20/10/2025
#অষ্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়রোগ
#অষ্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়রোগ হচ্ছে এমন একটি রোগ যার ফলে হাড়ের ঘনত্ব নিদিষ্ট মাত্রায় কমে যাওয়ায় হাড় ক্ষয়প্রাপ্ত হয় । এতে হাড়ের ক্যালসিয়ামের পরিমান কমে যায়, হাড়ের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে ক্রমেই হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে । ফলে হাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায় ।
#কারন
#হাড়ের গঠন ও ক্ষয়ের স্বাভাবিক ভা্রসাম্য নষ্ট হয় ।
#মহিলাদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন হরমোনের অভাব ।
#থাইরয়েড এবং পেরাথাইরয়েড পুষ্টিজনিত সমস্যা ।
#অপর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহন ।
#জেনেটিক বা বংশানুক্রমিক রোগ যেমন হাড়ের ক্যান্সার ইত্যাদি ।
অষ্টিওপোরোসিস/হাড়ের ক্ষয়রোগ প্রতিরোধ :
•সুষম খাদ্য গ্রহণ করা ।
•পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহন ।
•নিয়মিত শরীর চর্চা করা(যেমন নিয়মিত হাঁটা , সিঁড়ি দিয়ে ওঠা ইত্যাদি) ।
•ধূমপান ও মদপান থেকে বিরত থাকা ।
ক্যালসিয়াম – প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ( ১৮-৫০ বছর পর্যন্ত )দৈনিক ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ৫১ বছর বা তদুর্ধ্বে ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাবার থেকে গ্রহণ করা উচিত । দুধ ,শাকসবজি , হাড়সহ ছোট মাছ , ফলমূল , সরিষার তেল ইত্যাদি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার ।
ভিটামিন ডি - ভিটামিন ডি এর অন্যতম উৎস হলো সূর্যালোক । মানবদেহের অভ্যন্তরে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি হওয়ায় একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া , যার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সূর্যালোক দেহের সংস্পর্শে আসা প্রয়োজনীয় । সামুদ্রিক মাছ ( যেমন টুনা , সার্ডিন , স্যালমন ইত্যাদি ), কড লিভার তেল , ডিম , দুধ , গরুর কলিজা , মাখন , ইত্যাদি ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার ।
ব্যায়াম – ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ হাড় পাওয়া সম্ভব । নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস , সাইকেল চালানো , সাঁতার কাটার মাধ্যমে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত ।
চিকিৎসা-
সঠিক সময়ে অষ্টিওপোরোসিসের চিকিৎসা না নিলে দেহের বিভিন্ন অংশের হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় । শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক বিবেচনায় দুঃসহ জীবন যাপন করতে হয় । বিশ্বজুড়ে প্রতি পাঁচজনে একজন রোগী হাড় ভাঙার এক বছরের মধ্যে মারা যায় ।
কাজেই অষ্টিওপোরোসিসের চিকিৎসা প্রয়োজনীয়তার দিকে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত । জীবনযাত্রার সঠিক নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত ।
•নিয়মিত ব্যায়াম করা ।
•ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন করা ।
•শরীরে ওজন কমানো , ফাস্টফুড , ও চর্বিজাতীয় খাদ্য এড়িয়ে চলা ।
•পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন –ছোট মাছ , ডিম , দুধ , ইত্যাদি গ্রহন করা ।
•চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ট্যাবলেট যেমন – Labcal D গ্রহন করা যেতে পারে ।
বয়স্ক পুরুষ বা নারী এবং মেনোপজ পরবর্তী মহিলাদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাড় ক্ষয় প্রতিরোধকারী ঔষধ যেমন-বিসফসফোনেট , এলেনড্রোনিক এসিড , ইবানড্রোনিক এসিড , জোলেনড্রোনিক এসিড জাতীয় ওষুধ গ্রহন করা যেতে পারে ।
অষ্টিওপোরোসিসে হাড়ের ঘনত্ব কমে হাড় ছিদ্রযুক্ত , দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে । সঠিক সময়ে এর প্রতিরোধ বা চিকিৎসা না নিলে একান্ত ব্যক্তিগত কাজকর্ম যেমন- নামাজ পড়া , গোসল করা , টয়লেটে যাওয়া , হাঁটা চলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে । কাজেই অষ্টিওপোরোসিস সম্পর্কে আমাদের সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন ।
ডাঃ এ.সি. সাহা
সিটি হাসপাতাল লিমিটেড
১/৮,ব্লক-ই , লালমাটিয়া , মোহাম্মাদপুর
যোগাযোগঃ ০১৫৫১২৪৪১৫৯,০১৯১৫৫২৫১৩৭,০১৮১৫৪৮৪৬০০,