13/02/2026
****ইফতার ও সেহরির জন্য খাদ্যতালিকা (সাধারণ নির্দেশিকা):-
****রমজানে কিডনি রোগীদের ইফতার ও সেহরিতে কম লবণ ও চর্বিযুক্ত, পটাসিয়াম ও ফসফরাস সীমিত খাবার খেতে হবে; পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, এবং ভাজা-প্রক্রিয়াজাজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে, তবে রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, বিশেষ করে ডায়ালাইসিস বা অন্য কোনো গুরুতর সমস্যা থাকলে।
****ইফতার ও সেহরির জন্য খাদ্যতালিকা (সাধারণ নির্দেশিকা):-
***ইফতার:-
1. শুরুতে: খেজুর (পরিমিত), হালকা গরম পানি বা ফলের রস (যেমন আনারস, বেরি), যা পটাসিয়াম কম।
2. খাবার: সবজি ও ডাল দিয়ে হালকা খিচুড়ি/রুটি, ডিমের সাদা অংশ, কম লবণযুক্ত সালাদ, দই, ওটমিল।
3. যা এড়িয়ে চলবেন: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত, ভাজা ও তৈলাক্ত খাবার, উচ্চ পটাসিয়ামযুক্ত ফল (যেমন কলা, কমলা)।
***সেহরি:-
1. খাবার: ২ ডিমের সাদা অংশ বা কম লবণযুক্ত মাছ/মাংস, সবজি ও আলু দিয়ে খিচুড়ি, রুটি বা ইডলি, কম পটাসিয়াম ও ফসফরাসযুক্ত ফল (যেমন পেঁপে, পীচ)।
2. পানীয়: পানি, হালকা দুধ।
3. যা এড়িয়ে চলবেন: অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত ক্যাফেইন।
****(সাধারণ নির্দেশিকা):- করণীয় ও বর্জনীয় (Activities & Precautions)
1. চিকিৎসকের পরামর্শ: রোজা রাখার আগে অবশ্যই কিডনি বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
2.পানি পান: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন (চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী)।
3. ওষুধ: ওষুধের সময়সূচি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবর্তন করুন।
4.নিয়মিত পরীক্ষা: চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা (ক্রিয়েটিনিন, ইলেক্ট্রোলাইট) করান।
5.ব্যায়াম: হালকা রুটিন ব্যায়াম, তবে অতিরিক্ত পরিশ্রম নয়।
6. লবণ ও চর্বি: কম লবণ ও কম চর্বিযুক্ত খাবার খান, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
7. গুরুত্বপূর্ণ: হঠাৎ কিডনি বিকল (Acute Kidney Injury) বা অন্য গুরুতর সমস্যা থাকলে রোজা রাখা উচিত নয়।
***গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় রমজানে সুস্থ থাকতে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি। নিচে এ বিষয়ে কিছু টিপস দেওয়া হলো:
1. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, পান করুন। একবারে বেশি পানি না খেয়ে নির্দিষ্ট সময় পরপর অল্প অল্প করে পান করাই ভালো। চিনিযুক্ত শরবত বা সফট ড্রিঙ্কস পান না করাই ভালো।
2. ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত তেল-মশলা ও চর্বিযুক্ত খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং হজমের সমস্যা তৈরি করে। এসব খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
3. ঠাণ্ডা জায়গায় থাকুন: যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকার চেষ্টা করুন এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন।
4. হালকা পোশাক পরুন: হালকা রঙের সুতির আরামদায়ক পোশাক পরুন, যা শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করবে।
5. কঠোর পরিশ্রম এড়ান: রোজা রাখা অবস্থায় ভারী ব্যায়াম বা কঠোর শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন। শরীরচর্চা করতে চাইলে সন্ধ্যার পর বা রাতের খাবারের পর হালকা ব্যায়াম করতে পারেন।
6. বিশ্রাম নিন: সারাদিনের ক্লান্তির পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
7. লবণাক্ত খাবার কম খান: অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং শরীরে পানির চাহিদা বাড়িয়ে দেয়, তাই সেহরিতে অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
8. ঠাণ্ডা রাখার ব্যবস্থা করুন: ঘরের ছাদ সাদা রং করে বা ছাদে বাগান করে বাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করতে পারেন।
****রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের ওষুধের মাত্রা ও সময়সূচী পরিবর্তন (drug adjustment):
***রক্ত পরীক্ষার আদর্শ সময় (Schedule):
1. অন্তত ৩ থেকে ৪ বার (উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য আরও বেশি) ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা উচিত:
2. সেহরির আগে: সেহরি খাওয়ার ঠিক আগে (ওষুধের ডোজ ঠিক করতে)।
3. সকালে: সেহরির ২ ঘণ্টা পর।
4. দুপুর ও বিকেলে: বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে এবং বিকেল ৪টার দিকে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা সুগার কমে যাওয়ার ঝুঁকি বোঝার জন্য)।
5. ইফতারের ঠিক আগে: ইফতারের অল্প সময় আগে।
6. ইফতারের পরে: ইফতার করার ২ ঘণ্টা পর।
7. অসুস্থ বোধ করলে: যেকোনো সময় যদি শরীর খারাপ লাগে, মাথা ঘোরে বা অতিরিক্ত ঘাম হয়।
***কখন দ্রুত রোজা ভেঙে ফেলতে হবে?
সুগার পরীক্ষার ফল যদি নিচের মতো হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত রোজা ভেঙে ফেলা জরুরি:
1. সুগার খুব কমে গেলে: ৩.৯ mmol/L (৭০ mg/dL) এর নিচে হলে।
2. সুগার খুব বেড়ে গেলে: ১৬.৬ mmol/L (৩০০ mg/dL) এর বেশি হলে।
3. মারাত্মক অসুস্থতা: প্রচণ্ড পানিশূন্যতা, বমি বা জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা হলে।
***রোজার সময়ে ওষুধ:
1. একবার গ্রহণের ওষুধ: যদি কোনো ওষুধ দিনে একবার নিতে হয়, তবে সাধারণত তা ইফতারের সময় নেওয়ার পরামর্শ ।
2. একাধিকবার গ্রহণের ওষুধ: দিনে দুইবার বা তিনবার গ্রহণের ক্ষেত্রে, ইফতার এবং সেহরির সময়ের মধ্যে মাত্রা ভাগ করে নেওয়া ।
এক্ষেত্রে সকালের মাত্রা ইফতারে এবং রাতের মাত্রা সেহরিতে নেওয়া হয়, অথবা মাত্রা কমিয়ে দেওয়া।
3. মেটফর্মিন (Metformin): সাধারণত এটি সেহরি ও ইফতারের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে, অথবা বেশিরভাগ মাত্রা ইফতারে নেওয়া হয়।
4. সালফোনাইলইউরিয়া (Sulfonylureas), ইনসুলিন (Insulin) ইত্যাদি: এই ওষুধগুলো হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়, তাই এগুলোর মাত্রা কমানো বা সময় পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি।
5. ইনসুলিন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ইফতারের আগে স্বাভাবিক মাত্রা এবং সেহরির আগে কম মাত্রা বা অর্ধেক মাত্রা নেওয়ার পরামর্শ ।
**** ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রচুর পানি পান করুন****
Call now to connect with business.