16/10/2025
আমরা সবাই চাই, আমাদের জীবনটা এই দুনিয়াতে যেন দীর্ঘ আর হেলদি হয়। আমরা নিউট্রিশাস ফুড, রেগুলার এক্সারসাইজ এবং মেডিক্যাল চেক-আপের পেছনে ইনভেস্ট করি, সবটাই কিন্তু "লংজিভিটি"-র জন্য। কিন্তু, আমাদের এই দুনিয়ার আয়ু বাড়ানোর একটা পাওয়ারফুল টুল, কোন জিম ব্যাগ, বা ওষুধের ক্যাবিনেটে না থেকে আমাদের মাইন্ডের মধ্যেই যদি থাকে?
একটা বেশ বড় সায়েন্টিফিক স্টাডি, অস্থির কিছু এভিডেন্স বের করসে। তাদের মতে, একটি স্পেসিফিক সাইকোলজিক্যাল ট্রেইট, অর্থাৎ অপটিমিজম (আশাবাদ), এবং বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা স্ট্রংলি লিংকড। রিসার্চে বলা হইসে, নরমালি ভালো কিছু ঘটবে বলে আমরা আমাদের ডেইলি লাইফে যে এক্সপেক্টেশন করি, সেটা এক্সেপশনাল লংজিভিটি পাওয়ার জন্য একটি পোটেন্ট ফ্যাক্টর হতে পারে ইনশাআল্লাহ্!
আলহামদুলিল্লাহ, বরাবরই লাইফে যখনই ধাক্কা খেয়েছি, থেমে থাকিনি। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে অন্য কোন চেষ্টা করেছি। আমি পার্সোনালি বলা যায় একজন অপটিমিস্ট। সেজন্য যখন আর্টিকেলটা আবার পড়লাম, ইচ্ছা করছিল আমার Kugelschreiber টা আরেকবার বের করে কিছু লিখতে, সেই থেকেই এই লিখা 🥲 ...অপটিমিজম এবং লংজিভিটির কানেকশন নিয়ে এই সায়েন্টিফিক রিসার্চ এ কী বলছে, কেন এটি জাস্ট এনাদার হেলদি হ্যাবিট-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এবং কীভাবে এই পাওয়ারফুল মাইন্ডসেট আমরা নিজেদের মধ্যে কাল্টিভেট করতে পারেন, সবকিছুই নিচে ব্রেকডাউন করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ... চলেন শুরু করা যাক, বিসমিল্লাহ...
"অপটিমিজম", মানুষের লাইফস্প্যান ১১-১৫% বাড়িয়ে দেয়.
ইয়েস, আপনি ঠিকই পড়সেন! রিসার্চের কোর ফাইন্ডিংটি আসলেই স্ট্রাইকিং। হাজার হাজার নারী-পুরুষের উপর করা দুটি বড়, লং-টার্ম স্টাডিতে দেখা গেছে, যারা সবচেয়ে বেশি অপটিমিস্টিক ছিলেন, তাদের গড় লাইফস্প্যান কম অপটিমিস্টিকদের তুলনায় অন্তত ১১% থেকে ১৫% বেশি। মানে বুঝতে পারছেন তো? ধরেন, বাংলাদেশে একটা মানুষ যদি ৭০ বছর বাঁচতো, জাস্ট অপটিমিস্টিক মাইন্ড সেট থাকলে, তাঁর আয়ু আরো ৭-১০ বছর এক্সট্রা পেতে পারতো! ভাবতেছেন এটা কেমনে সম্ভব? নিচে এক্সপ্লেইন করতেসি...
এটা আসলেই একটা সিগনিফিক্যান্ট ডিসকভারি, কারণ এটা আমাদের ব্রেইনের সাইকোলজিক্যাল ফ্যাক্টরকে, বিভিন্ন বায়োমেডিক্যাল রিস্ক ফ্যাক্টরের সমান স্কেলে নিয়ে এসে কম্পেয়ার করসে। ১১-১৫% বেশি লাইফস্প্যান কতটা ইম্পর্টেন্ট, তা বোঝার জন্য এক্সাম্পল দেই। ধরেন, কেউ যদি টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত না হয়, তিনি ১৭% এক্সট্রা লাইফস্প্যান পেতে পারেন, আবার কারো যদি কখনো হার্ট অ্যাটাক না হয়, তিনি ১৮% এক্সট্রা লাইফস্প্যান পেতে পারেন ইনশাআল্লাহ। মোটকথা, একটি অপটিমিস্টিক মাইন্ডসেটের পাওয়ার, ডায়াবেটিস কিংবা হার্ট এটাকের মত ক্রনিক ডিজিজ এড়িয়ে চলার লাইফস্টাইলের মতোই প্রায় ইম্প্যাক্টফুল!
তবে, এই সংখ্যাগুলো দেখার পর সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন আসে, অপটিমিজম কি শুধু একটা হেলদি লাইফস্টাইলের প্রক্সি? মানে, যারা অপটিমিস্ট, তারা কি আসলে বেশি এক্সারসাইজ করেন আর কম স্মোকিং করেন, যার কারণে তারা বেশি বাঁচেন? রিসার্চাররা এই ব্যাপারটাও চেক করসেন, আর তাদের উত্তরটাই এই স্টাডিকে সত্যিকারের গ্রাউন্ডব্রেকিং করে তুলেছে। স্ট্যাটিসটিক্যাল মেথড এর মাধ্যমে তারা হেলদি লাইফ স্টাইল ফ্যাক্টরের বায়াস রিমুভ করার পরেও, অপটিমিজম ও লংজিভিটির মধ্যে স্ট্রং কানেকশনটা খুঁজে পাইসিলেন!
রিসার্চাররা এই স্টাডি করার সময় মানুষের পজেটিভ এবং নেগেটিভ বহু ভ্যারিয়েবল কন্ট্রোল করেছেন। মানে, লাইফস্প্যান এক্সটেনশন এর ক্ষেত্রে, অপটিমিজমের ইফেক্ট এসবের থেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছিল। এর মধ্যে ছিল:
- সোশিও-ইকোনমিক স্ট্যাটাস (যেমন এডুকেশন বা ইনকাম),
- সিরিয়াস হেলথ কন্ডিশন (যেমন হার্ট ডিজিজ, ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিস),
- ডিপ্রেশন,
- হেলথ বিহেভিয়রস (যেমন: স্মোকিং, ডায়েট, অ্যালকোহল ইউজ ও ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি),
- সোশ্যাল ইন্টিগ্রেশন
এই সবগুলো এফেক্ট এর বায়াস রিমুভ করে তারপর তারা দেখেছেন, যারা অপটিমিস্ট, তারা দুনিয়াতে ১০-১৫% বেশি বছর বেঁচে ছিলেন।
স্টাডির অথররা এই ফাইন্ডিংয়ের রোবাস্টনেস তাদের সামারিতে হাইলাইট করেছেন:
“Our results further suggest that optimism is specifically related to 11 to 15% longer life span, on average, and to greater odds of achieving ‘exceptional longevity,’ that is, living to the age of 85 or beyond. These relations were independent of socioeconomic status, health conditions, depression, social integration, and health behaviors (e.g., smoking, diet, and alcohol use).”
এটি বোঝায় যে, অপটিমিজম শুধু একটা হেলদি লাইফস্টাইল বা মানসিক কষ্ট থেকে ফ্রি থাকার বিকল্প নয়। বরং, এটি লংজিভিটির জন্য একটি ইউনিক, ইন্ডিপেন্ডেন্ট বেনিফিট দিতে পারে ইনশাআল্লাহ...
আর এই রিসার্চের সবচেয়ে প্র্যাকটিক্যাল এবং আশাব্যঞ্জক ফাইন্ডিং এটাই যে, অপটিমিজম, একটা মানুষ চাইলে শিখতে পারে। যদিও সায়েন্টিফিক স্টাডিগুলো বলে, অপটিমিজম কিছুটা জেনেটিকলি হেরিটেবল (প্রায় ২৫%, মানে, বাবা মা থেকে বাচ্চারা এটা এমনি পেতে পারে), তবে, বাকি ৭৫% পপুলেশন, এটা লার্ন করতে পারে।
অপটিমিজম, মানুষের ব্রেইনের একটি মডিফাইয়েবল ট্রেইট, যা যে কোন মানুষ তাঁর নিজের মধ্যে অ্যাক্টিভলি কাল্টিভেট করতে পারেন। কিছু সিম্পল প্র্যাকটিস, যেমন:
- রাইটিং এক্সারসাইজ ( #রাইটিং_থেরাপি ;) )
- মেডিটেশন,
- ইনটেনসিভ কগনিটিভ-বিহেভিওরাল থেরাপি, etc.
এ সবকিছুই অপটিমিজম বাড়াতে অলরেডি প্রুভেন মেকানিজম।
ফাইনালি, কেন এই রিসার্চ নিয়ে আমি উপরে এত ক্ষন বকবক করলাম জানেন? আসলে, এর একটা প্রোফাউন্ড ইমপ্লিকেশন আসে। অপটিমিজমকে হেলদি এজিং প্রমোট করার জন্য একটি ভ্যালুয়েবল এবং অ্যাকশনেবল টার্গেট হিসেবে আমরা প্র্যাকটিস করতে পারি ইনশাআল্লাহ। এটা এমন কিছু না, যা আপনাকে টাকা দিয়ে কিনা লাগবে। এটি আমাদের প্রত্যেকের ব্রেনের মধ্যে একটা সাইকোলজিক্যাল রিসোর্স, যা আমরা প্র্যাকটিসের মাধ্যমে সময়ের সাথে সাথে স্ট্রং করতে পারি ইনশাআল্লাহ...
আরেকটা চিন্তার খোরাক দেই? এই ল্যান্ডমার্ক রিসার্চ আরেকটা আইডিয়াটাকে আরও সলিডিফাই করে,
আমাদের মাইন্ড এবং আমাদের বায়োলজিক্যাল এন্টিটি, আমাদের এই শরীর, তার পারফরমেন্স এর সাথে খুব স্ট্রংলী মলিকুলার লেভেলে লিংকড। এরকম আরো অনেক রিসার্চ পেপার অলরেডি পাবলিশড, যেখানে দেখানো হইসে, আমাদের ব্রেন কিভাবে আমাদের ইমিউন সিস্টেম থেকে শুরু করে আমাদের শরীরের প্রত্যেকটা মলিকুলার এবং সেলুলার মেকানিজমকে কন্ট্রোল করে... সেই গল্প না হয় আরেকদিন...
আমাদের মাইন্ডসেট, এই দুনিয়াতে একটা লং, হেলদি লাইফের জন্য সবচেয়ে পাওয়ারফুল টুলগুলার মধ্যে একটা টুল হতে পারে ইনশাআল্লাহ।
আজ থেকে তাইলে কোন অপটিমিস্টিক হ্যাবিট দিয়ে নিজে ইন্টার্নাল মাইন্ডসেট কে ট্রেইন করা শুরু করবেন ইনশাআল্লাহ? চাইলে কমেন্টে বলতে পারেন, অথবা এই ফ্রি মেডিসিন এর খবর শেয়ার করে অন্যদের জানাতে পারেন 😊
#সাদমান
---
(রিসার্চ পেপার কমেন্টে)