Nabawi Life

Nabawi Life Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Nabawi Life, Health & Wellness Website, Nabawi Life, House 20/21 Garden Road Kawran Bazar, Dhaka-1215 Dhaka, Dhaka.

জিন-যাদু,বদ নজর,হাসাদ কেন্দ্রিক শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার একমাত্র শরঈ সমাধান হলো- তিব্বে নববীর আলোকে রুকইয়াহ শারইয়্যাহ। রুকইয়াহ সংক্রান্ত সেবা পেতে যোগাযোগ করুন"
�01706685576

আজকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব। স্বপ্নে দেখা কিছু প্রতীক বা চিহ্ন কীভাবে মানুষের উপর থাকা অদৃশ্য প্রভাব ব...
15/03/2026

আজকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব। স্বপ্নে দেখা কিছু প্রতীক বা চিহ্ন কীভাবে মানুষের উপর থাকা অদৃশ্য প্রভাব বা আধ্যাত্মিক সমস্যার ধরন সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। অনেক রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞ ও স্বপ্ন বিশ্লেষক মনে করেন, স্বপ্নে নির্দিষ্ট প্রাণী, রং এবং পরিবেশ-এই তিনটি বিষয় একত্রে বিবেচনা করলে আক্রান্ত ব্যক্তির সমস্যার ধরন সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।

প্রথমেই সাপের কথা বলা যাক। যদি স্বপ্নে বড় আকারের সাপ দেখা যায়, তাহলে এটিকে শক্তিশালী কোনো ‘عارض ’ অর্থাৎ মানুষের শরীরে বসবাসকারী জিনের উপস্থিতির ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়। আবার যদি সেই সাপের ডানা থাকে, তাহলে তাকে উড়ন্ত জিন বা “جن الطيا” হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। আর যদি সাপকে মাটিতে চলাফেরা করতে দেখা যায়, তাহলে তা অনেক সময় এমন জিনকে বোঝায়, যাদেরকে ‘عمر’ বলা হয়- অর্থাৎ যারা ঘরবাড়িতে বসবাস করে এবং মানুষের আশপাশে থাকে।

স্বপ্নে সাপের রংও গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। যেমন-কালো সাপ দেখা গেলে এটিকে জাদুর খাদেম বা জাদুর সাথে যুক্ত কোনো জিনের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। আবার হলুদ সাপকে সাধারণত তীব্র হিংসা, বদনজর বা অসুস্থতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

স্বপ্নে বিড়াল দেখা সম্পর্কেও একটি উল্লেখযোগ্য আলোচনা রয়েছে। কিছু রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞ বলেন, স্বপ্নে বিড়াল জিনের প্রতীক হতে পারে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, একবার শাইত্বান নবী ﷺ-এর নামাজের সময় উপস্থিত হয়েছিল। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আব্দুর রাজ্জাক বলেন-সে বিড়ালের আকৃতিতে এসেছিল। নবী ﷺ নামাজে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আল্লাহ তাঁকে শক্তি দিলেন এবং তিনি তাকে প্রতিহত করলেন। তিনি বলেন, আমি তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখার ইচ্ছা করেছিলাম যাতে তোমরা সকালে তাকে দেখতে পারো, কিন্তু পরে আমার ভাই সুলাইমান (আ.)-এর সেই দোয়ার কথা মনে পড়ল-“হে আমার রব, আমাকে এমন রাজত্ব দান করুন যা আমার পরে আর কাউকে দেওয়া হবে না।” তখন আল্লাহ তাকে অপমানিত অবস্থায় ফিরিয়ে দিলেন।
সুরা সোয়াদ,-৩৫
এর দ্বারা এটাও প্রমাণিত হয় যে জিনের সাহায্য নেওয়া আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর জন্যও অনুমতি ছিল না।
এটা শুধু খাস ছিল সুলাইমান (আঃ) এর জন্য।
এখান যারা বলে জিন হুজুর বা জিনের সাহায্যে কাজ করে তারা প্রতারক ভন্ড, তাদের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই।

যাক আগের কথায় ফিরে যাই,-
রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বপ্নে বিড়াল দেখা ‘ঘরের জিন’ বা ঘরের সাথে যুক্ত কোনো আধ্যাত্মিক প্রভাবের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে কালো বিড়াল দেখা গেলে সেটি জেদি ও ধূর্ত প্রকৃতির আরিদের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

স্বপ্নে কুকুর দেখা নিয়েও কিছু ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে। যদি পুরুষ কুকুর দেখা যায়, তাহলে তা পুরুষ জিনের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। আর মাদি কুকুর দেখা গেলে সেটি নারী জিনের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে কালো কুকুরকে অনেক সময় শাইত্বানের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আবার কুকুর বা নেকড়ে যদি স্বপ্নে তাড়া করে বা ঘেউ ঘেউ করে, তাহলে তা অনেক সময় হুমকি, ভয় দেখানো বা কোনো আক্রমণাত্মক প্রভাবের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। আর যদি কামড় দেয়, তাহলে সেটিকে আক্রান্ত হওয়ার প্রভাব শক্ত হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়।

স্বপ্নে শজারু দেখা গেলে কিছু ব্যাখ্যায় বলা হয়, এটি এমন জিনের প্রতীক হতে পারে যারা মানুষের ঘরবাড়ি বা পরিত্যক্ত স্থানে থাকে এবং বিরক্ত করলে মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আবার স্বপ্নে পেঁচা বা বাদুড় দেখা গেলে অনেক সময় তাকে ‘উড়ন্ত আরিদ’ বা আকাশপথে চলাচলকারী জিনের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়। এ ধরনের জিন অনেক সময় অবিশ্বাসী বা ইসলামবহির্ভূত বিশ্বাসে থাকতে পারে-এমন ব্যাখ্যাও কিছু রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞ দিয়ে থাকেন।

স্বপ্নের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। যেমন-যদি কেউ স্বপ্নে উড়তে দেখেন, উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেন, অথবা শিকারি পাখি দেখেন, তাহলে কিছু ব্যাখ্যায় বলা হয় এটি ডানাওয়ালা জিনের ইঙ্গিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্বপ্নে সাদা বা স্বচ্ছ রং বেশি দেখা যায়।

অন্যদিকে কেউ যদি স্বপ্নে ডুবে যাওয়া, সমুদ্র, নদী বা জলজ প্রাণী দেখতে পান, তাহলে সেটিকে অনেক সময় ‘ডুবুরি আরিদ’ বা পানির সাথে সম্পর্কিত জিনের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এসব স্বপ্নে সাধারণত গাঢ় নীল বা কালো রং বেশি দেখা যায়।

আবার যদি স্বপ্নে কবরস্থান, পরিত্যক্ত বাড়ি, অথবা মাটির নিচের পরিবেশ দেখা যায়, তাহলে সেটিকে অনেক সময় ‘মাটির আরিদ’ বা স্থলভিত্তিক জিনের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়। এ ধরনের স্বপ্নে সাধারণত বাদামী বা ধূসর রং বেশি প্রাধান্য পায়।

কিছু প্রাণীকে নিম্নস্তরের বা নোংরা প্রকৃতির আরিদের প্রতীক বলেও ধরা হয়। যেমন-শূকর বা ইঁদুর। এসব স্বপ্ন অনেক সময় ছিটানো জাদু (সিহর মারশূশ) বা অপবিত্র পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

অন্যদিকে স্বপ্নে সিংহ বা বাঘ দেখা গেলে সেটিকে শক্তিশালী ও উচ্চ মর্যাদার আরিদের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এমন স্বপ্ন অনেক সময় ইঙ্গিত দেয় যে নিয়োজিত জিনটি দীর্ঘদিন ধরে শরীরে অবস্থান করছে এবং শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এটাকে মুলুকুল জিনও বলা হয়।

এই ব্যাখ্যাগুলো থেকে চূড়ান্ত ধারণা নিতে হলে তিনটি বিষয় একত্রে দেখা হয়-প্রাণী, পরিবেশ এবং রং। যেমন-
যদি কেউ স্বপ্নে কালো রঙের একটি ড্রাগনকে উড়তে দেখেন, তাহলে সেটিকে অনেক সময় শক্তিশালী উড়ন্ত আরিদ এবং জাদুর সাথে সম্পর্কিত প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। আবার যদি কেউ স্বপ্নে কুকুরকে নোংরা পানিতে সাঁতার কাটতে দেখা মানে কি? এটা একটা ইঙ্গিত। মাঝারি পর্যায়ের ডুবুরিরা এটা দেখতে পায়।

স্বপ্নে অদ্ভুত কিছু ঘটলে সেটা বোঝাতে পারে কিছু একটা আপনার সাথে ঘটছে। যেমন: যদি স্বপ্নে দেখেন কোন প্রাণী আপনাকে তাড়া করছে আর আপনি পালাচ্ছেন, তাহলে বোঝা যায় যে ব্যাপারটা এখনও আপনাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। কিন্তু যদি স্বপ্নে আপনি সেই প্রাণীর সাথে লড়েন বা তাকে মারেন বা তার উপর কোরআন পড়েন, তাহলে সেটা বোঝাতে পারে যে আপনি শক্তিশালী হচ্ছেন আর সেই ব্যাপারটা দুর্বল হচ্ছে।

স্বপ্নে তালা বা শিকল দেখলে বুঝবেন যে এটা কোন পুরোনো জাদু বা অঙ্গীকারের সাথে যুক্ত।

স্বপ্নে দেখা প্রাণীগুলো অনেক সময় সেই অদৃশ্য ব্যাপারটার শক্তি বোঝায়। স্বপ্নের পরিবেশ দেখে বোঝা যায় সেই ব্যাপারটা কি ধরনের। আর রংগুলো বোঝায় সমস্যা কোথা থেকে আসছে।

তবে মনে রাখবেন, স্বপ্ন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো বিষয় নয়। এগুলো শুধু ইঙ্গিত। আসল অবস্থা বোঝার জন্য কোরআন, সুন্নাহ, রুকইয়াহ, ইবাদত, দোয়া সবচেয়ে জরুরি।

__✍️Raqi Sultan Mahmud
Senior Raqi & Consultant - Nabawi Life
সুস্থতার পথে অন্যকে সহায়তা করতে সদাকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করুন।
☎️01706685576
☎️01618901150
Raqi Sultan Mahmud
Md. Sultan Mahmud Ashraf

যে সকল বোনের- ১)ওভারি সিস্ট২)ইরেগুলার পিরিয়ড বা পিরিয়ডের সময় ব্যথা হওয়া৩) ভার বা ব্যথা ফীল হয়৪) মেজাজ অত্যাধিক উগ্র৫) কথ...
15/03/2026

যে সকল বোনের-
১)ওভারি সিস্ট
২)ইরেগুলার পিরিয়ড বা পিরিয়ডের সময় ব্যথা হওয়া
৩) ভার বা ব্যথা ফীল হয়
৪) মেজাজ অত্যাধিক উগ্র
৫) কথার টোনে অত্যাধিক শাহাওয়াত টাইপ রোম্যান্টিক ভাব (চঞ্চলতা উদ্যেশ্য না)
৬) কোন শারীরিক বা মানসিক সমস্যা বিকেল বা সন্ধ্যার পর থেকে বেড়ে ফজরের আগে গিয়ে কমে।
৭) সপ্নে রোম্যান্টিক, অশ্লীল বা ভীতিকর কিছু, বা মানুষ প্রানী, উপর থেকে পড়ে যাওয়া, কবর, লাশ, পানি, উচু জায়গা, উড়া, সাতার কাটা, মাছ ইত্যাদি দেখা।
৮) পড়ালেখা বা পরীক্ষার আগেই বা পরপরই অসুস্থ হয়ে যাওয়া।
৯) একের পর এক রোগ লেগেই থাকা।
১০) পড়তে বা কোন প্রোডাক্টিভ কাজ করতে গেলেই চোখে অন্ধকার, ঘোলা দেখা বা চারিদিক অন্ধকার দেখা, মাথা হ্যাং হয়ে যাওয়া
১১) ঘন ঘন মুড সুইং হওয়া।
১২) বুক চেপে আসা
১৩) শারীরিক আকৃতির অসাভাবিক চেঞ্জ আসা।
১৪) চেহারার কালার চেঞ্জ হওয়া।
১৫) মিসক্যারেজ হওয়া।

তারা অধিকাংশই জীন ও যাদুগ্রস্থ.... এটার প্রভাব লাইফের উপর কেমন পড়ে-

মানসিক প্রভাব
১) চিন্তার স্থিরতা হারায়। হারাম যৌনতা ও গানের প্রতি অত্যাধিক চাহিদা। অত্যাধিক সন্দেহ ঝগড়াটে রিয়েক্টফুল ও সন্দেহপ্রবন উগ্র মেজাজের হয়ে যায়।

২) নাস্তিকতা সর্বদা অশ্লীলতা ঘুরতে থাকে। ঈমান ও ইলম দুর্বল হলে পেশেন্টও বাস্তবিক এমন বিশ্বাসের হয়ে যায়। মা'আযাল্লাহ।

শারীরিক প্রভাব (অল্প কয়েকটি উল্লেখ করা হলো)

১) ইরেগুলার পিরিয়ড
২) শরীর ব্যথা, প্রচন্ড ওজন থাকা, কিছুই করতে না পারা। কাজ করতে প্রচন্ড কষ্ট হওয়া।
৩) ক্রনিক ব্যাকপেইন থাকা
৪) বাচ্চা না হওয়া
৫) অত্যাধিক চু পড়া
৬) চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাওয়া।
৭) একের পর এক রোগ লেগেই থাকা
৮) পেটে সমস্যা থাকা। যেমন কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, আই বি এস, গ্যাস্ট্রিক ইত্যাদি,যা ঔষধেও কাজ হয় না।
৯) সহবাসে অনীহা অক্ষম হয়ে যাওয়া।
১০) সামীর সাথে মিলিত হলেও কোনভাবেই তৃপ্তি না পাওয়া।
১১) পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে মনে নাচাওয়া

মানসিক সমস্যা (অল্প কয়েকটি উল্লেখ করা হলো)

১) শত চেষ্টার পরেও বিয়ে নাহওয়া
২) একাকী থাকার প্রবনতা বেড়ে যাওয়া।
৩) সামান্য কথাতেই মেজাজ দেখানো। মেজাজ কন্ট্রোল করতে না পারা
৪) মানুষের সাভাবিক চাহিদা, ভালবাসার অনুভুতি নষ্ট হয়ে যাওয়া।
৫) প্রচন্ড অসামাজিক ও ইন্ট্রোভার্ট হয়ে যাওয়া বা বাচাল হয়ে যাওয়া।
৬) পাগলের মত বা ভারসাম্যহীন আচরন করা।
৭) স্বামী-স্ত্রী ডিভোর্স হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া।
৮) মানসিকভাবে ডিপ্রেশন ও সুইসাইডাল হয়ে যাওয়া...

