08/04/2026
মাল্টিটাস্কিংকে আমরা সাধারণত কর্মদক্ষতার একটি চিহ্ন হিসেবে দেখি। অনেকেই মনে করেন, একই সময়ে একাধিক কাজ করা মানেই বেশি প্রোডাক্টিভ হওয়া। কিন্তু বাস্তবে মানব মস্তিষ্ক একসাথে একাধিক কাজ করতে পারে না; বরং দ্রুত এক কাজ থেকে অন্য কাজে সুইচ করে। এই টাস্ক সুইচিংয়ের ফলে মনোযোগ ভেঙে যায়, কাজের মান কমে এবং ভুলের পরিমাণ বেড়ে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত মাল্টিটাস্কিং মস্তিষ্কের ওপর চাপ বাড়ায়, ফোকাস নষ্ট করে এবং প্রোডাক্টিভিটি প্রায় ৪০% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। কাজের মধ্যে বারবার মনোযোগ পরিবর্তন করলে কাজের গতি কমে যায় এবং ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ২০% পর্যন্ত বেড়ে যায়। এর ফলে মানসিক ক্লান্তি ও স্ট্রেসও বৃদ্ধি পায়।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব একাধিক কাজ করা মাল্টিটাস্কিং নয়। দিনের ভিন্ন সময়ে ভিন্ন কাজ করা, যেমন চাকরি, পড়াশোনা বা পরিবার সামলানো, এগুলো মাল্টিটাস্কিং নয়। আসল মাল্টিটাস্কিং হলো একই সময়ে একাধিক কাজে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা, যা মস্তিষ্কের জন্য স্বাভাবিক নয়।
মাল্টিটাস্কিং প্রোডাক্টিভিটি কমানোর পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করে। মস্তিষ্ক একসাথে একাধিক কাজ প্রসেস করতে পারে না, ফলে দ্রুত এক কাজ থেকে অন্য কাজে সুইচ করতে গিয়ে মানসিক চাপ বেড়ে যায়। এক কাজ থেকে অন্য কাজে যেতে যে সময় লাগে, তা অদৃশ্যভাবে অনেক সময় নষ্ট করে। মনোযোগ বিভক্ত থাকায় কাজের গুণমান কমে যায় এবং ভুলের হারও বেড়ে যায়।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া, নোটিফিকেশন এবং একাধিক ট্যাব আমাদের মনোযোগকে খুব সহজেই বিভক্ত করে দেয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময়ও আমরা পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারি না।
সমাধান হিসেবে মনোবিজ্ঞানীরা মাইন্ডফুলনেস বা একাগ্রতার ওপর জোর দেন। একসাথে একটি কাজেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর। নির্দিষ্ট সময় ধরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছাড়া গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করলে কাজের মান ও গতি বাড়ে। পাশাপাশি টানা কাজ না করে মাঝেমধ্যে ছোট বিরতি নিলে মস্তিষ্ক সতেজ থাকে এবং ফোকাস বজায় থাকে।
তবে সব ক্ষেত্রে মাল্টিটাস্কিং খারাপ নয়। ছোট বা কম গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যেমন ঘর গোছানোর সময় গান শোনা, একসাথে করা যেতে পারে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় একাগ্রতা অপরিহার্য।
সবশেষে, মানব মস্তিষ্কের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে একবারে একটি কাজে মনোযোগ দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। এতে কাজ সহজ হয়, ফলাফল ভালো আসে এবং অপ্রয়োজনীয় অপরাধবোধ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।