24/01/2026
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ADHD কী, সেটা জানেই না। জানার প্রয়োজনও বোধ করে না। “বাচ্চা একটু দুষ্ট, বেশি নড়াচড়া করে, মনোযোগ কম”—এই লেবেলেই সব শেষ। অনেক মা বিভিন্ন জায়গা থেকে জেনে বুঝে সন্দেহ করে, কিন্তু বাবাদের সামনে ডাক্তার বা থেরাপিস্টের কথা উঠলেই উত্তর হয় “এইসব পশ্চিমা বাহানা”,“আমাদের সময় তো এসব ছিল না”,
“একটু শাসন করলেই ঠিক হয়ে যাবে।”। সবচেয়ে মজার ঘটনা আমি যখন ADHD নিয়ে সচোতনতা বাড়াতে লিখেছিলাম, সেখানে এক লোকের কমেন্ট ছিল এটা নাকি বাচ্চাকে"রোগী বানানোর ধান্দা আর ডাক্তাররা টাকা হাতায় এসব করে"। আর কত কত লোক যে লিখেছে, এসব তো সাধারন আচরন, আজাইরা কথা ইত্যাদি ইত্যাদি। তাও আমি আমার সচেতনতামূলক পোস্ট করা, পা*গলদের কথায় ছাড়িনা। কারন একটা বাচ্চা সাহায্যের জায়গায় হেনস্তা পেলে সারাজীবনের একটা বড় ধাক্কা পায়।
পরিবারের অসেচতনতার ফলাফল। যে বাচ্চাটার সাহায্য দরকার, সে সাহায্য তো পায়ই না উল্টো মাইর, অপমান, ভয়, লজ্জা—এই চারটা জিনিসই তার দৈনন্দিন সঙ্গী হয়ে যায়। অতি চঞ্চলতার জন্য সে মা*ইর খায় নিজের বাবা-মায়ের হাত থেকে, খায় স্কুলে, খায় কোচিংয়ে। অথচ কেউ বোঝে না—এই বাচ্চাটা bad না, সে different। তার সাহায্য দরকার😓।
এখন আসেন স্কুল সিস্টেমের বাস্তবতা নিয়ে একটু কথা বলি🤦♀️
স্কুলগুলোর কথাও খুব আলাদা কিছু না। ৩–১০ হাজার টাকায় প্রাইভেট স্কুল গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ হয়(মোটামুটি নামিদামি প্রাইভেট স্কুলেও স্যালারির একি অবস্থা, আর কতৃপক্ষ তাদের বোঝায় টিউশন পড়ানোর লোভ দেখিয়ে)। এই টাকায় সত্যিকারের ভালো, ট্রেনিংপ্রাপ্ত, emotionally aware মানুষ পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এমনকি ভালো শিক্ষিত হলেও, শিশু মনোবিজ্ঞান জানা নেই। ADHD, ASD, sensory issues—এই শব্দগুলোর সাথেই পরিচয় নেই। ক্লাস ম্যানেজমেন্ট মানেই চুপ করানো। Discipline মানেই ভ*য় দেখানো। বাচ্চার যে আলাদা কোনো সমস্যা থাকতে পারে এই ভাবনাটাই মাথায় আসে না। একটু যত্ন করলে, একটু আলাদা পদ্ধতি নিলে বাচ্চাটার জীবনটাই বদলে যেতে পারে—এই insight নেই। আর কিছু স্কুল তো ADHD শুনলে অটিজম ভেবে আগেই বলে, অন্য স্কুলে ভর্তী করান, বাবা-মা অমেক সময়, এমন কথা শুনতে চায়না তাই সত্যি জানলেও লুকায়। যার পরিনাম আরো খারাপ।
এইসব প্রাইভেট স্কুলে বাবা-মা মোটা অঙ্কের টিউশন ফি দেয়, অথচ সার্ভিস কোথায় যায়? কতৃপক্ষের পকেটে। “পয়সা ফেকো, সার্ভিস(অনলি রেজাল্ট) নাও” টাইপ মডেল। খাতায় মার্ক ভালো হলেই সব ঠিক। বাচ্চা ভিতরে ভিতরে ভেঙে যাচ্ছে—সেটা কারো concern না। টিচারদের স্পেশাল ট্রেনিং ব্যাবস্থা এসব কিছুই রাখেনা। আমি এক তরফা স্কুলকে দোষ দিচ্ছি না।
কিন্তু যারা junior section, preschool, early childhood নিয়ে কাজ করে—তাদের extra knowledge থাকা বাধ্যতামূলক। হা আবারো আলছি বাধ্যতামূলক। কারণ এই বয়সে একটা ভুল আচরণ, একটা ট্রমা, একটা ভয়—সারাজীবনের জন্য imprint হয়ে যায়।যে ট্রমা ওর গোটা জীবন জুরে ওকে যন্ত্রণা দিয়ে বেড়ায়।
এখন একটু বাবা-মার দায়ভারে আসি। প্যারেন্টি অনেকে আসলো এক্সিডেন্টাল নেয়, এটা যে ভীষন পড়ালেখার বিষয়। অনেক অনেক জানার, শেখার ও এপ্লিকেশনের বিষয়। সন্তানের জন্য নিজেকে পরিবর্তনের বিষয় (ভালো দিকে) সেটা বোঝে না। আপনারা এতো হালকা নিয়েন না, কোনো বাচ্চার জীবন নষ্ট করার রাইট আপনাদের নেই। সবদিক দিয়ে প্রস্তুত না হলে সন্তান নিয়েন না, তাও সন্তান এনে একটা ট্রমাটাইজ, আনারি, ভিতু, কনফিডেন্সেহীন৷ মানুষ সমাজে বাড়াবেন না, যা মানুষ টা সারাজীবন নিজে ভো*গে আর যাদের সাথে জড়াবে তাদেরকেও ভো*গাবে। তাই সবচেয়ে বড় দায়টা বাবা-মায়ের। কারণ বাচ্চার safety আপনার দায়িত্ব। স্কুলে কী হচ্ছে, শুধু খাতা দেখে না, বাচ্চার চোখ দেখে বুঝতে হয়।
তার আচরণ, তার ভ*য়, তার চুপ হয়ে যাওয়া—সবকিছু communication। আজকের বেশিরভাগ বাচ্চার সাথে
meaningful bonding নেই। safe space নেই। বাবা-মাকে কিছু না লুকানোর পরিবেশ নেই। ব্যস্ত ভীষন ব্যাস্ত আমরা ছোট্ট চোখজোড়া ফোন নয় আমাদের চায়। আমরা নিজেরাই সময় দেই না। তারপর বলি—“বাচ্চা কেন এমন?”।আমরা শেখাই না— কোনটা secret, কোনটা surprise। কোনটা ঠিক, কোনটা অন্যায়। কেউ গায়ে হাত দিলে কী করবে।
ভ*য় পেলে কার কাছে যাবে। তারপর অবাক হই, বাচ্চা কথা বলে না কেন। বাচ্চা আচরন বাবা-মার থেকে আন্তাজে সব হবেনা। সাবধান হবেন। অনুরোধ 🙏
কিছুদিন আগে ৪ বছরের এক শিশুকে তার স্কুলের টিচাররা ভয়াবহভাবে মেরেছে। আমার দেখে খুব বেশি খারাপ লাগছিল যে ওর ব্রেইনের অবস্থা তখন কতটা ট্রমাটাইজ ছিল, এই ট্রমা কাটাতে পারবে কখনো?।
ভয় দেখিয়েছে, “মাকে বললে আরও মারবো”। হাতে স্টপ্লার এনে মুখ সেলাই করবে এসব করছিল। মানে এতোটা বিকার মস্তিষ্ক কেন?। “পাড়া মারবো”, “তোর জন্য সব সমস্যা”।
অভিযোগ ছিল—বাচ্চা নাকি গায়ে হাত তোলে। একটা ৪ বছরের বাচ্চা গায়ে হাত তুলছে মানে কী? সে কি criminal? নাকি সে নিজেই overwhelmed, dysregulated, সাহায্য চাইছে? এটা কেউ ভেবেছে?। অবশ্য ভাববে কি করে?, ওরা এমন প্যারেন্টিং পেয়েই বড় হয়েছে, আমার বহু পোস্টে বহু কমেন্ট আসে না মারলে বাচ্চা মানুষ হয়না। ইত্যাদি ইত্যাদি।
টিচাররা যা করলো ওটা discipline না। ওটা power abuse। ওটা emotional violence। ওটা আসলে একেবারে নিঃশব্দ child abuse। আসল সত্যটা খুব সহজ। সব বাচ্চা একরকম না। সব বাচ্চা একইভাবে শেখে না। সব বাচ্চাকে একইভাবে শাসন করা যায় না।
ADHD বাচ্চা মানে problem না। ওরা আসলে, বেশি sensitive, বেশি curious, বেশি energy। আর সবচেয়ে বেশি… misunderstood। সঠিক গাইড পেলে এরা future leader, innovator, creator হয়। আর ভুল হাতে পড়লে এরা হয় anxious adult, low self-esteem, depression বা চুপচাপ ভেঙে যাওয়া মানুষ।
একটা বাচ্চাকে মানুষ বানাতে শুধু টাকা লাগে না, লাগে সময়, সচেতনতা আর empathy। স্কুল বদলানো যায়, টিচার বদলানো যায় কিন্তু শৈশবের ট্রমা বদলানো যায় না।
আপনি যদি বাবা-মা হন, আপনার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বাচ্চার ভেতরের মানুষটাকে বাঁচিয়ে রাখা। মার্ক না, র্যাংক না, আগে মানুষ, পরে ছাত্র। ভালো মানুষ বানানোর চেষ্টা করুন, পড়ালেখাটাও শিখে যাবে। কারণ আজ যে বাচ্চাকে “ঝামেলা” বলে মারছেন,
১০ বছর পরে সেই মানুষটাই হয়তো প্রশ্ন করবে
“আমি কি আসলেই এত খারাপ ছিলাম,
নাকি কেউ আমাকে বোঝার চেষ্টাই করেনি?”
অনুরোধ বাচ্চার প্যারেন্টিং এর ব্যাপারে সচেতন হবেন।
ধন্যবাদ 🙏
ShebikAmit