এর থেকে সমাধান চাইলে, কমেন্টে সমস্যা উল্লেখ্য করুন।
ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পোস্টে সমাধান লিখা হবে।

__✍️Raqi Sultan Mahmud
Senior Raqi & Consultant - Nabawi Life
সুস্থতার পথে অন্যকে সহায়তা করতে সদাকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করুন।
☎️01706685576
☎️01618901150
Raqi Sultan Mahmud
Md. Sultan Mahmud Ashraf

ছবির জাদু একটি নীরব কিন্তু ভয়ংকর আক্রমণের ধরন। রুকইয়াহর জগতে প্রায়ই একটি প্রশ্ন শোনা যায়-“কেউ কি শুধু ছবির মাধ্যমেও ...
15/03/2026

ছবির জাদু একটি নীরব কিন্তু ভয়ংকর আক্রমণের ধরন। রুকইয়াহর জগতে প্রায়ই একটি প্রশ্ন শোনা যায়-“কেউ কি শুধু ছবির মাধ্যমেও জাদু করতে পারে?” অনেক রাক্বি ও গবেষকের মতে, এমন একটি পদ্ধতির কথা বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ পাওয়া যায়, যাকে বলা হয় “ছবির জাদু” (سِحْرُ الصُّوَرِ)। ধারণা করা হয়, এতে কোনো ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে তাকে লক্ষ্য করে জাদুকরী কাজ করা হয়।

এই পদ্ধতিতে সাধারণত কোনো ব্যক্তির ছবি সংগ্রহ করা হয়, এরপর সেই ছবিকে জাদুর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়-কখনো ক্ষতি করার জন্য, কখনো সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য, কখনো অসুস্থতা বা জীবনে অচলাবস্থা তৈরি করার উদ্দেশ্যে।

ছবির জাদু কীভাবে করা হয়

১. ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার

জাদুকর প্রথমে লক্ষ্য ব্যক্তির একটি ছবি সংগ্রহ করে। এরপর সেই ছবির উপর বিভিন্ন তাবিজ, অদ্ভুত চিহ্ন বা জাদুকরী লেখালেখি করা হয়, যাতে লক্ষ্য ব্যক্তির উপর প্রভাব সৃষ্টি করা যায়।

২. কাছে আনা বা দূরে সরিয়ে দেওয়া

অনেক সময় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় দুই ব্যক্তির মধ্যে অস্বাভাবিক আকর্ষণ তৈরি করতে, যাকে কেউ কেউ “মহব্বতের জাদু” বলে। আবার কখনো এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো, সম্পর্ক নষ্ট করা বা বিয়েতে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়।

৩. ছবি পুঁতে রাখা বা নষ্ট করা

কিছু ক্ষেত্রে সেই ছবিকে পরিত্যক্ত জায়গা, কবরস্থান বা নির্জন স্থানে পুঁতে রাখা হয়। আবার কখনো ছবিকে আগুনে পোড়ানো হয় অথবা বিভিন্ন অদ্ভুত পদার্থে ডুবিয়ে রাখা হয়, যাতে লক্ষ্য ব্যক্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে-এমনটাই দাবি করা হয়।

ছবির জাদুর সম্ভাব্য কিছু লক্ষণ

১. মানসিক লক্ষণ

হঠাৎ মেজাজের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, অকারণ বিষণ্নতা বা দুঃখবোধ, মনোযোগ হারিয়ে ফেলা কিংবা কাজের ইচ্ছা কমে যাওয়া।

২. শারীরিক লক্ষণ

স্থায়ী মাথাব্যথা যা সাধারণ চিকিৎসায় কমে না, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা অবসাদ, কিংবা হঠাৎ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা অনুভব করা।

৩. সামাজিক সমস্যা

পরিবার বা ঘনিষ্ঠ মানুষের সাথে অকারণ ঝগড়া-বিবাদ শুরু হওয়া, কিংবা হঠাৎ করে প্রিয় মানুষদের প্রতি অস্বাভাবিক বিরক্তি বা দূরত্ব তৈরি হওয়া।

৪. অদ্ভুত স্বপ্ন

কখনো স্বপ্নে নিজের ছবি পোড়ানো বা পুঁতে রাখার দৃশ্য দেখা, অথবা জাদুকর ও অদ্ভুত মানুষের উপস্থিতি দেখা-এ ধরনের স্বপ্নও কেউ কেউ উল্লেখ করেন।

কীভাবে পরীক্ষা করা যেতে পারে

যদি কারো সন্দেহ হয় যে সে এ ধরনের কোনো আক্রমণের শিকার হতে পারে, তাহলে একটি সহজ রুকইয়াহ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

প্রথমে কয়েকবার পড়ুন-

بسم الله يبطل سحر الصور
বিসমিল্লাহি ইয়ুবতিলু সিহরুস সুয়ারি।

এরপর এক মিনিট তিলাওয়াত করুন-

﴿مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ﴾
মা জি'তুম বিহিস সিহর ইন্নাল্লাহা সা ইয়ুব তিলু।

এরপর ২১ বার পড়ুন-

اللَّهُمَّ أَبْطِلْ سِحْرَ الصُّورَةِ وَكُلَّ سِحْرٍ أُصِيبَ بِهِ جَسَدِي وَنَفْسِي، وَارْدُدْ كَيْدَ السَّاحِرِ فِي نَحْرِهِ.
আল্লাহুম্মা আবতিল সিহরুস সুরাতি ওয়াকুল্লা সিহরিন উসিবা বিহি জাসাদি ওয়া নাফসি ওয়ারদুদ কাইদাস সাহিরি ফি নাহরিহ।

এই সময় যদি হাই ওঠা, বুক ভার লাগা, শরীরে ঝিনঝিনি, অথবা হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে যাওয়ার মতো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাহলে তা লক্ষ্য করা যেতে পারে।

সবশেষে মনে রাখতে হবে-ক্ষতি হোক বা না হোক, প্রকৃত নিরাময় আল্লাহর কাছেই। তাই কুরআন, দোয়া ও বৈধ রুকইয়াহর মাধ্যমেই আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন, অদৃশ্য সব অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

__✍️Raqi Sultan Mahmud
Senior Raqi & Consultant - Nabawi Life
সুস্থতার পথে অন্যকে সহায়তা করতে সদাকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করুন।
☎️01706685576
☎️01618901150
Raqi Sultan Mahmud
Md. Sultan Mahmud Ashraf

ছিটানো জাদু (سحر المرشوش): লক্ষণ, বাস্তবতা ও করণীয়রুকইয়াহর ক্ষেত্রে এমন একটি জাদুর কথা প্রায়ই শোনা যায়, যাকে বলা হয় “সিহ...
15/03/2026

