02/03/2023
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৬৭ শতাংশ মৃত্যুর কারণই হচ্ছে অসংক্রামক ব্যাধি (হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগ (সিওপিডি), উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতাসহ অন্যান্য)। আর এই রোগগুলোর অন্যতম প্রধান কারণ হলো- অ্যাসিডিটি। তাই অ্যাসিডিটি থেকে বাঁচতে অ্যাসিডিক খাদ্য পরিহার করে অ্যালক্যালাইন খাদ্য খেতে হবে।
এবার অ্যাসিডিক ও অ্যালক্যালাইন খাদ্য সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা নেয়া যাক । আমাদের দেহে খাদ্য হজম হওয়ার পর অবশিষ্টাংশ তৈরি হয় (ash residue)। মূলত প্রধান খাবারের খনিজ উপাদানের উপর নির্ভর করে এই অবশিষ্টাংশটি নিরপেক্ষ (Neutral), অ্যাসিডিক বা অ্যালক্যালাইন হতে পারে। যেমন : পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন, তামা বা কপার হচ্ছে অ্যালক্যালাইন মিনারেল । অন্য দিকে সালফার, ফসফরাস, ক্লোরিন, আয়োডিন হলো অ্যাসিডিক মিনারেল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অ্যালক্যালাইন মিনারেলযুক্ত খাবার খেলে দেহের অবশিষ্টাংশ হবে অ্যালক্যালাইন। আর অ্যাসিডিক মিনারেল খাবার খেলে অবশিষ্টাংশ হবে অ্যাসিডিক।
সাধারণত প্রাণিজ খাদ্য, যেমন : গোস্ত, ডিম, দুগ্ধ, প্রক্রিয়াজাত এবং পরিশোধিত খাবার, কৃত্রিম মিষ্টি, চিনি, অ্যালকোহল, কফি, চকোলেট, কালো চা, কোমল পানীয়, সোডা, প্রক্রিয়াজাত জুস ইত্যাদি হচ্ছে অ্যাসিডিক।
অন্য দিকে সব ধরনের শাক-সবজি, সব রকম ফল, সামুদ্রিক শাক- সবজি, অঙ্কুরিত বীজ, কাঠ বাদাম, ওয়াল নাট, মিস্টি কুমড়ার বিচি, মেডিসিন্যাল নারিকেল তেল হচ্ছে অ্যালক্যালাইন ।
আবার রান্না করা খাবারের চেয়ে কাঁচা খাবার বেশি অ্যালক্যালাইন এবং রান্না করা খাবার অ্যাসিডিক । আপনার দেহের পিএইচ-এর ভারসাম্য বজায় রাখতে খাদ্য তালিকায় কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ অ্যালক্যালাইন খাবার এবং ২০ থেকে ৩০ ভাগ অ্যাসিডিক খাবার থাকা উচিত। তবে আপনার যদি কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে তাহলে ৯০ ভাগ অ্যালক্যালাইন খাবার খাওয়া প্রয়োজন। আর ভালো পানি পান করতে ভুলবেন না। ভালো পানি বলতে বুঝাচ্ছি, কানজেন অ্যালক্যালাইন পানি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পানি বা প্রাকৃতিক উৎসের পানি বা রিভার্স অসমোসিসের পানিতে লেবু ও হিমালয়া পিঙ্ক পরণ মিশিয়ে অ্যালক্যালাইন পানি ।
আপনাদের প্রতি আমার পরামর্শ, সর্বোত্তম স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এগুলো পরিহার করুন :
# প্রাকৃতিক মধু ও স্টেভিয়া ব্যতীত সবরকম শর্করা
#পরিশোধিত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার
#দুগ্ধজাত পণ্য
#হাইড্রজেনেটেড বা সেমি হাইড্ৰজেনেটেড তেল, প্রাকৃতিক উপায়ে পালিত গাভীর দুধের মাখন এবং ঘি ব্যতীত সব প্রাণীর চর্বি ।
#প্রাকৃতিক উপায়ে পালিত গরু ও ছাগল এবং হাঁস-মুরগির গোস্ত ও ডিম বাদে সব ডিম ও গোস্ত
# সব সাদা কার্বস-সাদা ভাত, সাদা রুটি ইত্যাদি
# সাদা লবণ
# কৃত্রিম মিষ্টি
# মাইক্রোওয়েভড খাবার
# হিটপ্রেসড তেল
# অ্যালকোহল এবং ক্যাফিন -
# সিগারেট
# কর্ন, কর্নপণ্য, চিনাবাদাম এবং চিনাবাদামজাতীয় পণ্য (এগুলোতে মাইকোটক্সিনযুক্ত ছত্রাক রয়েছে)
তবে আপেল, ডালিম, কিউই, পেঁপে, আনারস, ডুমুর, আঙ্গুর মিষ্টি হলেও খাবেন । কারণ এগুলোতে প্রচুর অ্যানজাইম রয়েছে ।
এক মাস এ পরামর্শ অনুসরণ করলে
১. স্বাভাবিকভাবে ৩-৫ কেজি ওজন কমে আপনার শরীর পাবে স্বাভাবিক ওজন এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ থাকবে ।
২. অ্যাসিড রিফ্লাক্স, পেট ফোলাভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং হজমের সমস্যা নিরাময় হবে ।
৩. আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে ।
৪. ত্বক উজ্জ্বল হবে ।
আমাদেরকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে, কারণ একটি দেশের জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য তার জনগোষ্ঠীকে অবশ্যই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে। তা না হলে কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ যে হারে স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে, তাতে দেশের ভবিষ্যৎ আশঙ্কাজনক দিকে যাচ্ছে। এক সময় বাংলাদেশে প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল সংক্রামক রোগ। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে রোগের ধরণে পরিবর্তন এসেছে । জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের জীবনাচরণ ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হচ্ছে । তামাকের বহুল ব্যবহার, অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত (চর্বি ও চিনি) খাদ্য গ্রহণ, অত্যধিক লবণ গ্রহণ, কায়িক শ্রমের অভাব, মানসিক চাপের মতো ঝুঁকিগুলো বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং স্মার্টফোন ও অনলাইন আসক্তির ফলে মাঠে খেলাধুলা কমে যাওয়ায় অসংক্রামক বা অটো ইমিউন ডিজিজ বা ডিজেনারেটিভ ডিজিজে আক্রান্তর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে ।