07/11/2025
ভ্যাকসিন যেভাবে আবিষ্কার হলো
জেনে অবাক হবেন ভ্যাকসিনের ধারণার সূত্রপাত কিন্তু আমাদের এশিয়া মহাদেশেই। আনুমানিক ১০০০–১৫০০ সালে প্রাচীন ভারতবর্ষ, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যে ভ্যারিওলেশন নামে এক পদ্ধতি চালু ছিল। এ পদ্ধতিতে গুটি বসন্ত (Smallpox) আক্রান্ত ব্যক্তির ঘা থেকে সংগৃহীত শুকনো পদার্থ বা ফোস্কার তরল অল্প পরিমাণে সুস্থ ব্যক্তির নাকে বা ত্বকে প্রয়োগ করা হতো।
উদ্দেশ্য ছিল এর মাধ্যমে হালকা সংক্রমণ ঘটিয়ে ভবিষ্যতে মারাত্মক সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেওয়া। তবে এটি খুব নিরপাদ পদ্ধতি ছিল না। কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর সংক্রমণ ও মৃত্যু ঘটত। ১৭২১ সালে লেডি মেরী ওর্টলি মন্তাগু তুরস্ক থেকে শিখে এসে ইউরোপে ভ্যারিওলেশন পদ্ধতি সূচনা করেন।
আধুনিক ভ্যাকসিনের সূচনা হয় এডওয়ার্ড জেনার নামক একজন ইংরেজ চিকিৎসকের মাধ্যমে ১৭৭৬ সালের মে মাসে। জেনার লক্ষ্য করেন যে যারা গরুর গুটি বসন্তে (Cowpox) আক্রান্ত হয়, তারা মানুষের গুটি বসন্তে (Smallpox) আক্রান্ত হয় না।
তিনি জেমস ফিপস নামক ৮ বছর বয়সী এক বালকের শরীরে গরুর গুটি বসন্ত ভাইরাস বা কাউ পক্স ভাইরাস প্রবেশ করান। এর দুই মাস পর তিনি ফিপসের শরীরে স্মল পক্স ভাইরাস প্রবেশ করান এবং দেখেন ফিপস স্মল পক্স ভাইরাসে আক্রান্ত হলোনা। অর্থাৎ, গরুর স্মল পক্স ভাইরাস মানুষের স্মল পক্স ভাইরাসের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। এটি ছিল মানব ইতিহাসে প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত টিকা। এডওয়ার্ড জেনারকে তাই ভ্যাকসিনের জনক বলা হয়।
এরপর ফরাসি ফার্মাসিস্ট ও অণুজীববিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (Louis Pasteur) ভ্যাকসিন বিজ্ঞানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। ১৮৭২ সালে তার দুই মেয়ে টাইফয়েডে মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু, তিনি দমে যান নি। সে বছরেই তিনি প্রথম গবেষণাগারে তৈরি মুরগীর কলেরার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেন। পরে তিনি জলাতঙ্কের (Rabies) টিকা উদ্ভাবন করেন এবং জীবাণুর রোগক্ষমতা হ্রাস করার কৌশল আবিষ্কার করেন। তাই তাঁকে “Father of Immunology” বলা হয়।
এরপর ১৮৯৬ সালে টাইফয়েড ভ্যাকসিন, ১৯২১ সালে যক্ষ্মার বিসিজি ভ্যাকসিন, ১৯২৩ সালে ডিপথেরিয়া টক্সয়েড ভ্যাকসিন, ১৯২৬ সালে পারটুসিস, ১৯৩২ সালে ইয়োলো ফিভার, ১৯৪৫ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা, ১৯৫৫ সালে পোলিও, ১৯৬২ সালে ওরাল পোলিও, ১৯৬৩ সালে হাম, ১৯৭০ সালে রুবেলা, ১৯৮১ সালে হেপাটাইটিস বি, ১৯৮৫ সালে হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি (Hib), ১৯৯৬ সালে চিকেন পক্স (Varicella), ২০০৬ সালে এইচপিভি বা জরায়ুমুখের ক্যান্সার, ২০১৯ সালে ইবোলা এবং সবশেষ ২০২০ সালে কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়।
প্রফেসর মোঃ আজিজুর রহমান শামীম, ফার্মেসি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়