19/04/2018
অর্শ বা পাইলস বা হেমোরয়েডস ( Piles )
সংজ্ঞা ঃ- অর্শ বা পাইলস আর কিছুই নয়, এ হলো
ক্রমাগত প্রতিবন্ধকতা ও উচ্চচাপে ফুলে ফেঁপে
ওঠা উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন মলাশয় শিরা কর্তৃক তৈরি জালক
থেকে পায়ুতে আগত স্ফীত শিরা যা থেকে
মাঝে মাঝে রক্ত ক্ষরণ হয় ।
সাধারণ আলোকপাত
ল্যাটিন শব্দ Pila হতে আগত পাইলস ( Piles )
শব্দের অর্থ হচ্ছে একটি বল । আবার গ্রীক শব্দ
হতে আগত হেমোরয়েডস শব্দের অর্থ রক্ত
বয়ে যাওয়া । মলদ্বারের আশেপাশের রক্তবাহী
শিরা সমূহ ফুলে উঠলে পাইলস এর বা অর্শের সৃষ্টি
হয় । ফুলে ওঠা শিরা যা অর্শ হতে মাঝে মাঝে
রক্তক্ষরণ ঘটে । সাধারণত ঐ সময় মল বেশ শক্ত
থাকে । তবে নরম মলত্যাগের পরও অর্শ হতে
প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে পারে ।
অর্শ অবস্থান অনুযায়ী দুই প্রকারের ( ক ) বহিঃস্থ
অর্শ বা এক্সটারন্যাল পাইলস । ( খ ) অভ্যন্তরীণ
অর্শ বা ইন্টারন্যাল পাইলস ( Internal Piles ) ।
এক্সটারন্যাল পাইলস গুহ্যদ্বারের অর্ধ ইঞ্চির মধ্যে
থাকে এবং ফুলে ওঠা এই শিরাপিণ্ড ত্বক দ্বারা আবৃত
থাকে । এই অর্শ গুহ্যদ্বার পথে সহজেই বাহির
হয়ে আসে । ত্বকের নীচে, জমাট বাঁধা রক্ত
নিয়ে ফুলে ওঠা শিরা সাধারণত অত্যন্ত ব্যথার কারণ
হয়ে থাকে ।
ইন্টারন্যাল পাইলস গুহ্যদ্বারের আধা ইঞ্চির উপরে
হয়ে থাকে । ইহা আকারে বেশ বড় হলে মল
ত্যাগের সময় নীলাভ রঙের একটি মাংসল টুকরার মত
বাহির হয়ে আসে । আকারে বড় হলেও ফুলে ওঠা
শিরার মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে না গেলে বা তাতে
ইনফেকশন না হলে বা ছিঁড়ে না গেলে ইন্টারন্যাল
পাইলসে তেমন ব্যথা হয় না ।
পাইলস দেখা দিবার কারণ সমূহ ঃ-
বহিঃস্থ পাইলস সাধারণত মলদ্বারের শিরা শাখায়
মলত্যাগের সময় প্রচণ্ড জোরে নীচের দিকে
চাপ দিলে ( কোঁথ দেওয়া ) প্রচণ্ড কাশিতে বা
অত্যন্ত ভারী জিনিস তুলতে গেলে শিরার রক্ত
প্রবাহে পেছনের দিকে চাপ পড়ার ফলে দেখা
দেয় । ইহা হঠাৎ করে প্রচণ্ড ব্যথা সহ দেখা দেয়
এবং মলদ্বার পথে পরীক্ষায় তাহা টনটন ব্যথাপূর্ণ হয়
ও প্রায় পেকে ওঠা জাম এর মতো দেখা যায় ।
অভ্যন্তরীণ পাইলস নানা কারণে দেখা দিতে পারে
। রোগীর কোষ্ঠ কাঠিন্য থাকা এবং সেই সাথে
মলত্যাগে প্রচণ্ড চাপের দরকার হতে থাকলে কিংবা
মল কোমলকারক ঔষধ যথেচ্ছ ব্যবহার করলে
অর্শ দেখা দিতে পারে । আবার পৌষ্টিক নালীর
প্রদাহে ডায়রিয়া বা বার বার মল ত্যাগ হতে থাকলে,
কোলাইটিস বা আমাশয় থাকলে তাহা অর্শ বা পাইলস
সৃষ্টির কারণ হতে পারে ।
কোন কোন পরিবারের সদস্যদের ভেতর
পাইলস হবার প্রবণতা বেশী বলে লক্ষ্য করা যায় ।
তাছাড়া সন্তান সম্ভবা অবস্থায় ( রেকটাল ভেইনের
উপর স্ফীত জরায়ুর চাপ দেওয়ায় ) প্রস্রাব করতে
খুব চাপ দিতে হলে প্রস্রাবের নালী সংকীর্ণতায়
বা প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে গেলে এবং
দীর্ঘকালের কোষ্ঠকাঠিন্য আভ্যন্তরীণ অর্শ
বা পাইলস দেখা দিতে পারে ।
উপসর্গ ( Symptoms ) ঃ- অধিকাংশ পাইলস বা
হেমোরয়েডর রোগীর তেমন কোন
অভিযোগ থাকে না । অধিকাংশ রোগীর মল
ত্যাগের সময় মলের গায়ে তাজা রক্ত লেগে
থাকতে বা মল ত্যাগের পর টয়লেট কাগজ ব্যবহার
করলে তাতে রক্ত লেগে থাকতে বা কাপড়ে
রক্ত লাগার অভিযোগ করে এবং সেই সাথে
গুহ্যদ্বারে অনির্দিষ্ট এক প্রকার অস্বস্তি অনুভবের
কথা বলে । পাইলস আকারে বৃদ্ধি পেলে বা তা
গুহ্যদ্বারের বাইরে ঝুলে পড়লে কষ্ট বৃদ্ধি পায় ।
গুহ্যদ্বারের বাইরে স্ফীত শিরা পিণ্ড এইভাবে
ঝুলে পড়লে তাতে রস স্ফীত ঘটে বা শোথ
দেখা দেয় এবং গুহ্যদ্বারের মাংসপেশিতে
আক্ষেপ ঘটে । স্ফীত শিরাপিণ্ড এইরূপ ঝুলে
থাকলে যদি তাহার চিকিৎসা না হয় তা হলে তাতে
দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধির পরিবর্তন আসে এবং তাহা খুব
ব্যথাপূর্ণ না হলেও সব সময় তাহা রোগীর কাপড়
নষ্ট করে দেয় ও গুহ্যদ্বারে চুলকানি হয় । বাহিরে
ঝুলে থাকা এইরূপ পাইলস বা হেমোরয়েডে
রোগজীবাণু সংক্রমণ ঘটতে পারে ( জ্বর দেখা
দেয় ) বা তাহার গাত্র মলত্যাগের সময় আঘাত
পেয়ে ছিঁড়ে গিয়ে প্রচুর রক্তপাতের কারণ হতে
পারে ।
বহিঃস্থ পাইলস চিকিৎসা না হলে আপনা আপনি স্বাভাবিক
অবস্থায় ফিরে যেতে পারে ( Resolve ) বা তাহা
প্রথমে পেকে পুঁজ নিঃসরণ করে তন্তুময়
( Fibrosed ) হয়ে উঠতে পারে এবং ত্বকের একটি
বারতি থলি হিসাবে যেখানেরটা সেখানে থেকে
যেতে পারে কিংবা ফেটে গিয়ে ভিতরের জমাট
বাঁধা রক্ত পিণ্ড বাহির করে দিতে পারে এবং অবিরাম টা
হতে রক্তক্ষরণ হতে পারে ।
কারণ ঃ- মলদ্বারের বাইরে ও ভেতরের শিরা ফুলে
ওঠে । শিরাতে ছোট ছোট মটর দানার মত বলি হয়
। ঐ সব বলি ও অর্শ দিয়ে পায়খানার সঙ্গে রক্ত
পড়ে । বলি এক বা একাধিক হতে পারে । এই
রোগকে বলা হয় অর্শ রোগ । নানাবিধ কারণে এই
রোগ হয় । যেমন –
* নানা কারণে যকৃতে বেশী রক্ত সঞ্চয় বা
যকৃতে ভারবোধ ।
* যকৃতে গোলমাল, Hepatitis প্রভৃতি ।
* লিভারের প্রাচীন রোগ বা সিরোসিস প্রভৃতি ।
* প্রাচীন কোষ্ঠকাঠিন্য, পায়খানার সময় বার বার
বেশী করে কোঁথ দেওয়া ।
* বংশগত রোগ বা পূর্ব পুরুষের রোগ ।
* বহুদিন ধরে আমাশয়ে ভোগা বা Colitis রোগে
।
* প্রস্টেট গ্রন্থির বেশী বৃদ্ধি ।
* মূত্রাশয়ের নানা গোলমাল বা Renal Stone .
* পূর্ণ গর্ভাবস্থায় জরায়ুর উপরে বেশী চাপ পড়া ।
* নানা কারণে শিরাতে চাপ ও তার ফলে সৃষ্ট Venous
Engorgement অবস্থা ।
প্রকার ভেদ ঃ- অর্শ রোগকে তার বলি অনুযায়ী
মোট তিন ভাগে ভাগ করা হয় ।
( ক ) অন্তবলি – মলদ্বারের এক ইঞ্চি বা দুই ইঞ্চি
ভেতরের দিকে বলি হয় ।
( খ ) বহিবলি – মলদ্বারের বাইরের দিকে বলি হয় ।
এই বলি হাতে অনুভব করা যায় ।
( গ ) মিশ্রিত বলি – মলদ্বারের বাইরে ও ভিতরে দুই
দিকে বলি হয় । কখনো বা বলি আঙ্গুরের থোকার
মতো হয় – যদি শিরাতে চাপ বেশী পড়ে ।
লক্ষণ ঃ-
* বলি যতক্ষণ ভেতরে থাকে ও টা থেকে
কোন রকম রক্তপাত না হয় ততক্ষণ কোনও
লক্ষণ প্রকাশ পায় না । কখনো মলদ্বারের
ভেতরে ভারবোধ ও পায়খানা করার আগে ও পড়ে
জ্বালাবোধ ও ব্যথা হতে থাকে
* রক্তপাত শুরু হলে তখন রোগ সুনিশ্চিত ভাবে
বুঝতে পারা যায় ।
* পায়খানার সঙ্গে আগে বা পরে রক্তপাত হয়ে
থাকে । কিন্তু ব্যথা হয় না । মাঝে মাঝে পায়খানা নরম
হলে কোনও রক্তপাত হয় না । আবার যখন একটু
কোষ্ঠকাঠিন্য হয় তখন রক্তপাত হতে থাকে ।
* রক্তপাত চলতে থাকলে, ক্রমে অন্য লক্ষণগুলি
প্রকাশ পেতে থাকে । সেই সব লক্ষণ হলো
প্রধানত মলদ্বারে ফোঁড়া, নালী ঘা প্রভৃতি ।
* মাথাধরা, মাথাঘোরা দেখা দিতে পারে, রক্তপাত
বেশী হতে থাকলে ।
* হৃদপিণ্ডের দুর্বলতা দেখা দিতে পারে ।
* রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে ।
* অর্শের সঙ্গে আমাশয় বা কোষ্ঠবদ্ধতা,
মলত্যাগে বিলম্ব প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দিতে পারে ।
* অনেক সময় ব্লাড প্রেসারের সঙ্গে অর্শ হয়
। যখন প্রেসার বৃদ্ধি পায় তখন রক্তপাত হয় ও
রোগী সুস্থ মনে করে । এই ক্ষেত্রে এটি
সহসা বন্ধ করা উচিত নয় ।
* কখনো বা অর্শের বলি সাময়িক হয় যেমন –
গর্ভাবস্থায় । তা পরে সেরে যায় ও বলি শুকিয়ে যায়
।
* কোষ্ঠকাঠিন্য মাঝে মাঝেই হয় ।
জটিল উপসর্গ ঃ-
* অতিরিক্ত রক্তপাত, প্রচুর রক্তপাত, অত্যধিক
দুর্বলতা ও মাথাঘোরা ।
* মলদ্বারে ফোঁড়া বা Abcess, Septic প্রভৃতি হতে
পারে ।
* অর্শ, ভগন্দর প্রভৃতি হতে পারে ।
রোগ নির্ণয় ঃ-
* বাইরে ও ভেতরে বলি দেখা যায় ।
* পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত পরে ।
* কোষ্ঠকাঠিন্য হলে রক্তপাত বৃদ্ধি পায় । পায়খানা
নরম হলে রক্তপাত হয় না ।
* দুই প্রকার পাইলস পর্যবেক্ষণ, আঙ্গুল দ্বারা
পরীক্ষা ও সরাসরি দেখার জন্য
প্রোকটোস্কোপ এর সাহায্য নিয়ে তাতে
দেখে চিহ্নিত করা যায় । রোগীর দীর্ঘস্থায়ী
রক্ত শূন্যতা থেকে থাকলে এবং তাহার মলদ্বার পথ
পরীক্ষায় রক্ত ঝরছে না এমন বড় পাইলস ধরা
পড়লে রোগীর বৃহদান্তের শেষভাগে পলিপ
( Polyp ) বা ক্যান্সার বা অন্য কোন ক্ষত বা আলসার
আছে কিনা তাহা অনুসন্ধান করতে হবে ।
( অর্শ / পাইলস অপারেশন পরিহার করুন । নিরাপদ
চিকিৎসার সুযোগ নিন )
অর্শ রোগের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক যে সকল
ঔষধ সফল ভাবে কাজ করে ঃ –
অ্যাব্রোটেনাম ( Abrotanum ) ।> ভক্ষিত দ্রব্য
হজম ছাড়াই নিস্ক্রান্ত হয় । হঠাৎ করে ডায়রিয়া প্রচাপিত
হলে বাত ব্যথা । উদরাময় ও কোষ্ঠকাঠিন্য
পর্যায়ক্রমে । অর্শের বলি বের হয়, তার সাথে
জ্বালা স্পর্শ ও চাপন থেকে । অর্শ দেখা যায় এবং
বাত ব্যথা উপশম হয়, তার সাথে ঘন ঘন মলত্যাগের
প্রবণতা, মল সামান্য কিন্তু রক্ত নিঃসরণ হয় । এই ঔষধ
কৃমি ধ্বংস করে বিশেষত লম্বা গোলাকার বড় কৃমি
( ascarides ) ।
অ্যাসিড মিউর (Acid muriaticum ) ।> অর্শের
বলীর রঙ নীল, অত্যন্ত বেদনা, হাত ছোঁয়ানও
যায় না, কাপড়টি লাগিলেও কষ্ট হয়, একটু ঠাণ্ডা জল
লাগিলেই যন্ত্রণা বাড়ে, যন্ত্রণা গরমে ও তাপে
উপশম হয় । গর্ভাবস্থায় অর্শ পীড়া হইলে ইহা
বিশেষ উপকারী । প্রস্রাব করিবার সময় অর্শের
বলী বাহির হইয়া পড়ে ।
অ্যাসিড নাইট্রিকাম ( Acid nitricum ) ।> ( Fistula in
ano and piles ) – বাহ্য নরম অথবা শক্ত যাহাই হউক না
কেন, বাহ্যের সময় ও পরে মলদ্বারে ভয়ানক
জ্বালা এবং বোধ হয় যেন মলদ্বারে একটা কাঁটা
ফোটানো আছে । নাইট্রিক অ্যাসিডে – বাহ্যের
সময়ে ও পরে ভয়ানক কোঁথানি ও বেগ থাকে,
মলদ্বার ফাটিয়া ঘা হয়, রক্ত পড়ে ।
অ্যাসিড সালফ ( Acid sulphuricum ) ।>
মদ্যপায়ীদের অর্শের বলী যখন অত্যন্ত বড়
হয় ও তাহাতে মলদ্বার বন্ধ হইয়া যায় জ্বালা করে, রস
পড়ে, তখন ইহা উপযোগী । অ্যাসিড-মিউর – এই
সমস্ত লক্ষণে বিশেষ উপকারী ; তবে উহাতে
অত্যন্ত স্পর্শ-সহিষ্ণুতা থাকে । অ্যাসিড-সালফে –
মলদ্বারে সর্বদাই রস ঝরে, কাপড় ভিজা থাকে ।
ইস্কিউলাস হিপ (Aesculus hippocastannm ) ।>
মলদ্বারে খোঁচা ফুটিয়া থাকার মত ব্যথা, টাটানি ব্যথা,
কোমরে বেদনা ( pain in sacro-iliac symphysis
p***s ) ভারবোধ, মলদ্বার যেন ভিজা, মলদ্বারে
জ্বালা, চুলকানি, বলী ( ভিতর বলী ও বাহির বলী ),
তাহাতে অত্যন্ত বেদনা, লিভারের নানা স্থানে
ভারবোধ ; কোমরে বেদনা, মলত্যাগের পর
গুহ্যদ্বারে অনেকক্ষণ পর্যন্ত জ্বালা, বাহ্যের
পূর্বে যেন মলদ্বার বন্ধ ইত্যাদি ইহার বিশেষ
লক্ষণ । ইস্কিউলাসের অর্শে – রক্তস্রাব বড় একটা
থাকে না ( blind piles ) , তবে পীড়া পুরাতন হইলে
আবার রক্তস্রাবও হয় । ইহাতে অর্শের বেদনা –
কোমর হইতে পিঠে পর্যন্ত বিস্তৃত হয় ।
এলো সকোট্রাইনা ( Aloe ) ।> বাহ্যের বেগের
সঙ্গে আঙ্গুরের থলোর ন্যায় অর্শের বলী
বাহির হয়, অর্শ অত্যন্ত চুলকায় ও জ্বালা করে, এই
জ্বালা ঠাণ্ডা জলে উপশম হয় ( মলদ্বারে চুলকানি ও
জ্বালার জন্য অনিদ্রা – ইণ্ডিগো ) ; এলোতে –
রোগীর প্রায়ই উদরাময় থাকে ; মিউরিয়েটিক-অ্যা
সিডে – আঙ্গুরের থলোর ন্যায় বলী নির্গত হয় ;
কিন্তু তাহার জ্বালা গরম জলে বা গরম সেঁক দিলে
কিন্তু উপশম হয় । ইহাতে টাটানি ব্যথা অত্যন্ত থাকে,
স্পর্শে কিম্বা কাপড় লাগিলেও কষ্টবোধ করে ।
এমন কার্বনিকাম ( Ammonium carbonicum ) ।> মল
অত্যন্ত শক্ত, গাঁট-গাঁট কষ্টে বাহির হয়, রক্তস্রাবি
অর্শ
– ঋতুকালিন বৃদ্ধি, মলদ্বার চুলকায়, বাহ্যের সময় বলী
বাহির হইয়া পড়ে, বাহ্যের পর অত্যন্ত যন্ত্রণা হয় ।
( Flatulent hernia ) ।
এমন মিউরিয়েটিকাম ( Ammonium muriaticum ) ।>
মলদ্বারে ক্ষতের মত বেদনা , হুলফোটান-ব্যথা ও
জ্বালা – মলত্যাগের পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত থাকে
।
আর্সেনিক এ্যালবাম ( Arsenic Album ) ।> যেখানে
অর্শে আগুনে পোড়ার মত জ্বালা, জ্বালা – ঠাণ্ডায়
উপশম না হইয়া গরমে উপশম হয়, তথায় আর্সেনিক
ফলপ্রদ ।
কলিনসোনিয়া ( Collinsonia ) ।> অর্শ পীড়ার নাম
শুনিলেই – ইস্কিউলাস, কলিনসোনিয়া, এলো, নাক্স,
ফস ইত্যাদি ঔষধগুলিই আমাদের মনে পড়ে ।
অর্শে – কলিনসোনিয়ার সহিত ইস্কিউলাসের
অনেক সাদৃশ্য আছে এবং এই দুয়েতেই গুহ্যপথে
যেন কতকগুলি ছোট ছোট কাঠি পোরা আছে
এই লক্ষণটি বিদ্যমান থাকে । কলিনসোনিয়ায় –
অর্শে অত্যন্ত রক্তস্রাব হয় ও কোষ্ঠবদ্ধ
থাকে এবং পেটে বায়ু জমে ও তাহাতে কলিক-
বেদনা হয় । কোষ্ঠবদ্ধে হয়ত ৩/৪ দিন বাহ্য না
হইয়া একদিন বৈকালের দিকে বাহ্য হয়, মল গুটলে ।
ইহার বেদনা-যন্ত্রণা রাত্রিতে বৃদ্ধি পায় । যে সকল
স্ত্রীলোকদের জরায়ু ক্রংশের পীড়া
( Prolapsus utery ) আছে, তাহাদের অর্শে ও
কোষ্ঠবদ্ধ – কলিনসোনিয়াই উপযোগী ।
হ্যামামেলিস ( Hamamelis virginica ) ।> মলদ্বারে
অত্যন্ত টাটানি-ব্যথা ও জ্বালার সহিত মলদ্বার দিয়া কাহারও
অত্যন্ত অধিক পরিমাণে রক্তস্রাব হইতে থাকিলে –
হ্যামামেলিস মাদার-টিংচার বাহ্যিক প্রয়োগে ও
হ্যামামেলিস ( অনেক সময় মাদার ) আভ্যন্তরিক
সেবনে বিশেষ উপকার হইবে । অর্শ পীড়াসহ
কোমরে বেদনা থাকিলে ইহা আরও অধিক
উপকারী । ( ডাঃ ক্লার্ক বলেন – ভ্যর্বাসকম মাদার
টিংচার ১ ড্রাম, ১ আউন্স অলিভ অয়েল বা ভ্যাসেলিনসহ
মিশাইয়া মলদ্বারে বাহ্যিক প্রয়োগ করিলে অর্শের
যন্ত্রণা ও বেদনার উপশম হয় ।
হাইড্রাসটীস ( Hydrastis Canadensis ) ।> ডাঃ
হিউজেস বলেন অর্শ ও গোগগুল নির্গমনে ইহা
নিয়মিতভাবে সেবন করিলে এই দুইটি পীড়ায় বিশেষ
উপকার পাওয়া যায় ।
ইগ্নেসিয়া ( Ignatia amara ) ।> বাহ্য না হইয়া
রেক্টামের প্রোলাপ্স অর্থাৎ গোগগুল বা
সরলান্ত্র নির্গমন – ইগ্নেসিয়ায় নির্দিষ্ট । নাক্স-ভমিকা,
ইগ্নেসিয়া উভয়েই ঘন ঘন বাহ্যের বেগ আছে ।
বাহ্যের পরে অনেকক্ষণ পর্যন্ত মলদ্বারে ব্যথা,
টাটানিভাব, ফোটানো-ব্যথা ও মলদ্বারের
সঙ্কোচভাব ইগ্নেসিয়ায় বিশেষরূপে লক্ষিত হয় ।
রক্তস্রাবীয় অর্শে – নিন্ম মলদ্বার হইতে
উদ্ধদিকে খোঁচামারা দপদপ করিয়া বেদনা, নরম
বাহ্যে হইলে যন্ত্রণার অতিরিক্ত বৃদ্ধি, এইগুলিই
ইগ্নেসিয়া প্রয়োগের লক্ষণ ।
ল্যাকেসিস ( Lachesis ) ।> অর্শের বলী, তাহা –
অন্তবলী হউক আর বহিবলীই হউক, অত্যন্ত
দপদপানি ব্যথা থাকে, কাশিতে গেলে বোধ হয়
অর্শের স্থানে যেন হুল ফোটায়, আর যেন কি-
একটা পদার্থ মলদ্বারে আটকাইয়া আছে, তাহার জন্য
রোগী ক্রমাগত কোঁথ দেয়, বাহ্য করিবার সময়
এত কষ্ট হয় যে – দাঁড়াইয়া
উঠিয়া পড়ে, মলদ্বার যেন বন্ধ হইয়া আসে ।
ল্যাকেসিসের মলে অত্যন্ত পচা দুর্গন্ধ হয় ।
নাক্স-ভমিকা ( Nux vomica ) ।> অনবরত বাহ্যের ইচ্ছা
ও বেগ, অথচ বাহ্য খোলসা হয় না ; এই লক্ষণসহ
অর্শরোগে মলদ্বার হইতে রক্ত নির্গমন,
মলদ্বারে অত্যন্ত কুটকুট করা ও চুলকানি থাকিলে
নাক্স-ভমিকা উপযোগী । এই পীড়ায় নাক্সে কতক
উপকার হইয়া শেষে আর উপকার না হইলে সম্পূর্ণ
আরোগ্যার্থে পরে প্রায়ই সালফারের
প্রয়োজন হয় ।
সালফার ( Sulphur ) ।> এই পীড়ায় সালফারের ধাতুগত
লক্ষণ থাকিলে-ত কথাটি নাই – সালফারেই পীড়া
আরোগ্য হয় । রোগ অনেক দিনের পুরাতন
হইলে, বিশেষতঃ নাক্স নাক্স-এর পর সালফার ব্যবহৃত
হইলে শীঘ্র উপকার হয় । ইহাতে মলদ্বারে
হুলফোটানোর মত বেদনা, জ্বালা, কুটকুট করা
প্রভৃতি কতকগুলি লক্ষণ থাকে । অর্শের রক্তস্রাব
বন্ধ হইয়া শিরঃপীড়া ইত্যাদি অন্য কোনও পীড়া
হইলেও – সালফার ফলদায়ক ।
উল্লেখিত ঔষধ গুলির মধ্য হইতে লক্ষণ সাদৃশ্যে
একটি বা দুইটি ঔষধ নিয়মিত সেবন করিলে অর্শ পিড়াটি
সমূলে আরোগ্য লাভ করে যা আর পুনরায় আক্রমণ
করে না ।