10/03/2026
আপনি সবার কাছে “ভালো মানুষ” হিসেবে পরিচিত কারণ অফিসে কেউ যেকোনো সময় কোনো কাজ করতে বললে আপনি না বলতে পারেন না। বন্ধুরা হঠাৎ প্ল্যান করলে, আপনি যতই ক্লান্ত থাকুন বা যতই কাজ থাকুক না কেন, না বলতে পারছেন না। বাসায় কেউ কোনো কাজ করতে বললে আপনার নিজের কাজ থাকলেও আপনি তাদের কাজটাই আগে করে দেন। কারণ আপনার ভয়, না বললে যদি তারা কষ্ট পায়, যদি আপনাকে স্বার্থপর ভাবে মনে করে?
ধীরে ধীরে আপনি বুঝতে শুরু করেন, সবসময় ব্যস্ত থাকলেও নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সময়মতো শেষ হচ্ছে না। ভেতরে চাপা রাগ, ক্লান্তি আর হতাশা জমে যাচ্ছে। সম্পর্কগুলো বাইরে থেকে স্বাভাবিকই মনে হলেও, আপনি নিজের সত্যিকারের অনুভূতিগুলো চেপে রাখেন। এতে ধীরে ধীরে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস কমে যেতে শুরু করে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘না’ বলা একটি দক্ষতা। আর যে কোনো দক্ষতাই অনুশীলনের মাধ্যমে শেখা সম্ভব। তিনটি সহজ বিষয় মনে রাখুন-
১. একটু থামুন। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর না দিয়ে একটি গভীর নিঃশ্বাস নিন। এই ছোট বিরতিটাই আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
২. স্পষ্টভাবে বলুন, কিন্তু নরমভাবে। যেমন, “এটা আমার পক্ষে সম্ভব না।” সংক্ষিপ্ত ও পরিষ্কার কথাই মানুষ সহজে বোঝে।
৩. বিকল্প দেখান। আপনি নিজে না পারলেও বলতে পারেন, “আমি এই মুহূর্তে পারছি না, তবে আপনি চাইলে এভাবে করতে পারেন। যেখানে সমস্যা হবে, আমি আমার কাজ শেষ করেই সাহায্য করব।” এভাবে নিজের দিক ভেবেও সাহায্য করা সম্ভব।
না বলা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি দক্ষতা।