27/01/2026
এটা প্রায়ই এমনভাবে শুরু হয়
রাগ দিয়ে না, অভিযোগ দিয়ে না, বরং একটা নিঃশব্দ প্রশ্ন দিয়ে
“এটা কি আমার কোনো দোষে হলো?”
দাম্পত্য সম্পর্কে যখন কেউ জানতে পারে তার স্পাউস বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছে, তখন যে মানুষটা প্রতারিত হয়, সে খুব স্বাভাবিকভাবেই নিজের দিকে তাকাতে শুরু করে।
নিজের আচরণ, নিজের সময় দেওয়া, নিজের সীমাবদ্ধতা সবকিছু নতুন করে বিচার করতে থাকে।
এই আত্মদোষারোপের প্রবণতা পুরুষদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। তারা বারবার একই জায়গায় ফিরে যায়।
আমি কি কম ছিলাম
আমি কি যথেষ্ট ছিলাম না
আমার কোনো ভুলেই কি সে এই সীমা লঙ্ঘন করল
মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটা কোনো দুর্বলতা না।
রিলেশনশিপ সাইকোলজি বলে, যারা সম্পর্কে বেশি কমিটেড থাকে, যারা পরিবার, সন্তান আর ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়াটা আরও তীব্র হয়। কারণ সম্পর্কটা শুধু একটা সম্পর্ক না, সেটা ধীরে ধীরে নিজের পরিচয়ের একটা অংশ হয়ে যায়।
এই কারণেই ট্রমা স্টাডিগুলো দেখায়, প্রতারণা জানার পর অনেক ভিকটিমের মধ্যে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গভীর মানসিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
ডিপ্রেশনের লক্ষণ, তীব্র মানসিক চাপ, নিজেকে দোষ দেওয়া, ঘুম ও খাওয়ার ব্যাঘাত, এমনকি আত্মহানির চিন্তাও কখনো কখনো কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হয়।
এই অবস্থায় প্রায়ই যে ব্যাখ্যাটা সামনে আসে, সেটা হলো
তুমি আমাকে সময় দাওনি
তুমি আমাকে যথেষ্ট এটেনশন দাওনি
আমি বাধ্য হয়েছি
মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় responsibility shifting বা blame displacement
অর্থাৎ নিজের সিদ্ধান্তের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। হ্যাঁ, সম্পর্কে ঘাটতি থাকতে পারে হ্যাঁ, কেউই পারফেক্ট পার্টনার না।
কিন্তু সম্পর্কের ভেতরে সমস্যা থাকা আর সেই সমস্যার সমাধান হিসেবে সীমা লঙ্ঘন করা এক জিনিস না।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছে সবসময় বিকল্প থাকে।
সে কথা বলতে পারে, সাহায্য নিতে পারে, কাউন্সেলিংয়ে যেতে পারে, প্রয়োজনে সম্পর্ক থেকে সরে আসতেও পারে। কিন্তু প্রতারণা কখনোই বাধ্যতামূলক কোনো পথ না।
ভিকটিম নিজেকে দোষ দেয় কারণ নিজের ভুল খুঁজে পাওয়া মানে পরিস্থিতির ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার অনুভূতি।
মনে হয়, আমি যদি নিজেকে ঠিক করি, তাহলে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সম্পর্ক কখনো একপাক্ষিক দায়িত্ব না। একজন মানুষ একা সম্পর্ক বানাতে পারে না, আর একা ভাঙার দায়ও নিতে পারে না।
এখানে আরেকজন মানুষের সিদ্ধান্ত, তার সীমাবোধ, তার আত্মনিয়ন্ত্রণ এই সবকিছুও সমানভাবে কাজ করে।
প্রতারিত হওয়ার পর ভেঙে পড়া স্বাভাবিক। কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অন্য মানুষের সীমা লঙ্ঘনের দায় নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া কোনো হিলিং না। এতে কষ্ট কমে না, বরং ধীরে ধীরে আরও গভীর হয়।
এই সময়টায় সবচেয়ে দরকার নিজের সাথে একটু ন্যায্য হওয়া। নিজেকে প্রশ্ন করা, আমি কী করতে পারতাম, এর চেয়ে বেশি দরকার নিজেকে বলা, আমি সবকিছুর জন্য দায়ী না।
হার্টব্রেক খুব কষ্টের। এই কষ্টে রাগ, দুঃখ আর হতাশা একসাথে আসতে পারে।
সম্পর্কে দ্বন্দ্ব থাকা মানেই সম্পর্ক শেষ নয়। অনেক সমস্যাই কথা বলে, পারস্পরিক সম্মান রেখে এবং সাহায্য নিয়ে সমাধান করা সম্ভব।
হিলিং শুরু হয় তখনই, যখন মানুষ সমস্যা এড়িয়ে না গিয়ে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে শেখে।
নিজের যত্ন নেওয়া, অপরকে সম্মান করা আর সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়াই সম্পর্ক ও মানুষ দুটোকেই নিরাপদ রাখে।