ছিটানো জাদু (سحر المرشوش): লক্ষণ, বাস্তবতা ও করণীয়

রুকইয়াহর ক্ষেত্রে এমন একটি জাদুর কথা প্রায়ই শোনা যায়, যাকে বলা হয় “সিহরুল মারশূশ” (سحر المرشوش)-
অর্থাৎ ছিটানো জাদু। এটি এমন এক ধরনের জাদু যা কোনো বাড়ির দরজার সামনে, দোরগোড়ায়, উঠানে বা নির্দিষ্ট স্থানে ছিটিয়ে রাখা হয়, যাতে লক্ষ্য ব্যক্তি অজান্তেই এর সংস্পর্শে আসে।

প্রথমে এই জাদুর ধারণাটি বোঝা দরকার।

প্রথমত: সিহরুল মারশূশ কী,-
অর্থাৎ কোনো জাদুকর মাটি, গুঁড়া, পানি বা কাদার মতো কোনো বস্তুতে তাবিজ, মন্ত্র বা বিশেষ কাজ মিশিয়ে সেটিকে কোনো বাড়ির দরজার সামনে, দোরগোড়ায় বা লক্ষ্য ব্যক্তির ঘরে ছিটিয়ে দেয়। এরপর যখন সেই ব্যক্তি সেখানে হাঁটে বা তার পা সেই স্থানের সাথে স্পর্শ করে, তখন সেই জাদুর প্রভাব তার উপর পৌঁছায়-এমনটাই বলা হয়।

মূল ধারণা হলো-এই প্রভাবটি শারীরিক স্পর্শের মাধ্যমে মানুষের শরীর ও মনে প্রবেশ করে।

দ্বিতীয়ত: সাধারণত যেসব উদ্দেশ্যে এটি করা হয়

১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ বা শত্রুতা সৃষ্টি করতে
২. বন্ধ্যাত্ব বা বিয়ে আটকে দেওয়ার জন্য
৩. অসুস্থতা ও দুর্বলতা সৃষ্টি করতে
৪. কাউকে নিয়ন্ত্রণ বা বাধ্য করার জন্য

তৃতীয়ত: এটি কীভাবে কাজ করে-এমন ধারণা প্রচলিত আছে

আধ্যাত্মিক শক্তির ধারণা অনুযায়ী বলা হয়-
জাদুমিশ্রিত বস্তু স্পর্শ করলে মানুষের শক্তিক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।
এরপর সেই প্রভাব ধীরে ধীরে শরীর ও মনে প্রভাব সৃষ্টি করে।

অনেক সময় বিশেষ পরিস্থিতিতে (রাগ, দুঃখ, ঘুম ইত্যাদি) এর প্রভাব বেশি প্রকাশ পায়।

চতুর্থত: ছিটানো জাদুর লক্ষণ

১. শারীরিক লক্ষণ (অনেক সময় চিকিৎসাগত কারণ পাওয়া যায় না)
পায়ে অস্বাভাবিক ভারীভাব বা কোমরের নিচে ব্যথা
হঠাৎ পা ঠান্ডা বা গরম হয়ে যাওয়া
পায়ের পাতায় সূচ ফোটার মতো ঝিনঝিন
নির্দিষ্ট ঘর বা বাড়িতে ঢুকলেই ক্লান্তি অনুভব করা

২. মানসিক লক্ষণ
কোনো ব্যক্তি বা জায়গার প্রতি হঠাৎ অকারণ বিরক্তি
কোনো নির্দিষ্ট স্থানে গেলেই মন খারাপ বা বিষণ্নতা
বারবার অদ্ভুত চিন্তা বা কুমন্ত্রণা

৩. আধ্যাত্মিক লক্ষণ
স্বপ্নে বারবার রাস্তা, দরজা বা ভেজা মাটি দেখা।
দরজার কাছে ছায়া বা অদ্ভুত উপস্থিতির অনুভূতি।
জিনের প্রতিক্রিয়া হঠাৎ বেড়ে যাওয়া।

পঞ্চমত: কোনো জায়গায় ছিটানো জাদু থাকার সম্ভাব্য কিছু চিহ্ন

কিছু প্রাচীন গ্রন্থে যেমন “منبع أصول الحكمة” ও “عزائم الملوك”-এ উল্লেখ করা হয়েছে-

মাটিতে অদ্ভুত দাগ বা রেখা দেখা।
অস্বাভাবিক গন্ধ (তীব্র, দুর্গন্ধ বা অদ্ভুত মিষ্টি গন্ধ)
অস্বাভাবিক সাদা বা কালো গুঁড়া।
বিড়াল বা কুকুর সেই জায়গা এড়িয়ে চলা।
সেখানে গেলে হঠাৎ মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা হওয়া।

ষষ্ঠত: আরবের কিছু রাক্বিরা যেভাবে পরীক্ষা করার চেষ্টা করেন

১. পানি ও লবণ
লবণ মিশ্রিত পানি সেই জায়গায় ছিটিয়ে দিলে যদি রং বা গন্ধ বদলায়, কেউ কেউ এটাকে অস্বাভাবিক বলে মনে করেন।

২. মিসক বা গোলাপজল
সুগন্ধি পানি ছিটিয়ে পরিবেশের পরিবর্তন লক্ষ্য করা।

৩. রুকইয়াহ তিলাওয়াত
সুরা পড়ার সময় জায়গার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা।

সপ্তমত: একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

ছিটানো জাদু সন্দেহ হলে অজ্ঞতাবশত সেটিকে হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করা ঠিক নয়। অনেক সময় মানুষ না বুঝেই সমস্যাকে বাড়িয়ে ফেলে। বরং সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো-আল্লাহর যিকির, কুরআন তিলাওয়াত ও শরয়ী রুকইয়াহ।

অষ্টমত: কিছু সংখ্যার সাথে জাদুর সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়

কিছু লোক বিভিন্ন সংখ্যাকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের সাথে যুক্ত করে থাকে-

৯ : বিচ্ছেদ বা সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য
৭ : অসুস্থতা ও দুর্বলতার জন্য
৫ : বন্ধ্যাত্ব বা বিয়ে বন্ধ করার জন্য
৩ : নিয়ন্ত্রণ বা বাধ্য করার জন্য

নবমত: প্রতিরোধের একটি সহজ উপায়

কেউ যদি সন্দেহজনক কিছু দেখতে পান, তাহলে পরিষ্কার পানিতে আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং সূরা বাকারা শেষের আয়াতগুলো পড়ে সেই পানি জায়গাটিতে ছিটিয়ে দিতে পারেন এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে পারেন।

রুকইয়াহ: ছিটানো জাদুর নষ্টের দোয়া।
এগুলো নিয়মিত পড়ে পানিতে ফু দিয়ে সেই পানি গোসলের পানির সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করবেন।
খাবারের পানির সাথেও ব্যবহার করবেন।

হে আল্লাহ, ঘরবাড়িতে ছিটানো সব জাদু বাতিল করে দিন

(وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى ۖ وَعَهِدْنَا إِلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ)
[سورة البقرة 125]

হে আল্লাহ, আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীদের দ্বারা ছিটানো সব জাদু বাতিল করে দিন

(فِيهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ ۖ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا ۗ وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ۚ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ)
[سورة آل عمران 97]

