World HealthCare Center

World HealthCare Center World HealthCare Center's little bit exertion is for human avail and online Health Service that they can get at home. Thanks all...

This page 'World HealthCare Center' is created for solution of men's, women's and babies physical problem or disease. Its all information is collected from various kinds of Newspapers and Websites. I think, it will bring avail for Health/Beauty of all. So keep in touch with this page by your like, comments and share. But I request nobody comments or post badly.

বাবা মায়ের ঝগড়ার কারণে সন্তানের মানসিক ক্ষতি*******************************************************
02/08/2022

বাবা মায়ের ঝগড়ার কারণে সন্তানের মানসিক ক্ষতি
*******************************************************

আর্টিকেলটিতে যেসব বিষয় আলোচনা করা হয়েছে - মা বাবার ঝগড়া কখন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বাবা-মায়ের ঝগড়া সন্তান.....

ক্যান্সারে অকাল মৃত্যু রুখতে এর আগাম উপসর্গগুলি চেনা জরুরি! ************************************************************...
27/07/2022

ক্যান্সারে অকাল মৃত্যু রুখতে এর আগাম উপসর্গগুলি চেনা জরুরি!
******************************************************************
যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে, তাহলে আক্রান্তকে বাঁচানো সম্ভব। এর জন্য ক্যান্সারের আগাম উপসর্গগুলি চেনা খুব জরুরি! জেনে নিন এ বিষয়ে কী বলছেন...
অনেকেরই ধারনা, ক্যান্সার হলে আর হয়তো রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। তবে জানেন কি যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে, তাহলে আক্রান্তকে বাঁচানো সম্ভব। এর জন্য ক্যান্সারের আগাম উপসর্গগুলি চেনা খুব জরুরি! কোন কোন লক্ষণ দেখলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে? জেনে নিন ...
এ বিষয়ে কী বলছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ শল্যচিকিৎসক (M.Ch. Surgical Oncologist) ডাঃ শুভদীপ চক্রবর্তী।

১) ঘন ঘন জ্বর: ক্যান্সার শরীরে বাসা বাধলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এই রোগে আক্রান্ত হলে বৃদ্ধি পায় রোগের উপসর্গ। এছাড়া ঘন ঘন জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চিকিৎসকদের মতে, ঘন ঘন জ্বর ব্ল্যাড ক্যান্সার-এর লক্ষণ।
২) দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি: দীর্ঘ সময় ধরে ক্লান্তিবোধ, অবসাদও অনেক রোগের মত ক্যান্সারেও কারণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, রক্ত বা মলাশয়ের ক্যান্সার হলে এই উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
৩) দীর্ঘদিনের ব্যথা: শরীরের কোন জায়গায় ব্যথা অথবা দীর্ঘদিন ধরে শরীরের কোনও অংশে ব্যথা যা ওষুধেও কমে না, এমন লক্ষণ থাকলে তা সমস্যার কারণ। ব্রেইন টিউমার বা মলাশয়ের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এই প্রাথমিক লক্ষণগুলি দেখা দিতে পারে।
৪) দ্রুত ওজন কমে যাওয়া: ক্যান্সারের অন্যতম উপসর্গ হল দ্রুত গতিতে ওজন কমে যাওয়া। কোনও কারণ ছাড়াই যদি হঠাৎ করে দ্রুত গতিতে ওজন কমতে থাকে তবে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিন।
৫) ত্বকে পরিবর্তন: শরীরের কোনও আঁচিলের রঙ-এর দ্রুত পরিবর্তন ঘটে তবে বিষয়টি চিন্তা করার মত। ত্বকের এই অস্বাভাবিক ভাবে রঙ পরিবর্তন হয়ে যাওয়া ক্যান্সার শনাক্ত করার সহজ উপায়। এমনটা হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
৬) অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ড: ত্বকের রঙ পরিবর্তনের মত যদি শরীরের কোনও অংশে যদি অস্বাভাবিকভাবে মাংস পিণ্ড দেখা যায় তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৭) খাবারে অনিচ্ছা: নিয়মিত বদহজমের সমস্যা কণ্ঠনালী বা গলার ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। এই সমস্যা সাধারণ হলেও নিয়মিত হজমের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৮) অকারণে রক্তক্ষরণ: যনিপথ বা মলদ্বার থেকে রক্তক্ষরণ ক্যান্সারের উপসর্গ বলে মনে করা হয়। কাশির সময় রক্তক্ষরণ হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৯) মল-মূত্রত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন: ঘন ঘন ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘন ঘন মল-মূত্রের বেগ অনুভব, মূত্রত্যাগের সময় অন্ত্রে ব্যথা রক্তক্ষরণ যদি হয়, এই ধরণের উপসর্গগুলি মূত্রথলির ক্যান্সারের লক্ষণ।
১০) দীর্ঘস্থায়ী কাশি: কাঁধে, বুক, পিঠে ব্যথা অথবা ওষুধ খাবার পরও কাশি বন্ধ না হওয়াও ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। যদি এমন সমস্যা দেখা দেয় তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
অন্যান্য উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে পা ফুলে যাওয়া, শরীরের আকারে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ইত্যাদি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করতে পারলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যান্সারের চিকিৎসা ও নিরাময় সম্ভব মত ডাঃ চক্রবর্তীর।

ক্যান্সার কেন বাড়ছে?************************বিশ্বজুড়েই ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতি পাঁচজন পুর...
27/07/2022

ক্যান্সার কেন বাড়ছে?
************************
বিশ্বজুড়েই ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতি পাঁচজন পুরুষের মধ্যে একজন আর প্রতি ছয়জন নারীর মধ্যে একজন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। এক্ষেত্রে জীবনযাপনের মানকেই বিবেচ্য হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।

চিন্তার বিষয় হচ্ছে- ক্যান্সার আক্রান্তে বিশ্বর মোট মৃত্যুর অর্ধেকই হচ্ছে এশিয়ার দেশগুলোতে। যেখানে তালিকায় অনেক দেশের উপরে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। সেই হিসেবে প্রতিবছর দেড় লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে ক্যান্সার হচ্ছে দ্বিতীয় মারণব্যাধি রোগ। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল বিশ্বে ক্যান্সার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী মরণব্যাধি এই রোগে আক্রান্ত। যাদের অধিকাংশই থাকছে চিকিৎসার বাইরে।

বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত পুরুষের সংখ্যাই বেশি। তুলনামূলকভাবে এখানে নারীদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা কম। তবে দিন দিন এ ব্যবধান কমে আসছে। নারীরাও এখন অনেক বেশি ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এদের মধ্যে মুখ, ফুসফুস, ব্রেস্ট ও জরায়ু মুখের মতো ক্যান্সারের প্রবণতা বেশি। বাংলাদেশে সবচেয়ে ঝুঁকিতে নারীদের স্তন ক্যান্সার। এছাড়া জরায়ু মুখ ও গল ব্লাডারের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও যথেষ্টই।

গবেষকদের জরিপে উঠে এসেছে, বিশ্বের অন্তত ২৮টি দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ ফুসফুসের ক্যান্সার। এছাড়া নারীদের ব্রেস্ট ক্যান্সারও রয়েছে। তবে মেয়েদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী মেয়েদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ার কারণে তাদের ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হারও বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, হাঙ্গেরি, ডেনমার্ক, চীন এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে এ প্রবণতা বেশি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের এক তথ্য মতে, নারীদের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্তের হার বাড়ার বড় কারণ উশৃঙ্খল জীবনযাপন। বাংলাদেশের মেয়েরা এখন অবাধে ধূমপান, মদ্যপান, মাদক সেবন করছেন। এছাড়া দেশের নারীদের একটি বড় অংশ পানের সঙ্গে জর্দা, সাদাপাতা বা এ ধরণের তামাকজাত খেয়ে থাকেন। এছাড়া বাচ্চাকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, অনিয়মিত খাবার বা ফ্যাটি খাবার খাওয়াও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার বৃদ্ধির বড় কারণ বলে মনে করেন তিনি।

সঠিক সময়ে ক্যান্সারের লক্ষণগুলো ধরতে না পারা বা চিকিৎসকের কাছে যেতে না পারায় বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের ১৬ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রোগী মৃত্যুবরণ করে, যার সিংহভাগই ক্যান্সারজনিত কারণে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, দেশে ক্যান্সারের চিকিৎসা অপ্রতুল। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১৫টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিবছর ৫০ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবার আওতায় আনা সম্ভব। বাকি ২ লাখ রোগীর অধিকাংশই অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের মধ্যে পড়ে অপচিকিৎসা বা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত।

ক্যান্সার কেন বাড়ছে :

অধিকাংশ ক্যান্সার কেন হয় তা এখনো জানা যায়নি। তবে কিছু কিছু কারণের জন্য দায়ী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

ক) বংশগত/জেনেটিক

বাবা, মা, খালা এদের মধ্যে থাকলে তাদের সন্তানদের হতে পারে বা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি যেমন ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার।

খ) ধূমপান

অতিরিক্ত ধূমপানে ফুসফুস, মুখ, গলা,প্যানক্রিয়াসে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ে। বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার অন্যতম। অধিকমাত্রায় ধূমপান ও নেশাদ্রব্য গ্রহণের ফলে এটি বড়ছে।

গ) পান, জর্দা সাদা পাতা, গুল ইত্যাদি ওরাল ক্যান্সার বা জিহ্বার ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
ঘ) বিনাইন টিউমার বা ভালাবোলা টিউমার? অনেক দিন পর্যন্ত শরীরে থাকলে যে কোনো সময় ক্যান্সার হতে পারে। বেশির ভাগ কোলন ক্যান্সার এভাবেই হয়ে থাকে।
ঙ) রেডিয়েশন
কোনো জায়গায় রেডিয়েশন দিলে বা সূর্য রশ্মির ত্বকের ক্যান্সার সৃষ্টি করে থাকে। যেমন চেরনোবিল এবং জাপানের নাগাসাকির পারমাণবিক বিস্ফোরণের অনেক বছর পর এখনো সেখানে অনেকেই ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছে।
চ) পাথর/স্টোন
যেমন কিডনি, পিত্তথলির পাথর ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
ছ) ক্রনিক ইনফেকশন
জরায়ুর সার্ভিক্স বা বোনের ক্রমিক ইনফেকশন থেকে জরায়ু ও বোনের ক্যান্সার হয়।
জ) রাসায়নিক বা কেমিক্যাল এজেন্ট
যেমন- এনিলিন ডাই মূত্রথলির ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
খাদ্যে ব্যবহৃত ফরমালিন এসিড/পচন রোধ পদার্থ স্টমাক বা পাকস্থলীর ক্যান্সার করে চুলের কলব স্ক্রিন/ত্বকের ক্যান্সার করে।

অতিরিক্ত ওজন :
গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত ওজনে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। বডি মাস ইনডেক্স যদি ৪০-এর বেশি হয়, তবে সাবধান। ফ্যাট সেলগুলি শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যাতে করে বাড়ে স্তন ক্যান্সার ও জরায়ুর ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা। অতিরিক্ত ওজন কমানো, নিয়মিত শরীরচর্চা ও সুস্থ জীবনচর্যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি :
ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি স্কিন ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। খুব চড়া রোদ এড়িয়ে চললেই ভাল। আর গ্রীষ্মপ্রধান দেশে রোদ্দুরে শুয়ে বডি ট্যানিং-এর শখ থাকলেও, এড়িয়ে চলুন।

এছাড়াও যে কারণগুলো রোগটির জন্য দায়ি তা হচ্ছে-
- দৌড়-ঝাঁপ ছাড়া থিতু জীবন
- বসে বসে কাজ
- ভুল খাদ্যাভ্যাস

- চিনি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
- রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের ফলেও ঝুঁকি থাকে।

এসএ/
একুশে টিভি ডট.কম

ক্যান্সার কী? ক্যান্সারের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায় কী কী?*******************************************************...
26/07/2022

ক্যান্সার কী? ক্যান্সারের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায় কী কী?
*******************************************************************

ক্যান্সার (cancer) শব্দের বাংলা অর্থ হলো কর্কটরোগ। এই ক্যান্সার ভা কর্কটরোগ মূলত দেহে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত একাধিক রোগের সমষ্টি। এখন পর্যন্ত ক্যান্সারে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। ক্যান্সারের মৃত্যুর পরিমাণ ও হার বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পড়ে না; আর প্রথামিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত না করতে পারার ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোন চিকিৎসা দেয়াও সম্ভব হয় না। এখনো ক্যান্সার দূর করা যায় এমন শতভাগ কার্যকর কোনো চিকিৎসা বা ঔষধ আবিষ্কৃত হয়নি। ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা অনেকাংশ বেড়ে যায়। গবেষকদের দেওয়া তথ্যমতে, পৃথিবীতে ২০০ প্রকারেরও বেশি ক্যান্সার রয়েছে, যেসবের প্রত্যেকটি প্রকারই আলাদা আলাদা বা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের। একেক ধরণের ক্যান্সারের চিকিৎসা পদ্ধতিও একেক রকম। বর্তমানে ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে নতুন নতুন অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

ক্যান্সার কর্কটরোগ কী?
সকল প্রাণীর শরীর অসংখ্য ক্ষুদ্র কোষ দিয়ে তৈরি; এই কোষগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর মারা যায় এবং নতুন কোষ জন্ম নিয়ে পুরনো (মৃত) কোষগুলোর জায়গা দখল করে। নতুন কোষ জন্ম নেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং নিয়মমতো বিভাজিত হয়। কিন্তু দেহের কোষগুলো কোনো কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায় যাকে টিউমার বলে।

টিউমার দুই প্রকার:
• বিনাইন টিউমার
• ম্যালিগন্যান্ট টিউমার
এই দুই প্রকারের টিউমারের মধ্যে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকে ক্যান্সার বলে।
পরিভাষা ও নামের উৎস
• কলায় কোষের সংখ্যাধিক্য তাকে হাইপারপ্লাসিয়া (hyperplasia) বলে।
• একরকম কলার অন্যরকম কলায় পরিবর্তন হলে তাকে মেটাপ্লাসিয়া (metaplasia) বলে।
• পূর্বে যে-কোনো প্রদাহ জনিত স্ফীতিকে টিউমার (tumor) টিউমার টিউমার বলা হতো তবে এখন টিউমার বলতে নিওপ্লাসিয়া বোঝায়। (সাধারণত, সব টিউমরের নামের শেষে ‘ওমা’ অনুসর্গ থাকে, যেমন (মেলানোমা, লাইপোমা), ও শুরুর অংশে কলার উৎস সম্বন্ধে নির্দেশ থাকে।)
• অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্ধনশীল কলাকে নিওপ্লাসিয়া (neoplasia) বলে।
• কলার কোষগুলি এককভাবে স্থানীয় বিশেষীভবন লাভ করলেও সমবদ্ধভাবে কলার ত্রিমাতৃক স্থাপত্য সঠিকভাবে দেওয়ার বদলে জট পাকিয়ে গেলে তাকে হ্যামারটোমা (Hamartoma) বলে।
• অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজনক্ষম এবং ভেদন ক্ষমতাযুক্ত টিউমারকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার (malignant tumor) বলে। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারই হলো ক্যান্সার।
• কলার অপ-বিশেষীভবন (ডি-ডিফারেন্সিয়েশন), অর্থাৎ কলা আগের বিশেষীভূত কলা-বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ভ্রুণীয় বা প্রাক-কলার মত আচরণ করতে থাকলে তাকে অ্যানাপ্লাসিয়া (anaplasia) বলে। অ্যানাপ্লাস্টিক অর্থাৎ অ্যানাপ্লাসিয়াযুক্ত ক্যান্সার সাধারাণত বেশি ক্ষতিকর।
• আবরণি কলা (Epithelium) উৎসের ক্যান্সার হলো কারসিনোমা
• সারকোমা হলো সংযোগ কলা (মেসেনকাইম) উৎসের ক্যান্সার।

কলার উৎস অনুসারে ক্যান্সারের প্রকারভেদ

কারসিনোমা
কারসিনোমা খুব সাধারণ ধরনের ক্যান্সার; ফুসফুস, মলদ্বার, স্তন এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার এর অন্তর্ভুক্ত।

সারকোমা
সাধারণত হাড়ের, কশেরুকা, চর্বি বা মাংসপেশির ক্যান্সারকে সার্কোমা বলে।

লিম্ফোমা
আমাদের শরীর জুড়ে লিম্ফ নোড ছড়ানো রয়েছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই লিম্ফ নোডের সাথে জড়িত। লিম্ফ নোডের ক্যান্সারকেই লিম্ফোমা বলে।

লিউকেমিয়া
রক্ত কোষের ক্যান্সারকেই লিউকেমিয়া বলে। এই রক্তকোষগুলো হাড়ের মজ্জা থেকে জন্ম নেয়।

বিনাইন টিউমার ক্যান্সার নয়
অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজনক্ষম হয়ে বৃদ্ধি পাওয়া কলাকে নিওপ্লাসিয়া (টিউমার) বলে; এমন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন কোষকে বলা হয় নিওপ্লাস্টিক। এই নিওপ্লাস্টিক কোষ যখন এর আশেপাশের কলা বা টিস্যু ভেদ করতে না তখন তাকে বলে বিনাইন টিউমার। বিনাইন টিউমার হলো একদমই শান্ত প্রকৃতির, এ ধরণের টিউমারকে ক্যান্সার বলা যায় না।

ম্যালিগন্যান্ট টিউমারই হলো ক্যান্সার
নিওপ্লাসিয়া যখন আশেপাশের কলা বা টিস্যু ভেদ করার ক্ষমতা সম্পন্ন হয়, তখন তাকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বলে। এই ম্যালিগন্যান্ট টিউমার হলো অশান্ত প্রকৃতির, যাকে ক্যান্সার বলে।

বিনাইন থেকেও ম্যালিগন্যান্ট টিউমার হতে পারে
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে, ক্যান্সার প্রথমে বিনাইন টিউমার হিসাবে শুরু হলেও পরে তা পরিবর্তিত হয়ে ম্যালিগন্যান্ট হয়ে যায়। বলে নেওয়া জরুরি যে, বিনাইন টিউমার যে সর্বদাই ক্যান্সারে পরিবর্তিত হবে বা হবে না- এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।

ক্যান্সারের কারণ কী বা ক্যান্সার কেন হয়?
ঠিক কি কারণে ক্যান্সার বা কর্কটরোগের সৃষ্টি হয় সেটা নিশ্চিত হতে পারে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তবে সাধারণ কিছু কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে।
বয়স
সাধারণত বয়স যত বাড়তে থাকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও তত বাড়তে থাকে, কারণ এ সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এক হিসেবে দেখা যায় যত মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় তাদের শতকরা ৭০ ভাগেরই বয়স ৬০ বছরের ওপর।

খাবার এবং জীবনযাপনের ধারা
খাবার এবং জীবনযাপনের ধারার সাথে ক্যান্সারের গভীর সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। যেমন, ধূমপান বা মদ্যপানের সাথে ফুসফুস, মুখ ও কণ্ঠনালীর এবং যকৃৎ বা লিভারের ক্যান্সারের যোগাযোগ রয়েছে। তেমনই ভাবে পান-সুপারি, জর্দা, মাংস, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ইত্যাদি খাবারের সাথেও ক্যান্সারের যোগসূত্র রয়েছে। যারা সাধারণত শারীরিক পরিশ্রম কম করে তাদের মধ্যেও ক্যান্সারের প্রবণতাটা বেশি।

পারিবারিক ইতিহাস

ক্যান্সারের সাথে জিনগত সম্পর্ক রয়েছে বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই কারণে পরিবারের কারো যদি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা থাকে তাহলে অন্যদেরও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকখানি বেড়ে যায়।

পরিবেশ এবং পেশাগত কারণ
রাসায়নিক পদার্থের সাথে ক্যান্সারের অনেক বড় একটা সম্পর্ক রয়েছে। যেমন- রঙের কারখানা, রাবার বা গ্যাসের কাজে যারা নিয়োজিত তারা এক ধরনের বিশেষ রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসার কারণে মুত্রথলির ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। পরবর্তীতে অনেক দেশে এসব রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারও নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরিবেশগত কারণের অন্যতম একটা হচ্ছে সূর্য। রোদে বেশিক্ষণ থাকার কারণে ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তেজস্ক্রিয়তার কারণেও বিভিন্ন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণ কী কী?
মানবদেহের প্রস্টেট গ্রন্থি (prostate gland) স্তন (breast), জরায়ু (uterus), অগ্ন্যাশয় (pancreas), রক্ত (blood), চামড়া (skin) ইত্যাদি স্থানে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। একেক ক্যান্সারের জন্য একেক ধরনের লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে। তবে সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো:
• খুব ক্লান্ত বোধ করা
• ক্ষুধা হ্রাস পাওয়া
• শরীরের যে কোনো জায়গায় চাকা বা দলা দেখা দেওয়া (উদাহরণ: ব্রেস্ট লাম্প)
• দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গলা ভাঙা
• মলত্যাগে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসা
• জ্বর, রাতে ঠান্ডা লাগা বা ঘেমে যাওয়া
• অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাওয়া
• অস্বাভাবিক রক্তপাত হওয়া
• ত্বকের পরিবর্তন দেখা যাওয়া
• মানসিক অস্বস্তি

ক্যান্সারের চিকিৎসা কী?

ক্যান্সারের চিকিৎসায় বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। নিচে এর মধ্যে বেশ কিছু উল্লেখ করা হলো:

অস্ত্রোপচার

শরীরের যে অংশে ক্যান্সার আক্রান্ত হয় সে অংশের আক্রান্ত কোষগুলো এবং তার আশেপাশের কোষগুলোকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে সরিয়ে ফেলা হয়। ক্যান্সার যদি অল্প একটু জায়গা জুড়ে থাকে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তাহলে এ ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়।

রেডিওথেরাপি (Radiotherapy)

নিয়ন্ত্রিতভাবে শরীরের অংশবিশেষে তেজস্ক্রিয় রশ্মি প্রয়োগ করে সেই জায়গার কোষগুলোকে ধ্বংস করার প্রযুক্তিগত পদ্ধতিকে বলা রেডিওথেরাপি।

কেমোথেরাপি (Chemotherapy)

এই ব্যবস্থায় ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করতে ওষুধ ব্যবহার করা হয়। ৫০ টির বেশি ধরনের কেমওথেরাপি ওষুধ রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে কোনোটি ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল হিসেবে খেতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ওষুধগুলোকে স্যালাইনের সাথে বা অন্য কোনো উপায়ে সরাসরি রক্তে দিয়ে দেওয়া হয়। রক্তের সাথে মিশে এই ওষুধগুলো শরীরের যেখানে যেখানে ক্যান্সার কোষ রয়েছে সেখানে গিয়ে ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে।

হরমোন থেরাপি

অনেক সময় রোগীর শরীরের কিছু হরমোনের মাত্রা পরিবর্তন করার মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। শরীরের বৃদ্ধির সাথে হরমোনের একটা সম্পর্ক রয়েছে; কোনো কোনো ক্যান্সার এই হরমোনের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে থাকে। যার কারণে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমিয়ে ক্যান্সারকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হরমোন থেরাপি ব্যবহৃত হয়।

সহায়ক চিকিৎসা

ক্যান্সারের শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের মানসিক চিকিৎসার ব্যাপারে এখন জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীরা বেশ মানসিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যান, অনেকে মানসিকভাবে ভেঙ্গেও পরেন। এই কারণে অনেক সময়ে তাদের অবস্থা বেশি গুরুতর না হলেও অনেকে দ্রুত মারা যান। ফলে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা এবং উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের সেবা দেয়ার জন্য বিভিন্ন সংগঠন কাজও করে যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ক্যান্সার আক্রান্তদের একটি গ্রুপ গঠন করা, যেখানে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করতে পারেন। এর পাশাপাশি যোগ, মেডিটেশন ইত্যাদির মাধ্যমেও রোগীদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার শিক্ষা দেয়া হয়। এর পাশাপাশি মানসিক স্বস্তির জন্য কেউ যদি ধর্মীয় বা সামাজিক কোন কাজে নিয়োজিত হতে চান সে ব্যাপারেও তাদেরকে উৎসাহ দেয়া হয়।

অন্যান্য চিকিৎসা

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করে তোলে এ ধরনের ওষুধ তৈরির ব্যাপারে এখন গবেষণা চলছে। এছাড়াও ক্যান্সারের ভ্যাকসিন তৈরির ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখনো এগুলো একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায় কীভাবে?

গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত কিছু ব্যাপার মেনে চললে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকখানি কমানো যায়। যেমন:

ব্যায়াম এবং ক্যান্সার

প্রত্যেকদিন নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করা যেমন-দৌড়ানো, সাইকেল চালনো, নাচ করা, হাঁটা। সপ্তাহে কমপক্ষে ২ দিন ভারী ব্যায়াম করতে হবে।

খাদ্যভ্যাস ও ক্যান্সার

ধূমপান বা মদ্যপান ছেড়ে দেয়া বা পরিমাণ কমিয়ে আনা। পান-সুপারি জর্দা, তামাকপাতা খাওয়া বন্ধ করা। চর্বিজাতীয় পদার্থ কম খাওয়া। সম্ভব হলে মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেয়া বা কমিয়ে দেয়া। প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, ফলমূল এবং আঁশজাতীয় খাবার খাওয়া।

সচেতনতা

বাইরে বের হওয়ার সময় সানস্ক্রিন মেখে বের হওয়া। নিয়মিত ডাক্তার দেখানো। সেটা সম্ভব না হলে শরীরে কোন অস্বাভাবিকতা দেখা দিলেই ডাক্তারের কাছে যাওয়া। ৫০ বছরের বেশি বয়স হলে অবশ্যই নিয়মিত ডাক্তারের কাছে গিয়ে শরীর পরীক্ষা করানো।

উৎস: National Cancer Institute, NHS

লাইপোসাকশন সার্জারি কী? লাইপোসাকশনের উপকারিতা ও করণীয় কী কী?************************************************************...
25/07/2022

লাইপোসাকশন সার্জারি কী? লাইপোসাকশনের উপকারিতা ও করণীয় কী কী?
***********************************************************************
লাইপোসাকশন কী?
অনেকে শরীরের অত্যধিক ওজন কমানোরে জন্য ডায়েটিং ও এক্সারসাইজ (Dieting and Exercise) করেন। কিন্তু এর একটি সার্জিক্যাল চিকিৎসা (Surgical Treatment) আছে, যা লাইপোসাকশন সার্জারি (Liposuction Surgery) নামে পরিচিত। মূলত ওজন কমানোর এই পদ্ধতিকে লাইপোসাকশন বলে। এই পদ্ধতিতে স্কিনের নিচের চর্বি মেশিনের মাধ্যমে টেনে বের করার পদ্ধতি। অনেকে অতিরিক্ত মেদবহুল ভুঁড়ি কমানোর জন্যই এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করান।
লাইপোসাকশন পদ্ধতিতে শরীরের যে স্থান থেকে চর্বি বের করতে হবে, সেখানে আধা ইঞ্চি জায়গা অবশ করে একটি সরু নল ঢুকিয়ে মেশিন দিয়ে টেনে চর্বি বের করা হয়। শরীরে যদি অতিরিক্ত চর্বি থাকে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টায় ৩ থেকে ৫ কেজি চর্বি বের করা হয়। মূলত বডি শেপিং করার জন্য আজকাল এই পদ্ধতিতে অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর ৩ দিন বাসায় বিশ্রাম নিতে হয়।

দেহের কোন অংশ থেকে চর্বি বের করা বা কাটা যায়?

লাইপোসাকশন পদ্ধতিতে সাধারণত যেসব জায়গা থেকে চর্বি বের করা যায়: পেট ও কোমর, থাই, ব্রেস্ট, আর্ম বা হাত।
লাইপোসাকশন সার্জারি হলো ব্যাথামুক্ত এবং নিরাপদ
লাইপোসাশনের মাধ্যমে অপারেশন করলে অপারেশনের সময় ব্যথা হয় না। অপারেশনের পর অতি সামান্য ব্যথা হতে পারে; সেজন্য পেইনকিলার দেওয়া হয়, যাতে রোগী ব্যথা অনুভব না করেন।
চিকিৎসক ও রোগী গাফিলতি না করলে এটি অবিশ্বাস্য রকম নিরাপদ। আর একটি বিষয় হলো, রোগীকে বা ব্যক্তিকে অজ্ঞান করে অপারেশন করতে হয় না। এমনকি হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয় না; কিন্তু ১ দিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।
পরবর্তী ২ দিন বাসায় হাঁটাচলা করা যাবে। চতুর্থ দিন থেকে স্বাভাবিক কাজ করা যাবে। ১০ দিন পর থেকে ভারী কাজসহ সব ধরনের কাজ করা যাবে। লাইপোসাকশনের মাধ্যমে অপারেশনের পর অপারেশনের জায়গা স্লিম হতে ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগবে। স্থান ভেদে ১/২ থেকে ৫ লিটার পর্যন্ত ফ্যাট বের করা হয়। সাধারণত যত লিটার ফ্যাট বের করা হবে, তার দ্বিগুণ পর্যন্ত ওজন কমে; তবে ওজন কমানোর জন্য লাইপোসাকসন না করানোই ভালো। আবার চর্বি জমা হতে পারে? প্রশ্ন হলো ওজন না বাড়ার উপায় কি? ওজন না বাড়লে কখনোই আর নতুন করে চর্বি জমা হবে না। ডায়েটিং ও এক্সসারসাইজ ওজন না বাড়ার উপায়।
অনেকে প্রশ্ন করেন প্রেগনেন্ট হতে অসুবিধা হবে কি?

ব্রেস্টে লাইপোসাকশনের পর ব্রেস্ট ফিডিংয়ে অসুবিধা হবে কি?

প্রেগনেন্ট হতে অসুবিধা হবে না। লাইপোসাকশন শুধু ফ্যাট কমায়; গ্লান্ড কমায় না, ফলে ব্রেস্ট ফিডিংয়ে অসুবিধা হবে না। লাইপোসাকশনের পর স্কিন ঝুলে যাবে না। স্কিনের নিজস্ব ইলাসটিসিটি আছে; তাছাড়া চিকিৎসকরা বাইন্ডার সাপ্লাই দেয়, তাই ঝুলে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
লাইপোসাকশনের পর ছিদদ্রগুলো মিলিয়ে যায়; অথবা ছোট দাগ থাকতেও পারে লাইপোসাকসনের পর।

লাইপোসাকশন সার্জারির পর করণীয় কী এবং কী করা যায়?
• প্রচুর তরল খাবার খেতে হবে।
• একদিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।
• পরবর্তী ২ দিন বাসায় হাঁটাচলা করা যায়
• চতুর্থ দিন থেকে স্বাভাবিক কাজ করা যায়।
• ১০ দিন পর থেকে ভারী কাজসহ সব ধরনের কাজ করা যায়।
• প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।
• শোয়া অবস্থায় বেন্ডেজ পরিবর্তন করা।
• ২ দিন ধূমপান ও মদ্যপান করা যাবে না।

ডা. এস এম বখতিয়ার কামাল
সহকারী অধ্যাপক (চর্ম যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিভাগ), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
অক্টোবর ১৩, ২০২১, বিশ্লেষণ ডট কম (Bishleshion.com)

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়*************************************অনুসরণ করতে পারেন আমাদের সবচেয়ে কার্যকর জ্বর কমানোর ঘরোয়া...
25/07/2022

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়
*************************************

অনুসরণ করতে পারেন আমাদের সবচেয়ে কার্যকর জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় সমূহ

মাথায় জলপট্রি দেওয়া
শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে দ্রুত তা কমানোর ঘরোয়া পদ্ধতি গুলোর মধ্য অধিক কার্যকর একটি হচ্ছে রোগীর মাথায় জলপট্টি দেওয়া। এই ঘরোয়া পদ্ধতিতে একদম সহজ ফলে যে কেউ এটি অনুসরন করতে পারি।
মাথায় জলপট্টি দেওয়ার জন্য প্রথমে একটি পরিষ্কার রোমাল ভাজ করে পানিতে ভিজিয়ে নিতে হবে।
রোগীর কপালে ভেজা রোমালটিকে আলতোভাবে বসিয়ে দিতে হবে। এভাবে কিছুক্ষণ পরপর একইভাবে রুমালটি ভিজিয়ে পুনরায় কপালে বসিয়ে দিতে হবে।
অত্যন্ত সহজ একটি পদ্ধতি হলেও এই পদ্ধতি কয়েকবার অনুসরণ করলে খুব দ্রুত শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসাবে ইনশাআল্লাহ।
তুলসি পাতা ব্যবহার করা
জ্বর কমানোর জন্য তুলসী পাতা অত্যন্ত কার্যকরী একটি ভেষজ।
তুলসি পাতায় থাকে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান।
যেসকল উপাদান জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথা, ব্রংকাইটিস, ম্যালেরিয়ার মতো অনেক রোগ প্রতিকারে কার্যকারী ভুমিকা পালন করে।
বহু গুণ সম্পন্ন এই ভেসজটি জ্বর কমানোর জন্য ব্যবহার করাও একদম সহজ।
আপনি চাইলেই কয়েকটি তুলসী পাতা সংগ্রহ করে জ্বর কমানোর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পারেন।
এক্ষেত্রে প্রথমে আপনাকে আট-দশটি তুলসী পাতা সংগ্রহ করতে হবে। তারপর তুলসীপাতা গুলোকে পরিষ্কার পানি দিয়ে সুন্দর ভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এবার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পাতাগুলোকে একটি পাত্রে দিয়ে পানির সাথে গরম করে ফুটিয়ে নিতে হবে।
তারপর সেই ফুটানো পানি প্রতিদিন সকালে একটা পরিমাণ খেলে শরীরের তাপমাত্রা তো কমবেই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে ইনশাআল্লাহ।
মধুর মিশ্রন ব্যবহার করা
সকল রোগের মহা ঔষধ হচ্ছে মধু। ঘরোয়া উপায়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে মধুর অবদান অন্যান্য কোনো উপাদান এর থেকে কম নয়।
মধুতে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যেমন শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়া কে ধ্বংস করে তেমনি জ্বর কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে সব থেকে ভালো ফলাফলের জন্য মধুর একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে।
মধুর এই মিশ্রণটি এর জন্য প্রয়োজন হবে এক কাপ গরম পানি, অর্ধেকটা লেবুর রস ও এক চা-চামচ মধু।
সবগুলো উপাদানকে একটি গ্লাস নিয়ে সুন্দর ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর সে মিশ্রনটিকে দিনে দুইবার খেতে হবে। মধুতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকার কারনে ভাইরাসজনিত জ্বর খুব দ্রুত উপশম হবে ইনশাল্লাহ।
আদা ব্যবহার করা
আদা কে বলা হয় একটি আদর্শ প্রাকৃতিক অ্যান্টিভাইরাস। তাই ভাইরাসজনিত জ্বর এর ক্ষেত্রে এটি প্রতিশেধক হিসেবে খুব ভালো কাজ করে। তবে সবচেয়ে ভালো ফলাফলের জন্য আপনি আদার একটি মিশ্রণ তৈরী করে নিতে পারেন।
আধা চা চামচ আদা বাটা এক কাপ গরম পানিতে ভালোভাবে ফোটিয়ে নিন। তারপর সেখানে যুক্ত করুন ১ চা চামচ মধু। তৈরি হয়ে গেল আদা ও মধুর মিশ্রণ। দ্রুত জ্বর কমানোর জন্য মিশ্রণটি দিনে ৩-৪ বার পান করুন।
প্রথম দিন থেকেই জ্বর কমতে শুরু করবে তবে নিয়মিত দুই-তিনদিন পান করলে জ্বর সম্পূর্ণরূপে নিরাময় হবে ইনশাল্লাহ।
রসুন ব্যবহার করা
জ্বর কমানোর জন্য আদর্শ একটি ঘরোয়া পদ্ধতি খুজছেন? ওয়েল, আপনার জন্য আছে একদম সহজলভ্য একটি উপাদান রসুন। জ্বর কমানোর ক্ষেত্রে রসুন আপনাকে একটি চমকপ্রদ ফলাফল দিতে পারে।
এক্ষেত্রে আপনাকে নিতে হবে এক কোয়া রসুন ও এক কাপ গরম পানি। রসুন টিকে কুচি কুচি করে কেটে ঠিক ১০ মিনিট গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে রসুন এর প্রয়োজনীয় উপাদান পানিতে মিশ্রিত হবে।
তারপর পানি টুকু একটি কাপে নিয়ে দিনে দুইবার চায়ের মত পান করতে হবে। এই মিশ্রণটি পান করলে ধীরে ধীরে জ্বর কমতে শুরু করবে।
আরো দ্রুত জ্বর ভালো করার জন্য অন্য একটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে কয়েক কোয়া রসুন এবং অল্প একটু অলিভ অয়েল। কয়েক কোয়া রসুন কে ভালোভাবে বেটে নিতে হবে।
এবার বেটে নেওয়া রসুনটুকু অল্প পরিমাণ অলিভ অয়েল এর সাথে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে।
তারপর রাতে ঘুমানোর পূর্বে মিশ্রণটিকে পায়ের তালুতে সুন্দর ভাবে মিশিয়ে একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে পেচিয়ে রাখতে হবে।
এভাবে সারারাত রেখে দিতে পারলে সকালে উঠে দেখবেন আপনার জ্বর সম্পূর্ণরূপে কমে গেছে।
তবে শিশু আর গর্ভবতী মায়ের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত না।

সংগৃহীত

24/07/2022
শিশুর ডায়রিয়া হলে যা খাওয়াবেন**********************************শিশুর ডায়রিয়া হওয়ার সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয়। এটি শিশুদের এ...
24/07/2022

শিশুর ডায়রিয়া হলে যা খাওয়াবেন
**********************************
শিশুর ডায়রিয়া হওয়ার সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয়। এটি শিশুদের একটি সাধারণ রোগ। খাবারে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে ডায়রিয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও শারীরিক অন্যান্য সমস্যার কারণেও শিশুর ডায়রিয়া হতে পারে।

শিশুর ডায়রিয়া হলে অভিভাবকরা অনেক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ সময় তাকে কী খাওয়াতে হবে আর কী না, সে সম্পর্কে অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার আছে যেগেুলো শিশুর ডায়রিয়ার সময় খাওয়ালে ভালো ফল মেলে। জেনে নিন ডায়রিয়া হলে শিশুকে কী খাওয়াবেন আর কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন-

কলা
কলার স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে সবারই জানা আছে। এতে প্রচুর ফাইবার থাকে। একইসঙ্গে বিভিন্ন পুষ্টি ও খনিজ পদার্থ থাকে। যা শরীরের জন্য অনেক উপকারী এই ফল। শুধু শিশুদের নয় বড়দের ক্ষেত্রেও ডায়রিয়ার চিকিৎসা কলা দুর্দান্ত কার্যকর।

আপেল

দৈনিক একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না, বিশেষজ্ঞদের মত এমনই। আপেল শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে।

ঠিক তেমনই ডায়রিয়ার চিকিৎসায় শিশুকে খাওয়াতে পারেন আপেলের স্মুদি বা রস। এটি তাৎক্ষণিক শিশুর ডায়রিয়া প্রতিরোধ করবে।
নুডলস বা পাস্তা

অবাক লাগলেও সত্যিই যে, নুডলস বা পাস্তা খেলে ডায়রিয়ার সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। স্যুপি নুডলস বা পাস্তা শিশুর হজম ক্ষমতা বাড়ায়।

ওটমিল

ওজন কমানো থেকে শুরু করে শরীর সুস্থ রাখতে ওটমিলের বিকল্প নেই। জানেন কি, ওটমিলে থাকে দ্রবণীয় ফাইবার। যা শিশুর ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

ভাত

ব্র্র্যাট ডায়েটের একটি অংশ হলো ভাত খাওয়। শিশুর ডায়রিয়া চিকিৎসায় ভাতও দুর্দান্ত কাজ করে। তাই ডায়রিয়া হলে শিশুকে ভাত খাওয়াতে পারেন নির্দ্বিধায়।

যেসব খাবার এড়াতে হবে

>> শিশুর ডায়রিয়া হলে দুগ্ধজাতীয়, চর্বিযুক্ত, মসলাযুক্ত ও কাঁচা শাক-সবজি খাওয়ানো যাবে না। এতে ডায়রিয়ার সমস্যা আরও বাড়বে।

>> ডায়রিয়া হলে শরীরে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হয়। তাই শিশুকে এ সময় পর্যাপ্ত পানি খাওয়াতে হবে। শিশুর শরীর আর্দ্র থাকলে ডায়রিয়ার সমস্যা দ্রুত কমবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফেসিয়াল নার্ভ প্যারালাইসিস বা হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ ও চিকিৎসা*****************************************************...
21/07/2022

ফেসিয়াল নার্ভ প্যারালাইসিস বা হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ ও চিকিৎসা
*************************************************************
হঠাৎ করে কোনো এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন আপনার মুখ একদিকে বেঁকে গেছে! কুলি করতে গেলে পানি ঠোঁট বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে, চোখ বন্ধ করতে পারছেন না! কী ভয়ংকর অনুভূতি হবে তখন, তাই না? ফেসিয়াল নার্ভ প্যারালাইসিস বা হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ কী, এই সম্পর্কে অনেকেই জানেন না! চলুন আজ এই রোগ সম্পর্কিত কিছু তথ্য জেনে নেই ফিজিওথেরাপি কনসালট্যান্ট এন্ড জেরোন্টলজিস্ট এর কাছ থেকে।

ফেসিয়াল নার্ভ প্যারালাইসিস

এটা এক ধরনের প্যারালাইসিস। আমাদের সপ্তম ক্রেনিয়াল নার্ভটিকে ফেসিয়াল নার্ভ বলে। যখন এটি আংশিক বা সম্পূর্ণ প্যারালাইজড হয়ে যায়, তখন তাকে ফেসিয়াল পলসি বা ফেসিয়াল নার্ভ প্যারালাইসিস বলে। জন বেল নামের এক ভদ্রলোক এই রোগটি প্রথম আবিষ্কার করেন, সেজন্য একে বেলস পলসিও বলা হয়।

এটা কি পুরোপুরি ভালো হয়?

এই ক্ষেত্রে মুখের পেশীগুলো দুর্বল হয়ে যায় বা একপাশে প্যারালাইজড হয়ে যায়। এটি মুখের মাংসপেশীর সঙ্গে যুক্ত স্নায়ুগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে হয়। তবে এই পেশীগুলো কিন্তু সাময়িকভাবে আক্রান্ত হয় এবং নিয়মিত চিকিৎসার ফলে এই রোগ সাধারণত পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। ফেসিয়াল পলসি সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ভালো হতে শুরু করে। নার্ভ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার উপর নির্ভর করে।

কাদের বেশি হয়?

এটি যেকোনো বয়সের মহিলা ও পুরুষের হতে পারে, তবে পুরুষের তুলনায় মহিলাদের এই রোগটি বেশি দেখা যায়। এছাড়াও প্রেগনেন্সির সময়, ফুসফুসের ইনফেকশন, ডায়াবেটিস এবং পরিবারের কেউ এই রোগে আক্রান্ত হবার ইতিহাস থাকলে ফেসিয়াল পলসি হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ফেসিয়াল নার্ভ প্যারালাইসিস এর কারণ:

ভাইরাল ইনফেকশন
মধ্য কর্ণে ইনফেকশন
ঠান্ডাজনিত কারণ
আঘাতজনিত ও মস্তিষ্কের স্ট্রোকজনিত কারণ
ফেসিয়াল টিউমার
কানের অপারেশন পরবর্তী ফেসিয়াল নার্ভ ইনজুরি ইত্যাদি

লক্ষণগুলো কী কী?

এই রোগে আক্রান্ত রোগীর মুখ সাধারণত একদিকে বাঁকা হয়ে যায়। তবে শতকরা এক ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে মুখের দুই পাশ আক্রান্ত হয়ে থাকে। রোগীর মুখের যে পাশ আক্রান্ত হয়েছে, সে পাশের চোখ বন্ধ হয় না এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ে। অনেক সময় চোখ পুরোপুরি খুলতেও কষ্ট হয়ে থাকে। রোগী কপাল ভাঁজ করতে পারে না। এছাড়াও কিছু লক্ষণ থাকে, জেনে নিন সেগুলো সম্পর্কে।

চোখে জ্বালা-পোড়া করতে পারে
অনেক সময় ‘ড্রাই আই’ সমস্যা দেখা দেয়
কুলি করতে গেলে পানি গড়িয়ে পড়ে যায়
গালের মাংসপেশি ঝুলে যেতে পারে
খাবার চিবাতে ও গিলতে কষ্ট হয়
মুখের হাসি বেঁকে যায়
লালা ঝরতে থাকে
জিভ শুকিয়ে যায়
এছাড়াও জিভের সামনের অংশের স্বাদের অনুভূতি কমে যেতে পারে
মুখের আক্রান্ত পাশে ব্যথা হয়
বিশেষ করে চোয়াল এবং মাথায় ব্যথা হয়ে থাকে
অনেক সময় কথা বলতে কষ্ট হয়

রোগ নির্ণয়

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ও রোগীর ইতিহাস জেনে রোগ নির্ণয় করতে পারেন, তবে অনেক সময় কিছু প্যাথলজিক্যাল ও রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে।

চিকিৎসা

এর চিকিৎসা রোগের কারণের উপর নির্ভর করে। কী কারণে ফেসিয়াল প্যারালাইসিস হয়েছে, তার উপর নির্ভর করে মেডিসিন দেওয়া হয়ে থাকে। তবে সব ক্ষেত্রেই মেডিসিনেরর পাশাপাশি মূল চিকিৎসা হচ্ছে ফিজিওথেরাপি। ফেসিয়াল পলসিতে আক্রান্ত হবার ৭২ ঘন্টার মধ্যে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু হলে রোগীর দ্রুত ভালো হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত এই রোগের জন্য স্টেরয়েড মেডিসিন ব্যবহার করা হয়। ‘ড্রাই আই’ প্রতিরোধ করার জন্য আই ড্রপ দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া চোখ একেবারে বন্ধ না হলে ঘুমানোর সময় সার্জিক্যাল টেপ দিয়ে চোখ বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ফিজিওথেরাপি

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান করে থাকেন। তার মধ্যে ফেসিয়াল মাসল এক্সারসাইজ, স্পিচ রি-এডুকেশন, বেলুনিং এক্সারসাইজ, ইলেক্ট্রো থেরাপি রয়েছে। অনেক সময় হাসপাতালে ভর্তি থেকে দিনে ২-৩ বার ফিজিওথেরাপি নিলে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়। যদি নার্ভ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে রোগী সুস্থ হতে তিন থেকে ছয় মাস সময় লেগে যায়।

ঘরোয়া চিকিৎসা

১। ফেসিয়াল ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে।

২। চোখের জ্বালা-পোড়া এবং ব্যথা কমাতে নরম টাওয়াল উষ্ণ পানিতে ভিজিয়ে চোখে সেঁক দেওয়া যায়।

৩। একটা গ্লাসে অল্প পানি নিয়ে তার ভেতর স্ট্র দিয়ে বুদবুদ তুলবেন। এতে ঠোঁটের চারপাশের মাংসপেশী শক্তিশালী হবে, পানি পান করার সময় আর গাল বেয়ে পড়ে যাবে না।

৪। কথা বলুন, এতে করে কথা বলার জড়তা কমে আসবে। কোনো শব্দ উচ্চারণে সমস্যা হলে প্রথমে স্বরবর্ণগুলো জোরে জোরে উচ্চারণ করুন। তারপর ব্যঞ্জনবর্ণ অনুশীলন করবেন।

৫। রিল্যাক্স থাকার চেষ্টা করবেন। ব্রেথিং এক্সারসাইজ, ইয়োগা এগুলো আপনাকে রিল্যাক্স থাকতে সাহায্য করবে।

৬। নিয়মিত ফিজিওথেরাপিস্টের শেখানো এক্সারসাইজ করবেন।

৭। নিয়মিত ৮ ঘন্টার ঘুম, হেলদি ডায়েট এবং প্রচুর পানি পানি করবেন। এসব ক্ষেত্রে হেলদি লাইফস্টাইল আরোগ্য লাভে সহায়তা করে।

ফেসিয়াল নার্ভ প্যারালাইসিস বা হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে আজ আমরা অনেক কিছুই জানলাম। আজ এই পর্যন্তই, আবারও চলে আসবো নতুন কোনো বিষয় নিয়ে। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

-মাহমুদা রোজী
সাজগোজ ডট কম

গরমে শিশুর জ্বর হলে করণীয়******************************এখন প্রচণ্ড গরম পড়ছে! তাপমাত্রার এই ব্যাপক তারতম্যে প্রথম শিকার হ...
21/07/2022

গরমে শিশুর জ্বর হলে করণীয়
******************************
এখন প্রচণ্ড গরম পড়ছে! তাপমাত্রার এই ব্যাপক তারতম্যে প্রথম শিকার হয় শিশুরা। বড়দের মতো আবহাওয়ার দ্রুত তারতম্যের সাথে শিশুরা নিজেকে মানিয়ে নিতে অনেক সময়ই পারে না। গ্রীষ্মকালের গরম সবার জন্যই কষ্টকর। তবে শিশুরা খুব বেশি স্পর্শকাতর বলে অনেক গরম আবহাওয়ায় সহজে খাপ খাওয়াতে পারে না।
জ্বরের লক্ষণ

শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি তাপমাত্রাই (>৯৮.৬ ড় ফা.) হলো জ্বর। তবে, জ্বর কোনো রোগ নয়, শরীরের কোনো অসুস্থতা বা সংক্রমণের লক্ষণ অর্থাৎ রোগের উপসর্গ হলো জ্বর ।

বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন ধরনের জ্বর হতে পারে। যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, নিউমোনিয়া, হাম এবং প্রস্রাবের সংক্রমণ ইত্যাদি নানা কারণে জ্বর হতে পারে।

জ্বরের সাধারণ চিকিৎসা
তাই অন্যান্য সময়ের তুলনায় গরমকাল শিশুদের জন্য বেশি কষ্টকর ও অসহনীয় হয়ে ওঠে। তাই জ্বর, পেট খারাপ, সর্দি, কাশিসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। গরমে ভাইরাল জ্বরে ভুগতে পারে

জ্বরের সাধারণ চিকিৎসা

জ্বর কমানোর জন্য প্রথমে দেহের তাপমাত্রা কমানোর ওষুধ প্যারাসিটামল (এইস, নাপা) খাওয়াতে হবে। তবে অনেক সময় ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত এন্টিবায়োটিক সঠিক মাত্রায় পাঁচ থেকে সাত দিন খেতে হবে। তবে ভাইরাস জ্বরে এন্টিবায়োটিক লাগে না। শিশুদের বেলায় জ্বর হলে একটু বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মনে রাখতে হবে ৩-৪ দিনের মধ্যে শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি না কমলে এবং জ্বর সাথে যদি শিশুর বেশি বমি হয় বা পাতলা পায়খানা হয়, অনবরত কাঁদতে থাকে, শরীরে গুটি বা দানা দেখা দেয়, খিঁচুনি হয় তাহলে জরুরিভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

প্রয়োজনীয় উপদেশ

গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং ধুলাবালি থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে।
বাইরে বের হলে শিশুর জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি সবসময় সাথে রাখতে হবে।
ঘেমে গেলে ঘাম মুছে দিতে হবে। শরীরের ঘাম শুকিয়ে গেলে শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে।
যতটা সম্ভব শিশুকে সদ্য তৈরি খাবার ও তাজা ফলমূল খাওয়াতে হবে।
ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে, যেন র‌্যাশ জাতীয় সমস্যা না হয়।
প্রচুর পানি খাওয়াতে হবে, যেন প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।
সদ্যজাত শিশুদের সবসময় ঢেকে রাখতে হবে, যেন শরীর উষ্ণ থাকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ঘেমে না যায়।
গরমের সময় মশা, মাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি পোকামাকড়ের প্রকোপ বেড়ে যায়। এগুলো শিশুর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। ঘরকে পোকামাকড় মুক্ত রাখতে হবে।
গরমের সময় প্রচুর মৌসুমি ফল পাওয়া যায়। মৌসুমি ফল শিশুকে খেতে দিন। জুস করে দিতে পারেন। এতে শিশুর ভিটামিন চাহিদা মিটবে ও শিশুর পুষ্টিরও পূরণ হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে।

লেখক : শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

Address

Mirpur/06
Dhaka
1216

Telephone

+8801683395806

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when World HealthCare Center posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to World HealthCare Center:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram