Dr Rajib kumar paul

Dr Rajib kumar paul Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dr Rajib kumar paul, Orthopedist, popular diagnostic center, 37 KDA Avenue, Khulna, room no 404, Khulna.

ডা. রাজীব কুমার পাল
অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও ট্রমা সার্জন।
কনসালটেন্ট( অর্থোপেডিক সার্জারি)
বোন্স জয়েন্ট ট্রমা স্পেশালিষ্ট সার্জন
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা
এডভান্স ট্রেনিং (ভেলোর ইন্ডিয়া) পেইন ম্যানেজমেন্ট
AO TRAUMA(SWITSWITZERLAND)

সকালে বিছানা থেকে নামলেই কি মনে হয় গোড়ালিতে কেউ সুই ফোটাচ্ছে? ৫-১০ পা হাঁটার পর আবার ব্যথা কমে যায়? 🦶⚡⚠️এটি আমাদের দেশে ...
30/03/2026

সকালে বিছানা থেকে নামলেই কি মনে হয় গোড়ালিতে কেউ সুই ফোটাচ্ছে? ৫-১০ পা হাঁটার পর আবার ব্যথা কমে যায়? 🦶⚡⚠️

এটি আমাদের দেশে হাজার হাজার মানুষের একটি বড় সমস্যা। সকালে ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে পা দেওয়া মাত্রই গোড়ালিতে তীব্র বিঁধনে ব্যথা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করলে ব্যথা কমে আসে, কিন্তু দিন শেষে বা অনেকক্ষণ বসে থাকার পর আবার দাঁড়ালে ব্যথা শুরু হয়।

অধিকাংশ মানুষ একে "ইউরিক অ্যাসিড" বা "বাত" ভেবে ভুল ওষুধ খেয়ে শরীর নষ্ট করেন। কিন্তু এটি আসলে "প্লান্টার ফ্যাসাইটিস" (Plantar Fasciitis)।

আমি ডা. রাজীব কুমার পাল। সুইজারল্যান্ডের AO Trauma এবং ভারতের ভেলোরে আমার প্রশিক্ষণে দেখেছি, ভুল জুতো নির্বাচন এবং সঠিক ব্যায়ামের অভাবেই এই ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

কেন এই ব্যথা হয়?
আমাদের পায়ের তলায় একটি শক্ত পর্দার মতো লিগামেন্ট থাকে যা পায়ের ধনুকের মতো বাঁক ধরে রাখে। যদি এই পর্দার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে (যেমন: ওজন বৃদ্ধি, শক্ত জুতো ব্যবহার বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা), তবে সেখানে সূক্ষ্ম ফাটল ধরে এবং প্রদাহ তৈরি হয়।

গোড়ালি ব্যথা থেকে মুক্তির ৩টি সহজ ঘরোয়া সমাধান:

১. আইস-রোল থেরাপি: একটি ৫০০ মিলি প্লাস্টিকের বোতলে পানি ভরে বরফ বানিয়ে নিন। এরপর চেয়ারে বসে পায়ের নিচে বোতলটি রেখে গোড়ালি থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত রোল করুন বা গড়ান। এটি ১০-১৫ মিনিট করলে ব্যথা ও ফোলা দ্রুত কমবে।
২. নরম জুতো (MCR Slipper): ঘরের শক্ত মেঝেতে খালি পায়ে হাঁটা আজই বন্ধ করুন। ঘরে এবং বাইরে সবসময় নরম সোলের কুশন দেওয়া জুতো (MCR/Soft PU sole) ব্যবহার করুন।
৩. মর্নিং স্ট্রেচিং: সকালে বিছানা থেকে নামার আগেই হাত দিয়ে পায়ের আঙুলগুলো নিজের দিকে টেনে ধরুন এবং ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এরপর পা নিচে নামান। এটি লিগামেন্টকে নমনীয় করবে এবং প্রথম ধাপের ওই তীব্র ব্যথা কমাবে।

গোড়ালি ব্যথাকে অবহেলা করবেন না। দীর্ঘ সময় এই ব্যথা থাকলে গোড়ালির হাড় বেড়ে যেতে পারে (Heel Spur), যা পরবর্তীতে অপারেশন ছাড়া ভালো হয় না।

আপনার পরিচিত যারা বিশেষ করে মায়েরা বা গৃহিণীরা এই সমস্যায় ভুগছেন, তাদের এই পোস্টে মেনশন করে সতর্ক করুন।

সুস্থ থাকুন, সঠিক চিকিৎসায় বিশ্বাস রাখুন।

ধন্যবাদ।

ডা. রাজীব কুমার পাল
অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও ট্রমা সার্জন
কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি)
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা
অ্যাডভান্স ট্রেনিং: ভেলোর (ইন্ডিয়া) ও সুইজারল্যান্ড (AO Trauma)

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খুলনা শাখা।
৩৭ কে ডি এ এভিনিউ, খুলনা (রুম নং: ৪০৪)।
সিরিয়াল: ০১৯৭৮-১১৩৭০৬ / ০১৭৭৯-৯০৩৫৯৮

পা মচকে গেলে গরম চুন-হলুদ মাখাচ্ছেন? নিজের অজান্তেই পা-টিকে চিরতরে পঙ্গু করছেন না তো? 🦶🔥🛑আমাদের দেশে পা মচকে গেলেই পাড়া-...
29/03/2026

পা মচকে গেলে গরম চুন-হলুদ মাখাচ্ছেন? নিজের অজান্তেই পা-টিকে চিরতরে পঙ্গু করছেন না তো? 🦶🔥🛑

আমাদের দেশে পা মচকে গেলেই পাড়া-প্রতিবেশী বা মুরুব্বীরা পরামর্শ দেন গরম চুন-হলুদ মাখাতে অথবা গরম পানির সেঁক দিতে। কিন্তু আপনি কি জানেন, একজন অর্থোপেডিক সার্জনের কাছে এটি একটি 'মেডিকেল ক্রাইম' বা মারাত্মক ভুল চিকিৎসা?

আমি ডা. রাজীব কুমার পাল। সুইজারল্যান্ডের AO Trauma এবং ভারতের ভেলোরে প্রশিক্ষণের সময় আমি দেখেছি, ভুল চিকিৎসার কারণে সামান্য মচকে যাওয়া পা নিয়ে মানুষ মাসের পর মাস বিছানায় পড়ে থাকেন।

কেন গরম সেঁক বা চুন-হলুদ ক্ষতিকর?
যখন পা মচকে যায়, তখন ভেতরের লিগামেন্ট বা মাংসপেশি ছিঁড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয় এবং জায়গাটি ফুলে যায়। আপনি যখন সেখানে গরম কিছু লাগান, তখন রক্ত চলাচল আরও বেড়ে যায় এবং ফোলা ও ব্যথা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এটি যেন জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালার মতো একটি কাজ!

পা মচকে গেলে প্রথম ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা আপনার একমাত্র চিকিৎসা হলো "R.I.C.E" ফর্মুলা:

১. R - Rest (বিশ্রাম): আক্রান্ত পায়ে কোনো চাপ দেবেন না বা হাঁটার চেষ্টা করবেন না।
২. I - Ice (বরফ): একটি কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে প্রতি এক ঘণ্টা পরপর ১০ মিনিট করে সেঁক দিন। এটি ফোলা এবং ব্যথা দ্রুত কমিয়ে দেবে।
৩. C - Compression (ব্যান্ডেজ): একটি ইলাস্টিক বা ক্রেপ ব্যান্ডেজ দিয়ে মাঝারি চাপে পা-টি পেঁচিয়ে রাখুন। এতে হাড় নড়াচড়া কম হবে এবং লিগামেন্ট দ্রুত জোড়া লাগবে।
৪. E - Elevation (পা উঁচুতে রাখা): শোয়ার সময় পায়ের নিচে দুটি বালিশ দিয়ে পা হৃদপিণ্ডের লেভেলের চেয়ে উঁচুতে রাখুন। এতে ফোলা দ্রুত নেমে যাবে।

মনে রাখবেন, মচকে যাওয়া মানে শুধু ব্যথা নয়, এটি লিগামেন্ট টিয়ার (Ligament tear) হতে পারে যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে ভবিষ্যতে হাঁটতে গেলে বারবার পা মচকে যাওয়ার ভয় থাকে।

আপনার ফ্যামিলি গ্রুপগুলোতে এবং বন্ধুদের সাথে এই পোস্টটি শেয়ার করুন। বিশেষ করে যারা খেলাধুলা করেন বা সিঁড়ি দিয়ে নিয়মিত চলাফেরা করেন, তাদের এই বৈজ্ঞানিক তথ্যটি জানা খুব জরুরি।

সুস্থ থাকুন, সঠিক চিকিৎসায় বিশ্বাস রাখুন।

ধন্যবাদ।

ডা. রাজীব কুমার পাল
অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও ট্রমা সার্জন
কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি)
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা
অ্যাডভান্স ট্রেনিং: ভেলোর (ইন্ডিয়া) ও সুইজারল্যান্ড (AO Trauma)

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খুলনা শাখা।
৩৭ কে ডি এ এভিনিউ, খুলনা (রুম নং: ৪০৪)।
সিরিয়াল: ০১৯৭৮-১১৩৭০৬ / ০১৭৭৯-৯০৩৫৯৮

28/03/2026

অনেকেই অভিযোগ করেন, হাতের কনুইয়ের বাইরের দিকে এমন তীব্র ব্যথা হয় যে সামান্য ওজনের একটি চায়ের কাপ বা জলের জগ তুলতেও কষ্ট হয়। এমনকি কারো সাথে হাত মেলাতে গেলে বা দরজা খুলতে গেলেও কনুইতে বিদ্যুতের মতো ঝিলিক দিয়ে ব্যথা ওঠে।

অনেকেই একে হাড়ের জয়েন্টের ব্যথা ভেবে ভুল করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় "Lateral Epicondylitis" বা সাধারণ মানুষের ভাষায় "Tennis Elbow"।

আমি ডা. রাজীব কুমার পাল। মজার ব্যাপার হলো, আমার চেম্বারে আসা টেনিস এলবো রোগীদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই জীবনে কোনোদিন টেনিস খেলেননি!

কারা এই ঝুঁকির মধ্যে আছেন?
সুইজারল্যান্ডের AO Trauma এবং ভারতের ভেলোরে আমার প্রশিক্ষণে দেখেছি, যারা হাতের কবজি এবং আঙুলের বারবার একই ধরনের মুভমেন্ট করেন, তাদের এই সমস্যা বেশি হয়। যেমন:

গৃহিণী (কাপড় নিংড়ানো বা তরকারি কাটার সময়)।

অফিসকর্মী (দীর্ঘক্ষণ মাউস বা কিবোর্ড ব্যবহার করলে)।

পেইন্টার বা ইলেকট্রিশিয়ান (যাদের হাতের কবজি দিয়ে ঘোরানোর কাজ বেশি করতে হয়)।

ভারী জিম বা ব্যায়াম যারা হুট করে শুরু করেন।

কনুইয়ের এই তীব্র ব্যথা থেকে মুক্তির ৩টি ঘরোয়া উপায়:

১. আইস থেরাপি: ব্যথার জায়গায় সরাসরি কোনো গরম সেঁক বা তেল মালিশ করবেন না। বরং একটি কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে দিনে ৩ থেকে ৪ বার ১০ মিনিট করে সেঁক দিন। এটি কনুইয়ের ভেতরের প্রদাহ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
২. অ্যাক্টিভিটি মডিফিকেশন: যে কাজগুলো করলে ব্যথা বাড়ে (যেমন ভারী কিছু তোলা বা কাপড় নিংড়ানো) সেগুলো কয়েক দিনের জন্য পুরোপুরি বন্ধ রাখুন। জয়েন্টকে বিশ্রাম না দিলে এই ইনজুরি সহজে সারতে চায় না।
৩. টেনিস এলবো ব্রেস: ফার্মেসি থেকে একটি ভালো মানের 'টেনিস এলবো ব্রেস' কিনে ব্যবহার করুন। এটি হাতের পেশির ওপর থেকে চাপ সরিয়ে নেয় এবং হিলিং প্রক্রিয়া দ্রুত করে।

মনে রাখবেন, এই ব্যথা অবহেলা করলে হাতের শক্তি পাকাপাকিভাবে কমে যেতে পারে। ব্যথার ওষুধ খেয়ে সাময়িকভাবে চেপে না রেখে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

আপনার পরিচিত যারা কনুইয়ের ব্যথায় ভুগছেন, তাদের সচেতন করতে পোস্টটি শেয়ার করুন।

সুস্থ থাকুন, কর্মক্ষম থাকুন।

ধন্যবাদ।

ডা. রাজীব কুমার পাল
অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও ট্রমা সার্জন
কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি)
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা
অ্যাডভান্স ট্রেনিং: ভেলোর (ইন্ডিয়া) ও সুইজারল্যান্ড (AO Trauma)

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খুলনা শাখা।
৩৭ কে ডি এ এভিনিউ, খুলনা (রুম নং: ৪০৪)।
সিরিয়াল: ০১৯৭৮-১১৩৭০৬ / ০১৭৭৯-৯০৩৫৯৮

28/03/2026

খেলার সময় বাচ্চার কলার বোন ভেঙে গেলে বাবা মায়ের প্রথম কাজ কী? 👶⚠️

বাচ্চারা খেলতে গিয়ে বা খাট থেকে পড়ে গিয়ে সবচেয়ে বেশি যে হাড়টি ভাঙে, সেটি হলো কলার বোন বা 'বিউটি বোন'। চামড়ার ঠিক নিচেই হাড়টি থাকায় ভাঙা অংশটি অনেক সময় তাঁবুর মতো উঁচু হয়ে থাকে। এই দৃশ্য দেখে বাবা মায়েরা প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ভাবেন বাচ্চার হয়তো বড় কোনো অপারেশন লাগবে।

আমি ডা. রাজীব কুমার পাল। একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে বাবা মায়েদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই, শিশুদের কলার বোন ভাঙলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি বাচ্চাদের সবচেয়ে দ্রুত জোড়া লাগা হাড়গুলোর একটি। সঠিক চিকিৎসায় এটি খুব দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

ডাক্তারের কাছে পৌঁছানোর আগে বাবা মায়ের ৩টি জরুরি করণীয়:

১. হাড় চেপে বসানোর চেষ্টা করবেন না: ভাঙা হাড় উঁচু হয়ে থাকলেও সেটি হাত দিয়ে চেপে ভেতরে ঢোকানোর চেষ্টা করবেন না। এতে হাড়ের আশপাশের রক্তনালী বা নার্ভ মারাত্মকভাবে ছিঁড়ে যেতে পারে।
২. হাত ঝুলিয়ে রাখবেন না: বাচ্চার ভাঙা দিকের হাতটি কনুইয়ের কাছ থেকে ভাঁজ করে বুকের সাথে লাগিয়ে রাখুন। এরপর একটি ওড়না, গামছা বা স্কার্ফ দিয়ে হাতটি গলার সাথে ঝুলিয়ে দিন (Arm Sling)। হাতটি বুকের সাথে স্থির থাকলে হাড় নড়াচড়া করবে না এবং বাচ্চার ব্যথা ম্যাজিকের মতো কমে যাবে।
৩. ভুল মালিশ থেকে সাবধান: ভাঙা জায়গায় কোনোভাবেই গরম তেল, চুন বা মলম দিয়ে মালিশ করবেন না। ব্যথা কমানোর জন্য একটি কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে ওই জায়গায় হালকা করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে রাখুন।

বাচ্চাকে সান্ত্বনা দিন এবং ঘাড় বা হাত না নড়িয়ে দ্রুত একজন অর্থোপেডিক সার্জনের কাছে নিয়ে এক্স-রে করান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ বেল্ট বা ব্যান্ডেজ (Figure of 8 bandage) দিয়েই এই হাড় সম্পূর্ণ জোড়া লেগে যায়।

আপনার পরিচিত সকল বাবা মায়েদের সচেতন করতে পোস্টটি শেয়ার করুন। আপনার একটি শেয়ার হয়তো কোনো বাবা মায়ের চরম আতঙ্ক দূর করতে সাহায্য করবে।

সুস্থ থাকুন, শিশুদের হাড়ের সঠিক যত্ন নিন।

ধন্যবাদ।

ডা. রাজীব কুমার পাল
অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও ট্রমা সার্জন
কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি)
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা
অ্যাডভান্স ট্রেনিং: ভেলোর (ইন্ডিয়া) ও সুইজারল্যান্ড (AO Trauma)

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খুলনা শাখা।
৩৭ কে ডি এ এভিনিউ, খুলনা (রুম নং: ৪০৪)।
সিরিয়াল: ০১৯৭৮ ১১৩ ৭০৬ / ০১৭৭৯ ৯০৩ ৫৯৮

প্রতিদিন সকালে নিচু বাথরুমে বসার অভ্যাস কি আপনার বাবা মায়ের হাঁটুর আয়ু চিরতরে কমিয়ে দিচ্ছে? 🚽⚠️বয়স ৪০ পার হলেই আমাদের দে...
28/03/2026

প্রতিদিন সকালে নিচু বাথরুমে বসার অভ্যাস কি আপনার বাবা মায়ের হাঁটুর আয়ু চিরতরে কমিয়ে দিচ্ছে? 🚽⚠️
বয়স ৪০ পার হলেই আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের একটি সাধারণ অভিযোগ থাকে: "বসা থেকে ওঠার সময় হাঁটুতে কটকট শব্দ হয় এবং তীব্র ব্যথা লাগে।"

আমরা অনেকেই একে বয়সের স্বাভাবিক নিয়ম ভেবে অবহেলা করি এবং ব্যথার ওষুধ খেয়ে ব্যথা দমিয়ে রাখি। কিন্তু আপনি কি জানেন, প্রতিদিন সকালে নিচু বাথরুমে (Indian Commode) বসার অভ্যাস আপনার হাঁটুর কতটা ভয়ংকর ক্ষতি করছে?

আমি ডা. রাজীব কুমার পাল। সুইজারল্যান্ডের AO Trauma এবং ভারতের ভেলোরে আমার দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণে আমি দেখেছি, নিচু হয়ে বসা বা স্কোয়াট (Squat) করার সময় আমাদের হাঁটুর জয়েন্টের ওপর শরীরের স্বাভাবিক ওজনের প্রায় ৭ থেকে ৮ গুণ বেশি চাপ পড়ে।

ভেতরে আসলে কী ঘটে?
আপনার ওজন যদি ৭০ কেজি হয়, তবে নিচু প্যানে বসার সময় আপনার দুই হাঁটুর ওপর প্রায় ৫০০ কেজি ওজনের সমান চাপ পড়ে! প্রতিদিন এই প্রচণ্ড চাপের ফলে হাঁটুর ভেতরের মসৃণ কার্টিলেজ (Cartilage) বা কুশন খুব দ্রুত ক্ষয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে হাড়ের সাথে হাড় ঘষা লেগে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয় এবং রোগীকে শেষ পর্যন্ত 'নি-রিপ্লেসমেন্ট' বা হাঁটু প্রতিস্থাপনের মতো বড় সার্জারির দিকে যেতে হয়।

হাঁটু বাঁচাতে একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে আমার ৩টি কঠোর পরামর্শ:

১. হাই কমোড ব্যবহার করুন: আপনার বা আপনার পরিবারের বয়স্কদের হাঁটুতে সামান্য ব্যথা থাকলেও আজই নিচু বাথরুম ব্যবহার করা বন্ধ করুন। হাই কমোড বা কমোড চেয়ারের ব্যবস্থা করুন। এটি হাঁটুর ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ ম্যাজিকের মতো কমিয়ে দেবে।

২. বাবু হয়ে বসা বর্জন করুন: ফ্লোরে বা বিছানায় পা মুড়িয়ে বা 'বাবু হয়ে' দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবেন না। এই ভঙ্গিতে হাঁটুর লিগামেন্ট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নামাজ পড়া বা খাওয়ার সময় চেয়ার ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

৩. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: বিজ্ঞান বলছে, আপনি যদি শরীরের ওজন মাত্র ১ কেজি কমাতে পারেন, তবে হাঁটার সময় আপনার হাঁটুর ওপর থেকে প্রায় ৪ কেজি চাপ কমে যায়। তাই ওজন কমানো হাঁটু ব্যথার সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক ওষুধ।

আপনার বাবা মা সারা জীবন আপনার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। শেষ বয়সে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন ব্যথামুক্ত হয়, সেই দায়িত্ব কিন্তু আপনারই।

আপনার পরিচিত যাদের পরিবারে বয়স্ক মানুষ আছেন বা যারা হাঁটু ব্যথায় ভুগছেন, তাদের এই পোস্টে মেনশন করে সতর্ক করুন। আপনার একটি শেয়ার হয়তো কাউকে হাঁটুর বড় অপারেশন থেকে বাঁচাতে পারে।

সুস্থ থাকুন, ব্যথামুক্ত জীবন যাপন করুন।

ধন্যবাদ।

ডা. রাজীব কুমার পাল
অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও ট্রমা সার্জন
কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি)
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা
অ্যাডভান্স ট্রেনিং: ভেলোর (ইন্ডিয়া) ও সুইজারল্যান্ড (AO Trauma)

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খুলনা শাখা।
৩৭ কে ডি এ এভিনিউ, খুলনা (রুম নং: ৪০৪)।
সিরিয়াল: ০১৯৭৮ ১১৩ ৭০৬ / ০১৭৭৯ ৯০৩ ৫৯৮

সারারাত বিছানায় বসে পড়ার অভ্যাস কি আপনার মেরুদণ্ডকে পঙ্গু করে দিচ্ছে? 📚⚠️সামনেই পরীক্ষা বা ভর্তিযুদ্ধ। ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য...
28/03/2026

সারারাত বিছানায় বসে পড়ার অভ্যাস কি আপনার মেরুদণ্ডকে পঙ্গু করে দিচ্ছে? 📚⚠️
সামনেই পরীক্ষা বা ভর্তিযুদ্ধ। ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য দিনরাত এক করে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। কিন্তু আরামের জন্য পড়ার টেবিল ছেড়ে যারা বিছানায় পিঠ বাঁকিয়ে বা উপুড় হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ছেন, তারা কি জানেন নিজেদের অজান্তেই শরীরের কত বড় সর্বনাশ করছেন?

আমি ডা. রাজীব কুমার পাল। ইদানীং আমার চেম্বারে প্রচুর স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসছেন যাদের বয়স মাত্র ১৭ থেকে ২৪ বছর। অথচ এই বয়সেই তারা বয়স্কদের মতো তীব্র কোমর ব্যথা (Lower Back Pain) বা পা অবশ হয়ে যাওয়া নিয়ে ভুগছেন।

কেন এই বয়সে এত মারাত্মক কোমর ব্যথা?
সুইজারল্যান্ডের AO Trauma এবং ভারতের ভেলোরে আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বিছানার নরম ম্যাট্রেসের ওপর দীর্ঘসময় বসে থাকলে মেরুদণ্ডের নিচের অংশের (Lumbar spine) স্বাভাবিক বাঁক সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।

যখন আপনি উপুড় হয়ে বা পিঠ বাঁকিয়ে পড়েন, তখন আপনার শরীরের পুরো ওজন গিয়ে পড়ে মেরুদণ্ডের নিচের হাড়গুলোর মাঝখানের নরম ডিস্কের ওপর। দিনের পর দিন এই অমানবিক চাপের ফলে একপর্যায়ে ডিস্ক ফেটে গিয়ে পায়ের নার্ভ বা স্নায়ুতে চাপ দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একেই আমরা "স্লিপ ডিস্ক" বলি।

আপনার মেধা হয়তো আপনাকে আপনার স্বপ্নের ক্যাম্পাসে নিয়ে যাবে, কিন্তু আপনার মেরুদণ্ড কি সেই চাপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত?

শিক্ষার্থীদের মেরুদণ্ড বাঁচাতে আমার ৩টি স্পেশাল টিপস:

১. পড়ার টেবিল ব্যবহার করুন: বিছানায় পড়া আজই বন্ধ করুন। শক্ত পিঠযুক্ত চেয়ারে বসুন এবং কোমর সোজা রাখুন। প্রয়োজনে পিঠের পেছনে একটি ছোট কুশন বা তোয়ালে রোল করে সাপোর্ট দিন।
২. ৪৫-মিনিট রুল (45-Minute Rule): একটানা ৪৫ মিনিটের বেশি বসে পড়বেন না। অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন। ৪৫ মিনিট পর উঠে ৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন বা হালকা স্ট্রেচিং করুন। এতে মেরুদণ্ডের রক্ত চলাচল সচল থাকবে।
৩. বই চোখের লেভেলে রাখুন: উপুড় হয়ে বা ঘাড় নিচু করে না পড়ে, একটি রিডিং স্ট্যান্ড (Reading stand) ব্যবহার করুন যাতে ঘাড় এবং মেরুদণ্ড সোজা থাকে।

তোমার স্বপ্ন পূরণের যাত্রায় শরীর যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। আজই পড়ার সঠিক ভঙ্গিটি আয়ত্ত করে নাও।

তোমার সেই বন্ধুদের এই পোস্টে মেনশন করো যারা সারাদিন বিছানায় বসে বা শুয়ে পড়াশোনা করে। তোমার একটি শেয়ার হয়তো তোমার কোনো প্রিয় বন্ধুর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারকে আজীবনের ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

সুস্থ থাকো, মেরুদণ্ড সোজা রেখে সাফল্যের পথে এগিয়ে যাও।

ধন্যবাদ।

ডা. রাজীব কুমার পাল
অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও ট্রমা সার্জন
কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি)
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা
অ্যাডভান্স ট্রেনিং: ভেলোর (ইন্ডিয়া) ও সুইজারল্যান্ড (AO Trauma)

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খুলনা শাখা।
৩৭ কে ডি এ এভিনিউ, খুলনা (রুম নং: ৪০৪)।
সিরিয়াল: ০১৯৭৮-১১৩৭০৬ / ০১৭৭৯-৯০৩৫৯৮

আপনার আদরের সন্তানের পা কি ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে যাচ্ছে? 'বেবি ওয়াকার' কি বাচ্চার হাড়ের ক্ষতি করছে? 👶⚠️আপনার ফুটফুটে বাচ্...
27/03/2026

আপনার আদরের সন্তানের পা কি ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে যাচ্ছে? 'বেবি ওয়াকার' কি বাচ্চার হাড়ের ক্ষতি করছে? 👶⚠️
আপনার ফুটফুটে বাচ্চাটির বয়স হয়তো ১ বছর বা দেড় বছর। সে সবেমাত্র দাঁড়াতে বা হাঁটতে শিখছে। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করলেন তার দুই পা ধনুকের মতো বাইরের দিকে বেঁকে যাচ্ছে। বাবা-মা হিসেবে এই দৃশ্যটি কতটা আতঙ্কের তা আমি খুব ভালো করেই বুঝি।

আমি ডা. রাজীব কুমার পাল। আমার চেম্বারে প্রায়ই উদ্বিগ্ন বাবা-মায়েরা তাদের ছোট বাচ্চাদের নিয়ে আসেন। তাদের একটাই প্রশ্ন: "ডাক্তারবাবু, আমার বাচ্চার পা এমন বাঁকা হয়ে যাচ্ছে কেন?"

সুইজারল্যান্ডের AO Trauma এবং ভারতের ভেলোরে আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এই সমস্যার মূলে রয়েছে আমাদের কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা এবং একটি নীরব ঘাতক রোগ: রিকেটস (Rickets) বা ভিটামিন-ডি এর তীব্র অভাব। বাচ্চাদের হাড় এই বয়সে নরম কাদামাটির মতো থাকে। একটু ভুল হলেই তা চিরতরে বিকৃত হয়ে যেতে পারে।

যে ৩টি মারাত্মক ভুল আমরা প্রায়ই না জেনে করছি:

১. বেবি ওয়াকারের ব্যবহার: বাচ্চাকে দ্রুত হাঁটা শেখানোর জন্য আমরা শখ করে অনেক টাকা দিয়ে 'বেবি ওয়াকার' কিনে দিই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে এটি একটি বড় ভুল! ওয়াকারে থাকলে বাচ্চার শরীরের পুরো ওজন তার নরম পায়ের হাড়ের ওপর ভুলভাবে পড়ে। এতে পা বেঁকে যাওয়া বা 'বো-লেগস' (Bow legs) হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

২. সরিষার তেলের ভুল ব্যবহার: অনেকেই মনে করেন বাচ্চাকে প্রচুর সরিষার তেল মাখিয়ে রোদে রাখলে হাড় শক্ত হয়। কিন্তু অতিরিক্ত পুরু তেলের প্রলেপ আসলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিকে ত্বকে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ফলে রোদ লাগালেও বাচ্চার শরীরে ভিটামিন-ডি তৈরি হতে পারে না।

৩. কাঁচের জানালা দিয়ে রোদ লাগানো: অনেকেই ফ্ল্যাট বাসায় কাঁচের জানালা বন্ধ করে বাচ্চার গায়ে রোদ লাগান। মনে রাখবেন, কাঁচ ভেদ করে সূর্যের উপকারী অতিবেগুনি রশ্মি (UVB) আসতে পারে না। তাই এই রোদ বাচ্চার হাড় গঠনে কোনো উপকারে আসে না।

বাচ্চার হাড় মজবুত করতে আজই যা করবেন:

বাচ্চাকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যবর্তী সময়ের যেকোনো হালকা রোদে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখুন।

রোদে দেওয়ার সময় গায়ে ভারী তেল মাখাবেন না, সরাসরি রোদ লাগতে দিন।

বাচ্চাকে ওয়াকারে নয়, বরং পরিষ্কার ফ্লোরে বা ম্যাটের ওপর স্বাভাবিকভাবে হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটা শিখতে দিন। এতে তার মেরুদণ্ড ও পায়ের পেশি প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী হবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক মাত্রার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি ড্রপস খাওয়ান।

আজকের এই ছোট সচেতনতা আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ পঙ্গুত্ব রোধ করতে পারে।

আপনার পরিচিত নতুন বাবা-মা বা পরিবারে ছোট বাচ্চা আছে এমন সবাইকে এই পোস্টে মেনশন করে সতর্ক করুন। আপনার একটি শেয়ার হয়তো একটি শিশুর সোজা হয়ে দাঁড়ানোর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।

সুস্থ থাকুন, শিশুদের হাড়ের সঠিক যত্ন নিন।

ধন্যবাদ।

ডা. রাজীব কুমার পাল
অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও ট্রমা সার্জন
কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি)
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা
অ্যাডভান্স ট্রেনিং: ভেলোর (ইন্ডিয়া) ও সুইজারল্যান্ড (AO Trauma)

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খুলনা শাখা।
৩৭ কে ডি এ এভিনিউ, খুলনা (রুম নং: ৪০৪)।
সিরিয়াল: ০১৯৭৮-১১৩৭০৬ / ০১৭৭৯-৯০৩৫৯৮

গর্ভাবস্থায় আপনার হাড়ের ভেতরের ক্যালসিয়াম কি নীরবে চুরি হয়ে যাচ্ছে? 🤰⚠️গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা, জয়েন্ট পেইন বা পা কামড়ানো...
27/03/2026

গর্ভাবস্থায় আপনার হাড়ের ভেতরের ক্যালসিয়াম কি নীরবে চুরি হয়ে যাচ্ছে? 🤰⚠️
গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা, জয়েন্ট পেইন বা পা কামড়ানোকে আমরা অনেকেই খুব স্বাভাবিক একটি বিষয় ভেবে অবহেলা করি। সবাই ভাবেন বাচ্চা পেটে এলে এমন একটু ব্যথা তো হবেই। কিন্তু একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে আজ আমি আপনাদের এক নীরব বিপদের কথা জানাতে চাই।

আপনি কি জানেন, গর্ভে বেড়ে ওঠা নতুন প্রাণটির হাড় গঠনের জন্য প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হয়? যদি মায়ের শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামের জোগান না থাকে, তবে প্রকৃতি অত্যন্ত নির্মমভাবে মায়ের নিজের হাড়, দাঁত এবং মেরুদণ্ড থেকে ক্যালসিয়াম শুষে নিয়ে বাচ্চাকে বড় করতে থাকে।

আমি ডা. রাজীব কুমার পাল। সুইজারল্যান্ডের AO Trauma এবং ভারতের ভেলোরে আমার দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণে আমি দেখেছি, গর্ভাবস্থায় হাড়ের সঠিক যত্ন না নেওয়ার কারণে অনেক মা ডেলিভারির পর আজীবনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কোমর ব্যথা বা অস্টিওপোরোসিসে (হাড়ের ক্ষয়) আক্রান্ত হন।

কেন গর্ভাবস্থায় মেরুদণ্ডের ওপর এত চাপ পড়ে?
এই সময়ে মায়ের শরীরে 'রিলাক্সিন' (Relaxin) নামের একটি বিশেষ হরমোন তৈরি হয়। এই হরমোনের কাজ হলো পেলভিস বা কোমরের হাড়ের জয়েন্টগুলোকে নরম করে ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত করা। জয়েন্টগুলো নরম হয়ে যাওয়ার কারণে মেরুদণ্ডের স্থিতিশীলতা কমে যায় এবং শরীরের বাড়তি ওজনের পুরো চাপ সরাসরি কোমরের হাড়ের ওপর এসে পড়ে।

গর্ভবতী মায়েদের হাড় বাঁচাতে স্বামী ও পরিবারের ৩টি জরুরি দায়িত্ব:

১. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি ঘাটতি পূরণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভাবস্থার নির্দিষ্ট সময় থেকে নিয়মিত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সাপ্লিমেন্ট খাওয়া নিশ্চিত করুন। কোনোভাবেই এটি বাদ দেওয়া যাবে না।
২. সঠিক ভঙ্গিতে ঘুমানো: গর্ভবতী মায়েদের কখনোই চিৎ হয়ে ঘুমানো উচিত নয়, এতে মেরুদণ্ডে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। বাম পাশ ফিরে ঘুমাবেন এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখতে দুই হাঁটুর মাঝখানে অবশ্যই একটি নরম বালিশ বা 'প্রেগনেন্সি পিলো' ব্যবহার করবেন।
৩. নিরাপদ জুতো নির্বাচন: হিল বা সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট স্যান্ডেল এড়িয়ে চলুন। গোড়ালিতে হালকা কুশন বা আর্চ সাপোর্ট আছে এমন নরম জুতো ব্যবহার করুন, যা হাঁটার সময় মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কমাবে এবং পা পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি দূর করবে।

একজন মা তার নিজের শরীর গলিয়ে একটি নতুন জীবনের জন্ম দেন। গর্ভাবস্থার এই কঠিন সময়ে মায়ের হাড় এবং মেরুদণ্ডকে সুরক্ষিত রাখা পুরো পরিবারের দায়িত্ব।

আপনার পরিচিত যে মায়েরা বর্তমানে গর্ভাবস্থার এই সুন্দর কিন্তু কঠিন সময়টি পার করছেন, তাদের স্বামীদের এই পোস্টে মেনশন করে সতর্ক করুন। আপনার একটি শেয়ার হয়তো একজন মাকে ভবিষ্যৎ পঙ্গুত্ব থেকে রক্ষা করতে পারে।

সুস্থ থাকুন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করুন।

ধন্যবাদ।

ডা. রাজীব কুমার পাল
অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও ট্রমা সার্জন
কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি)
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা
অ্যাডভান্স ট্রেনিং: ভেলোর (ইন্ডিয়া) ও সুইজারল্যান্ড (AO Trauma)

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খুলনা শাখা।
৩৭ কে ডি এ এভিনিউ, খুলনা (রুম নং: ৪০৪)।
সিরিয়াল: ০১৯৭৮-১১৩৭০৬ / ০১৭৭৯-৯০৩৫৯৮

সকালে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ ঘাড় ঘোরানো যাচ্ছে না? সারারাত আসলে কী ঘটেছিল আপনার শরীরে? 🛌⚡আমরা সবাই ঘুমাতে যাই সারাদিনের ক্লান...
27/03/2026

সকালে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ ঘাড় ঘোরানো যাচ্ছে না? সারারাত আসলে কী ঘটেছিল আপনার শরীরে? 🛌⚡
আমরা সবাই ঘুমাতে যাই সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে। কিন্তু সকালে উঠে অনেকেই আবিষ্কার করেন তার ঘাড় সম্পূর্ণ লক হয়ে গেছে, অথবা কোমরে এমন তীব্র ব্যথা যে বিছানা থেকে ওঠাই সম্ভব হচ্ছে না।

অনেকেই একে "প্যারালাইসিসের লক্ষণ" বা "বাত" ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু এটি আসলে আপনার নিজেরই তৈরি করা একটি ভয়ংকর ফাঁদ: স্লিপিং ইনজুরি (Sleeping Injury)।

আমি ডা. রাজীব কুমার পাল। সুইজারল্যান্ডের AO Trauma এবং ভারতের ভেলোরে আমার দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণে আমি একটি বিষয় খুব কাছ থেকে দেখেছি: মানুষ বড় কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই প্রতিদিন একটু একটু করে নিজের মেরুদণ্ডকে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো তাদের ঘুমানোর ভুল ভঙ্গি।

আপনার শান্তির ঘুম কেন আপনার মেরুদণ্ডের শত্রু?
আপনি হয়তো সারাদিন খুব সাবধানে চলাফেরা করেন, কিন্তু রাতে যখন ঘুমান, তখন টানা ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা আপনার শরীরের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আপনি যদি ভুল ভঙ্গিতে ঘুমান, তবে এই দীর্ঘ সময় ধরে আপনার ঘাড় বা কোমরের লিগামেন্ট এবং ডিস্কের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এটি যেন আপনার নিজের শরীরকে সারারাত ধরে অত্যাচার করার মতো একটি বিষয়।

যে ৩টি ভুল অভ্যাস আজ রাতেই বদলে ফেলবেন:

১. উপুড় হয়ে ঘুমানো (The Worst Position): উপুড় হয়ে ঘুমালে আপনার ঘাড় বাধ্য হয়ে যেকোনো এক দিকে ৯০ ডিগ্রি ঘুরে থাকে। এটি আপনার ঘাড়ের নার্ভ এবং রক্তনালীতে তীব্র চাপ তৈরি করে। এই অভ্যাসটি ঘাড়ের হাড় ক্ষয়ের সবচেয়ে বড় কারণ।
২. পাহাড়ের মতো উঁচু বালিশ: অনেকেই ২-৩টি বালিশ একসাথে করে ঘুমান। এর ফলে ঘাড়ের স্বাভাবিক বাঁক (Cervical curve) সম্পূর্ণ উল্টো দিকে বেঁকে যায়। আপনার বালিশ ঠিক ততটুকুই উঁচু হওয়া উচিত, যতটুকু আপনার মাথা ও বিছানার মাঝখানের ফাঁকা জায়গাটি পূরণ করতে পারে।
৩. দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ না দেওয়া: আপনি যদি পাশ ফিরে ঘুমান, তবে ওপরের পা নিচে ঝুলে গিয়ে মেরুদণ্ডের ওপর মোচড় তৈরি করে। তাই পাশ ফিরে ঘুমানোর সময় অবশ্যই দুই হাঁটুর মাঝে একটি নরম বালিশ ব্যবহার করুন। এটি আপনার কোমরের হাড়কে সোজা ও চাপমুক্ত রাখবে।

মানুষের জীবনের ৩ ভাগের ১ ভাগ কাটে ঘুমিয়ে। এই সময়টা আপনার মেরুদণ্ডকে বিশ্রাম দিন, শাস্তি নয়। সকালে সতেজভাবে জেগে ওঠার জন্য আজ রাতেই আপনার ঘুমানোর ভঙ্গিটি ঠিক করে নিন।

আপনার পরিচিত যারা সকালে ঘাড় বা কোমর ব্যথা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের সতর্ক করতে পোস্টটি শেয়ার করুন। আপনার একটি শেয়ার হয়তো কাউকে আজীবনের ঘাড় ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

সুস্থ থাকুন, সঠিক ভঙ্গিতে নিশ্চিন্তে ঘুমান।

ধন্যবাদ।

ডা. রাজীব কুমার পাল
অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও ট্রমা সার্জন
কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি)
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা
অ্যাডভান্স ট্রেনিং: ভেলোর (ইন্ডিয়া) ও সুইজারল্যান্ড (AO Trauma)

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খুলনা শাখা।
৩৭ কে ডি এ এভিনিউ, খুলনা (রুম নং: ৪০৪)।
সিরিয়াল: ০১৯৭৮-১১৩৭০৬ / ০১৭৭৯-৯০৩৫৯৮

26/03/2026

Inter trochenteric fracture

যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে শ্বাস নিচ্ছি, ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে সেই শ্রেষ্ঠ সন...
26/03/2026

যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে শ্বাস নিচ্ছি, ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

স্বাধীনতা মানে কেবল একটি নতুন মানচিত্র নয়, স্বাধীনতা মানে সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা নিয়ে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকা। পরাধীনতার শৃঙ্খল আমরা ভেঙেছি ১৯৭১ সালে, কিন্তু শারীরিক ব্যথার শৃঙ্খল কি আপনাকে এখনো পিছিয়ে রাখছে? একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে আমার স্বপ্ন এই স্বাধীন দেশের প্রতিটি মানুষ যেন ব্যথামুক্ত, সুস্থ এবং সচল জীবনযাপন করতে পারে।

স্বাধীনতার এই গৌরবময় দিনে আসুন অঙ্গীকার করি নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার, ব্যথামুক্ত সুস্থ জাতি গড়ার।

সবাইকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।

Address

Popular Diagnostic Center, 37 KDA Avenue, Khulna, Room No 404
Khulna
9000

Telephone

+8801779903598

Website

https://verify.bmdc.org.bd/regdata/LUsfILFwWE01LM.VY5HngeKIp2QD~Ddof20.cJ72p.P0tDEZxHjkK0wOelTJEcK

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr Rajib kumar paul posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr Rajib kumar paul:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category