NiroPlus - Your Wellness Partner

NiroPlus - Your Wellness Partner NiroPlus – Your Wellness Partner
পরিবারের সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা। মা, শিশু, তরুণ, প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রবীণ—সবার জন্য বিশ্বাসযোগ্য হেলথ ও ওয়েলনেস সলিউশন।

রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ এমন একটি অভিজ্ঞতা হতে পারে যেখানে মানুষের মনে হয় সে জেগে আছে, চারপাশের সবকিছু বুঝতে পারছে কিন্তু শ...
15/03/2026

রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ এমন একটি অভিজ্ঞতা হতে পারে যেখানে মানুষের মনে হয় সে জেগে আছে, চারপাশের সবকিছু বুঝতে পারছে কিন্তু শরীর একদমই নড়াতে পারছে না। কথা বলতে চাইলে মুখ দিয়ে শব্দ বের হয় না, হাত-পা নড়ানো যায় না। অনেক সময় মনে হয় যেন বুকে ভারী কিছু চাপা পড়েছে বা ঘরে কারও উপস্থিতি আছে। কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর হঠাৎ করেই সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। এই অভিজ্ঞতাটিকেই বলা হয় স্লিপ প্যারালাইসিস।

বৈজ্ঞানিকভাবে এটি ঘটে ঘুমের একটি বিশেষ পর্যায়, যাকে REM (Rapid Eye Movement) sleep বলা হয়, সেই সময়ের কারণে। এই পর্যায়ে মানুষ স্বপ্ন দেখে এবং তখন মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই শরীরের পেশীগুলোকে সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখে, যাতে আমরা স্বপ্ন অনুযায়ী বাস্তবে নড়াচড়া না করি। কিন্তু কখনো কখনো এমন হয় যে মস্তিষ্ক জেগে যায়, অথচ শরীর তখনও সেই নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। ফলে মানুষ সচেতন থাকে, কিন্তু শরীর নড়াতে পারে না। এই সময় অনেকের হ্যালুসিনেশনও হতে পারে। অর্থাৎ বাস্তবে না থাকা কোনো মানুষ বা ছায়া দেখা, কারও হাঁটার শব্দ শোনা, বা মনে হওয়া যে কেউ ঘরে আছে। এ কারণেই অনেক সংস্কৃতিতে এটিকে অতিপ্রাকৃত ঘটনা বা “ভূতের চাপা” বলে মনে করা হয়। কিন্তু আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে, এটি আসলে মস্তিষ্কের ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থার একটি সাময়িক বিভ্রান্তি।

অনিয়মিত ঘুম, ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা পিঠের ওপর চিত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে স্লিপ প্যারালাইসিস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আসলে স্লিপ প্যারালাইসিস সাধারণত বিপজ্জনক নয়। এটি মূলত মস্তিষ্ক ও শরীরের ঘুমের সময়ের সাময়িক অসামঞ্জস্যের ফল। নিয়মিত ঘুমের সময় বজায় রাখা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং স্ট্রেস কমিয়ে রাখলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই অভিজ্ঞতা কমে যায়। গবেষণা বলছে, পৃথিবীর প্রায় ৮–৩০% মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় অন্তত একবার স্লিপ প্যারালাইসিসের অভিজ্ঞতা পায়। অর্থাৎ, এটি যতটা রহস্যময় মনে হয়, বাস্তবে ততটাই সাধারণ একটি ঘুমজনিত ঘটনা।
আপনার কি কখনো এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে?

ধরুন, একজন মানুষ হঠাৎ একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা, সহিংস ঘটনা বা খুব আঘাতমূলক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলেন। সাধারণত এমন ঘটনার পর কি...
14/03/2026

ধরুন, একজন মানুষ হঠাৎ একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা, সহিংস ঘটনা বা খুব আঘাতমূলক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলেন। সাধারণত এমন ঘটনার পর কিছুদিন ভয়, অস্থিরতা বা দুঃস্বপ্ন হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক সেই অভিজ্ঞতাকে “স্বাভাবিক স্মৃতি” হিসেবে প্রক্রিয়া করতে পারে না। তখন সেই স্মৃতিটি মস্তিষ্কে এমনভাবে সংরক্ষিত থাকে, যেন ঘটনাটি এখনও ঘটছে। এই অবস্থাকেই বলা হয় পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD)।

