28/03/2026
/হাম Outbreak ও সচেতনতামূলক কিছু কথা
★Measles (মিজেলস) কী?
এটি একটি ভাইরাসজনিত অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা measles virus‑এর মাধ্যমে ছড়ায়। এটি প্রধানত শিশুদের মধ্যে বেশি হয়, যদিও বয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারে।
★ কিভাবে ছড়ায়?
আক্রান্ত ব্যক্তি যখন কাশি বা হাঁচি দেয়, ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে; সুস্থ মানুষ এটি শ্বাসের মাধ্যমে নিলেই সংক্রমিত হতে পারে।
ভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তির শ্বাস‑প্রশ্বাস বা থুতুর ফোঁটা দুই ঘন্টা পর্যন্ত বাতাস/পৃষ্ঠে জীবিত থাকতে পারে।
একই ঘরে থাকলে প্রায় ৯০% অকার্যকরী টিকা‑নেওয়া বা ইমিউনিটি নেই/ কম এমন মানুষ সংক্রমিত হবে।
সংক্রমণ ক্ষমতা খুব বেশি, আক্রান্ত ব্যক্তি একাই প্রায় ১০–১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে যদি ভ্যাকসিন না নেয়।
★ উপসর্গ (Symptoms)
সাধারণত সংক্রমণের ৭–১৪ দিনের মধ্যে শুরু হয়।
১) জ্বর
২) কাশি এবং শ্বাসকষ্ট
৩) নাক দিয়ে পানি বের হওয়া
৪) চোখ লাল হওয়া ও চোখ দিয়ে পানি পড়া (conjunctivitis)
৫) মুখের ভিতরে ছোট ছোট সাদা দাগ (Koplik spots)
— এগুলি র্যাশ হওয়ার আগেই দেখা যায়।
র্যাশ — প্রথমে মুখ/ঘাড় থেকে শুরু হয়ে শরীরের ওপর থেকে নিচে ছড়িয়ে পড়ে।
** র্যাশ হওয়ার ৪ দিন আগে থেকেই এবং র্যাশের ৪ দিন পরে পর্যন্ত সংক্রমিত করতে পারে।
★ ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপ
১) টিকা না নেওয়া শিশু
২) শিশুদের মধ্যে ০–৫ বছর
৩) অপুষ্ট শিশু
৪) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন দুর্বল ব্যক্তি
৫) গর্ভবতী নারী
এরা কম‑বেশি জটিলতায় পড়তে পারে।
★ জটিলতা
১) ফুসফুসের সংক্রমণ (Pneumonia)
২) কানের সংক্রমণ
৩) মস্তিষ্কে প্রদাহ (Encephalitis)
৪) দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টির অভাব/ইমিউন সিস্টেমে ক্ষতি
৫) খুব বিরল ক্ষেত্রে Subacute Sclerosing Panencephalitis (SSPE) – কয়েক বছর পরে মস্তিষ্কের জটিল রোগ ঘটায়।
★করণীয়
Measles (হাম) হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীকে বাসায় রেখে সঠিক যত্ন নিলে ভালো হয়ে যায়।তবে সতর্কতা খুব জরুরি, কারণ এটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং জটিলতা হতে পারে।
১)আলাদা /Isolate রাখুন
২)জ্বর নিয়ন্ত্রণ করুন- প্যারাসিটামল দিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী
৩)পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দিন(পানি, স্যালাইন, ডাবের পানি,সহজপাচ্য খাবার- খিচুড়ি, স্যুপ,ফলের রস)
৪) Vitamin A ক্যাপসুল
*** ৫ বছর পর্যন্ত যে সকল শিশু ৬ মাসের মধ্যে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খায় নি তাদের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করুন।
৫)বিপজ্জনক লক্ষণ দেখলে হাসপাতালে নিয়ে যান, যেমন :
শ্বাসকষ্ট
খিঁচুনি
খুব বেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া
খাওয়া বা পানি পান বন্ধ
কান ব্যথা বা কানে পুঁজ
জ্বর ৪–৫ দিনের বেশি থাকলে
★ প্রতিরোধ
টিকা হলো প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
১) Measles, Mumps & Rubella (MMR) ভ্যাকসিন দেওয়া যায়।
২) বাংলাদেশে জাতীয় সম্প্রসারিত ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি অনুযায়ী- MR (Measles, Rubella) vaccine দেওয়া হয়।
সাধারণত
১) প্রথম ডোজ: ৯ মাস বয়সে
২) দ্বিতীয় ডোজ: ১৫ মাস বয়সে
দুই ডোজ ভ্যাকসিন আনুমানিক ৯৭% কার্যকর। কমপক্ষে ৯৫% মানুষ টিকা নিলে রোগের সম্প্রসারণ রোধ করা যায় — একে বলা হয় Herd Immunity।
*****WHO এবং বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, দুই ডোজই নেওয়া বাধ্যতামূলক।
★ বিশেষ পরিস্থিতি
***Outbreak এর সময় ৬ মাসের শিশুরাও টিকা পেতে পারে (বুস্টার হিসেবে)।
*****CATCH UP vaccination- যারা পূর্বে বিভিন্ন কারণে টিকা নিতে পারেন নি- তারা অতিসত্ত্বর ২ ডোজ টিকা ৪ সপ্তাহ ব্যবধানে নিতে পারেন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
★ সতর্কতা জনসাধারণের জন্য :
১) রোগীর কাছ থেকে দূরে থাকা
২) হাত ধোয়া, নাক ও মুখ ঢেকে রাখা- মাস্ক ব্যবহার করুন
৩) ভ্যাকসিন না নেওয়া শিশুদেরকে জনগণের সংস্পর্শ থেকে বিরত রাখা
★★★স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে নিজেদের সুরক্ষায় করণীয় :
১) ২ ডোজ MR/MMR টিকা নেওয়া আছে কিনা নিশ্চিত করুন।
২) সবসময় মাস্ক ব্যবহার করুন ও হাত ধুবেন (Hand hygiene maintenance)।
৩) Measles রোগী isolate/ আলাদা রাখা জরুরি।
৪) Exposure হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া
- টিকা নেওয়া থাকলে: ২১ দিন পর্যন্ত উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করুন
- টিকা না থাকলে: ৭২ ঘন্টার মধ্যে MR/MMR vaccine নিন
৫) উপসর্গ হলে isolate/ আলাদা থাকুন।
??? অনেকে টিকা পাওয়া স্বত্ত্বেও কেন Measles হচ্ছে এইটি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করা দরকার!!
ডা. আসসাদে তারান্নুম,
এমবিবিএস(ডিএমসি),
বিসিএস (স্বাস্থ্য),
এমসিপিএস (শিশুস্বাস্থ্য),
এফসিপিএস (শিশুস্বাস্থ্য)।
( সংগৃহিত)