৎসাগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ইসলামে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজা না রেখে পরে কাজা বা ফিদিয়া দেওয়ার সুস্পষ্ট অনুমতি রয়েছে।

উপসংহার

রমজানে রোজা রাখা একটি মহান ইবাদত, কিন্তু কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে এটি অবশ্যই চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে নেওয়া সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়ন্ত্রিত পানি গ্রহণ এবং ওষুধের একটি ডোজও বাদ না দেওয়া—বিশেষ করে ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের ক্ষেত্রে ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ—এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করা গেলে অনেক কিডনি রোগী নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন। তবে রোজা শুরুর আগে অবশ্যই নিজের নেফ্রোলজিস্ট বা ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা অপরিহার্য।

Consult with a leading nephrologist and kidney transplant specialist in Dhaka. Advanced kidney disease diagnosis, dialysis support, and long-term renal care.

A practical guideline of Mx of dyslipidemia:https://link.springer.com/content/pdf/10.1007/s00392-025-02833-y.pdf
20/01/2026

A practical guideline of Mx of dyslipidemia:
https://link.springer.com/content/pdf/10.1007/s00392-025-02833-y.pdf

ডায়ালাইসিসে নয় এমন কিডনি রোগী: রোজা রাখা কি নিরাপদ?চিকিৎসা বিজ্ঞান, কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ**রমজান মাস মুসলমানদ...
19/01/2026

ডায়ালাইসিসে নয় এমন কিডনি রোগী: রোজা রাখা কি নিরাপদ?

চিকিৎসা বিজ্ঞান, কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ**

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। রোজা শুধু খাদ্য ও পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়; বরং এটি আত্মসংযম, ধৈর্য ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু যাদের দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ (Chronic Kidney Disease – CKD) রয়েছে এবং যারা এখনো ডায়ালাইসিসে যাননি—তাদের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে:
রোজা রাখা কি তাদের জন্য নিরাপদ, নাকি ক্ষতিকর?

এই প্রশ্নের উত্তর এককভাবে “হ্যাঁ” বা “না” নয়। বরং উত্তরটি নির্ভর করে রোগীর কিডনির অবস্থা, রোগের স্টেজ, অন্যান্য জটিলতা এবং ইসলামিক শরীয়াহর নীতির ওপর।

১. ইসলামি দৃষ্টিকোণ: অসুস্থতার ক্ষেত্রে রোজার বিধান

ইসলাম কখনোই মানুষের ওপর এমন কোনো ইবাদত চাপিয়ে দেয় না, যা তার শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:

“রমজান মাস—যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে… অতএব তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন এতে রোজা রাখে। আর যে অসুস্থ বা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনে সেই সংখ্যা পূরণ করবে।”
(সূরা আল-বাকারাহ, ২:১৮৫)

এই আয়াত থেকে কয়েকটি মৌলিক নীতি স্পষ্ট হয়:
• অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়
• অসুস্থতা যদি সাময়িক হয়, সুস্থ হলে কাজা রোজা রাখা যাবে
• যদি স্থায়ী অসুস্থতা থাকে এবং রোজা রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে ফিদইয়া দেওয়ার বিধান আছে

নবী মুহাম্মদ ﷺ বলেছেন:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন যে, তাঁর দেওয়া ছাড় গ্রহণ করা হোক, যেমন তিনি পছন্দ করেন তাঁর আদেশ পালন করা হোক।”
(মুসনাদ আহমাদ, সহিহ হাদিস)

অর্থাৎ, অসুস্থ অবস্থায় রোজা না রাখা কোনো গুনাহ নয়; বরং এটি আল্লাহর দেওয়া সহজতার অংশ।

২. কিডনি রোগ কীভাবে রোজায় প্রভাবিত হয়? (চিকিৎসা ব্যাখ্যা)

কিডনি শরীরের ভেতরে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে:
1. শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে
2. শরীরের পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে
3. লবণ ও ইলেকট্রোলাইটের সমতা বজায় রাখে

রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ পানি পান না করলে শরীরে ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা) তৈরি হতে পারে। সুস্থ মানুষের কিডনি এটি সামলে নিতে পারলেও, কিডনি রোগীর ক্ষেত্রে এই চাপ অনেক বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষ করে:
• রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যেতে পারে
• কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা (eGFR) কমে যেতে পারে
• রক্তচাপ অস্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে
• পটাশিয়াম বা সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে

৩. ডায়ালাইসিসে নয় এমন কিডনি রোগীরা কি রোজা রাখতে পারেন?

চিকিৎসা গবেষণা বলছে—সব কিডনি রোগীর জন্য একই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নয়।

যারা সাধারণত রোজা রাখতে পারেন (শর্তসাপেক্ষে):
• CKD স্টেজ ১–২
• কিছু ক্ষেত্রে স্থিতিশীল স্টেজ ৩
• ক্রিয়েটিনিন ও eGFR দীর্ঘদিন ধরে স্থির
• রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত
• কোনো সাম্প্রতিক কিডনি ইনফেকশন বা ডিহাইড্রেশন নেই

গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের রোগীদের একটি অংশ রোজা রাখলেও কিডনি ফাংশনে উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়নি, যদি তারা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকেন।

যাদের জন্য রোজা ঝুঁকিপূর্ণ বা নিষেধযোগ্য:
• CKD স্টেজ ৪ বা ৫
• দ্রুত বাড়তে থাকা ক্রিয়েটিনিন
• গুরুতর প্রোটিনিউরিয়া
• অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ
• বারবার বমি, ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতার ইতিহাস

এই অবস্থায় রোজা রাখা কিডনির স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

৪. শরীয়াহ ও চিকিৎসা—দুটির সমন্বয় কোথায়?

ইসলামের একটি মৌলিক নীতি হলো:

“ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির জবাব ক্ষতি দিয়ে দেওয়া যাবে না।”
(লা দরার ওয়া লা দিরার – হাদিস)

অতএব:
• যদি চিকিৎসক নির্ভরযোগ্যভাবে বলেন যে রোজা রাখলে কিডনির ক্ষতি হবে
• তাহলে সেই রোজা রাখা শরীয়াহ অনুযায়ীও বাধ্যতামূলক নয়
• বরং রোজা না রেখে পরে কাজা বা ফিদইয়া দেওয়াই সঠিক

এখানে মনে রাখা জরুরি—নিজের শরীরের ক্ষতি করে ইবাদত করা ইসলামের উদ্দেশ্য নয়।

৫. যদি কিডনি রোগী রোজা রাখেন—তাহলে করণীয়

যদি চিকিৎসক অনুমতি দেন, তাহলে:
• রোজার আগে পূর্ণ কিডনি পরীক্ষা করা
• সেহরি ও ইফতারের মাঝে পর্যাপ্ত পানি পান করা
• অতিরিক্ত লবণ ও প্রোটিন এড়িয়ে চলা
• ওষুধের সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবর্তন করা
• মাথা ঘোরা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, দুর্বলতা হলে রোজা ভেঙে ফেলা

এগুলো মানা না হলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে।

৬. উপসংহার (শেষ কথা)
• ডায়ালাইসিসে নয় এমন সব কিডনি রোগীর জন্য রোজা একভাবে প্রযোজ্য নয়
• হালকা ও স্থিতিশীল কিডনি রোগে চিকিৎসক তত্ত্বাবধানে রোজা রাখা সম্ভব হতে পারে
• গুরুতর কিডনি রোগে রোজা রাখা শরীরের জন্য ক্ষতিকর—এবং শরীয়াহ অনুযায়ী বর্জনযোগ্য
• ইসলাম অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সহজতা রেখেছে, কষ্ট নয়

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান, কঠিনতা চান না।”
(সূরা আল-বাকারাহ, ২:১৮৫)

তথ্যসূত্র (Authentic Medical References)
1. Bragazzi NL et al. Ramadan fasting and chronic kidney disease. Journal of Nephrology. DOI: 10.1007/s40620-014-0134-2
2. Al Wakeel JS et al. Recommendations for fasting in CKD patients. Saudi Journal of Kidney Diseases and Transplantation. DOI: 10.4103/1319-2442.182367
3. BMC Nephrology. Impact of Ramadan fasting on renal function in CKD. DOI: 10.1186/s12882-024-03516-y

ডায়ালাইসিস রোগীদের রোজা রাখা: চিকিৎসা ও ইসলামিক শরীয়াহ অনুসারে বিশ্লেষণ১. ভূমিকারমজানের রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্...
18/01/2026

ডায়ালাইসিস রোগীদের রোজা রাখা: চিকিৎসা ও ইসলামিক শরীয়াহ অনুসারে বিশ্লেষণ

১. ভূমিকা

রমজানের রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম একটি, যা প্রতিটি সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পালন করতে বাধ্য। কিন্তু ইসলামে অসুস্থ ও দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ রুকসাহ বা ছাড় রয়েছে যদি রোজা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়। ডায়ালাইসিস রোগীরা সাধারণত চিরস্থায়ী রোগী—এমন কারণে তাদের রোজা নিয়ে চিকিৎসা ও ধর্মীয় দিক দুটি বিবেচনা করা জরুরি।

চিকিৎসা দিক: ডায়ালাইসিস ও রোজা

২. রোজা ও হেমোডায়ালাইসিস রোগীরা

হেমোডায়ালাইসিস রোগীদের উপর রোজার প্রভাব নিয়ে কিছু গবেষণা করা হয়েছে। একটি গবেষণায় ১৯৯ জন হেমোডায়ালাইসিস রোগীর মধ্যে যারা রোজা রেখেছিল এবং যারা না রেখেছিল তাদের তুলনা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে রোজা রাখা হেমোডায়ালাইসিস রোগীদের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে সহ্যযোগ্য ছিল এবং রোগীদের ড্রাই ওয়েট কমে গিয়েছিল, যদিও কিছু ক্ষেত্রে কম রক্তচাপ বা পেশীর খিঁচুনি দেখা গিয়েছিল। 

আরেকটি গবেষণায় ৩২ জন হেমোডায়ালাইসিস রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ১৪-ঘন্টার দৈনিক রোজা চালিয়ে গেলেও গুরুতর কোনো আকস্মিক জটিলতা (যেমন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো সমস্যা) দেখা যায়নি, যদিও রক্তের কিছু রাসায়নিক মানে পার্থক্য ছিল। 

এই ধরনের তথ্যগুলো থেকে বোঝা যায় যে রোজা কিছু ডায়ালাইসিস রোগীর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাপদ বা ঝুঁকিহীন নয়, তবে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পর্যবেক্ষণ করলে কিছু রোগী এটি সহ্য করতে পারেন।

৩. ডায়ালাইসিস রোগীদের প্রধান ঝুঁকি

ডায়ালাইসিস রোগীরা সাধারণ রোগীর তুলনায় তরল (জলের) ভারসাম্য, ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য, এবং রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে বেশি সংবেদনশীল। রোজা রাখার ফলে পানি নেওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ার কারণে শরীরে তরলের ঘাটতি, উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ ও ইলেক্ট্রোলাইট পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ে। এসব অবস্থার কারণে চিকিৎসকের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন অপরিহার্য। 

৪. চিকিৎসাহীন রোগীদের ঝুঁকি শ্রেণীবিভাগ

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে রোগীদের ঝুঁকি স্তর অনুযায়ী ভাগ করে ব্যবস্থাপনা রিভিউ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে স্থিতিশীল CKD বা ধীরে-ধীরে কিডনি ফাংশন কমে যাওয়া রোগীর তুলনায় ডায়ালাইসিস রোগীদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ এবং তারা রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের অনুমোদন, পর্যবেক্ষণ, ও পরিকল্পনা নিতে হবে। 

ইসলামিক শরীয়াহ: রোজা, রুকসাহ, ফিদইয়া ও কাফফারা

৫. রোজা ও শরীয়াহ

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন:

“আর তোমাদের কোনো ভয় ও সন্দেহ থাকলে (রোজা সম্পর্কে) তাহলে (রোজা পালনের বদলে) অন্য দিনে সেই সংখ্যা পূরণ করবে; এবং যারা অসুস্থ বা সফরে থাকে তারা অন্য দিনে রোজা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তোমাদের প্রতি দয়া দেখান।”
(সূরা আল-বাকারা ২:১৮৫) 

এই ayat-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে যে রোগীর জন্য রোজা শারীরিক কঠিনতা সৃষ্টি করবে, সে ঐ রোজা পরে পূরণ করতে পারে।

৬. ফিদইয়া (Fidya)

যদি রোগী স্থিতিশীলভাবে রোজা রাখতে অক্ষম হয় এবং চিকিৎসা-সম্ভাবনা এমন নয় যে ভবিষ্যতে তিনি রোজা রাখতে পারবেন, তাহলে তিনি প্রতিটি রোজার জন্য ফিদইয়া অর্থাৎ দরিদ্রকে খাদ্য বা খাদ্যের মূল্য প্রদান করতে পারেন। কুরআন এ বিষয়ে নির্দেশ দেয়:

“…(রোজা) মানুষের জন্য হালাল করা হয়েছে, কিন্তু যারা অসুস্থ বা সফরে থাকে… আর যারা (রোজা) রাখতে অক্ষম, তারা একজন মিসকিনকে খাদ্য দেবে।”
(সূরা আল-বাকারা ২:১৮৪) 

এখানে বোঝানো হয়েছে যে অসুস্থ ব্যক্তিরা যদি রোজা রাখত না পারে তারা খাদ্য প্রদান বা ফিদইয়া করতে পারেন।

৭. কাফফারা (Kaffarah)

কাফফারা সাধারণত ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করলে প্রদান করতে হয়। তবে অসুস্থতার কারণে বা চিকিৎসকের নির্দেশে রোজা না রাখা হলে কাফফারা প্রযোজ্য নয়। এই ক্ষেত্রে রোগী যদি পরবর্তীতে রোজা রাখতে সক্ষম হন এবং ফিদইয়া না করে থাকেন, তবে তিনি কাজা (পরে রোজা পূরণ) করতে পারেন, বা শরীয়াহ অনুসারে ফিদইয়া দিতে পারেন যদি স্থায়ী অসুস্থতা থাকে।

বাস্তবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ

৮. চিকিৎসা ও শরীয়াহ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া

ডায়ালাইসিস রোগীদের রোজা রাখা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে নিশ্চিতভাবে চিকিৎসকের মূল্যায়ন জরুরি। যদি রোগী:
• তরল ভারসাম্য ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে,
• রক্তচাপ স্থিতিশীল থাকে,
• ইলেক্ট্রোলাইট ও শরীরের অন্যান্য রাসায়নিক মান পর্যাপ্ত থাকে, তবে চিকিৎসকের সহায়তায় রোজা গ্রহণ সম্ভাব্য হতে পারে তবে ঝুঁকি থাকে। 

যদি রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য রোজা ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিকিৎসক মূল্যায়ন করেন, তাহলে সেই রোগী ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও রোজা না রাখার “রুকসাহ” পেতে পারেন এবং পরের দিনে কাজা বা ফিদইয়া দিতে পারেন।

গবেষণা রেফারেন্স (DOI নম্বরসহ)
1. Qureshi AR, et al. Clinical and Biochemical Parameters among Hemodialysis Patients Before and During the Month of Ramadan. Pakistan Journal of Health Sciences. DOI: 10.54393/pjhs.v6i3.2706 
2. Sharma S, Sahay M, Mazumder MA, Kalra S. Optimizing Kidney Disease Management during Ramadan: Evidence-Based Risk Stratification and Tailored Strategies. Journal of the Pakistan Medical Association. DOI: 10.47391/JPMA.25-21 
3. Megahed AF, Abdel-Gawad SM, El-Bahnasawy NA, Sayed-Ahmed N. Ramadan Fasting in Chronic Kidney Disease Patients: A Descriptive Observational Study. Asian Journal of Medicine and Health. DOI: 10.9734/ajmah/2023/v21i11949 
4. PubMed Studies on CKD/Hemodialysis and Fasting. Various observational results that show tolerability with parameter changes, without severe adverse events. 
5. Consensus recommendations on fasting during Ramadan for patients with kidney disease: review. BMC Nephrology. 2024; Article 84. (no single DOI referenced but full text widely available) 

ইসলামিক উৎস:
• কুরআন সূরা আল-বাকারা ২:১৮৪–১৮৫ — রুকসাহ ও ফিদইয়া সম্পর্কিত নির্দেশ

ডা. মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক
নেফ্রোলজিস্ট

🌐 ওয়েবসাইট:

Consult with a leading nephrologist and kidney transplant specialist in Dhaka. Advanced kidney disease diagnosis, dialysis support, and long-term renal care.

কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের রোজা রাখা: চিকিৎসা ও শরিয়াহর আলোকে একটি বিস্তৃত ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনা১. ভূমিকাকিডনি ট্রান...
17/01/2026

কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের রোজা রাখা: চিকিৎসা ও শরিয়াহর আলোকে একটি বিস্তৃত ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনা

১. ভূমিকা
কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট একজন রোগীর জীবনে একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। ডায়ালাইসিস থেকে মুক্তি পেয়ে রোগীরা অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান। তবে ট্রান্সপ্লান্টের পর শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষের মতো আচরণ করে না। রমজান মাস এলে তাই অনেক কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীর মনে প্রশ্ন আসে—তিনি কি রোজা রাখতে পারবেন? এই প্রশ্নের উত্তর আবেগ বা সামাজিক চাপের ভিত্তিতে নয়, বরং চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ইসলামি শরিয়াহ—উভয়ের আলোকে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

২. ট্রান্সপ্লান্টের পর শরীরের বাস্তবতা
কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে শরীরে একটি নতুন অঙ্গ স্থাপন করা হয়, যেটিকে শরীর স্বাভাবিকভাবেই বিদেশি অঙ্গ হিসেবে শনাক্ত করতে পারে। এই কিডনিকে রক্ষা করার জন্য রোগীকে আজীবন ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ সেবন করতে হয়। এসব ওষুধের কার্যকারিতা নির্ভর করে সঠিক সময়ে ওষুধ গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং শরীরের তরল ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যের উপর। রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ পানি ও খাবার গ্রহণ না করলে এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য সহজেই নষ্ট হতে পারে।

৩. ডিহাইড্রেশন ও ট্রান্সপ্লান্ট কিডনি
রোজার সময় সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ডিহাইড্রেশন। ট্রান্সপ্লান্ট কিডনি সাধারণত একক কিডনি হিসেবে কাজ করে এবং এটি পানির ঘাটতির প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ডিহাইড্রেশন হলে কিডনির রক্তপ্রবাহ কমে যায়, যার ফলে সিরাম ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যেতে পারে এবং একিউট গ্রাফট ডিসফাংশন দেখা দিতে পারে। এই প্রভাব কখনো কখনো সাময়িক হলেও বারবার হলে দীর্ঘমেয়াদে গ্রাফটের ক্ষতি হতে পারে।

৪. কেন ট্রান্সপ্লান্টের প্রথম এক বছর রোজা রাখা উচিত নয়
ট্রান্সপ্লান্টের প্রথম এক বছর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এই সময়ে কিডনি শরীরের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে এবং একিউট রিজেকশন ও সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই সময়ে দীর্ঘক্ষণ পানি না পান করা কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মত হলো—ট্রান্সপ্লান্টের পর প্রথম ১২ মাস রোজা রাখা নিরাপদ নয়।

৫. এক বছরের পর নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রে রোজা
ট্রান্সপ্লান্টের এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর যদি রোগীর কিডনি ফাংশন দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল থাকে, সিরাম ক্রিয়েটিনিন একই পর্যায়ে থাকে, সাম্প্রতিক কোনো একিউট রিজেকশন বা গুরুতর সংক্রমণ না থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত থাকে—তাহলে কিছু নির্বাচিত রোগী চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রোজা রাখতে পারেন। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে রমজানে রোজা রাখলেও গ্রাফট ফাংশনে উল্লেখযোগ্য অবনতি দেখা যায়নি।

৬. বৈজ্ঞানিক গবেষণা কী বলে
Einollahi ও সহকর্মীদের গবেষণায় দেখা গেছে, স্থিতিশীল কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের মধ্যে রমজানে রোজা রাখলে সিরাম ক্রিয়েটিনিন বা গ্রাফট ফাংশনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
(Nephrology Dialysis Transplantation, DOI: 10.1093/ndt/13.3.623)

Transplantation Proceedings-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, ট্রান্সপ্লান্টের এক বছরের বেশি সময় পর স্থিতিশীল রোগীদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা সাধারণত নিরাপদ।
(DOI: 10.1016/j.transproceed.2005.08.032)

Journal of Transplantation-এ প্রকাশিত একটি বড় কোহর্ট স্টাডিতে বলা হয়েছে, নির্বাচিত ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের মধ্যে রোজা রাখার ফলে eGFR বা গ্রাফট সার্ভাইভালে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
(DOI: 10.1155/2018/4890978)

সাম্প্রতিক একটি সিস্টেমেটিক রিভিউ ও মেটা-অ্যানালাইসিসে উপসংহারে বলা হয়েছে যে, যদিও অধিকাংশ স্থিতিশীল ট্রান্সপ্লান্ট রোগীর ক্ষেত্রে রোজা নিরাপদ হতে পারে, তবে উচ্চমানের গবেষণার এখনও ঘাটতি রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত অবশ্যই ব্যক্তিভিত্তিক হওয়া উচিত।
(BMJ Open 2024, DOI: 10.1136/bmjopen-2024-085329)

৭. কোন রোগীদের ক্ষেত্রে রোজা ঝুঁকিপূর্ণ
যাদের কিডনি ফাংশন ওঠানামা করে, যাদের ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ আছে, যাদের বারবার সংক্রমণ হয়, অথবা যাদের দিনে একাধিকবার নির্দিষ্ট সময়ে ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ গ্রহণ করতে হয়—এই রোগীদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পানি কম পান করলে ট্যাক্রোলিমাস বা সাইক্লোসপোরিনের নেফ্রোটক্সিসিটি বেড়ে যেতে পারে।

৮. ইসলামি দৃষ্টিকোণ: অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজার ছাড়
ইসলাম কখনোই মানুষের ক্ষতি চায় না। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
“তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে, সে অন্য দিনে সেই সংখ্যা পূরণ করবে।”
(সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৫)

অতএব, কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগী যদি রোজা রাখলে শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে তার জন্য রোজা না রাখা সম্পূর্ণ বৈধ।

৯. ফিদইয়া (Fidya)
যেসব রোগী স্থায়ীভাবে রোজা রাখতে অক্ষম এবং ভবিষ্যতেও রোজা রাখার বাস্তব সম্ভাবনা নেই, তাদের জন্য ফিদইয়ার বিধান রয়েছে।
কুরআনে বলা হয়েছে:
“আর যারা রোজা রাখতে সক্ষম নয়, তারা একজন মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করবে।”
(সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৪)

এই ক্ষেত্রে প্রতিটি রোজার পরিবর্তে একজন দরিদ্রকে খাবার দেওয়াই ফিদইয়া।

১০. কাফ্‌ফারা (Kaffarah)
কাফ্‌ফারা প্রযোজ্য হয় ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করলে। অসুস্থতার কারণে বা চিকিৎসকের পরামর্শে রোজা না রাখলে বা ভেঙে ফেললে কাফ্‌ফারা প্রযোজ্য নয়। এ ক্ষেত্রে কাজা বা ফিদইয়া প্রযোজ্য হবে, পরিস্থিতি অনুযায়ী।

১১. উপসংহার
কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা একটি সূক্ষ্ম ও সম্পূর্ণ ব্যক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত। এখানে ধর্মীয় আবেগের চেয়ে রোগীর নিরাপত্তা এবং ট্রান্সপ্লান্ট কিডনির সুরক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

References (Article References)
1. Einollahi B, et al.
Ramadan fasting in renal transplant recipients.
Nephrology Dialysis Transplantation. 1998;13(3):623–625.
DOI: 10.1093/ndt/13.3.623
2. Boobes Y, et al.
Effect of Ramadan fasting on renal allograft function.
Transplantation Proceedings. 2005;37(7):3004–3006.
DOI: 10.1016/j.transproceed.2005.08.032
3. Bragazzi NL, et al.
Ramadan fasting and kidney transplant recipients: a retrospective cohort study.
Journal of Transplantation. 2018; Article ID 4890978.
DOI: 10.1155/2018/4890978
4. Chan F, et al.
The effects of Ramadan fasting on kidney function: a systematic review and meta-analysis.
BMJ Open. 2024;14:e085329.
DOI: 10.1136/bmjopen-2024-085329
5. Al-Wakeel J, et al.
Recommendations for management of patients with kidney disease during Ramadan.
Saudi Journal of Kidney Diseases and Transplantation. 2019;30(3):543–556.
DOI: 10.4103/1319-2442.261318
6. Ahmed MH, et al.
Optimizing the management of chronic kidney disease during Ramadan fasting.
Journal of the Pakistan Medical Association (JPMA). 2025.
DOI: 10.47391/JPMA.25-21

কুরআনিক রেফারেন্স (ধর্মীয় সূত্র)
• সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৪ — ফিদইয়ার বিধান
• সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৫ — অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজার ছাড়
• সূরা আল-মুজাদিলা, ৫৮:৪ — কাফ্‌ফারার মূলনীতি

ডা. মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক
ট্রান্সপ্লান্ট নেফ্রোলজিস্ট
ওয়েবসাইট:

Consult with a leading nephrologist and kidney transplant specialist in Dhaka. Advanced kidney disease diagnosis, dialysis support, and long-term renal care.

17/01/2026

Address

Popular Diagnostic Center Limited, Dhanmondi, Building-6, Floor-5th, Room/508
Dhaka
1205

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Muhammad Abdur Razzak, Kidney Doctor posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Muhammad Abdur Razzak, Kidney Doctor:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category