04/12/2025
প্রথমেই জেনে নিই ভূমিকম্প কি?
সহজ ভাষায় ভূমিকম্প বলতে মূলত টেকটনিক প্লেট এর সংঘর্ষ কে বুঝায়।
অনেকেই জানতে চান যে ভূমিকম্পের পূর্ভাবাস পাওয়া সম্ভব কি না?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোথায় কোথায় ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেটি জানা সম্ভব। তাহলে ঠিক কখন কোথায় ভূমিকম্প হবে, সেটিও কি ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব?
"এক কথায় এর উত্তর হচ্ছে, না," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার।
তবে আগে থেকে ভূমিকম্পের সঠিক সময় জানা না গেলেও রিয়েল টাইম বা তাৎক্ষণিক পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
"যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানে ভূমিকম্পের এ ধরনের রিয়েল টাইম পূর্বাভাস দেওয়ার পদ্ধতি কার্যকর রয়েছে," বিবিসি বাংলাকে বলেন অধ্যাপক আখতার।
এক্ষেত্রে ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যন্ত্র বসিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের বাসিন্দাদের কাছে তথ্য পাঠানো হয় বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
ভূকম্পনের ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি অংশকে 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল' হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর ,ঢাকা, কুমিল্লা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের কিছু অংশ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট বিভাগের চারটি জেলায় বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।
একইভাবে, ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচটি জেলাও ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদী জেলার অংশ বিশেষ, পুরো কিশোরগঞ্জ জেলা এবং কুমিল্লা বিভাগের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ এর বিভিন্ন স্থান এ একাধিক ভূমিকম্প দেখা দিয়েছে । রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এই কম্পন তীব্রভাবে অনুভূত হয়। কম্পন প্রায় ২৬ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। ভূমিকম্প আতঙ্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে চলে যান।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। বাংলাদেশ, বিশেষ করে ঢাকা, ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, বাংলাদেশের নিচে জমে থাকা টেকটোনিক প্লেটে ৪০০ বছর ধরে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা যেকোনো সময় ৮.২ থেকে ৯.০ মাত্রার একটি বড় ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।
আতঙ্ক এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যে ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন মানুষ। বহুতল থেকে নেমে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন অনেকে আবার কেউ কেউ ছুটোছুটি করতে শুরু করে দেন আতঙ্কে। এমনটা নাহ করে সবার উচিত সতর্কতা অবলম্বন করা।
ভূমিকম্পের সময় আপনার করণীয়ঃ
১. ভূকম্পন অনুভূত হলে আতঙ্কিত হবেন না।
২. ভূকম্পনের সময় বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে টেবিল, ডেস্ক বা শক্ত কোন আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিন।
৩. রান্না ঘরে থাকলে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে দ্রুত বেরিয়ে আসুন।
৪. বীম, কলাম ও পিলার ঘেষে আশ্রয় নিন।
৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালে স্কুল ব্যাগ মাথায় দিয়ে শক্ত বেঞ্চ অথবা শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিন।
৬. ঘরের বাইরে থাকলে গাছ, উঁচু বাড়ি, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দুরে খোলাস্থানে আশ্রয় নিন।
৭. গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী, হাসপাতাল, মার্কেট ও সিনেমা হলে থাকলে বের হওয়ার জন্য দরজার সামনে ভিড় কিংবা ধাক্কাধাক্কি না করে দুহাতে মাথা ঢেকে বসে পড়ুন।
৮. ভাংগা দেয়ালের নিচে চাপা পড়লে বেশি নড়া চড়ার চেষ্টা করবেন না। কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন, যাতে ধুলা বালি শ্বাস নালিতে না ঢোকে।
৯. একবার কম্পন হওয়ার পর আবারও কম্পন হতে পারে। তাই সুযোগ বুঝে বের হয়ে খালি জায়গায় আশ্রয় নিন।
উপর তলায় থাকলে কম্পন বা ঝাঁকুনি না থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে; তাড়াহুড়ো করে লাফ দিয়ে বা লিফট ব্যবহার করে নামা থেকে বিরত থাকুন।
১০. কম্পন বা ঝাঁকুনি থামলে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়ুন এবং খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিন।
১১. গাড়ীতে থাকলে ওভার ব্রীজ, ফ্লাই ওভার, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুটি থেকে দূরে গাড়ী থামান। ভূকম্পন না থামা পর্যন্ত গাড়ীর ভিতের থাকুন।
১২. ব্যাটারীচালিত রেডিও, টর্চলাইট, পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম বাড়িতে রাখুন।
১৩.বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করুন।
যারা যারা মুসলিম ধর্মাবলম্বী আছেন তাদের উদ্দেশ্যে ভূমিকম্প থেকে বাঁচার দোয়া
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।
অর্থ: আল্লাহ তাআলার নামে, যার নামের বরকতে আকাশ ও মাটির কোনো কিছুই কোনো অনিষ্টতা করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
এছাড়াও যারা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী তারা নিজ নিজ সৃষ্টিকর্তা কে স্মরণ করবেন