03/04/2022
হোমিওপ্যাথিক ওষুধে ট্যাকিয়ন কনার উপস্থিতি নিয়ে CERN এর পদার্থ বিজ্ঞানীরা যে পরীক্ষা নীরিক্ষা চালিয়েছেন সত্যিই তা হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক নতুন দ্বার উন্মোচন করলো। কারন এতোদিন পর্যন্ত হোমিওপ্যাথিকে ল্যাবের বিজ্ঞানীরা প্লাসিবো ইফেক্ট বলে চালিয়ে দিতো। কিন্তু এক জার্মান বিজ্ঞানী হ্যানিম্যানের আবিস্কৃত হোমিওপ্যাথি এখন আরেক জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানীর আর্নল্ড সমারফেল্ডের দেয়া ট্যাকিয়ন কনার ধারনা দিয়েই হোমিও ওষুধের অন্তর্নিহিত শক্তির রহস্যের উন্মোচন হচ্ছে। সার্ন হোমিও ওষুধের শক্তিকৃত ৩০ শক্তির উপর পরীক্ষা নীরিক্ষা চালিয়ে দেখেছে সেখানে ট্যাকিয়ন কনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যা একেবারে অকল্পনীয়। কেননা ইতোপূর্বে ধারনা করা হতো ট্যাকিয়ন কনার উপস্থিতি এই পৃথিবীতে নেই। মহা বিশ্বের অন্য কোন গ্রহে হয়তো আছে কিংবা একদমই কাল্পনিক। কিন্তু দুশত বছর যাবৎ যে ট্যাকিয়ন কনা নিয়ে হোমিও চিকিৎসকরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছিলো তা আজ বিষ্ময়কর। কেননা তথা কথিত পদার্থ বিজ্ঞান রসায়ন ও জীব বিজ্ঞান দ্বারা হোমিও ওষুধের অন্তর্নিহিত এই শক্তিকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি। কারন এতে যে কনা বিদ্যমান তা আলোর চেয়েও গতি সম্পন্ন। যার নাম ট্যাকিয়ন কনা। আর আলোর চেয়ে গতি সম্পন্ন কোন কিছুকে দেখা সম্ভব হয়না। তাই এতোদিনে তা অধরাই রয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু এবার জটলা খোলা শুরু করেছে সার্নের পদার্থ বিজ্ঞানীদের গবেষণায়। তারা লার্জ হেড্রন কোলাইডারে হোমিওপ্যাথিক বিভিন্ন ওষুধের ৩০ মাত্রা ন্যানো স্প্রে করে এই কনার অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। এই ট্যাকিয়ন কনার মাধ্যমেই হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কোষের ইলেকট্রনের স্পিন-এন্টি স্পিন পরিবর্তিত জীব দেহকে সুস্থ করে তোলে। এই কনা আলোর চেয়ে দ্রুতগামী।
এখন এই ট্রাকিয়ন কনা নিয়ে দু একটি বিষয় উল্লেখ করতেই হয়।কারন ট্রাকিয়ন কনার বৈশিষ্ট্যের সাথে হোমিওপ্যাথি ওষুধ বৈশিষ্ট্যের অনেক মিল রয়েছে। এই মিলগুলো খুঁজে পাবার আগে আমরা ট্রাকিয়ন কনার বৈশিষ্ট্যগুলো আগে জেনে নিয়।
১. এর বেগ আলোর চেয়ে বেশি। কখনো আলোর কম বেগে একে নামানো যায়না। কেননা তাতে অসীম শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই এর জন্মই হয় আলোর চেয়ে বেশি বেগে।
২. এর ভর যত কমে বেগ তত বাড়ে। বা বেগ যত বাড়ে ভর তত কমতে থাকে।
৩. এরা পানি বা কাচ মাধ্যমে আরো বেগ প্রাপ্ত হয়।
৪. এর আলোর চেয়ে বেশি বেগোবান হওয়ায় দৃশ্যমান হয়না। শুধু এদের রেখে যাওয়া পদচিহ্ন বা ছাপ রয়ে যায়। একে বলে চেরেনকভ বিকিরণ।
৫. এদের ভর যখন শূন্য তখন এরা সর্বোচ্চ বেগে ধাবিত।
৬. এটাকে তৈরি করতে কোন চার্জিত কনাকে ত্বরক যন্ত্রে নিয়ে আলোর কাছাকাছি দ্রুতি দেয়া হয়। তারপর তা পানি বা কাচ মাধ্যমে দিলে তা আলোর বেগ ছাড়িয়ে যায়।
এখন আসি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে-
১. হোমিও ওষুধকে যত খুদ্র মাত্রায় নেয়া হয় অর্থাৎ যত এর ভর কমে ততবেশি শক্তিকৃত হয়।
২. হোমিও ওষুধকে এতোটা ক্ষুদ্র করা সম্ভব নয় যে তা শক্তি বাড়াবেনা।
৩. এটি পানিতে গুলিয়ে প্রয়োগ করা হয় যাতে এর শক্তি বাড়ে।
৪. হোমিও ওষুধ তৈরি সাক্কাশন বা ঝাকি প্রয়োগ করা হয়।
৫. যত বেশি ডাইলুশন ও সাক্কাশন করা হয় তত হোমিও ওষুধের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
এখন আমরা এই দুটোর মিল খুঁজবো।
১. ট্যাকিয়নের ভর যত কমে বেগ তত বাড়ে। হোমিও ওষুধের বস্তুগত মাত্রা যত কমে শক্তি তত বাড়ে।
২. ট্যাকিয়নের ভর শূন্য হলে সর্বোচ্চ বেগ পায়। হোমিও ওষুধও যত ক্ষুূ্দ্র মাত্রায় নেয়া হয় ততই এর শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৩.ট্যাকিয়ন পানিতে ও কাচ মাধ্যমে আরো বেগবান হয়। হোমিও ওষুধ পানিতে গুলিয়ে প্রয়োগে আরো শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৪. ত্বরনের মাধ্যমে ট্যাকিয়ন আরো বেগবান হয়। ঝাকিতে হোমিও ওষুধর শক্তি বৃদ্ধি পায়। তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি বাহ্যিক আচরণেও কত মিল। এগুলো একান্ত আমার যৌক্তিক উপস্থাপনা। তবে বিজ্ঞানীদের দিকে তাকিয়ে আছি আরো সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ পেতে।
ট্যাকিয়ন কনাকে এক সময় শুধু কাল্পনিক ভাবা হতো। এবং বলা হতো এই পৃথিবীতে এর কোন অস্বস্তি নেই। মহা বিশ্বের অন্য কোন গ্রহে হয়তো এর স্থান রয়েছে। কিন্তু CERN এর বিজ্ঞানীরা গবেষণায় হোমিও ওষুধের ৩০ শক্তির উপর পরীক্ষা নীরিক্ষা চালিয়ে সেখানে ট্যাকিয়ন কনার উপস্থিতি পেয়েছে। এবং তারা সকল শক্তিতেই এই পরীক্ষা চালাবে বলে জানিয়েছে।
কিন্তু বাঁধা হয়ে দাড়াচ্ছে দুটো মস্ত বড়ো শক্তি
১. আমেরিকার এলোপ্যাথিক ফার্মা লবি
২. আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি।
কেননা আইনস্টাইনে ল অনুযায়ী E=MC2.
১.অর্থাৎ আলোর বেগে কোন বস্তই পৌছানো সম্ভব নয়। বেগ যত বাড়বে ভর তত বাড়বে। তাই বেগ আলোর হলে ভর অসীম হবে। যা সম্ভব নয়।
কিন্তু ট্যাকিয়ন এর পুরোটাই উল্টো। যত ভর কমবে তত বেগ বাড়বে।
২.পানিতে বা কাচ মাধ্যমে আলোর বেগ শোষিত হয়ে কমে যায়। কিন্তু ট্যাকিয়ন পানিতে ও কাচে আরো বেগবান হয়। যা চেরেনকভ বিকিরণ দ্বারা প্রামানিত।
সুতরাং ট্যাকিয়নের বাস্তবতা যেন প্রামানিত না হয় তার বিরুদ্ধেও তোড়জোড় চলছে। কিন্তু সত্য চিরকালই সত্য। হোমিওপ্যাথি যে অত্যধিক উন্নত মানের কোন বিজ্ঞান তা অচীরেই প্রামানিত হবে ইনশাআল্লাহ।