16/02/2025
অনেকের মধ্যেই প্রচলিত যে পুরুষরাই বেশি হার্ট অ্যাটাকে মারা যান, আর মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি কম ঘটে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। মহিলারাও হার্ট অ্যাটাকে মারা যান, কিন্তু তাদের উপসর্গ এবং অন্যান্য কারণের পার্থক্যের কারণে এটি কম আলোচিত হয়।
মূল কারণসমূহ:
১. উপসর্গের ভিন্নতা:
পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যথা, যা বাঁ হাত, ঘাড় বা পিঠে ছড়িয়ে পড়ে।
মহিলাদের ক্ষেত্রে উপসর্গ অনেক সময় অস্পষ্ট ও ভিন্ন হতে পারে, যেমন:
চোয়াল, ঘাড়, পিঠ বা পেটের ব্যথা
অতিরিক্ত ক্লান্তি
বমি ভাব বা হজমের সমস্যা
শ্বাসকষ্ট
মাথা ঘোরা
এগুলো অ্যাসিডিটি, স্ট্রেস বা অন্য কোনো সাধারণ সমস্যা বলে ভুল বোঝা হয়, ফলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিতে দেরি হয়।
২. চিকিৎসায় দেরি ও উপেক্ষা:
মহিলারা অনেক সময় নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি কম গুরুত্ব দেন এবং উপসর্গ শুরু হলেও চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন।
চিকিৎসকরাও অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে মহিলাদের উপসর্গকে হার্ট অ্যাটাক হিসেবে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন, কারণ প্রচলিত হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো সাধারণত পুরুষদের ওপর ভিত্তি করে প্রচার করা হয়।
৩. হরমোনের প্রভাব:
ইস্ট্রোজেন হরমোন মহিলাদের রক্তনালীগুলোকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়, যা তাদেরকে মেনোপজের আগে হার্ট অ্যাটাক থেকে কিছুটা রক্ষা করে।
কিন্তু মেনোপজের পর এই সুরক্ষা কমে যায় এবং তখন মহিলাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি পুরুষদের মতোই বেড়ে যায়।
৪. গবেষণা ও সচেতনতার অভাব:
দীর্ঘদিন ধরে হার্ট অ্যাটাক সংক্রান্ত গবেষণা ও চিকিৎসা মূলত পুরুষদের উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
মহিলাদের উপসর্গ নিয়ে কম প্রচার হয়, ফলে অনেকেই জানেন না যে তাদের ক্ষেত্রে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে।
বাস্তবতা:
বিশ্বজুড়ে হার্ট অ্যাটাক মহিলাদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তবে তাদের উপসর্গ ভিন্ন এবং চিকিৎসা গ্রহণে দেরি হয় বলে এটি কম আলোচিত হয়।
অর্থাৎ, "মহিলারা হার্ট অ্যাটাকে মারা যান না" এই ধারণাটি ভুল। বরং তাদের হার্ট অ্যাটাক কম ধরা পড়ে, দেরিতে চিকিৎসা শুরু হয় এবং এই বিষয়ে সচেতনতা তুলনামূলক কম—এ কারণেই বিষয়টি কম আলোচনায় আসে।
সংগৃহীত