26/07/2020
চিকিৎসা নিয়ে আর নয় কোনো ঝামেলা বা টেনশন , এখন হতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে টেলিমেডিসনের একটা একাউন্ট্ খুলা থাকলেই ঘরে বসে আপনার পরিবারের ছয় সদস্যকে বিশ্বের নাম করা ডাক্তার। আপনার পছন্দ মত ডাক্তারের তাদের সাথে কথা বলতে পারবেন ভিডিও কমফারেন্স এর মাধ্যমে । আর সেই চিকিৎসা অনুযায়ী রোগীদের প্রেসক্রিপশন নিতে পারবেন।
টেলিমেডিসিন এক ধরনের চিকিৎসা সেবা। দূর থেকে রোগীরা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকে অতিদ্রুত চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ নিতে পারেন এর মাধ্যমে। টেলিফোন, মোবাইল, ভিডিও কনফারেন্স বা অনলাইনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করার এই প্রক্রিয়াটি হলো টেলিমেডিসিন।
খুব সময়পোযোগী ছিল এই প্রযুক্তিটির ব্যবহার। মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা অপরিহার্য। তাই চিকিৎসকরা এই মহামারী থেকে বাঁচতে চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন। এ অবস্থায় সময়ের প্রয়োজনে চিকিৎসা সেবায় নতুন ধারার সৃষ্টি হয়েছে, সেটা হলো টেলিমেডিসিন সেবা। এই টেলিমেডিসিন সেবা হলো ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগী দেখা এবং রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেয়া। করোনাই মূলত এই পথ দেখিয়েছে।
করোনাভাইরাসের ক্রান্তিকালে দেশে ভার্চুয়াল স্বাস্থ্যসেবা বা টেলিমেডিসিন ব্যবহারের চাহিদা তীব্রভাবে বেড়েছে। সরকারিভাবে চালু করা টেলিমেডিসিন সেবায় প্রথম দিকে ৫ হাজার কল আসলেও প্রতিদিনই তা বাড়ে। এখন তা লাখ ছাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরাও সংক্রমণ হতে পারে বা সম্ভাবনা আছে এমন জায়গায় থাকতে চায় না। আর স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে টেলিমেডিসিন সেবা পদ্ধতি চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের জন্য একটি সহজ সমাধান। এছাড়া করোনা ছড়িয়ে পড়া রোধে এটা একটি সফল মাধ্যম। একই সঙ্গে এটা শুধু বর্তমানই নয়; ভবিষ্যতেও এর চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে।
কী ভাবে নিবেন টেলিমেডিসিনের সেবা?
চিকিৎসা ক্ষেত্রে টেলিমেডিসিনের প্রচলন মোটামুটি নতুন এবং আধুনিক একটি ধারণা। এখানে ডাক্তাররা টেলিভিশন স্ক্রিন এবং ক্যামেরার সামনে বসে দূর-দুরান্তের রোগীদের সেবা দিয়ে থাকেন। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে এই পদ্ধতি চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের জন্য সহজ সমাধান।
প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসুস্থ রোগীরা এখন গ্রামে বসেই রাজধানীর বড় বড় ডাক্তারদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারবেন। প্রয়োজনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসকের সঙ্গে রোগী কথা বলতে পারবেন, সমস্যাগুলো দেখাতেও পারবেন। পুরনো রোগীরা তাদের প্রেসক্রিপশন হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবারের পাঠিয়ে দিয়ে বিশেষজ্ঞের নতুন পরামর্শ নিতে পারবেন।
শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সুবিধাগুলো গ্রহণ করা যাচ্ছে। এর ফলে কোন রোগীকে আর হাজার হাজার টাকা খরচ করে গ্রাম থেকে ঢাকায় আসতে হচ্ছে না। আবার করোনাভাইরাসের ঝুঁকিও এড়ানো যাচ্ছে।
এটি ভিডিও চ্যাটের মাধ্যমে করা হয়, তাই রোগীকে ক্লিনিকে সরাসরি ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করতে হবে না। ফলে তারা অন্য লোকের সংস্পর্শে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে পারেন। ভার্চুয়াল এই পদ্ধতি বর্তমান করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া রোধে অনেকটা সফল বলে মনে করছেন ডাক্তাররা।
জানা গেছে, রাজধানীসহ সারাদেশের অধিকাংশ হাসপাতাল এই টেলিমেডিসিন সেবা চালু করেছে। এক্ষেত্রে রোগীরা তাদের আগের রিপোর্ট ই-মেইলে বা হোয়াটসঅ্যাপে চিকিৎসকের কাছে পাঠিয়ে টেলিফোনে বা ভিডিও কনফারেন্সে প্রয়োজনীয় করণীয় পাচ্ছেন। আবার চিকিৎসকরাও টেলিকনফারেন্সের অ্যাডভাইস ওই রোগীর ই-মেইলে বা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
টেলিমেডিসিন সেবা যারা দিচ্ছে-
স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় করোনার এ সময়ে সাধারণ মানুষকে ঘরে বসে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। চিকিৎসা সেবার জন্য হটলাইনগুলোর মাধ্যমে সাধারণ চিকিৎসকের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গেও কথা বলার সুযোগ থাকবে। যারা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন অথবা আইসোলেশনে থেকে হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করছেন তারা প্রত্যেকেই এই কল সেন্টারে ফোন করে চিকিৎসা সেবাসহ প্রয়োজনীয় নানা পরামর্শ নিতে পারবেন।
দিনরাত ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য চারটি হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।
একাউন্ট্ করতে চাইলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন ইনবক্সে।