19/10/2019
ঘরের চালে, উঠানে বা খেতে খামারে অনেক জায়গাতেই লাউ গাছ ও লাউ শাক জন্মাতে দেখা যায়। লাউ শাক আমাদের দেশের একটা জনপ্রিয় শাক। লাউ শাক পছন্দ করেন না এমন বাঙ্গালী পাওয়া মুস্কিল হবে। দেখতে খুব সাদাসিধে হলেও এর উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ কিন্তু অনেক। সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর এই সবজিটি ঝোল, নিরামিষ, ভাজি কিংবা সালাদ হিসেবে খাওয়া যায়। এর খোসা, শাঁস, পাতা সবই খাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম লাউয়ে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট ২.৫ গ্রাম, প্রোটিন ০.২ গ্রাম, ফ্যাট ০.৬ গ্রাম, ভিটামিন-সি ৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২০ মি.গ্রা., ফসফরাস ১০ মি.গ্রা., পটাশিয়াম ৮৭ মি.গ্রা., নিকোটিনিক অ্যাসিড ০.২ মি.গ্রা. রয়েছে। এছাড়া এতে রয়েছে খনিজ লবণ, ভিটামিন বি-১, বি-২, আয়রন প্রভৃতি আরও নানা উপাদান। এসব উপাদান শুধু ওজন কমাতেই ভূমিকা রাখে না, হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেও ভালো কাজ করে। আবার ত্বকের যত্নেও সমান উপকারী লাউ। লাউয়ের গুণাগুণ
• লাউ শাক ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার। গর্ভস্থ শিশুর স্পাইনাল কর্ড এবং মস্তিষ্কের বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ প্রয়োজন। ফলিক এসিডের অভাবে গর্ভস্থ শিশুর স্পাইনাল কর্ডের বৃদ্ধি ব্যহত হয়, যার ফলে প্যারালাইসিস, মস্তিষ্ক বিকৃতি অথবা মৃত শিশু জন্মাতে পারে।
• লাউ শাক উচ্চ মাত্রার ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ যা ঠাণ্ডা এবং যে কোন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
• লাউ শাক মস্তিষ্ককে ঠান্ডা রাখে এবং ঘুমের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। এই শাক দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
• লাউ শাকে যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে যা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করে এবং পাইলস প্রতিরোধে সাহায্য করে।
• লাউ শাক বিটা-ক্যারোটিন, লুটেইন এবং জিয়েজ্যান্থিন-এ পরিপূর্ণ। বিটা-ক্যারোটিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে এবং লুটেইন ও জিয়েজ্যান্থিন চোখের রোগ প্রতিরোধ করে।
• লাউ শাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় যা হাড় শক্ত ও মজবুত করে, অস্টিওপোরেসিস এবং অন্যান্য ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগের ঝুঁকি কমায়।
• লাউ শাকে ক্যালরি কম থাকে এবং কোলেস্টেরল ও ফ্যাট মুক্ত। তাই ওজন কমানোর জন্য লাউ শাক একটি আদর্শ খাবার হতে পারে।
• লাউ শাক পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। পটাসিয়াম হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে।
• লাউ শাক আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ এবং লোহিত রক্ত কনিকার সংখ্যা বাড়িয়ে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।