08/08/2024
৪ ও ৫ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে ইউনাইটেড কমপ্যাথ ভবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রসঙ্গে:
মৌলভীবাজারের সম্মানিত ছাত্র-জনতা এবং আমাদের সম্মানিত রোগী-সাধারণের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটির সাথে রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই। এই প্রতিষ্ঠানের ৩৪ জন অংশীদার, যারা প্রায় সবাইই চিকিৎসক কিংবা চিকিৎসক পরিবারের সদস্য; এদের মধ্যে সকল দল এবং মতের সমর্থকই রয়েছেন। উল্লেখ্য, ইউনাইটেড কমপ্যাথ এর নিজস্ব কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ বা মতামত নেই। এটা একটা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এবং মৌলভীবাজারের সর্বপ্রথম আধুনিক এবং বিশেষায়িত ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। এই প্রতিষ্ঠানে এমন কিছু বিশেষায়িত পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়, যেগুলো মৌলভীবাজার জেলার আর কোন ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারে করা হয় না। যেমন--
* সন্তান-ধারনে অক্ষম/ব্যার্থ মহিলাদের জন্য Hysterosalpingography (HSG) পরীক্ষা
*গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি নির্ণয়ের জন্য Anomaly Scan পরীক্ষা
*গর্ভবতী মহিলাদের Pregnancy Doppler পরীক্ষা
*4D মেশিনে নিখুত এবং সঠিক 4D আল্ট্রাসনোগ্রাফি
*4D Pregnancy Profile আল্ট্রাসনোগ্রাফি ইত্যাদি।
মৌলভীবাজারবাসীকে অত্যাধুনিক ডায়াগনোষ্টিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে আজ থেকে ২৬ বছর আগে, ১৯৯৮ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলি আমরা।
আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্নভাবে দালালমূক্ত এবং চিকিৎসকদের চেম্বারবিহীন একটি ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার। আমাদের গুডউইল বা সুনাম, যা আমরা বিগত ২৬ বছরে অর্জন করেছি, সেই গুডউইল এবং চিকিৎসক ও সম্মানিত রোগীদের আস্থাই আমাদের পাথেয়।
সম্প্রতি আমরা গভীর উদ্বেগ এবং দু:খের সাথে জ্ঞাত হয়েছি যে, কোন কোন বিশেষ মহল (ধারনা করছি, এরা আমাদের ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দী), আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিজয়ের পরদিন আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে কিছু সংখ্যক সু্যোগসন্ধানী মানুষ দিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড সহ ভবনটির দোতলায় অবস্থিত মহিলাদের পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান "ফেমিনা"য় ভাংচুর চালায়। শুধু তাই নয়, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সনোলজিস্ট ডা. শাব্বির হোসেন খান (যিনি মৌলভীবাজারের সিনিয়রমোস্ট সনোলজিস্ট এবং গত ২৪ বছর যাবত মৌলভীবাজারবাসীকে আল্ট্রাসনোগ্রাফী সেবা দিয়ে আসছেন) এর বাসভবনেও এরা ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগের মত ঘটনা ঘটায়, যা আমাদেরকে ব্যথিত এবং মর্মাহত করেছে। শুধু তাই নয়, আক্রমনকারীরা ডা.শাব্বির হোসেনের চাচা এবং প্রবাসে থাকা এক চাচাতো ভাই এর বাসায়ও ভাংচুড় চালায়।
উল্লেখ্য, এই ডা. শাব্বির হোসেন খানই কোভিড কালে মৌলভীবাজারের চিকিৎসক, সাধারন জনগন ও প্রবাসীদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ৭ শয্যা বিশিষ্ট কোভিড ডেডিকেটেড আইসিইউ প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছিলেন।
৪ আগষ্ট তারিখে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রায় ৮০-৯০ জন আন্দোলনকারী ছাত্রকে আশ্রয় দেই এবং সনোলজিস্ট ডা. শাব্বির হোসেন সহ আমাদের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার এবং অন্যান্য স্টাফরা তাদেরকে নিরাপদে নীচতলা থেকে সরিয়ে এনে উপরের তলাগুলোর বিভিন্ন রুমে লুকিয়ে রাখি। পরবর্তীতে দুপুর দুইটার দিকে চৌমোহনা চত্ত্বর আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার নিয়ন্ত্রনে এলে ডা.শাব্বির হোসেন নিজে আমাদের ম্যানেজার গীতেশ রায়, ল্যাব এটেন্ডেন্ট সিদ্দিক, এক্সরে টেকনিশিয়ান মহসিন, ড্রাইভার আক্কাস ( ডা. শাব্বির এর ড্রাইভার) এর সাহায্যে আশ্রয় নেয়া আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে ৮/১০ জনের গ্রুপ করে করে ইউনাইটেড কমপ্যাথ থেকে নিরাপদে বাইরে বের করে দেই; এ'সময় বাইরে অবস্থিত আন্দোলনকারী ছাত্ররাও সহায়তা করে তাদের নিরাপদ নির্গমনে।
উল্লেখ্য, আমাদের প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়া আন্দোনকারী ছাত্র-জনতার মধ্যে ইউনিফর্ম পরিহিত একজন ছাত্রীও ছিলেন (সম্ভবত: কাশীনাথ স্কুল এন্ড কলেজের পোশাক)। আটকা পরা ভীত-সন্ত্রস্ত সেই ছাত্রীকে ডা. শাব্বির নিজে হাতে ধরে বাইরে নিয়ে তার সাথীদের কাছে পৌছে দেন। আমাদের ল্যাবে আটকা পড়া রোগীদেরকেও এই সুযোগে আমরা আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার সাহায্যে নিরাপদে বাইরে বের করে দেই।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, আটকা পড়া একজন প্যারালাইসিস আক্রান্ত মহিলা রোগীকে বাড়ী যেতে সহায়তা করার জন্য ডা. শাব্বির হোসেন আন্দোলনকারী ছাত্রদেরকে অনুরোধ করলে তারা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে পার্শ্ববর্তী "মামার বাড়ী রেষ্টুরেন্ট" এ থাকা রোগীর সিএনজিটি ইউনাইটেড কমপ্যাথের সামনে নিয়ে আসেন এবং রোগীকে সিএনজিতে তুলতে সহায়তা করেন। শুধু তাই নয়, এরপর তারা ওই সিএনজি কে এসকর্ট করে গীর্জাপাড়ার ভেতর দিয়ে শমসেরনগর রোডে পৌছে দেন।
যাই হোক, সেদিন আমরা যাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলাম, তারা কেউই আমাদের পরিচিত ছিল না। আমাদের ভবনের ক্ষুদ্র পরিসর পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর এবং আমাদের কর্মকর্তা কর্মচারী, রোগী এবং ভেতরে আশ্রয় নেয়া আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা একসময় বাইরের গেইট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই। সেই সময় আমাদের ভবনে ৩০/৩২ জন স্টাফ, প্রায় ২০/২২ জন রোগী ও তাদের স্বজন এবং প্রায় ৮০-৯০ জন আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা ছিলেন, যা আমাদের ভবনের ফ্লোর-স্পেসের ধারন ক্ষমতারও বেশী। এ'অবস্থায় বাইরের পুলিশ এবং আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সবাইকে নিরাপদে রাখার জন্য বাইরের কোলাপসিবল গেইট বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আমাদের গত্যন্তর ছিল না।
ছাত্র-জনতাকে নিরাপদ আশ্রয় দেয়ার পরও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল/ব্যাক্তি আমাদের নামে অপঅপ্রচার চালায় যে, আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে সেদিন আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আশ্রয় না দিয়ে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছি।
সত্য প্রকাশের স্বার্থে আমরা আপনাদের সামনে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরলাম।
ধন্যবাদান্তে-
ম্যানেজিং পার্টনার।