হে আল্লাহ, পুরোনো ছিটানো সব জাদু বাতিল করে দিন

(وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَنْ لَا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ)
[سورة الحج 26]

হে আল্লাহ, কাপড়ের উপর করা ছিটানো জাদু বাতিল করে দিন

(بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ * قُمْ فَأَنْذِرْ * وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ * وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ)
[سورة المدثر 1 - 4]

হে আল্লাহ, জিনিসপত্রের উপর ছিটানো জাদু বাতিল করে দিন

(أَلَهُمْ أَرْجُلٌ يَمْشُونَ بِهَا ۖ أَمْ لَهُمْ أَيْدٍ يَبْطِشُونَ بِهَا ۖ أَمْ لَهُمْ أَعْيُنٌ يُبْصِرُونَ بِهَا ۖ أَمْ لَهُمْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا ۗ قُلِ ادْعُوا شُرَكَاءَكُمْ ثُمَّ كِيدُونِ فَلَا تُنْظِرُونِ)
[سورة اﻷعراف 195]

হে আল্লাহ, যে জাদুর উপর আক্রান্ত ব্যক্তি পা দিয়েছে তা বাতিল করে দিন

(ارْكُضْ بِرِجْلِكَ ۖ هَٰذَا مُغْتَسَلٌ بَارِدٌ وَشَرَابٌ)
[سورة ص 42]

বিসমিল্লাহ - পা থেকে জাদু ও তার খাদেম বের হয়ে যাক

(وَلَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَابًا مِنَ السَّمَاءِ فَظَلُّوا فِيهِ يَعْرُجُونَ * لَقَالُوا إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصَارُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَسْحُورُونَ)
[سورة الحجر 14 - 15]

হে আল্লাহ, একাধিক ব্যক্তি বা পুরো পরিবারের উপর করা যৌথ জাদু বাতিল করে দিন

(وَجَعَلْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَنْ يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا ۚ وَإِذَا ذَكَرْتَ رَبَّكَ فِي الْقُرْآنِ وَحْدَهُ وَلَّوْا عَلَىٰ أَدْبَارِهِمْ نُفُورًا)
[سورة اﻹسراء 46]

বিসমিল্লাহ - শাইত্বান ও জাদুর খাদেমদের দূর করে দাও

(أَفَسِحْرٌ هَٰذَا أَمْ أَنْتُمْ لَا تُبْصِرُونَ)
[سورة الطور 15]

বিসমিল্লাহ - গোপনে ছিটানো সব জাদু বাতিল হয়ে যাক

(قَالُوا سِحْرَانِ تَظَاهَرَا وَقَالُوا إِنَّا بِكُلٍّ كَافِرُونَ)
[سورة القصص 48]

হে আল্লাহ, বহু জমে থাকা জাদু ধ্বংস করে দিন

(بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ * وَإِنْ يَرَوْا آيَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُسْتَمِرٌّ)
[سورة القمر 1 - 2]

হে আল্লাহ, যে জাদু বারবার নতুন করে করা হয় তা বাতিল করে দিন

(ثُمَّ نَظَرَ * ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ * ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ * فَقَالَ إِنْ هَٰذَا إِلَّا سِحْرٌ يُؤْثَرُ)
[سورة المدثر 21 - 24]

হে আল্লাহ, চিহ্ন বা অবশিষ্ট প্রভাবের জাদু বাতিল করে দিন

(وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ)
[سورة الكهف 82]

হে আল্লাহ, দেয়ালের উপর করা জাদু বাতিল করে দিন

(فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ)
[سورة النور 36]

বিসমিল্লাহ - ঘরবাড়ি ও পরিবারের জাদু বাতিল হয়ে যাক

(مَثَلُ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ أَوْلِيَاءَ كَمَثَلِ الْعَنْكَبُوتِ اتَّخَذَتْ بَيْتًا ۖ وَإِنَّ أَوْهَنَ الْبُيُوتِ لَبَيْتُ الْعَنْكَبُوتِ ۖ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ)
[سورة العنكبوت 41]

হে আল্লাহ, শাইত্বানদের ঘর ধ্বংস করে দিন

(وَمَنْ يَخْرُجْ مِنْ بَيْتِهِ مُهَاجِرًا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا)
[سورة النساء 100]

বিসমিল্লাহ - ঘরের জাদু পুড়ে যাক

(إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا)
[سورة اﻷحزاب 33]

বিসমিল্লাহ - যে জাদু পরিবারে সমস্যা সৃষ্টি করেছে তা বাতিল হয়ে যাক

(قَالَ رَجُلَانِ مِنَ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمَا ادْخُلُوا عَلَيْهِمُ الْبَابَ فَإِذَا دَخَلْتُمُوهُ فَإِنَّكُمْ غَالِبُونَ ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ)
[سورة المائدة 23]

বিসমিল্লাহ - দরজার উপর করা সব জাদু বাতিল হয়ে যাক

(وَإِذْ قُلْنَا ادْخُلُوا هَٰذِهِ الْقَرْيَةَ فَكُلُوا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَدًا وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَقُولُوا حِطَّةٌ نَغْفِرْ لَكُمْ خَطَايَاكُمْ ۚ وَسَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ)
[سورة البقرة 58]

বিসমিল্লাহ - ঘরের দোরগোড়ায় ছিটানো জাদু বাতিল হয়ে যাক

(وَإِنِّي كُلَّمَا دَعَوْتُهُمْ لِتَغْفِرَ لَهُمْ جَعَلُوا أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ وَاسْتَغْشَوْا ثِيَابَهُمْ وَأَصَرُّوا وَاسْتَكْبَرُوا اسْتِكْبَارًا)
[سورة نوح 7]

ছিটানো জাদুর ক্ষেত্রে বিশেষ পানির ব্যবহার

আমাদের অভিজ্ঞতার আলোকে পেশেন্টদের একটি সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলে থাকি।

একটি বালতি বা বড় পাত্রে পরিষ্কার পানি নিন।
এরপর সেই পানির উপর আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, সূরা নাস, সূরা ইখলাস, এবং সূরা বাকারা শেষের আয়াতগুলো তিলাওয়াত করুন। এবং প্রত্যেজ সুরা শেষ হলে সেই পানিতে ফুঁ দিবেন।

এরপর সেই পানিতে একমুঠো লবণ, কস্তুরি আতল, গোলাপ জল, ৫০ পিস বরই পাতা পিষে মিশিয়ে নিন।

তারপর সেই পানিতে পা ডুবিয়ে ১৫-২০ মিনিট বসে থাকুন। বিশেষ করে যারা মনে করেন তারা ছিটানো জাদুর স্থানে হেঁটেছেন, তাদের জন্য এটি উপকারী একটি রুকইয়াহ পদ্ধতি হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করেন।

শেষে সেই পানি দিয়ে পা ধুয়ে নিতে পারেন এবং কিছু পানি দরজার সামনে বা সন্দেহজনক স্থানে ছিটিয়ে দিতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সব ধরনের জাদু, শাইত্বানের কুমন্ত্রণা এবং অদৃশ্য ক্ষতি থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

__✍️Raqi Sultan Mahmud
Senior Raqi & Consultant - Nabawi Life
সুস্থতার পথে অন্যকে সহায়তা করতে সদাকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করুন।
☎️01706685576
☎️01618901150
Raqi Sultan Mahmud
Md. Sultan Mahmud Ashraf

শরীরের ভেতরে জাদুর নেটওয়ার্ক বা সিস্টেম কিভাবে কাজ করে সে বিষয়ে আমরা আজকে জানব।শরীরের ভেতরে জাদু কাজ করার জন্য শাইত্বান...
14/03/2026

শরীরের ভেতরে জাদুর নেটওয়ার্ক বা সিস্টেম কিভাবে কাজ করে সে বিষয়ে আমরা আজকে জানব।শরীরের ভেতরে জাদু কাজ করার জন্য শাইত্বানের একটি দল কাজ করে। এই দলের মধ্যে থাকে (خادم السحر) মানে জাদুর কাজে নিয়োজিত খাদেম, অন্যান্য জিন এবং শরীরের বাইরে থাকা পাহারাদার। এছাড়াও, বাইরে থেকে তাদের জন্য নতুন শক্তি পাঠানো হয়।

জিনেরা শরীরে প্রবেশ করার পর নিচের কাজগুলো শুরু করে:

- তারা শরীরের ভেতরে চলাচলের পথ তৈরি করে এবং বিভিন্ন জায়গায় গিঁট দেয়। বিশেষ করে মেরুদণ্ডের নিচের অংশ এবং কাঁধের অংশে গিঁট দেয়।

- অনেক সময় উরু, বুক এবং নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুতে গিঁট দেয়। এছাড়াও মাথার পেছনে এবং মগজে কুফরি নকশা বা আরবী সংখ্যার জাদু তৈরি করে রাখে। এই গিঁটগুলো সাধারণত পানি বা রক্তের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়।

- তারা শরীরে চলাচলের জন্য বিশেষ 'গেইট' বা প্রবেশপথ তৈরি করে, যাতে দ্রুত মাথা থেকে শরীরের অন্য অংশে যাতায়াত করতে পারে। জিনেরা শরীরকে খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে সন্ধিস্থল, শরীরের ভাঁজ বা গহ্বরগুলোতে গিঁট দিয়ে লুকিয়ে থাকে।

- তারা নিজেদের রক্ষার জন্য শরীরের ভেতরে (حصون) দুর্গ ও বর্ম তৈরি করে। চিকিৎসা ছাড়াই যত বেশি দিন এরা শরীরে থাকে, এই দুর্গ ও গিঁটগুলো তত বেশি মজবুত হয়। আর যদি কেউ ভুল করে তান্ত্রিক বা কবিরাজের কাছে যায়, তবে এই বন্ধনগুলো আরও পাকাপোক্ত হয়ে যায়।

- জাদুর প্রধান খাদেম সাধারণত জাদুর চেইনের একদম শেষ প্রান্তে অবস্থান করে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি জরায়ু বা চর্বিযুক্ত স্থানে এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে তলপেট বা নাভির নিচের অংশে বেশি থাকে।

সঠিক চিকিৎসার জন্য:

- বাইরের কানেকশন বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এর জন্য ঘর থেকে ছিটানো বা পোঁতা জাদুর আছর নষ্ট করতে হবে এবং ঘরকে নিয়মিত আমলের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

- গিঁট ও দুর্গ ধ্বংস করতে হবে। রুকইয়াহ সেশনের মাধ্যমে জাদুর আয়াতের পাশাপাশি গিঁট খোলা, দুর্গ ধ্বংস করা এবং শিকল কাটার বিশেষ আয়াতগুলো তিলাওয়াত করতে হবে।

- ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। শুধু জাদুর পেছনে পড়লে হবে না, আবার শুধু জিনের পেছনে পড়লেও হবে না। কারণ শুধু জাদুর চিকিৎসা করলে জিনটি উগ্র হয়ে ওঠে, আর শুধু জিনের চিকিৎসা করলে জাদু নষ্ট হয় না। ফলে একটি জিন মারা গেলে জাদুর টানে আরেকটি নতুন জিন তার জায়গা দখল করে। তাই দুটোরই চিকিৎসা একসাথে করতে হবে।

- সঠিক ডায়াগনোসিস ও ব্যবস্থা: জাদুর ধরন বুঝে শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে প্রভাব ফেলতে হবে। যেমন-ছিটানো জাদুর জন্য পা ডুবিয়ে রাখার আমল, খাওয়ানো জাদুর জন্য জরায়ু বা পেটের বিশেষ প্রোগ্রাম এবং মাথায় প্রভাব বেশি হলে মাথার জন্য বিশেষ ভেষজ প্রলেপ বা আমল ব্যবহার করতে হবে।

এগুলো প্রত্যেকটি বিষয় আলাদা ভাবে লিখে বুঝাতে হবে যদি আপনারা চান তাহলে কমেন্টে, "সুবহানাল্লাহ" লিখুন।

__✍️Raqi Sultan Mahmud
Senior Raqi & Consultant - Nabawi Life
সুস্থতার পথে অন্যকে সহায়তা করতে সদাকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করুন।
☎️01706685576
☎️01618901150
Raqi Sultan Mahmud
Md. Sultan Mahmud Ashraf

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আল্লাহ আপনাদের ভালো রাখুন। আমি আল্লাহর সিফতি নামের মাধ্যমে দোয়া করছি - তিনি যেন আপনাদের মনে শান্তি দ...
14/03/2026

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আল্লাহ আপনাদের ভালো রাখুন। আমি আল্লাহর সিফতি নামের মাধ্যমে দোয়া করছি - তিনি যেন আপনাদের মনে শান্তি দেন এবং দ্রুত সুস্থ করেন। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন বিয়ে, কাজ, পড়াশোনা, চিকিৎসা বা জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে যে বাঁধা আছে তা দূর করে দেন।

ভাই ও বোনেরা, আপনারা চিকিৎসা চান, সুস্থ হতে চান, এই কষ্ট থেকে মুক্তি চান। তাহলে মনে রাখবেন, আল্লাহর আনুগত্য, ইবাদত, ভালো কাজ ও দান - এগুলোই মুক্তির দরজা এবং সুস্থতার চাবিকাঠি।

বিশেষ করে পাপ থেকে মাফ চাওয়া, রাসূল (সাঃ) এর উপর দরুদ পড়া, এবং রাতের তাহাজ্জুদ - এগুলো অনেক শক্তিশালী কাজ। রাতের নামাজের গুরুত্ব আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না।

তাই রাতের নামাজের অভ্যাস গড়ে তুলুন। ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই সুসংবাদ দেখতে পাবেন। অনেক মানুষ শুধু রাতের নামাজের বরকতেই সুস্থ হয়েছেন, অনেকের জীবনের জটিলতা দূর হয়েছে, এমনকি শরীরে থাকা মারাত্মক সমস্যা থেকেও মুক্তি পেয়েছেন।

অনেকেই এমন জটিল সমস্যা থেকেও রাতের নামাজের মাধ্যমে উপকার পেয়েছেন। তাই রুকইয়াহর সাথে লেগে থাকুন। বিভিন্ন ধরনের রুকইয়াহ একসাথে শুনে বিভ্রান্ত না হয়ে আপনার সমস্যার উপযোগী রুকইয়াহ শুনুন।

ইনশাআল্লাহ, যদি এগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়, তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় চিকিৎসা সম্পন্ন হবে।

এমনও অনেক মানুষ আছেন, যাদের বিয়ের বাধা দূর হয়েছে এবং তারা বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করতে পেরেছেন - এটাও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।

তাই রুকইয়াহর সাথে লেগে থাকুন, নিয়মিত আমল করুন, ইবাদত করুন, দান সদকাহ করুন, বেশি বেশি অতীতের পাপের জন্য তওবা করুন। এবং প্রতিদিন রুকইয়াহ শুনুন। যে প্রোগ্রামগুলো দেওয়া হয় সেগুলো নিয়মিত অনুসরণ করুন।

ইনশাআল্লাহ সুস্থতা আসবেই। দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন - আল্লাহ সুস্থ করবেন। কারণ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। তিনি তাঁর বান্দাদের অবস্থা জানেন, দেখেন এবং শোনেন।

তাই আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও দানশীল। সুসংবাদ প্রত্যাশা করুন - ইনশাআল্লাহ সামনে কল্যাণই অপেক্ষা করছে।

সাবধান - নিরাশ হবেন না, হতাশ হবেন না, ক্লান্ত হয়ে হাল ছাড়বেন না। ধৈর্য ধরুন এবং আল্লাহর দিকে ফিরে যান।

আল্লাহ আপনাদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন, আপনাদের অন্তরকে প্রশান্ত করুন এবং এমন সুখবর দান করুন যা আপনাদের হৃদয়কে আনন্দিত করবে।

__✍️Raqi Sultan Mahmud
Senior Raqi & Consultant - Nabawi Life
সুস্থতার পথে অন্যকে সহায়তা করতে সদাকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করুন।
☎️01706685576
☎️01618901150
Raqi Sultan Mahmud
Md. Sultan Mahmud Ashraf

ব্যভিচারের জাদু-নাকি মানুষের অদৃশ্য এক ফাঁদ?মানুষ যখন জাদু বা আধ্যাত্মিক আক্রমণের কথা শুনে, তখন সাধারণত তার মনে কিছু পরি...
14/03/2026

ব্যভিচারের জাদু-নাকি মানুষের অদৃশ্য এক ফাঁদ?

মানুষ যখন জাদু বা আধ্যাত্মিক আক্রমণের কথা শুনে, তখন সাধারণত তার মনে কিছু পরিচিত চিত্র ভেসে ওঠে-
অসুস্থতা, অকারণ ভয়, সংসারে অশান্তি, বা হঠাৎ জীবন এলোমেলো হয়ে যাওয়া। কিন্তু এমন এক ধরনের জাদুর অভিজ্ঞতা আমরা পাই, যার প্রভাব মানুষের অন্তর, আবেগ ও কামনার উপর পড়ে। আর এটিকেই কেউ কেউ “সেহরুল যিনা” বা ব্যভিচারের জাদু বলে উল্লেখ করেন।

অনেকেই হয়তো অবাক হয়ে প্রশ্ন করতে পারেন-এমন কিছুও কি সত্যিই হতে পারে? এটি কি কেবল মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বলা কোনো গল্প? বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। জাদুর ইতিহাসে এমন কিছু পদ্ধতির কথা উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে একজন মানুষ অন্য কাউকে লক্ষ্য করে এমন কাজ করে যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির ভেতরে অস্বাভাবিক কামনা, আকর্ষণ বা মানসিক টান তৈরি হয়।

এতে আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ করেই নির্দিষ্ট কারো প্রতি অদ্ভুত এক আকর্ষণ অনুভব করতে শুরু করে। সে ব্যক্তিকে নিয়ে বারবার চিন্তা করা, স্বপ্নে দেখা, কিংবা তার প্রতি অস্বাভাবিক মানসিক টান অনুভব করা-এসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে। অনেক সময় ভুক্তভোগী নিজেই নিজের এই পরিবর্তনে বিস্মিত হয়ে যান। কারণ স্বাভাবিক জীবনে তিনি হয়তো পর্দানশীল, ইবাদতপরায়ণ বা মার্জিত চরিত্রের মানুষ-যিনি এসব বিষয়ে চিন্তাও করতেন না।

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি বাস্তবে ওই মানুষটিকে পছন্দই করেন না। এমনকি তাকে অপছন্দ বা ঘৃণাও করতে পারেন। তবুও অন্তরের ভেতর যেন এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব তৈরি হয়-একদিকে বিরক্তি বা ঘৃণা, অন্যদিকে অজানা এক আকর্ষণ। এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত মানুষকে মানসিকভাবে ভীষণ কষ্ট দেয়।

এ ধরনের জাদু সাধারণত নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে। কখনো কোনো পুরুষকে কোনো নারীর প্রতি, আবার কখনো কোনো নারীকে কোনো পুরুষের প্রতি অস্বাভাবিকভাবে আকৃষ্ট করে তোলার উদ্দেশ্যে করা হয়। এর পেছনে উদ্দেশ্য সাধারণত খুবই নিকৃষ্ট-কারো ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, তাকে অপমানিত করা, প্রতিশোধ নেওয়া, অথবা অবৈধ সম্পর্কের ফাঁদে ফেলা।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এসব কাজ মারাত্মক গুনাহ, বরং অনেক ক্ষেত্রে কুফরি ও শিরকের পর্যায়েও পৌঁছে যায়। কারণ জাদু করার জন্য সাধারণত শাইত্বানি শক্তির সাহায্য নেওয়া হয়, যা ঈমানের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সেটা শিরকের পর্যায়ে চলে যাওয়ার মত পাপা কাজ করতে হয়।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-মুমিনের জন্য হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আল্লাহ তাআলা কুরআনকে শিফা হিসেবে নাযিল করেছেন। নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, রুকইয়াহ, দোয়া, যিকির এবং আল্লাহর উপর দৃঢ় ভরসা-এসবই আধ্যাত্মিক আক্রমণ থেকে মুক্তির প্রধান উপায়। অনেক সময় মানুষ অজান্তেই এমন সমস্যায় পড়ে যায়, কিন্তু ধৈর্য ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে আল্লাহর রহমতে তা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

আর একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি-এ ধরনের সমস্যার সুযোগ নিয়ে অনেক প্রতারক নিজেদের “চিকিৎসক” বা “রাক্বি” পরিচয় দিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়। তাই কোনো অপরিচিত ব্যক্তি যদি সামাজিক মাধ্যমে নাম-নম্বর দিয়ে চিকিৎসার দাবি করে, তাহলে সতর্ক থাকা উচিত।

অদৃশ্য জগতের বাস্তবতা যেমন আছে, তেমনি আছে মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া শাইত্বানি কৌশলও। তাই সচেতনতা, ঈমানের শক্তি এবং আল্লাহর আশ্রয়ই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

__✍️Raqi Sultan Mahmud
Senior Raqi & Consultant - Nabawi Life
সুস্থতার পথে অন্যকে সহায়তা করতে সদাকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করুন।
☎️01706685576
☎️01618901150
Raqi Sultan Mahmud
Md. Sultan Mahmud Ashraf

বিয়ের অনুষ্ঠান, উৎসব আর বদনজরের অদৃশ্য বাস্তবতাআমাদের সমাজে, বিয়ের অনুষ্ঠান, পারিবারিক উৎসব এবং বড় জমায়েতগুলো আনন্দ, সাজ...
13/03/2026

