15/03/2026
রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ এমন একটি অভিজ্ঞতা হতে পারে যেখানে মানুষের মনে হয় সে জেগে আছে, চারপাশের সবকিছু বুঝতে পারছে কিন্তু শরীর একদমই নড়াতে পারছে না। কথা বলতে চাইলে মুখ দিয়ে শব্দ বের হয় না, হাত-পা নড়ানো যায় না। অনেক সময় মনে হয় যেন বুকে ভারী কিছু চাপা পড়েছে বা ঘরে কারও উপস্থিতি আছে। কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর হঠাৎ করেই সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। এই অভিজ্ঞতাটিকেই বলা হয় স্লিপ প্যারালাইসিস।
বৈজ্ঞানিকভাবে এটি ঘটে ঘুমের একটি বিশেষ পর্যায়, যাকে REM (Rapid Eye Movement) sleep বলা হয়, সেই সময়ের কারণে। এই পর্যায়ে মানুষ স্বপ্ন দেখে এবং তখন মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই শরীরের পেশীগুলোকে সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখে, যাতে আমরা স্বপ্ন অনুযায়ী বাস্তবে নড়াচড়া না করি। কিন্তু কখনো কখনো এমন হয় যে মস্তিষ্ক জেগে যায়, অথচ শরীর তখনও সেই নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। ফলে মানুষ সচেতন থাকে, কিন্তু শরীর নড়াতে পারে না। এই সময় অনেকের হ্যালুসিনেশনও হতে পারে। অর্থাৎ বাস্তবে না থাকা কোনো মানুষ বা ছায়া দেখা, কারও হাঁটার শব্দ শোনা, বা মনে হওয়া যে কেউ ঘরে আছে। এ কারণেই অনেক সংস্কৃতিতে এটিকে অতিপ্রাকৃত ঘটনা বা “ভূতের চাপা” বলে মনে করা হয়। কিন্তু আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে, এটি আসলে মস্তিষ্কের ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থার একটি সাময়িক বিভ্রান্তি।
অনিয়মিত ঘুম, ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা পিঠের ওপর চিত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে স্লিপ প্যারালাইসিস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আসলে স্লিপ প্যারালাইসিস সাধারণত বিপজ্জনক নয়। এটি মূলত মস্তিষ্ক ও শরীরের ঘুমের সময়ের সাময়িক অসামঞ্জস্যের ফল। নিয়মিত ঘুমের সময় বজায় রাখা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং স্ট্রেস কমিয়ে রাখলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই অভিজ্ঞতা কমে যায়। গবেষণা বলছে, পৃথিবীর প্রায় ৮–৩০% মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় অন্তত একবার স্লিপ প্যারালাইসিসের অভিজ্ঞতা পায়। অর্থাৎ, এটি যতটা রহস্যময় মনে হয়, বাস্তবে ততটাই সাধারণ একটি ঘুমজনিত ঘটনা।
আপনার কি কখনো এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে?