17/03/2022
মধুর উপকারিতা
১. শক্তি বৃদ্ধি করে:
শক্তি বৃদ্ধি করতে বা বাড়াতে মধু(honey) অন্যতম খাদ্য বা খাবার। তাপ ও শক্তির অন্যতম উৎস মধু। মধু দেহের তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ-সবল রাখে।
২. হজমে শক্তি বাড়ায় :
মধুতে যে শর্করা থাকে, তা সহজেই হজম হয়ে যায়। কারণ, মধুতে যে dextrin থাকে, তা সরাসরি রক্তের মধ্যে প্রবেশ করে এবং তাড়াতাড়ি ভাবে ক্রিয়া করা শুরু করে। পেটরোগা ব্যক্তির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মধু।
৩. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে:
মধুতে আছে ভিটামিন-বি-কমপ্লেক্স। মধু খাওয়ার ফলে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যায়। সকালে ১- চামচ খাঁটি মধু পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লতা একেবারেই দূর হয়ে যায়।
৪. রক্তশূন্যতায় দূর হয়:
মধু বা honey রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে। ফলে শরীরে রক্তশূন্যতায় দূর করে দেয়। কারণ- এতে রয়েছে খুব বেশি পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, লৌহ ও কপার।
৫. ফুসফুস ও হাঁপানি সকল রোগ নিরাময়:
মধু ফুসফুসের যাবতীয় রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। যদি অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগী নাকের কাছে মধু ধরে শ্বাস টেনে নেয়, তাহলে সে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারবে। অনেকেই মনে করেন, ১ বছরের পুরোনো মধু শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগীদের জন্য উপকারী।
৬. মধু নিদ্রার কাজে দেয়:
মধু নিদ্রার ভালো একটি ওষুধ। রাতে ঘুমানোর আগেই ১ গ্লাস পানির সঙ্গে ২–চামচ মধু মিশিয়ে খেলে গভীর ঘুম ও সম্মোহনের কাজ করে।
৭. যৌন দুর্বলতায় সহায়তা করে:
যৌন দুর্বলতায়
পুরুষের মধ্যে যাদের যৌন দুর্বলতা আছে, তাঁরা নিয়মিত যদি মধু ও ছোলা মিশিয়ে খায়, তাহলে কয়েক সপ্তাহ পর পুরুষের যৌন দূর্বলতা দূর হয়ে যাবে।
৮. রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে:
মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং শরীরের ভেতরে ও বাইরে যেকোন ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের আক্রমণ রক্ষার জন্য ক্ষমতাও জোগান দেয়। মধুতে আছে একধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস প্রতিরোধকারী উপাদান, যা অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে দেহকে সবসময় রক্ষা করে।
৯. মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষা কাজে করে:
মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য মধু ব্যবহৃত করা হয়। মধু দাঁতের ওপর ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয়-রোধ, দাঁতের পাথর জমাট বাঁধা কমায় এবং দাঁত পড়ে যাওয়া আটকায়। মধু রক্তনালিকে বড় করে দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য পুরোপুরি ভাবে রক্ষা করে। মুখের ঘায়ের ফলে গর্ত হয়, এটি সেই গর্ত পূরণ করতে সাহায়তা করে ও সেখানে পুঁজ জমতে দেয় না। মধু মিশ্রিত পানি দিয়ে কুলি বা গড়গড়া করলে মাড়ির প্রদাহ দূর হয়ে যায়।
১০ পাকস্থলীর সুস্থ রাখে:
মধু খাওয়ার ফলে পাকস্থলীর বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে এবং হজমের গোলমাল একেবারেই দূর করে। এর ব্যবহারে hydrochloric acid ক্ষরণ কমিয়ে দেয়, যা অরুচি, বমিভাব, বুকজ্বালা ইত্যাদি দূর করে।
১১. শরীরে তাপ উৎপাদন করে:
শীতের ঠান্ডায় মধু খাওয়ার ফলে শরীর গরম রাখে। ১/২ চা–চামচ মধু ১ গ্লাস ফুটানো পানির সঙ্গে খেলে শরীর তাজা ও সুস্থ থাকে।
১২. পানিশূন্যতা দূর করে:
ডায়রিয়া হলেই ১ লিটার পানির মধ্যে ৫০ মি.লি. মধু মিশিয়ে খেলে দেহের পানিশূন্যতা একেবারেি দূর হয়ে যায়।
১৩. উচ্চ রক্তচাপ কমায়:
উচ্চ রক্তচাপ কমাতে মধু খুবই উপকারী একটি উপদান। ২- চামচ মধুর সাথে ১- চামচ রসুনের রস মেশান। দিনে ২ বার মিশ্রণটি খান। মিশ্রণটি নিয়মিত খাওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়। প্রতিদিন সকালে খাবার এক ঘণ্টা আগেই খাওয়া উচিত।
১৪. রক্ত পরিষ্কার করে:
১ গ্লাস হালকা গরম পানির সাথে ১-২ চামচ মধু ও ১- চামচ লেবুর রস মিশান। পেট খালি করার আগেই প্রতিদিন এই মিশ্রণটি খাবেন। মিশ্রণটি কা রক্ত পরিষ্কার করতে সহায়তা করে এবং সব রক্তনালি পরিষ্কার করে।
১৫. ওজন কমাতে সাহায্য করে:
মধুর উপদানে কোনো চর্বি নেই। যার ফলে পেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে, শরীরে চর্বি কমায়, ফলে ওজন কমে যায়।