বিয়ের অনুষ্ঠান, উৎসব আর বদনজরের অদৃশ্য বাস্তবতা

আমাদের সমাজে, বিয়ের অনুষ্ঠান, পারিবারিক উৎসব এবং বড় জমায়েতগুলো আনন্দ, সাজসজ্জা এবং মানুষের ভিড়ের সাথে যুক্ত। সবাই সুন্দরভাবে সাজে, নতুন পোশাক পরে এবং আনন্দ ভাগ করে। কিন্তু এই আনন্দঘন পরিবেশে, কখনো কখনো একটি অদৃশ্য বিপদ নীরবে কাজ করে - বদনজর বা হাসাদ। অনেক সময়, আমরা নিজেরাও বুঝতে পারি না যে এমন কিছু ঘটছে, কিন্তু বাস্তবে, এর প্রভাব মানুষকে ভীষণভাবে কষ্ট দিতে পারে।

একটি ঘটনার কথা ধরা যাক। এক তরুণী একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রবেশ করার পর থেকেই সবার নজরের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তার সৌন্দর্য, পোশাক, কথা বলার ভঙ্গি এবং আচার-ব্যবহার দেখে উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হয়ে যায়। মানুষের চোখ যেন অনবরত তার দিকেই ছিল। কেউ প্রশংসা করছে, কেউ তাকিয়ে দেখছে, কেউ আবার তার সাজগোজ নিয়ে আলোচনা করছে। কিন্তু কিছু সময় পার হওয়ার পর, হঠাৎ করেই মেয়েটি অদ্ভুত এক অবস্থা অনুভব করতে শুরু করে। তার প্রচণ্ড ক্লান্তি লাগতে থাকে, বুকের ভেতর কান্না জমে ওঠে এবং তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়। মনে হচ্ছিল, কোনো কারণ ছাড়াই তার শরীরের সমস্ত শক্তি যেন হঠাৎ করেই নিঃশেষ হয়ে গেছে।

প্রশ্ন হলো - এমন অনুষ্ঠানে বদনজর লাগার আশঙ্কা বেশি থাকে কেন? কারণ বড় অনুষ্ঠানে অনেক মানুষের দৃষ্টি একসাথে একটি ব্যক্তির দিকে কেন্দ্রীভূত হয়। কেউ গভীর মুগ্ধতা নিয়ে তাকায়, কেউ অতিরঞ্জিত প্রশংসা করে, আবার কেউ হয়তো মনে মনে নিজের সাথে তুলনা করে সংকীর্ণতা বা হিংসা অনুভব করে। অনেক সময় আল্লাহর নাম উল্লেখ না করেই মানুষ বারবার সৌন্দর্য বা আভিজাত্যের প্রশংসা করে। “মা-শা-আল্লাহ” বা বরকতের দোয়া না বলেই যদি কেউ কোনো কিছুতে গভীরভাবে মুগ্ধ হয়, তখন সেই দৃষ্টিও অনেক সময় বদনজরের কারণ হয়ে যেতে পারে। বড় অনুষ্ঠানে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ঈর্ষাও তৈরি হয়, কারো পোশাক, চেহারা বা অবয়ব খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। আবার আজকাল অতিরিক্ত ছবি তোলা এবং ক্যামেরার ফোকাস দীর্ঘক্ষণ একজনের ওপর থাকা - এসব কারণও অনেক সময় মানুষের নজরকে অস্বাভাবিকভাবে একটি ব্যক্তির ওপর কেন্দ্রীভূত করে দেয়।

এমন অবস্থায় বদনজর লাগলে কিছু লক্ষণ,-
অনেক সময় হঠাৎ করেই দেখা দেয়। যেমন - অকারণে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হওয়া, কোনো পরিশ্রম ছাড়াই প্রচণ্ড ক্লান্তি অনুভব করা, বুক ধড়ফড় করা বা হঠাৎ মন খারাপ হয়ে যাওয়া। কখনো মনে হয় শরীরের সব শক্তি হারিয়ে গেছে, আবার অনেকের ইচ্ছে হয় সবার মাঝখান থেকে উঠে একা কোথাও চলে যেতে। কারো মাথা ঘোরে, কারো চেহারার উজ্জ্বলতা হঠাৎ ম্লান হয়ে যায়। অনেক সময় শরীর ভারী লাগে, মেজাজ হঠাৎ খিটখিটে হয়ে ওঠে, বিনা কারণে ঘনঘন হাই আসে, মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায় বা চিন্তাশক্তি ঝাপসা হয়ে পড়ে। এমনকি কারো কারো ঘুমের সমস্যা বা দুঃস্বপ্নও শুরু হতে পারে।

বিষয়টি যদি দীর্ঘদিন প্রভাব ফেলে, তখন এর প্রভাব জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে অকারণে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে - চাকরি হচ্ছে না, বিয়ের কথাবার্তা বারবার ভেঙে যাচ্ছে বা কোনো কাজই যেন ঠিকমতো সফল হচ্ছে না। কিছু মানুষ এমন সব শারীরিক বা মানসিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করে, যেগুলো চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। কখনো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হঠাৎ দূরত্ব তৈরি হয়, সম্পর্কের মধ্যে অস্থিরতা আসে, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়ায়। আবার কেউ হয়তো আগে সবার কাছে খুব প্রিয় ছিল, কিন্তু হঠাৎ করে অদ্ভুতভাবে মানুষের কাছে অপছন্দনীয় হয়ে ওঠে।

এ কারণেই ইসলাম আমাদের খুব সুন্দর একটি শিক্ষা দিয়েছে। যখনই আমরা কারো মধ্যে কোনো ভালো কিছু দেখি - সৌন্দর্য, সাফল্য বা আল্লাহর কোনো নেয়ামত - তখন আমাদের বলা উচিত: “মা-শা-আল্লাহ, তাবারাকাল্লাহ, আল্লাহুম্মা বারিক।” এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নেয়ামতকে স্বীকার করি এবং সেই ব্যক্তির জন্য বরকতের দোয়া করি। পাশাপাশি সকাল-সন্ধ্যার জিকির, ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া এবং আল্লাহর স্মরণে নিজেকে অভ্যস্ত করা একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষের দৃষ্টি যতই শক্তিশালী মনে হোক না কেন, প্রকৃত সুরক্ষা একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে। আর আল্লাহর জিকিরই হলো সেই অদৃশ্য ঢাল,
যা মানুষের জীবনকে বহু অকল্যাণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

__✍️Raqi Sultan Mahmud
Senior Raqi & Consultant - Nabawi Life
সুস্থতার পথে অন্যকে সহায়তা করতে সদাকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করুন।
☎️01706685576
☎️01618901150
Raqi Sultan Mahmud
Md. Sultan Mahmud Ashraf

Address

Nabawi Life, House 20/21 Garden Road Kawran Bazar, Dhaka-1215 Dhaka
Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 21:00
Tuesday 09:00 - 21:00
Wednesday 09:00 - 21:00
Thursday 09:00 - 21:00
Friday 09:00 - 21:00
Saturday 09:00 - 21:00
Sunday 09:00 - 21:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nabawi Life posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram