12/07/2021
করোনা প্যানডেমিক এ কিছু পরামর্শ যা আপনার কাজে লাগতে পারে-------
-------------
ডা. উৎপল কুমার চন্দ,
সহকারী অধ্যাপক,
মেডিসিন বিভাগ,
খুলনা মেডিকেল কলেজ।
করোনার সংক্রমন ইনফ্লুয়েজ্ঞার মতো ঘরে ঘরে হচ্ছে। তাই, সবাইকে আরো বেশি বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
করোনা সাধারন আর দশটি ভাইারাল জ্বরের মতো হলেও, কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।
ফুসফুসকে আক্রান্ত করার প্রবনতা বেশি বিধায় শতকরা পাঁচ থেকে দশভাগ রোগীর অক্সিজেন স্বল্পতা বিপদজনক পর্যায়ে চলে যেতে পারে।
তবে আশার কথা হলো ঐ পাঁচ থেকে দশভাগ রোগীর প্রায় পঁচানব্বইভাগ রোগীকে অক্সিজেন দিলেই অক্সিজেন এর মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসে।
তবে, বয়স্ক রোগীগন,যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, কিডনী রোগ সহ অন্যান্য জটিলতা বেশি তাদের ক্ষেত্রেই অক্সিজেন এর স্বল্পতা বেশি হয়ে থাকে।সুতরাং, এই ধরনের রোগীদের সাবধান হতে হবে অনেক বেশি।
এ পরিস্থিতিতে যে কোন মানুষের জ্বর হতেই পারে। কিছু প্রস্তুতি আগে থেকে নিয়ে রাখলে আপনি করোনাকে সহজেই মোকাবিলা করতে পারবেন। যেমন -
১)করোনার লক্ষন সমন্ধে মোটামুটি ধারনা নিন। জ্বর, মাথা ও গায়ে ব্যথা, খাওয়ার অরুচি,নাক বন্ধ থাকা, গন্ধ না পাওয়া, গলা ব্যথা।
জ্বর সাধারনত এক থেকে সাতদিন থাকতে পারে। জ্বর আসার চার থেকে সাতদিন পর অথবা জ্বরের সাথেই শুকনো কাঁশি হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে বুকে চাপ ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কিছু রোগীর পাতলা পায়খানা, বমি অথবা বমি বমি ভাব হতে পারে।
এ সকল উপসর্গ থাকলে চিকিৎসক এর পরামর্শ নিতে হবে। করোনার পরীক্ষা করতে হবে।
২)বাড়িতে একটি থার্মোমিটার রাখুন। জ্বর মাপা শিখে নিন। বগলে মাপলে যে রিডিং আসবে তার সঙ্গে এক যোগ করে নিন। বগলে ৯৯ডিগ্রি হলে, জ্বর হবে ১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট।
২) ঘরে প্যারাসিটামল বড়ি এবং সাপোজিটর রাখুন। তাপমাত্রা ১০০ শত ডিগ্রী বা তার বেশি হলে খেতে হবে। চব্বিশ ঘন্টায় চারবার খাওয়া যাবে। মাথা ব্যথাতেও প্যারাসিটামল ভালো কাজ করে। রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক এর পরামর্শ ছাড়া অন্য কোন ঔষধ সেবন করা বা ব্যবহার করা উচিত নয়।
৩) ঘরে একটি পালস অক্সিমিটার রাখুন। দিনে দুই থেকে তিনবার অক্সিজেনের মাত্রা মেপে দেখতে পারেন।অযথা বারবার মাপার দরকার নেই।
৪)কখন হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে ?
এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলতে হবে। সাধারনত নিমোক্ত সমস্যাগুলোতে রোগিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়-
ক)সাতদিন পরেও জ্বর ভালো না হলে।
খ)অতিরিক্ত কাঁশি, শ্বাসকষ্ট , একদম কিছুই খেতে না পারলে, অতিরিক্ত বমি ও ডায়রিয়া হলে, অক্সিজেন এর মাত্রা ৯৪ এর নিচে নেমে গেলে, রোগী অজ্ঞান হলে, শারীরিক অন্যান্য জটিলতা থাকলে ইত্যাদি ।
৫)বিশ্রামে থাকুন।বেশি বেশি খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে তরল খাবার। সব খাবার খাবেন। আমিষ জাতীয় খাবার বেশি খাবেন। ডিম ,মাছ, ডাল ও ডালের জল বেশি খান।যে কোন ফল ও ফলের রসও খেতে পারেন। বেশি পানি পান করুন। স্যালাইন ও ডাবের পানি বেশ উপকারি।
করোনার জটিলতা বেশি হয় জ্বর আসার সাত থেকে চৌদ্দ দিনের মধ্যে। সুতরাং, জ্বর না থাকলেও কমপক্ষে তিন সপ্তাহ সাবধানে থাকুন।
করোনা হলে কমপক্ষে একমাস পর টিকা নিতে পারবেন। এ ব্যপারে চিকিৎসক এর পরামর্শ নিন।
ইতিমধ্যে আপনারা জেনেছেন বাড়িতে করোনা রোগী থাকলে কি কি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
অবহেলা করবেন না। কেননা ঐ পাঁচভাগ জটিলতা কার হবে তা আপনি আমি কেউ জানি না।
পৃথিবীর অতি উন্নত দেশও করোনা মোকাবিলা করতে হিমসীম খাচ্ছে। আমাদের মতো জনবহুল দেশে হাসপাতালের বেডের চেয়ে রোগী বেশি। তাই প্রতিরোধ প্রতিকারের চেয়ে অনেক ভালো।
টিকা নিন, মাস্ক ব্যবহার করুন, অযথা বাইরে বের হবেন না, বাইরে গেল সাবান পানি দিয়ে হাত ধৌত করুন অথবা স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
একটি অনুরোধ,
বাড়িতে অক্সিজেন মজুত করবেন না।