23/01/2016
জীবনী শক্তি সম্পর্কে আমাদের সবারই কম বেশী ধারণা রয়েছে। জীবনী শক্তি হচ্ছে আমাদের দেহের ভেতর অন্তর্নিহিত একটি শক্তি যা আমাদের দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে পরিচালনা করে আমাদের দেহ ও মনকে সুস্থ রাখে। পাশাপাশি দেহের ভেতর সৃষ্ট বা বাহির হতে আগত রোগ শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেহকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। জীবনী শক্তি যত বেশি শক্তিশালী হবে আমরা তত বেশী সুস্থ থাকব‚ আর যত বেশী দূর্বল হবে আমরা ততই অসুস্থ জীবন যাপন করব। প্রশ্ন হচ্ছে জীবনী শক্তি কিভাবে দূর্বল হয়?
খুব স্বাভাবিক কারণগুলোর মধ্যে অস্বাস্থ্যকর খাবার, পানীয় গ্রহণ‚ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করা, অপরিস্কার থাকা ইত্যাদি। এছাড়াও কিছু মানসিক কারণ রয়েছে যেটা আমার এই আলোচনার মূল বিষয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হতাশা ও দুশ্চিন্তা। এই দুইটি জিনিস জীবনী শক্তিকে দূর্বল করে দেয়। ফলে দেখবেন হতাশাগ্রস্থ ব্যক্তিগন প্রায়ই মাথা ব্যথা, পেটের পীড়া ইত্যাদি নানা ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকেন। যারা হাসি খুশি, কর্মব্যস্ত তারা তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশী সুস্থ থাকেন। কর্মব্যস্ত মানুষ যখন অবসর জীবনে পদার্পন করেন তখন তিনি গভীর হতাশায় নিন্মজ্জিত হন। নিজেকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেন‚ ফলে জীবনী শক্তি দূর্বল হয়ে যায় এবং তিনি প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পরেন। আমার বাবার ক্ষেত্রে আমি এই প্রমাণ পেয়েছি।
আবার অনুশোচনা, অনুতাপ, পাপবোধ ও ভয় জীবনী শক্তিকে দূর্বল করে দেয়। তাই যারা অসৎ জীবন যাপন করে‚ অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত, ঘুষখোর, পাপী তাদের ভেতর সব সময় ভয় ও অনুশোচনাবোধ কাজ করে। ফলে জীবনী শক্তি দূর্বল হয়ে নানা ধরণের রোগে ভোগে থাকেন। আর যারা সৎ জীবন যাপন করেন তাদের অর্থের প্রাচুর্য না থাকলেও তারা অনেক বেশী সুস্থ জীবন যাপন করে থাকেন।
তাই আসুন, হতাশা, দুশ্চিন্তা, অসততা, পাপাচার ত্যাগ করে আমরা হাশিখুশি, সৎ জীবন যাপন করি এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলি। তাহলে আমাদের জীবনীশক্তি শক্তিশালী থাকবে আর আমরা পাব সুস্থ‚ স্বাভাবিক‚ নিরোগ, প্রাণ চাঞ্চল্যময়, হাসিখুশিময় সুন্দর জীবন। ইহকাল এবং দুটোই হবে আমাদের জন্য সুখকর।