নিউরোসায়েন্সের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, ট্রমাটিক ঘটনার সময় মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা (Amygdala) অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। অ্যামিগডালা মূলত ভয় ও বিপদের সংকেত শনাক্ত করে। একই সময় হিপোক্যাম্পাস (Hippocampus), যা স্মৃতিকে সময় ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সংগঠিত করে, সেটি অনেক সময় সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে মস্তিষ্ক সেই ঘটনার স্মৃতিকে অতিরিক্ত শক্তিশালী “ভয়-সংকেত” হিসেবে ধরে রাখে। এর কারণে সামান্য কোনো শব্দ, দৃশ্য বা পরিস্থিতিও সেই ঘটনার স্মৃতি আবার সক্রিয় করে দিতে পারে।

এই কারণে PTSD-এ আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়। অনেক সময় তারা হঠাৎ করে সেই ঘটনার ফ্ল্যাশব্যাক অনুভব করেন, যেন ঘটনাটি আবার ঘটছে। রাতে দুঃস্বপ্ন দেখা বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে। তারা এমন জায়গা, মানুষ বা পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে শুরু করেন যা সেই ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। পাশাপাশি সবসময় অস্থির থাকা, সহজেই চমকে ওঠা, খিটখিটে মেজাজ বা মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অনুভূতিও দেখা দিতে পারে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো PTSD স্থায়ী বা অনিরাময়যোগ্য সমস্যা নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT), এক্সপোজার থেরাপি বা অন্যান্য ট্রমা-কেন্দ্রিক থেরাপির মাধ্যমে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সেই স্মৃতিকে নতুনভাবে প্রক্রিয়া করতে শেখে। ফলে ভয় ও উদ্বেগের প্রতিক্রিয়াও কমে আসে। প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ওষুধও ব্যবহার করা হয়, যা উদ্বেগ ও বিষণ্নতার লক্ষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

সহজভাবে বলা যায়, PTSD হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে মস্তিষ্ক অতীতের একটি ভয়াবহ ঘটনাকে এখনও “বর্তমান বিপদ” হিসেবে অনুভব করতে থাকে। কিন্তু সঠিক চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং সময়ের মাধ্যমে মস্তিষ্ক আবার ধীরে ধীরে নিরাপত্তার অনুভূতি ফিরে পেতে পারে।

প্রকৃতির মাঝে কিছু সময় কাটানো শুধু মন ভালো করার একটি অনুভূতি নয়; এর পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও রয়েছে। পার্ক, গাছপালা ব...
12/03/2026

প্রকৃতির মাঝে কিছু সময় কাটানো শুধু মন ভালো করার একটি অনুভূতি নয়; এর পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও রয়েছে। পার্ক, গাছপালা বা প্রাকৃতিক দৃশ্যের কাছে সময় কাটালে শরীরে কর্টিসল (Cortisol) নামের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। কর্টিসল বেশি হলে মানুষ মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ক্লান্তি বেশি অনুভব করে, তাই এর মাত্রা কমে গেলে মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

প্রকৃতির দৃশ্য, বাতাস, শব্দ এবং গন্ধ আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে ধীরে ধীরে শান্ত করতে সাহায্য করে। এতে মস্তিষ্কের যে অংশগুলো মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক স্থিতিশীলতার সাথে যুক্ত, সেগুলোর কার্যক্ষমতা উন্নত হতে পারে। ফলে মনোযোগ বাড়ে, চিন্তা কিছুটা পরিষ্কার হয় এবং আবেগের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে প্রায় ১২০ মিনিট বা প্রতিদিন গড়ে অন্তত ২০ মিনিট প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকলে মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। নিয়মিত পার্কে হাঁটা, সবুজ পরিবেশে কিছু সময় কাটানো, বা গাছপালার কাছে থাকার মতো ছোট অভ্যাসগুলোই ধীরে ধীরে মানসিক চাপ কমাতে, মেজাজ উন্নত করতে এবং মনকে আরও স্থির করতে সাহায্য করতে পারে।

অনেক মানুষ নতুন কোনো অভ্যাস শুরু করতে চায়, যেমন নিয়মিত ব্যায়াম করা, প্রতিদিন পড়াশোনা করা বা মোবাইল ব্যবহার কমানো। শুরুতে...
11/03/2026

অনেক মানুষ নতুন কোনো অভ্যাস শুরু করতে চায়, যেমন নিয়মিত ব্যায়াম করা, প্রতিদিন পড়াশোনা করা বা মোবাইল ব্যবহার কমানো। শুরুতে কয়েকদিন উৎসাহ থাকে, কিন্তু কিছুদিন পর দেখা যায় সেই অভ্যাসটি ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এর পেছনে মস্তিষ্কের কিছু স্বাভাবিক কাজের ধরণ জড়িত।

মানুষের মস্তিষ্ক শক্তি বাঁচাতে চায়। এজন্য মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে এমন কাজগুলোকে অভ্যাসে পরিণত করে যেগুলো আমরা বারবার করি। যখন কোনো কাজ দীর্ঘ সময় ধরে পুনরাবৃত্তি হয়, মস্তিষ্কের বেসাল গ্যাংলিয়া অংশ সেই কাজটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করতে শুরু করে। ফলে কাজটি করতে বেশি চিন্তা বা মানসিক শক্তি লাগে না, যেমন সাইকেল চালানো, দাঁত ব্রাশ করা বা প্রতিদিন মোবাইল নেওয়া।

কিন্তু নতুন অভ্যাস তৈরি করতে হলে মস্তিষ্ককে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এতে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স, যা পরিকল্পনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত, বেশি সক্রিয় হয়। এই অংশটি দীর্ঘ সময় ধরে একইভাবে কাজ করতে গেলে বেশ শক্তি লাগে। এজন্য নতুন অভ্যাস শুরুতে মানসিকভাবে কষ্টকর মনে হয়।

আরেকটি বিষয় হলো ডোপামিন নামের একটি নিউরোট্রান্সমিটার। ডোপামিন আমাদের প্রেরণা এবং পুরস্কারের অনুভূতির সঙ্গে জড়িত। পুরোনো অভ্যাস যেমন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, জাঙ্ক ফুড খাওয়া বা সহজ আনন্দের কাজগুলো দ্রুত ডোপামিন নিঃসরণ করে। ফলে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই পরিচিত এবং দ্রুত আনন্দ পাওয়া আচরণের দিকে ফিরে যেতে চায়। নতুন অভ্যাসের ফল ধীরে আসে, তাই মস্তিষ্ক প্রথমে সেগুলোকে ততটা আকর্ষণীয় মনে করে না।

নিউরোসায়েন্সে এক ধারণা হলো নিউরোপ্লাস্টিসিটি, যা বোঝায় মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংযোগ অভ্যাস ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরিবর্তিত বা শক্তিশালী হতে পারে। পুরোনো অভ্যাস বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠায়, সেই সংযোগগুলো খুব শক্তিশালী হয়ে যায়। নতুন অভ্যাস গড়তে হলে পুরোনো পথের পাশাপাশি নতুন স্নায়বিক সংযোগ তৈরি করতে হয়, যা সময় এবং ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

এই কারণেই নতুন অভ্যাস শুরুতে কঠিন মনে হয়। তবে গবেষকরা বলেন, ছোট ধাপে শুরু করা, নির্দিষ্ট সময় বা পরিবেশে অভ্যাসটি পুনরাবৃত্তি করা এবং ধৈর্য ধরে চালিয়ে যাওয়া মস্তিষ্কে নতুন স্নায়ুপথ শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। সময়ের সাথে সাথে নতুন অভ্যাসও স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কের জন্য পরিচিত হয়ে ওঠে।

মন খারাপের সময়টা অনেকের কাছেই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে রাতের বেলা। চারপাশে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন অনেক সময় মাথার ভেতর চিন্ত...
09/03/2026

মন খারাপের সময়টা অনেকের কাছেই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে রাতের বেলা। চারপাশে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন অনেক সময় মাথার ভেতর চিন্তার ঝড় থামতে চায় না। পুরোনো কষ্ট, সম্পর্কের ভাঙন, একাকীত্ব কিংবা অজানা ভয়, সবকিছু একসাথে এসে বুকটা ভারী করে তোলে। এমন সময় অনেকেরই একা থাকতে ইচ্ছে করে। কারও সাথে কথা বলতে মন চায় না, মনে হয় অন্ধকার ঘরের এক কোণে চুপচাপ বসে থাকলেই যেন একটু শান্তি পাওয়া যাবে।

মাঝেমধ্যে নিজের সাথে সময় কাটানো বা ‘Me Time’ নেওয়া খারাপ কিছু নয়। বরং এটি আমাদের চিন্তাগুলোকে গুছিয়ে নিতে এবং নিজের অনুভূতিগুলো বুঝতে সাহায্য করে। কিন্তু যদি এই একা থাকার প্রবণতা ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয় এবং মানুষকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, তখন সেটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে একা থাকা অনেক সময় ডিপ্রেশন, উদ্বেগ এবং ঘুমের সমস্যার মতো মানসিক জটিলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে মানুষ একা থাকতে চায় কারণ মানসিক চাপ এত বেশি হয়ে যায় যে কথা বলার শক্তিটাই হারিয়ে ফেলে। আবার অনেকের ভয় থাকে হয়তো অন্যরা তাদের অনুভূতিগুলো বুঝবে না বা গুরুত্ব দেবে না। কখনো কখনো অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা ওভারথিংকিং থেকেও মানুষ নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়, যেন কিছু সময়ের জন্য হলেও মনের ভেতরের চাপটা কমে।

তবে মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, আপনার কষ্টটা বাস্তব এবং আপনার অনুভূতিগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। মন খারাপের সময় নিজেকে দোষারোপ না করে সাহায্য চাওয়াটা দুর্বলতার নয়, বরং সাহসের লক্ষণ। একজন অভিজ্ঞ সাইকিয়াট্রিস্ট বা কাউন্সেলরের সাথে কথা বললে অনেক সময় মনটা হালকা হয়ে আসে এবং সমস্যাগুলো বোঝার ও সমাধানের পথও ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে শুরু করে। তাই চুপচাপ কষ্ট না পেয়ে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন এবং প্রয়োজন হলে কারও সাথে কথা বলুন।

অতিরিক্ত স্ট্রেস অনুভব করলে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের পাশাপাশি কুসুম গরম পানিতে গোসল করা শরীর ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে। উ...
08/03/2026

অতিরিক্ত স্ট্রেস অনুভব করলে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের পাশাপাশি কুসুম গরম পানিতে গোসল করা শরীর ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে। উষ্ণ পানির সংস্পর্শে এলে শরীরের পেশীগুলো ধীরে ধীরে শিথিল হতে শুরু করে এবং স্নায়ুতন্ত্র শান্ত হতে সাহায্য পায়। এর ফলে মস্তিষ্কে স্ট্রেসের সাথে সম্পর্কিত হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কিছুটা কমতে পারে, যা মানসিক চাপ হালকা করতে সহায়তা করে।

একই সঙ্গে উষ্ণ পানিতে গোসল করলে শরীর থেকে এন্ডোরফিন নামের “ফিল-গুড” হরমোন নিঃসরণ হতে পারে, যা মেজাজ ভালো রাখতে এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। তাই অতিরিক্ত মানসিক চাপের মুহূর্তে কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস নেওয়া এবং কুসুম গরম পানিতে গোসল করা শরীর ও মন দুটোকেই কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।

অনেক সময় জীবন খুব কঠিন হয়ে ওঠে। কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা, পারিবারিক সমস্যা, সব মিলিয়ে মানুষ ভেতরে ভেতরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এম...
07/03/2026

অনেক সময় জীবন খুব কঠিন হয়ে ওঠে। কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা, পারিবারিক সমস্যা, সব মিলিয়ে মানুষ ভেতরে ভেতরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এমন সময় হয়তো কোনো বন্ধু হঠাৎ একটা মজার কথা বলল, অথবা কোনো ছোট ঘটনায় সবাই একসাথে হেসে উঠল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই ছোট্ট হাসির পর অনেক সময় মানুষ অনুভব করে মনের ভেতরের চাপটা যেন একটু হলেও হালকা হয়ে গেছে।

এর পেছনে আসলে একটি বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। যখন একজন মানুষ হাসে, তখন তার মস্তিষ্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়। যেমন ডোপামিন, সেরোটোনিন এবং এন্ডোরফিন। এগুলোকে সাধারণভাবে “ফিল-গুড কেমিক্যাল” বলা হয়। এই রাসায়নিকগুলো মানুষের মুড ভালো রাখতে সাহায্য করে, উদ্বেগ কমায় এবং মনের ভেতরে স্বস্তির অনুভূতি তৈরি করে। তাই অনেক সময় হাসির পর মানুষ স্বাভাবিকভাবেই একটু হালকা অনুভব করে।

অন্যদিকে, আমরা যখন দীর্ঘ সময় দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপে থাকি, তখন শরীরে কর্টিসল নামের একটি স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোন দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে মানুষ ক্লান্তি, অস্থিরতা এবং মানসিক অবসাদ অনুভব করতে পারে। কিন্তু হাসি এই কর্টিসলের মাত্রা কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। ফলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে স্বস্তি পেতে শুরু করে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এমনকি কেউ যদি ইচ্ছা করে হাসার চেষ্টা করে, তবুও মস্তিষ্ক অনেক সময় সেটিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে গ্রহণ করে। অর্থাৎ, হাসির ছোট্ট সেই মুহূর্তও মনের অবস্থাকে ধীরে ধীরে ভালো করার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।

এই কারণেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন, হাসি মানুষের জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক মানসিক সহায়তা। এটি শুধু আনন্দ প্রকাশ করে না, বরং মানুষের মস্তিষ্ককে চাপের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পেতে সাহায্য করে। তাই ব্যস্ত জীবনের মাঝেও এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করা দরকার যেখানে আমরা স্বাভাবিকভাবে হাসতে পারি। কারণ অনেক সময় একটি ছোট হাসিই মানুষের ভেতরের ভারটা কিছুটা হলেও হালকা করে দেয়।

দীর্ঘমেয়াদি একাকীত্ব বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদি...
06/03/2026

দীর্ঘমেয়াদি একাকীত্ব বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন একাকী জীবনযাপন শরীরের উপর এমন প্রভাব ফেলতে পারে যা প্রতিদিন প্রায় ১৫টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিকর হতে পারে। এটি শুধু মানসিক সমস্যাই সৃষ্টি করে না, বরং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপরও গভীর প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি একাকীত্ব হৃদরোগ, স্ট্রোক, স্মৃতিভ্রম (ডিমেনশিয়া) এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ২৬% থেকে ৫০% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। এর কারণ হলো, একাকীত্ব শরীরে দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস তৈরি করে, যার ফলে কোর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি পায়।

বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ২৯% এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ৩২% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে এটি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে যা উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার প্রবণতাও বাড়াতে পারে। এমনকি কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি একাকীত্বের স্বাস্থ্যঝুঁকি স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা বায়ু দূষণের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।

একাকীত্ব কমানোর জন্য প্রতিদিন অন্তত একজন মানুষের সাথে অর্থপূর্ণ কথা বলার চেষ্টা করুন। নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা, বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো, বা কোনো সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত হওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। একই সাথে দৈনন্দিন জীবনে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া এবং নিজের অনুভূতি খোলামেলা প্রকাশ করার অভ্যাস তৈরি করা একাকীত্ব কমাতে সাহায্য করে। যদি দীর্ঘদিন ধরে একাকীত্ব বা মানসিক কষ্ট অনুভূত হয়, তাহলে একজন মনোবিদ বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

টানা ৮ সপ্তাহ (প্রায় দুই মাস) প্রতিদিন ১০–১৫ মিনিট নিয়মিত মেডিটেশন করলে মস্তিষ্কে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বিভি...
05/03/2026

টানা ৮ সপ্তাহ (প্রায় দুই মাস) প্রতিদিন ১০–১৫ মিনিট নিয়মিত মেডিটেশন করলে মস্তিষ্কে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বিভিন্ন নিউরোসায়েন্স গবেষণায় দেখা গেছে, এই অভ্যাস মস্তিষ্কের স্মৃতি ও শেখার সাথে সম্পর্কিত অংশে (gray matter) বৃদ্ধি ঘটাতে পারে এবং স্ট্রেসের সাথে সম্পর্কিত অংশ (amygdala) কম সক্রিয় হয়ে যায়। এর ফলে ধীরে ধীরে স্ট্রেস, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমতে শুরু করে।

🔰মেডিটেশনের ফলে মস্তিষ্কে যেসব পরিবর্তন দেখা যেতে পারে:
▶স্ট্রেস ও উদ্বেগ কমে: মস্তিষ্কের amygdala অংশ কম সক্রিয় হয়, যা ভয়, চাপ ও উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
▶স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ে: hippocampus অঞ্চলে gray matter বৃদ্ধি পেতে পারে, যা শেখা, স্মৃতি এবং মনোযোগের সাথে সম্পর্কিত।
▶আবেগ নিয়ন্ত্রণ উন্নত হয়: নিয়মিত মেডিটেশন মানুষকে নিজের আবেগ বুঝতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, ফলে মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।
▶নিউরোপ্লাস্টিসিটি সক্রিয় হয়: মস্তিষ্ক নতুন স্নায়বিক সংযোগ তৈরি করতে পারে, যার ফলে চিন্তা, মনোযোগ ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

🔰কিভাবে শুরু করবেন?
▶প্রতিদিন একই সময়ে ১০–১৫ মিনিট সময় নিন।
▶শান্ত জায়গায় বসে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর মনোযোগ দিন।
▶মন অন্যদিকে চলে গেলে নিজেকে দোষ না দিয়ে আবার আলতোভাবে শ্বাসের ওপর ফোকাস ফিরিয়ে আনুন।

জীবনের বড় পরিবর্তন শুরু হয় মাত্র কয়েক মিনিটের একটি সচেতন নীরবতা থেকে, তাই প্রতিদিন অল্প সময় নিজের জন্য বের করে মেডিটেশন শুরু করুন।

ধরুন, আপনি বসে টিভি দেখছেন। হঠাৎ উঠে দাঁড়ালেন। এমন সময় চোখের পাতা ভারী হয়ে এলো, মুখের পেশী ঢিলে হয়ে গেল, হাঁটু কাঁপতে শু...
04/03/2026

ধরুন, আপনি বসে টিভি দেখছেন। হঠাৎ উঠে দাঁড়ালেন। এমন সময় চোখের পাতা ভারী হয়ে এলো, মুখের পেশী ঢিলে হয়ে গেল, হাঁটু কাঁপতে শুরু করলো এবং ধপ করে বসে পড়লেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো পুরো সময়টাই আপনি সচেতন। চারপাশের সবকিছু দেখছেন, শুনছেন, বুঝছেন, কিন্তু শরীর যেন মুহূর্তের জন্য সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দিল। এই অবস্থাটির নাম ক্যাটাপ্লেক্সি।

ক্যাটাপ্লেক্সি একটি স্নায়বিক সমস্যা, যা সাধারণত Narcolepsy নামের ঘুমজনিত রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি কয়েক সেকেন্ড থেকে ১ থেকে ২ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ সময় চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে, মুখ ঝুলে যেতে পারে, কথা জড়িয়ে যায়, হাঁটু কাঁপতে পারে কিংবা পুরো শরীর ঢলে পড়তে পারে। কিন্তু ব্যক্তি অজ্ঞান হন না। এটিই এই অবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

🔰কেন হয় এমন?
নারকোলেপসিতে মস্তিষ্কে হাইপোক্রেটিন বা Orexin নামের একটি নিউরোকেমিক্যালের ঘাটতি থাকে। এই রাসায়নিকটি আমাদের ঘুম ও জাগ্রত অবস্থার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এর মাত্রা কমে যায়, তখন তীব্র আবেগ যেমন হাসি, রাগ, ভয় বা উত্তেজনার মুহূর্তে মস্তিষ্ক ভুল সংকেত পাঠায়। ফলাফল হিসেবে শরীরে REM sleep এর মতো পেশী শিথিলতা তৈরি হয়।
অর্থাৎ আপনি জেগে আছেন, কিন্তু শরীর স্বপ্নের ঘুমের মতো আচরণ করছে।

🔰এটি কি বিপজ্জনক?
ক্যাটাপ্লেক্সি নিজে প্রাণঘাতী নয়। তবে হঠাৎ পড়ে গেলে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়, স্লিপ স্টাডি এবং নিউরোলজিস্টের পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি। যথাযথ চিকিৎসা ও জীবনযাপনের শৃঙ্খলা বজায় রাখলে এ অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক সময় এই লক্ষণকে দুর্বলতা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা মানসিক সমস্যা হিসেবে ভুল বোঝা হয়। কিন্তু এটি একটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত স্নায়বিক অবস্থা, যার সঠিক ব্যাখ্যা ও চিকিৎসা রয়েছে।

ঘুম মানে শুধু শরীর বিশ্রাম নেওয়া না, ঘুম হলো মস্তিষ্কের “ডাটা সেভ” করার সময়। সারাদিন আপনি যা পড়েন, দেখেন, শোনেন সব তথ্য ...
03/03/2026

ঘুম মানে শুধু শরীর বিশ্রাম নেওয়া না, ঘুম হলো মস্তিষ্কের “ডাটা সেভ” করার সময়। সারাদিন আপনি যা পড়েন, দেখেন, শোনেন সব তথ্য আগে মস্তিষ্কের একটি অংশে (হিপোক্যাম্পাস) জমা হয়। রাতে গভীর ঘুমের সময় সেগুলো স্থায়ী স্মৃতিতে পাঠানো হয়। কিন্তু আপনি যদি ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান বা রাত জাগেন, এই “সেভ” করার প্রক্রিয়া ঠিকমতো হয় না। তাই গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম কম হলে শেখা জিনিস মনে রাখার ক্ষমতা প্রায় ২০–৪০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

ঘুম সময় নষ্ট নয়, এটা মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয়। নিয়মিত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম, নির্দিষ্ট সময়ে শোয়া-ওঠা, ঘুমের আগে মোবাইল কম ব্যবহার করা, বিকালের পর বেশি চা-কফি না খাওয়া এই ছোট অভ্যাসগুলোই স্মৃতি, মনোযোগ আর মানসিক স্থিতি রক্ষা করতে সাহায্য করে।

২৪ ঘণ্টা না ঘুমালে মানুষ যে “মদ্যপ” মানুষের মতো আচরণ করতে পারে এটা কোনো অতিরঞ্জিত কথা নয়, বরং নিউরোসায়েন্সভিত্তিক একটি ব...
02/03/2026

২৪ ঘণ্টা না ঘুমালে মানুষ যে “মদ্যপ” মানুষের মতো আচরণ করতে পারে এটা কোনো অতিরঞ্জিত কথা নয়, বরং নিউরোসায়েন্সভিত্তিক একটি বাস্তব সত্য। দীর্ঘ সময় জেগে থাকলে মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স, যা সিদ্ধান্ত নেওয়া, যুক্তি করা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নের মতো উচ্চস্তরের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তার কার্যক্ষমতা কমে যায়। একই ঘটনা অ্যালকোহল গ্রহণের ক্ষেত্রেও ঘটে। তাই ২৪ ঘণ্টা ঘুম না হলে আপনার বিচারবোধ দুর্বল হয়ে পড়ে, ছোট ভুল বড় হয়ে যায়, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে ঠিক যেমনটা মাতাল অবস্থায় দেখা যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, টানা ১৭ থেকে ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকলে একজন মানুষের রিঅ্যাকশন টাইম এবং কগনিটিভ পারফরম্যান্স এমন পর্যায়ে নেমে আসে, যা রক্তে প্রায় ০.০৮% থেকে ০.১০% Blood Alcohol Concentration থাকার সমতুল্য। অনেক দেশে ০.০৮% BAC হলে গাড়ি চালানো আইনত নিষিদ্ধ। অর্থাৎ, আপনি যদি সারারাত জেগে থাকেন, তাহলে আইনগতভাবে “ড্রাঙ্ক” অবস্থার কাছাকাছি মানসিক সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছেন, যদিও আপনি এক ফোঁটা অ্যালকোহলও পান করেননি।

আরও ভয়ংকর বিষয় হলো “মাইক্রো-স্লিপ”। ঘুমের ঘাটতিতে মস্তিষ্ক হঠাৎ ১–৫ সেকেন্ডের জন্য আংশিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যদিও বাইরে থেকে আপনি জেগে আছেন বলে মনে হয়। এই ক্ষণিক ব্ল্যাকআউটগুলো আপনি নিজে টের পান না, কিন্তু ড্রাইভিং, মেশিন চালানো বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তা প্রাণঘাতী হতে পারে। ঠিক মদ্যপ মানুষের মতো, ঘুম-বঞ্চিত মানুষও প্রায়ই ভাবে সে ঠিক আছে কিন্তু তার নিউরোলজিক্যাল অবস্থা অন্য কথা বলে।

পরীক্ষার আগে সারারাত পড়া, নাইট শিফটের কাজ, ভোর পর্যন্ত গেম খেলা বা অনলাইন স্ক্রলিং এসবের পরের দিন আমরা নিজেদের স্বাভাবিক ভাবতে চাই। কিন্তু বাস্তবে তখন আমাদের মস্তিষ্ক আংশিক “ড্রাঙ্ক মোডে” কাজ করছে।

Address

Rajshahi
6100

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when NiroPlus - Your Wellness Partner posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram