মেসার্স সেলিম মেডিক্যাল হল।ডাঃ মো মোস্তাফিজুর রহমান

  • Home
  • Bangladesh
  • Tangail
  • মেসার্স সেলিম মেডিক্যাল হল।ডাঃ মো মোস্তাফিজুর রহমান

মেসার্স সেলিম মেডিক্যাল হল।ডাঃ মো মোস্তাফিজুর রহমান Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from মেসার্স সেলিম মেডিক্যাল হল।ডাঃ মো মোস্তাফিজুর রহমান, Medical supply store, M/s SALIM MEDICAL HALL, MYMENSINGH Road, Tangail.

09/08/2015

টনসিল বা গল-গ্রন্থির প্রদাহ লক্ষন ও চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নিন

টনসিলের সমস্যার কারণে গলাব্যথায় ভুগে থাকেন অনেকে। যদিও টনসিলের সমস্যা সব বয়সেই হয়ে থাকে, তারপরও শিশুদের ক্ষেত্রে টনসিলের ইনফেকশন একটু বেশি হয়। টনসিলের এই ইনফেকশনকে চিকিত্সাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় টনসিলাইটিস বা টনসিলের প্রদাহ।

টনসিল কি ?

জিহ্বার শেষপ্রান্তে, আলজিহ্বার নীচে বাম ও ডানপাশে বাদামের মতন ১.৫ সেন্টিমিটারের মত আকারে লালবর্ণের মাংসপিন্ডকে টনসিল (Tonsil) বলা হয়ে থাকে। টনসিল দেখতে মাংসপিণ্ডের মতো মনে হলেও এটি লসিকা কলা বা লিম্ফয়েড টিস্যু দিয়ে তৈরি। মুখগহ্বরের দু’পাশে দুটি টনসিলের অবস্থান । মুখ, গলা, নাক কিংবা সাইনাস হয়ে রোগজীবাণু অন্ত্রে বা পেটে ঢুকতে বাধা দেয় এই টনসিল অর্থাৎ টনসিল শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। ( তারপর ও আছে আর ৩২৮ টি গ্রন্থি )।

টনসিলাইটিস (Tonsillitis)

আর টন্সিলাইটিস হচ্ছে টনসিল সমূহ যখন ব্যাকটেরিয়া , ভাইরাস বা ছত্রাকের সংক্রমণ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে প্রদাহের বা ইনফেকশনের সৃষ্টি করে ভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় । জন্ম থেকেই গলার মধ্যে এই টনসিল থাকে এবং বাচ্চাদের বেলায় টনসিল আকারে বড় দেখা যায় পর্যায় ক্রমে ( ৫-৬ বছর বয়সের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি বড় আকৃতিতে পৌঁছায় ) , বয়স বাড়ার সাথে সাথে টনসিল ক্রমান্বয়ে ছোট হতে থাকে। টনসিলের প্রদাহ বেশির ভাগ বর্ষায় বেশি হয় । শীত কালে ও টনসিল প্রদাহ হলে ও খুভ কম এবং ৮৫% ভাইরাস সংক্রামণ জাতীয় ।( যাদের শরীরে ইমিউনিটি শক্তি কম বা ঠাণ্ডা সহ্য ক্ষমতা কম তাদের বেলায় ভাইরাস সমূহ বেশি আক্রান্ত করে।

টনসিলাইটিস সাধারণত দুই ধরনের হয়।

১) একটা হলো তীব্র বা একিউট। ২) অন্যটি হলো দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক টনসিলাইটিস।

লক্ষণ–

১) টনসিলের ইনফেকশন হলে মূলত গলা ব্যথা হবে, গিলতে অসুবিধা হবে। শরীরে সামান্য জ্বর থাকবে জ্বরের মাত্রা ৩৯ সেলসিয়াস =১০৩ ফারেনহাইট = অথবা এর বেশীও হতে পারে। অনেক সময় গলার স্বর পরিবর্তিত হয়, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ থাকে। সঙ্গে শিশুর খাবার গ্রহণে অনীহা কিংবা নাক দিয়ে পানি ঝরা ইত্যাদি থাকতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে গলার বাইরে দিকে গ্রন্থি ফুলে যেতেও দেখা যায়।

২) ভাইরাসজনিত টনসিলাইটিসে টনসিলের প্রদাহ ধীরে ধীরে বাড়ে, ফলে উপসর্গগুলোও ধীরে ধীরে আবির্ভূত হয়। অন্যদিকে ব্যাকটেরিয়াজনিত টনসিলাইটিস হঠাৎ করেই তীব্রভাবে আক্রমণ করে। ফলে উপসর্গ সমূহ এবং -গলাব্যথা , ব্যাদনা জ্বালা পোড়া ইত্যাদি হঠাৎ করেই দেখা দেয়।

৩) শিশুদের বেলায় বমি, পেটে ব্যথা বড়দের বেলায় মাথাব্যথাও থাকতে পারে। ৫ বছরের কম বয়েসীদের বেলায় ডাইরিয়া সহ খাওয়া দাওয়ায় অরুচির লক্ষণ পাওয়া যায় সেই সাথে সকলের ই কম বেশি কাশিও হতে পারে।

৪) অ্যাকিউট টনসিলাইটিসের লক্ষণ: ঠাণ্ডা- সর্দি, অত্যধিক জ্বর বা জ্বরের সাথে কাঁপুনি ,গলাব্যথা খুসখুসে কাশি,খাবার গিলতে বা পানি পান করতে ব্যাথা , নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা,মুখের ভেতরে টনসিল বেশ লালচে বর্ণ ধারণ করে , টনসিলের ওপর হলুদ বা সাদা আস্তরণ পড়তে পারে, গলার ভেতর এর আশপাশের অন্যান্য লসিকাগ্রন্থিও ফুলে যাওয়া অথবা গলায় ও মাড়িতে ব্যাথা ইত্যাদি।

৫) ক্রনিক টনসিলাইটিসের লক্ষণ: জিনিসের গন্ধ পাওয়া যায় না, জোর করে ঘ্রাণ নিতে গেলে সবকিছুতেই বাজে গন্ধ পাওয়া যায়।, ঘুমাতে খুব অসুবিধা হয়। শিশু ঘুমাতে ভয় পায় , নাক ডাকার সমস্যা হতে পারে , অনেক সময় বাচ্চার ঘুমের ধরন পাল্টে যায়। থুতনি এগিয়ে আসে , মাথাব্যথা, গলায় ঘায়ের কারণে ব্যথা, কানে ব্যথা, ক্লান্তিময়তা, মুখে অনবরত লালা জমতে থাকে, খাবার খেতে কষ্ট ও মুখ হাঁ করতে অসুবিধা হয় , মুখ দিয়ে লালা বের হয় ও কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে যেতে পারে, মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে।

রোগ শনাক্ত /রোগ নির্ণয়ঃ

টাং ডিপ্রেসর ( মুখ খোলার এক ধরণের ফরসেপ বিশেষ ) দিয়ে জিবকে চেপে ধরে ভেতরে প্রদাহ আছে কি না দেখে বোঝা সহজ যে টনসিলাইটিস হয়েছে। প্রদাহেরকারণে টনসিল বড় ও লালাভ হয়ে থাকে। টনসিলের উপর হলুদাভ বা ধুসর আবরণে টনসিল আংশিকভাবে আবৃত থাকে। টনসিলাইটিস নির্ণয়ে বিশেষজ্ঞের এই পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট। তারপর ও নিম্নের দুটি পরীক্ষার দ্বারা নিশ্চিত হতে পারেন আপনার কোন ধরণের টন্সিলাইটিস হয়েছে । ভাইরাস জনিত হলে ভাইয়াস সেন্সিটিভিটি কালচার করাতে পারলে বুঝে নিতে পারবেন কোন ধরণের ভাইরাস আক্রমের জন্য বেশি দায়ি।

১) rapid strep test ( এ পরীক্ষার দ্বারা গলার ভিতরের ইনফেকশনের উপরের ঝিল্লির মিউকাস পরীক্ষা করে মাত্র ৭ মিনিটে নিশ্চিত হওয়া যায় ইহা স্ট্রেপটোকোকাস ব্যাক্টোরিয়ার দ্বারা আক্রান্ত কিনা -)

২) strep culture ( পরীক্ষাগারে স্ট্রেপটোকোকাস কালচার করা কে বলা হয় – মনে রাখবেন এই সব পরীক্ষার আগে কোন জাতীয় এন্টিসেপটিক মাউথ ওয়াস ব্যাবহার করা নিষেধ )
এ ছাড়া ও যদি মনে হয় গলার কাছে কিছু আটকে থাকছে, সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, গলার আলট্রাসোনোগ্রাফি করে দেখা ভাল সেই সাথে আপনার চিকিৎসক অন্য ধরণের জটিলতা বুঝতে রক্তের হিমোগ্লোবিন, টিসি, ডিসি, ইএসআর ও প্রয়োজনে এসও টাইটার পরীক্ষা করার কথা বলতে পারেন বা ডায়াবেটিস থাকলে সঙ্গে ব্লাড সুগার টেস্ট এবং ডিএসএইচ পরীক্ষা করার কথা বলতে পারেন ।

বিদ্রঃ টিবি সন্দেহ হলে বুকের এক্সরে, রক্তের টিবি পিসিআর ও কফ কালচার ফর এএফবি করালে সাথে সাথে ধরা পড়বেই এবং টিউমার বা ক্যানসার জাতীয় কিছুর সন্দেহ হলে জিআই এন্ডোস্কোপি ও ফাইবার অপটিক ল্যারিঙ্গোস্কোপি করে অথবা প্রয়োজনে টিউমার থেকে টিস্যু তুলে তার বায়োপ্সি করে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত হতে পারেন আপনার চিকিৎসক।
টনসিলাইটিসের চিকিৎসা দুই ভাবে করা যায়
১. ওষুধ সেবন
২. অপারেশন
টনসিলের চিকিৎসা নির্ভর করে কারণের ওপর। যদি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে তাহলে ভাল চিকিৎসকের পরামর্ষে একটু উন্নত অ্যান্টিবায়োটিক ( এমোক্সিসিলিন, সিফিউরোক্সাইম বা আর উন্নত গ্রোফের ঔষধ ) ঔষধ সঠিক নিয়মে সেবন করলে মাত্র ৭ দিনে ১০০% নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় টনসিলের প্রদাহ ভাল হয়ে যাবে ।

এখানে একটা বিষয় মনে রাখবেন বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসায় অনেক উন্নত ধরণের এন্টীবায়োটিক আছে যার সঠিক সিঙ্গেল ডোজেই ভাল হয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু তা না করে যদি নিজের ইচ্ছা মত ২/৪ টা ক্যাপস্যুল বড়ি খেয়ে ভাল হয়ে জান এবং ইহা আবার পুনরায় আক্রমণ করে এবং সে সময় ও এই রকম করেন ৯৫% বেলায় পরবর্তীতে অপারেশন করানো ছাড়া আর বিকল্প কোন পথ নেই – তাই ব্যাক্টোরিয়ার কারণে ইনফেকশন মনে করলে সম্পূর্ণ ডোজ সেবন করার অনুরোধ রইল।

সেই সাথে মাউথ ওয়াশ দিয়ে ( ওরোক্লিন ) কুলি করলে বেশ ভাল হবে বা নরমাল স্যালাইন (ওয়াটার গার্গেল) গরম পানি দিয়ে গড়গড়া কুলি করা উচিৎ । জ্বর থাকলে এনালজেসিক ( প্যারাসিটামল ইত্যাদি ) ঔষধ খেতে পারেন । সর্দি কাশি থাকলে এন্টিহিস্টামিন ও কিছুটা সহায়ক তবে ডাইলেটর জাতীয় ঔষধ ( ভেল্টলিন ) সেবন করতে হলে চিকিৎসকের পরামর্ষে নিবেন কিন্তু ভাইরাল সঙ্ক্রামনে হলে এন্টিবায়োটিক সেবন কোন কাজে আসবে বলে মনে হয়না — ইত্যাদি

কখন মনে করবেন আপনার টন্সিলাইটিসের জন্য অপারেশন দরকার ?

সব কিছুর পর অনুরুধ থাকবে ব্যাক্টোরিয়া জনিত হলে দেখবেন এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন করার পর চলে গেছে – অথবা ভাইরাস জনিত হলে ২/৩ সপ্তাহের ভিতর অসুখ টি সেরে যাওয়ার কথা — তারপর ও যদি না কমে এবং নিচের লক্ষণ সমূহ দেখা দেয় তা হলে অপারেশন করা বেশ উত্তম বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা –এ ছাড়া কার ও বেলায় অসুখ টি কমে যাওয়ার পর ও টনসিল দুটি ছোট হতে কিছু সময় লাগে বিদায় যদি ব্যাথা না থাকে তা হলে ভয় পাওয়ার মত কিছু নেই ।

ক্রনিক টনসিলাইটিসের ক্ষেত্রে সাধারণত পরপর তিন বছরের ভিতরে প্রতি বছর চার বার এবং ৫ দিনের বেশি সমস্যা থাকে ( শিশুদের বেলায় বয়স ১৫-১৬ পার হলে টনসিল সমস্যা আর অনেক সময় থাকেনা ) – টনসিল বড় হয়ে শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত অনুভব করলে এবং নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হলে।- টনসিলে যদি ফোঁড়া হয়, অর্থাৎ ইনফেকশন হলে।— বাতজ্বর ( রিউমেটিক ফিভার ) হওয়ার সম্বাভনা থাকলে – গলার অন্যান্য স্থানে পেরিটনসিলার এবসিস – বারবার টনসিলের ইনফেকশনের কারণে টনসিলের আশেপাশের এলাকা বিশেষ করে ঊর্ধ্বশ্বাস নালি, গলবিল, সাইনাস, মধ্যকর্ণ ইত্যাদিতে ইনফেকশন ক্রমশ বাড়তে থাকলে — আর দেরি করা উচিৎ হবেনা — তখন অনেকেই আর ভিন্ন পদ্ধতির চিকিৎসা করে অসুখ টিকে কোন কোন সময় ভিন্ন মারাত্মক পর্যায়ে নিয়ে যান তখন শেষ মেষ খুভ বড় ধরণের ক্ষতি হবেই অথবা স্থায়ী অবস্থায় গলার যে কোন অঙ্গের বিকলাঙ্গতা জাতীয় সমস্যা দেখা দেওয়া অসম্বভ কিছু নয় ।

কিভাবে সতর্ক থাকবেন টন্সিলাইটিসে যারা ভোগেন

সাধারণভাবে টনসিলাইটিসে আক্রান্ত হবার কয়েক দিনের মধ্যে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। তারপরও কিছু সতর্কতা বিশেষতঃ খাদ্যাভাসের কিছুটা পরিবর্তন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এই অবস্থায় শরীরে পানি শূন্যতা (Dehydration) দেখা দেয়- প্রকটভাবে। সেজন্য প্রচুর পরিমাণে পানি সহ যে কোন পানীয় খাওয়া যেতে পারে। গরম যে কোন পানীয় (অত্যাধিক গরম নয়) যেমন : হালকা গরম চা, চকোলেট পানীয়, কুসুম গরম পানি সাথে মধু, এমন কি ঠান্ডা পানীয় যথা মিল্কসেক (Milk shake) খাওয়া যায়। কোমল পানীয়র মধ্যে আদা পানি (Ginger ale) এসময় উপকারে হয়।

তবে কোন এসিড জাতীয় পানি না খাওয়া ভাল : কোক, স্প্রাইট খাওয়া যাবে না। এসিড জাতীয় পানি গলায়- ইনফেকশনে উত্তেজক হিসাবে কাজ করে। এর পাশাপাশি নরম খাবার যথা জাউ ভাত, যে কোন স্যুপ এসময় অনেক উপকার দেয়।

খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি- এক কাপ কুসুম গরম পানির সাথে ১/৪ চা চামচ লবন মিশিয়ে গার্গল করলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। দিনে অন্ততপক্ষে ৩/৪ বার করা উচিত। সাথে প্রচুর বিশ্রাম নিতে হবে।

টনসিলাইটিস হলে বেশি বেশি তরল খাবার ও গরম পানীয় পান করতে হবে। শিশুদের গরম স্যুপ, জাউ বা নরম করে রান্না করা খাবার দিলে ভালো। গলায় ঠান্ডা লাগানো যাবে না।
Tonsillectomy অপারেশনের রোগীর মধ্যে শতকরা ২০ ভাগ রোগী পরোক্ষভাবে সিগারেটের ধোঁয়া হতে আক্রান্ত হয়। তাই ঘরের মধ্যে বাচ্চার সামনে সিগারেট খাওয়া হতে দূরে থাকুন তাহলেই আপনি ও আপনার বাচ্চা দু’জনেই এই রোগের হাত হতে দূরে থাকতে পারবেন।

বিড়াল বা ঐ জাতীয় পোষা প্রাণী ভাইরাস জাতীয় পুরাতন টন্সিলাইটসের বেলায় কিছুটা পরোক্ষ ভাবে প্রভাবিত করে বিধায় শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে যোগাযোগের দূরত্ব বজায় রাখবেন –

20/07/2015

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জেনে রাখুন

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া । সকাল থেকে গা ব্যাথা কিংবা হাত-পায়ে অসহ্য ব্যথা অনুভব হচ্ছে। সেই সাথে মাথাটাও ঝিম ঝিম করছে। তড়িঘড়ি করে একটি পেন কিলার খেয়ে কাজে নেমে পড়লেন। আর এভাবেই চলতে চলতে আপনার মধ্যে তৈরি হয়েছে পেইন কিলার আসক্তি।
জ্বর হলে না জেনে বুঝে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া, ব্যথা হলে যখন তখন পেইন কিলার খাওয়া, এসিড হলে মুঠো-মুঠো অ্যান্টাসিড খাওয়া এগুলো তো রোজকার রুটিন আপনার। কিন্তু আপনি যে কিছু না ভেবেই অ্যান্টিবায়োটিক, পেইন কিলার বা অন্য কোনও ওষুধ খেয়ে ফেলছেন, কিন্তু এতে যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে আপনার শরীরে তা বুঝতেই পারছেন না।
চলুন জেনে রাখি বিভিন্ন ধরনের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে।
ড্রাগ ওভারডোজ:
১। অনেকে ভাবেন, কড়া ডোজে বেশি ওষুধ খেলে তাড়াতাড়ি সেরে উঠবেন। ওষুধ না জেনে খাওয়ার ফলে রোগী ছটফট করতে থাকেন, বুক ধড়ফড় করে, ঘাম হয়, ব্লাড প্রেশার ওঠানামা করে, হার্টবিটও কম-বেশি হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। এক একটি ওষুধের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া একেক রকম। তেই একে অপরের সাথে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
২। ড্রাগ ওভারডোজ বাড়াবাড়ি রকমের হলে, দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তি কড়া প্রয়োজন। স্যালাইনও দিতে হতে পারে। আর যদি বার বার ড্রাগ ওভারডোজ হয়, তাহলে মনোবিদের সাহায্য নিয়ে কাউন্সেলিং করান।
৩। প্রেগনেন্সির সময় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ খাবেন না। অন্যথা গর্ভস্থ সন্তানের হার্টের সমস্যা, স্পাইনাল কার্ডের সমস্যা, জন্ডিস, ব্লাড সুগার কমে যাওয়া, ইত্যাদি নানা রকমের অসুখ হতে পারে।
সমস্যা ও সমাধান:
১। অ্যান্টিবায়োটিক ৬-৮ দিনের বেশি দেওয়া হয়না। ডোজ বেশি হলে বমি ভাব, ক্ষুধা না লাগা, ডায়রিয়া, শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, গায়ে লালচে রেশ ও চুলকানি, কিডনির সমস্যা হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক খেলে বেশি পরিমাণে পানি খেতে বলা হয়। কোর্স শেষ না করে মাঝপথে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করে দিলে ভবিষ্যতে সেই অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ নাও করতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স তৈরি হয়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে ওষুধ দেয়া হয়। প্রয়োজনে অ্যান্টি ভমিটিং, অ্যান্টি ডায়রিয়া ট্যাবলেট দেওয়া হয়।
২। ওরাল কনট্রাসেপটিভ পিল নিয়মিত দীর্ঘদিন ধরে খেলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সাধারণত যে পিল ব্যবহার করা হয়, তাতে মাথাব্যথা, বমিভাব, ওজন বেড়ে যাওয়া, শরীরের পানি কমে যাওয়া, ডিপ্রেশন, মূত্রনালির সংক্রমন ইত্যাদি হতে পারে। ওষুধ বন্ধ করে দেয়ার পর পিরিয়ডস অনেকদিন পর্যন্ত বন্ধ থাকে। লিভারের সমস্যা ও জন্ডিসও দেখা দিতে পারে। ৩৫ বছরের বেশি বয়সিরা পিল ব্যবহার করলে রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে করোনারি আর্টারির সমস্যাও হতে পারে। তাই ৩৫ বছরের পর পিল ব্যবহার না করে অন্য কনট্রাসেপটিভ ব্যবহার করুন।
৩। প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য যে কোনও ব্যথার ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়। কেউ যদি একটার জায়গায় ৩/৪ টি করে পেন কিলার খান প্রতিদিন তাহলে তাঁর সমস্যা হতেই পারে। এর ফলে গ্যাসট্রিক, আলসার, পাকস্থলীতে ঘা, কিডনির অসুখ, ইউরিন বন্ধ ইত্যাদি হতে পারে। অ্যাজমা থাকলে সেটি বেড়ে যেতে পারে। ব্যথার ওষুধে অ্যালার্জি হলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
৪। অনেক আর্থ্রাইটিসের রোগীকে নিয়মিত ব্যথার ওষুধ খেতে হয়। ফলে ব্লাড প্রেশার ও ডায়বেটিস দু’টোই বাড়তে থাকে সাথে কিডনি বা হার্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
৫। ব্যাথা কমানোর জন্য অনেকেই স্টেরয়েড ব্যবহার করে থাকেন যা থেকে চোখে ছানি, ডায়াবিটিস বৃদ্ধি, অস্টিোপোরেসিস ইত্যাদি হতে পারে। তবে এখন অনেক পেন রিলিভার আছে যেগুলির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। তবে পেন কিলার বা স্টেরয়েড কোনটার অ্যাডেকশন থাকলে তা ধীরে ধীরে বন্ধ করলে ভাল হয়।
৬। নিয়মিত অ্যান্টাসিড খেলে রক্তসল্পতা নার্ভের সমস্যা, অস্টিোপোরেসিস হতে পারে। টানা না খেয়ে বিরতি দিন।
৭। জেনে বুঝে ওষুধ খাবেন। ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অন্য কেউ কোনও ওষুধে উপকৃত হয়েছে বলে আপনিও হবেন, এমনটা ভাবলে অনেক ভুল করবেন।

20/07/2015

একটি মাত্র সবজি যা দূর করবে ক্যান্সার, ডায়বেটিস

বিটার মেলন যার বাংলা নাম করল্লা এমন একটি সবজি যা দূর করতে পারে কান্সা, ডায়বেটিস এবং অন্যান্য অনেক মারাত্মক সব শারীরিক সমস্যা। যদিও এর তেতো স্বাদের কারণে কারো মুখে রোচে না, কিন্তু শুধুমাত্র স্বাদের কথা ভেবে স্বাস্থ্যের কথা একেবারে ভুলে বসলেও চলে না।
দ্য নেভাডা সেন্টার অফ আল্টারনেটিভ অ্যান্ড অ্যান্টি এইজিং মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ, ডঃ ফ্রাংক শ্যালেনবার্গার এম.ডি দেখতে পান এই করল্লার রয়েছে ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধির প্রতিরোধ ক্ষমতা। এবং তিনি তার রোগীদের এই প্রাকৃতিক ক্যান্সার নিরাময়ের সবজিটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি প্রতিরোধের জন্য। তিনি তার নতুন গবেষণায় দেখতে পান করল্লার রস পানিতে মাত্র ৫% মিশ্রিত হয় যা প্রমাণ করে এটি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে। করল্লার প্রায় ৯০%- ৯৮% পর্যন্ত ক্যান্সারের কোষ ধ্বংসের ক্ষমতা রয়েছে। দ্য ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডোর একটি গবেষণায় দেখা যায় করল্লা অগ্ন্যাশয়ের টিউমার প্রায় ৬৪% কমিয়ে আনতে সক্ষম।
এছাড়াও ডঃ শ্যালেনবার্গার তার গবেষণায় দেখতে পান, উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা, অ্যাজমা, ত্বকের ইনফেকশন, ডায়বেটিস এবং পাকস্থলীর নানা সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে শুধুমাত্র এই একটি সবজি ‘করল্লা’। খুব কম ক্যালরি সমৃদ্ধ করল্লায় রয়েছে পটাশিয়াম, বেটাক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ, হাই ডায়াটেরি ফাইবার, ভিটামিন বি১, বি২, বি৩ ও সি, ফোলায়েট, জিংক এবং ফসফরাস।
করলা দূর করে আরও ৭ টি শারীরিক সমস্যা
১) পরীক্ষিত ভাবে প্রমাণিত যে করল্লা স্ট্যামিনা ও এনার্জি লেভেল বাড়ায়।
২) গর্ভধারণের প্রাথমিক সময়ে নারীরা করল্লা নিয়মিত খেলে শিশুদের নিউট্রাল টিউব ডিফেক্ট হতে রক্ষা করে।
৩) করল্লার নানা পুষ্টি উপাদান রক্তের সুগারের মাত্রা কমায় এবং টাইপ-২ ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
৪) করল্লার রস নিয়মিত পান করার ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং নানা ধরণের ইনফেকশনের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
৫) হজমে সমস্যা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতেও করল্লার জুড়ি নেই।
৬) করল্লার রস লিভার পরিস্কারে সহায়ক এবং লিভারকে টক্সিনমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা উন্নত করে।
৭) নিয়মিত করল্লার রস পানের অভ্যাস সোরাইসিসের অবস্থা উন্নত করে এবং ফাঙ্গাস জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
যেভাবে খেতে পারেন করলা
বাজার থেকে ভালো করল্লা কেনার পর ঠাণ্ডা পানিতে ভালো করে ধুয়ে নরম ব্রাশ দিয়ে আলতো ঘষে পরিষ্কার করে নিন।
১) যে কোনো আমিষ খাবারের সাথে বা অন্যান্য সবজির সাথে ভাজি করে খেতে পারেন।
২) করল্লার শুকনো গুঁড়ো তৈরি করে রেখে আইসড ও দুধ চায়ে মিশিয়েও পান করতে পারেন।
৩) আচার তৈরি করে খেতে পারেন।
৪) শুধু করল্লার রস দিয়ে জুস তৈরি করে পান করতে পারেন।

20/07/2015

প্রতিদিনের যে ১০ টি বাজে অভ্যাসে নষ্ট করে ফেলছেন আপনার কিডনি!

প্রতিদিনের যে ১০ টি বাজে অভ্যাসে নষ্ট করে ফেলছেন আপনার কিডনি!
আমাদের দেহের যতো দূষিত বর্জ্য পদার্থ রয়েছে তা ছেঁকে বের করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে থাকে কিডনি। মানুষের শরীরে দুইটি কিডনি থাকে যেগুলো শরীরের পানির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং দেহ থেকে বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ছেঁকে দূর করার কাজটি করে থাকে। কিন্তু প্রতিদিনের কিছু বাজে অভ্যাসে নষ্ট করে ফেলছেন নিজের কিডনির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা। কিডনি সমস্যা খুবই মারাত্মক সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। সবচাইতে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে কিডনি সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে না, একেবারে শেষ পর্যায়ে কিডনির রোগ ধরা পড়ে যখন কিছুই করার থাকে না। আর এ কারণেই প্রতিবছর কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত হয় হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে থাকেন। তাই নিজের কিডনির জন্য কোন কাজটি ভালো এবং কোনটি ক্ষতিকর তা বিবেচনা করতে হবে আপনাকেই। প্রতিদিনের যে বাজে অভ্যাস কিডনি সমস্যার জন্য দায়ী তা বর্জন করতে হবে আজ থেকেই।

১) কম পানি পান করা
পানি কম পান করা কিডনি সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। পানির অভাবে কিডনি আমাদের দেহের বর্জ্য নিষ্কাশনের কাজটি ঠিকমতো করতে পারে না এবং তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়। তাই দিনে অন্তত ৬-৮ গ্লাস পানি পান করুন।

২) লবণ বেশী খাওয়া
আমাদের দেহে লবণের চাহিদা থাকে শুধুমাত্র ১ চা চামচ পরিমাণে। এর চাইতে বেশি লবণ খেলে তা আমাদের দেহেই রয়ে যায়। এতে করে কিডনির কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে। তাই লবণ এবং সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা বেশি জরুরী।

৩) প্রস্রাব চেপে রাখা
প্রস্রাব চেপে রাখার কাজটি কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ এতে ব্লাডারে মারাত্মক চাপ পরতে থাকে এবং আমাদের মূত্রথলিতে ব্যাকটেরিয়া বাড়তে থাকে যা কিডনি ইনফেকশনের জন্য দায়ী। তাই কখনোই প্রস্রাব চেপে রাখার মতো ভুল কাজটি করবেন না।

৪) হুটহাট ঔষধ খাওয়া
ব্যথানাশক ঔষধ হয়তো আপনার শারীরিক ব্যথা খানিকক্ষণের জন্য উপশম করবে কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে কিডনি ড্যামেজের সম্ভাবনা বাড়ে। তাই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ খাবেন না।

৫) ক্যাফেইন বেশী নেয়া
আগস্ট ২০০৪ ‘জার্নাল অফ ইউরোলজি’তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জানা যায় যে, ‘কফির ক্যাফেইন প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অনেক বেশি বাড়িয়ে তোলে যা কিডনি ছেঁকে বের করতে পারে না, যা পরবর্তীতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট তৈরি করে, এই ক্যালসিয়াম অক্সালেটই কিডনির পাথর নামে পরিচিত’। সুতরাং অতিরিক্ত কফি পান থেকে বিরত থাকুন, বিশেষ করে খালি পেটে একেবারেই কফি পান করবেন না।

৬) ঘুম সংক্রান্ত জটিলতা
না ঘুমানো এবং ঘুম না হওয়ার সমস্যার প্রভাব আপনার কিডনির উপরে পড়ে। ঘুমের সময় স্বাভাবিক ভাবেই দেহের ড্যামেজ হওয়া টিস্যু পুনরুজ্জীবিত হয়। আপনার ঘুম পর্যাপ্ত না হলে এই কাজটি ব্যহত হয় যার কারণে কিডনি তার কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে।

৭) অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান
ধূমপান ও মদ্যপানের কারণে ধীরে ধীরে কিডনিতে রক্ত চলাচল কমে যেতে থাকে এবং এর ফলে কিডনির কর্মক্ষমতা কমে যেতে থাকে। যার কারণে কিডনি ড্যামেজসহ নানা ধরণের কিডনি রোগ দেখা দেয়।

৮) প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেশী খাওয়া
প্রোটিন হজম হতে অনেক বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে প্রাণীজ প্রোটিন। এই প্রাণীজ প্রোটিনগুলো আমাদের হজমশক্তি কমিয়ে দেয় যার প্রভাব পড়ে আমাদের কিডনির উপর। এতে করে ধীরে ধীরে কিডনি তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়।

৯) শারীরিক পরিশ্রম না করা
শারীরিক পরিশ্রম না করলে শুধু ওজনই বাড়ে না পাশাপাশি আপনার দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপরেও প্রভাব পড়ে। গবেষণায় দেখা যায় শারীরিক পরিশ্রম যারা করেন না বা কম করেন তাদের কিডনি ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনা অন্যান্যদের তুলনায় অনেক বেশী থাকে।

১০) অতিরিক্ত চিনি খাওয়া
অতিরিক্ত লবণ যেমন কিডনির জন্য ক্ষতিকর তেমনই অতিরিক্ত চিনিও কিডনির জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত চিনির কারণে রক্তের সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় এবং কিডনি তার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে বাধাপ্রাপ্ত হতে থাকে। দীর্ঘমেয়াদি এই সমস্যার কারণে কিডনি ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

14/07/2015

কোন খাবার ফ্রিজে রাখবেন, কোনটি রাখবেন না?

বাড়িতে বিভিন্ন রকমের খাবার থাকলে অনেক সময়ে দেখা যায় ফ্রিজে সবকিছুর জায়গা হয় না। এ সময়ে অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না কোনটা ফ্রিজে রাখবেন আর কোনটা বাইরে সাধারণ তাপমাত্রায়। এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো এই শীতকালে ফ্রিজে না রাখলেও চলে। দেখে নিন কোন খাবার ফ্রিজে রাখবেন, আর কোনগুলো ফ্রিজে না রাখলেও চলে।

পিনাট বাটার

ভালো ব্র্যান্ডের পিনাট বাটারের কৌটা ফ্রিজে না রাখলেও তা বাইরেই অনেকদিন ভালো থাকে।

নারিকেল তেল ও অন্যান্য ভোজ্য তেল

খাওয়ার জন্য অনেকে নারিকেল তেল, তিলের তেল, তিসির তেল ব্যবহার করে থাকেন। শীতকালে এমনিতেই নারিকেল তেল শক্ত হয়ে থাকে। এরপরেও যদি একেবারে ফ্রেশ রাখতে চান তবে এসব তেল ফ্রিজে রাখতে পারেন।

কফি

কফির স্বাদ ও সুগন্ধ অটুট রাখতে একে সাধারণ তাপামাত্রায় রাখুন, ফ্রিজে রাখবেন না।

সয়াসস

সয়াসসের বোতল খুলে ব্যবহার করার পর অনেকে মনে করেন তা নষ্ট হয় যাবে। এ ভয়ে ফ্রিজে রেখে দেন। কিন্তু এটা স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেই সংরক্ষণ করা যায়।

বাদাম

কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম, কাঠবাদাম এসব দেখতে শুকনো মনে হলেও বেশিদিন বাইরে থাকলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কারণ এদের মাঝে থাকে উদ্ভিজ্জ তেল। তাই বিভিন্ন ধরণের বাদাম রাখুন ফ্রিজে।

ভিনেগার

সব ধরণের ভিনেগারই অ্যাসিড জাতীয় তরল। এদের মাঝে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না। এ কারণে ঘরে সাধারণ তাপমাত্রায় এগুলো রাখা যায়।

মাখন

মাখন যেহেতু দুগ্ধজাত খাবার, সুতরাং এটি বাইরে রেখে দিলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। মাখন ভালো রাখতে একে অবশ্যই ফ্রিজে রাখবেন।

14/07/2015
14/07/2015
13/07/2015

একবারও গলা ভাংগেনি বা স্বর বসেনি এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু মুশকিল হলো, গলা ভাংগাকে অনেকেই গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন না। অন্যদিকে, এ কথা অনেকেই জানেন না যে গলা ভাঙ্গা অনেক সময় মারাত্মক অসুখের উপসর্গ হয়ে আসে।

সব বয়সী মানুষেরই গলার স্বর ভাঙ্গে বা বসে যায়। তবে তুলনামূলক ভাবে মহিলাদের গলার স্বর বসে বেশি। সাধারণ ভাবে গলার স্বর বসা বা ভাঙ্গার প্রাথমিক কারণ হলো শ্বাসনালীতে ইনফেকশান বা সংক্রমণ। পেশাগত কারণে যাদের গলা ব্যবহার করতে হয়, অর্থাৎ আইনজীবী, সংগীত শিল্পী, রেডিও টেলিভিশনের পাঠক, উপস্থাপক, শিক্ষক বা বিপণণের সাথে যারা জড়িত, তাদের গলা বসে যাওয়ার প্রবণতা বেশী থাকে।

গলায় কোনো ইনফেকশন বা সংক্রমণের পরও যদি গলার ব্যবহার অর্থাৎ কথা বলা আগের মতই অব্যাহত রাখা হয়, তবে গলার স্বর বসার আশংকা বেশি থাকে। কিংবা গলার স্বর আরো বেশি করে বসে যায় ও কথাই বের হতে চায় না। এ ছাড়া গলার ব্যবহার যদি ঠিকভাবে না হয়। কিংবা যদি চেঁচিয়ে কথা বলা হয় তা হলেও গলা বসে যেতে পারে।

একই ভাবে কোনো গায়ক বা বক্তা যদি তার গলার ক্ষমতার বাইরেও উঁচু স্বরে কথা বলেন বা চিৎকার করেন বা গান করেন তবে গলা ভেঙ্গে যেতে পারে। ছোট বাচ্চারা অনেক সময়ই গলা ছেড়ে কান্না করে বা আবদার জুড়ে দেয় আর এ কারণে তাদের গলা ভেঙ্গে যায়। অন্যদিকে সন্তানের মায়েদেরকে নানা কারণে চিৎকার করতে হয়। যা তাদের গলার ওপর চাপ ফেলে ও গলা ভেঙ্গে যায়।

ইনফেকশান বা অন্য কোনো কারণে যদি গলার স্বর ভাঙ্গে তবে তা বিশ্রাম ও সামান্য ওষুধ ব্যবহার করলে ভাল হয়ে যায়। গলার স্বরের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রথমেই কথা বলা কমিয়ে দিতে হবে। সম্ভব হলে কথা বলা বন্ধ করে দিতে হবে। ঠাণ্ডার কারণে যদি গলা বসে যায় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

গলার সাধারণ ব্যথা বা গলা ভাঙ্গার জন্য ভাল একটি ওষুধ হলো গরম বাষ্প। ফুটন্ত পানির বাষ্প যদি মুখ ও গলা দিয়ে টানা হয় তবে গলার উপকার হয়। দৈনিক অন্তত দশ মিনিট এ ভাবে গরম ভাপ নিতে হবে। এটি সত্যিই কাজের ওষুধ। এক দিকে পানি গরম করতে তেমন বেশি খরচ হয় না। অন্যদিকে এ ওষুধের পার্শ্ব কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। এ ছাড়া গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করা হলে তাতেও উপকার পাওয়া যায়।

তবে এমন সব চিকিৎসাও অনেক সময় কাজে দেয় না। দিনের পর দিন ধরে গলার স্বর বসে থাকে। গলা দিয়ে কথা বের হতে চায় না। স্বর বদলে যায়। ফ্যাস ফ্যাসে আওয়াজ হয়। এ ধরণের পরিস্থিতিকে সব সময় বিপদের লক্ষণ হিসেবে ধরতে হবে। গলা একবার বসে যাওয়ার পর চার সপ্তাহ বড় জোর ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত দেরি করা যায়। চিকিৎসকরা মনে করেন কারো গলা ভাঙ্গা যদি ছয় সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় তবে তাকে দেরি না করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এ ধরণের স্বর বসে যাওয়া অনেক সময়ই মারাত্মক রোগের লক্ষণ হয়ে আসে।

সাধারণ ভাবে ৫০ বছরের উপরের যে কোনো রোগীর গলা যদি কোনো কারণ ছাড়া বসে যায় তবে তা বিপদের কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া চিকিৎসকরা আরো দেখতে পেয়েছেন, এ ধরণের রোগীদের মধ্যে শতকরা অন্তত দশ ভাগ রোগীর এ ভাবে গলা ভাঙ্গা, বিপদজনক রোগের উপসর্গ হয়ে দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে রোগীর গলার ভেতর পরীক্ষা করে দেখবেন।

বিশেষ ধরণের এ পরীক্ষার জন্য রোগীকে অজ্ঞান করে নেয়া হতে পারে। গলাবাজি কথাটি বলা যত সহজ, করা তত সহজ নয়। অবিরাম কথা বলতে সত্যিই বেশ শক্তি ব্যয় হয়। চাপ পড়ে গলায়। তাই যাদের পেশার সাথে কথা বলা জড়িত বা বেশি কথা বলতে হয়, তাদেরকে গলার প্রতি যত্নবান হতে হবে। কারণ গলার যত্ন নিতে অবহেলা করলে শেষে গলা দিয়ে কথাই বের না হওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। যা মোটেও কাম্য নয়।

গলার যত্ন নেয়ার কথা আসলে প্রথমেই চিৎকার চেঁচামেচি থেকে বিরত থাকতে হবে। ঠাণ্ডা লেগে যদি গলা বসে যায় তবে কথা বলা বন্ধ করতে হবে। যদি কথা বলা বন্ধ করা না যায় তবে কথা বলা কমিয়ে দিতে হবে। ধূমপান গলার যে কোনো সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে দেয় বা জটিল করে তোলে। তাই ধূমপান থেকে সাধ্যমত দূরে থাকতে হবে। গলা ভাঙ্গা ও তার প্রতিকার নিয়ে এতোক্ষণ কথা হচ্ছিল। এই আলোচনার মাধ্যমে সবাই গলার যত্ন নেয়ার ও গলা ভাঙ্গার বিষয়ে সর্তক হতে হবে তা বুঝতে পেরেছেন।

12/07/2015

মূত্রনালী সংক্রমণ একটি অতি সাধারণ জীবাণুবাহিত রোগ। এই রোগ মহিলাদের মাঝে বেশি দেখা যায় (৫০%)। এই রোগের আক্রমণ ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩% দেখা যায়, প্রতি ১০ বছর বয়সীদের (decade) মাঝে ১% হারে সংক্রমণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ বয়স বৃদ্ধির সাথে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। পুরুষদের মাঝে এই রোগের প্রবণতা কম। তবে ৬০ বছরের বয়স্ক পুরুষ, প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির ফলে, মূত্রনালীতে বাধাগ্রস্ত হলে- মূত্রনালী সংক্রমণ হতে পারে। এমনকি মূত্রনালী সংক্রমণের ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
মূত্রনালী সংক্রমণের কারণ : কিছু কিছু জীবাণু এই সংক্রমণের জন্য দায়ী।

পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের মধ্যে মূত্র সংক্রমণের প্রকোপ বেশি। কারণসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- মূত্রনালীর আকার ছোট, সহবাসের সময় মূত্রনালীতে আঘাত, পায়ুপথ ও মূত্রনালীর কাছাকাছি অবস্থান। এ ছাড়া পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেটগ্রন্থি নিঃসৃত এক ধরনের তরল পদার্থ (Prostatic fluid) ব্যাকটেরিয়াকে বিনষ্ট করে- যা মহিলাদের ক্ষেত্রে নেই।

উপসর্গ/লক্ষণ
(ক) প্রস্রাব ঘন ঘন হওয়া
(খ) প্রস্রাবের সময় মূত্রনালীতে জ্বালাপোড়া
(গ) পেটের নিচের অংশে ব্যথা অনুভূত হওয়া;
(ঘ) প্রস্রাবে দুর্গন্ধ ও ঘোলাটে হওয়া;
(ঙ) এমনকি প্রস্রাবের সাথে রক্ত পর্যন্ত যেতে পারে;
(চ) জ্বর হওয়া (সাধারণত কেঁপে কেঁপে জ্বর আসে);
(ছ) প্রস্রাব করার পর আবার প্রস্রাব হবে এমন ভাবের উদ্রেক হওয়া।

যেহেতু এই রোগ পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের বেশি এবং বার বার হয়, তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের গুরুত্ব অধিক। এ জন্য যা করণীয় তা হল-
১ প্রতিদিন কমপক্ষে ২ লিটার পানি গ্রহণ।
২ নিয়মিত প্রস্রাব করা (দিনের বেলায় ৩ ঘণ্টা পর পর এবং রাতে শোবার আগে প্রস্রাব করা)
৩ স্বামী সহবাসের পূর্বে ও পরে প্রস্রাব করা।
৪ ডাবল মিসচুরেশন অর্থাৎ রাতে বিছানায় শোবার পর উঠে প্রস্রাব করা ও ১০-১৫ মিনিট পর পুনরায় প্রস্রাব করে ঘুমানো।

11/07/2015

বেশী পানি পান করতে পারেন না? জেনে নিন পানিশূন্যতা রোধের বিকল্প উপায়

আবহাওয়ার অত্যন্ত বিরূপতার কারণে এই শরৎকালেও গরমটা বেশ ভালোই পড়েছে। সমস্যা হলো এই ধরণের গরমে অনেক ঘাম হয়।

এবং এই ঘামের সাথে দেহের প্রয়োজনীয় পানি বের হয়ে যায়। এই সময় বেশি পরিমাণে পানি পান না করলে দেহ পানিশূন্যতায় ভোগে এবং আমরা এই পানির অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি।

অনেকেই আছেন যারা পানি খুব বেশি পান করতে পারেন না। এতে করে দেহের আরও বেশি ক্ষতি হয়। যারা বেশি পানি পান করতে পারেন না তাদের দেহের পানিশূন্যতা প্রতিরোধে করতে হবে কিছু কাজ। এতে করে দেহ পানিশূন্য হবে না এবং পানির অভাবজনিত রোগ থাকবে দূরে।

ফল ও সবজির জুস তৈরি করুন

ফলমূল থেকে শুরু করে কাঁচা খাওয়ার যোগ্য সকল ধরণের সবজির জুস তৈরি করে পান করার চেষ্টা করুন। ফলের সাথে পানি মিশিয়ে ব্লেন্ডারে জুস তৈরি করতে পারেন। অথবা শুধু ফলের জুসও তৈরি করে পান করতে পারেন। এতে করে পানির অভাব পূরণ হবে এবং দেহে ফলের পুষ্টিগুণ প্রবেশ করবে।

পানি সমৃদ্ধ ফল বেশি করে খান

যেসব ফলে পানি বেশি রয়েছে সেসকল ফল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন। বিশেষ করে দুপুরের দিকে এই ধরণের ফলমূল খাওয়ার চেষ্টা করবেন বেশি করে। আর কিছু না পান তো লেবুর রস দিয়ে এক গ্লাস শরবত তৈরি করে পান করে ফেলুন। পানিশূন্যতার হাত থেকে বাঁচবেন।

স্যালাইন পান করুন

ডায়রিয়া বা রোগে পরেই যে শুধু স্যালাইন পান করতে হবে মন কোনো কথা নেই। স্যালাইন হচ্ছে পানিশূন্যতা দূর করার অনেক ভালো একটি পদ্ধতি। হাতের কাছে স্যালাইন রাখুন। এতে পানিশূন্যতা এবং দুর্বলতা দুটোই দূর হবে।

বরফ গায়ে ঘষুন

শুনতে আশ্চর্য মনে হলেও গায়ে বরফ ঘষে নিলেও আপনি পানিশূন্যতার হাত থেকে রক্ষা পাবেন। গায়ে বরফ ঘষলে বডি হিট কমে আসবে এবং দেহ থেকে অতিরিক্ত পানি বের হতে পারবে না। এছাড়াও একটি বরফ মুখে নিয়ে চুষে খেতে পারেন। দেহ ঠাণ্ডা থাকবে।

11/07/2015

ওজন কমাতে সকালের নাস্তায় মেনে চলুন এই ৫ টি টিপস

ওজন কমানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি আমরা অবলম্বন করে থাকি। তবে তার সবগুলোই যে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে তা না। আসলে ওজন কমানোর জন্য দরকার স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি শারীরিক প্রয়োজনীয় ব্যায়াম। শুধু না খেয়ে ডায়েট করলেই ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে না, এতে শুধুমাত্র শরীর দুর্বলই হয়। এছাড়া ডায়েট করারও নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে।


সকালের নাস্তাটি আসলে অন্যান্য যেকোনো সময়ের খাবারের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দিনের একটি বিশেষ মুহূর্ত হল এই সকালের নাস্তা করার সময়। এই নাস্তাটির ওপরে নির্ভর করে একজনের সারাদিনের স্বাস্থ্য আর কার্যক্ষমতা। অনেকেই ওজনটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সকালের নাস্তা করেন না।

কিন্তু এর তাৎক্ষণিক ফলাফল হয়ত স্বাস্থ্যের পক্ষে ইতিবাচক হতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যত ফলফল শরীরের অসুস্থতা। এক্ষেত্রে আসুন জেনে নিই সকালের নাস্তার সঠিক নিয়মটি যা আপনার ওজনটিকেও নিয়ন্ত্রণ করবে পাশাপাশি শরীরকে অসুস্থ না করে ফিট রাখতে সহায়তা করবে।

১. কমপক্ষে ৮ গ্রাম ফাইবার সকালের নাস্তায় রাখুন :

আপনি যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে চান পাশাপাশি শরীরের অতিরিক্ত ওজনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে চান তবে আপনার সকালের নাস্তাটিতে কমপক্ষে ৮ গ্রাম ফাইবার রাখার চেষ্টা করুন। সকালবেলা কখনই এমন ধরনের খাবার খাবেন না যেগুলো পেটে গ্যাস তৈরি করে। বরং পুষ্টিকর কিছু খাবার খান যা আস্তে আস্তে হজম হয় এবং সারাদিন আপনাকে কর্মক্ষম রাখে।

২. যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সকালের নাস্তা সেরে ফেলুন :

অনেকেই সকালের নাস্তাটি একটু দেরি করে খেয়ে থাকেন। কেননা ঘুম থেকে উঠেই খাওয়ার অভ্যাসটি তাদের থাকে না। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে যে সকালের নাস্তাটি শরীরের বিপাকীয় কার্যে সহায়তা করে থাকে। তাই আপনি যদি ঘুম থেকে ওঠার ১ ঘন্টার মধ্যে আপনার সকালের নাস্তাটি সেরে ফেলেন তবে তা আপনার হজম ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং স্বাস্থ্যকে নিয়ন্ত্রণ করে।

৩. কম সুগার এবং বেশি প্রোটিনজাতীয় খাবার খান :

অতিরিক্ত সুগার সকালের খাবারের কার্যক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে সহায়ক। তাই নিশ্চিত করুন যে আপনার সকালের নাস্তাটি যেন কম সুগারসম্পন্ন হয়ে থাকে। এছাড়া সকালে ক্যালরিসম্পন্ন খাবারের পরিবর্তে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, রুটি খান যা আপনার দেহের স্বাস্থ্য রক্ষার্থে সহায়তা করে থাকবে।

৪. পরিমাণটি নির্দিষ্ট করুন :

অনেকে ভেবে থাকেন যে খাবারের পরিমাণ বেশি হলেই ওজন বেড়ে যায়। এটা একেবারেই সঠিক ধারণা না। অঅপনি যদি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার অনেক বেশি পরিমাণেও খেয়ে থাকেন তবু আপনার ওজনটি স্বাভাবিক থাকবে।

অন্যথায় ক্যালরিযুক্ত খাবার অল্প খেলেই আপনার ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে শরীরের প্রয়োজনে কমপক্ষে ৩৫০ ক্যালরি গ্রহণ করা উচিৎ। আর সকালের খাবারের পরিমাণটিও নির্দিষ্ট করে ফেলা উচিৎ।

৫. নিয়ম করে সকালের নাস্তা করুন :

ওজন কমানোর জন্য সকালের নাস্তা না করা কোনোভাবেই ভালো সিদ্ধান্ত না। এতে শরীর আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। তাই নিয়ম করে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার খাওয়া শরীরকে সুস্থ স্বাভাবিক রাখে পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজনকেও নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে।

10/07/2015

ধূমপান ছাড়তে চান! ধূমপান ছাড়তে চান!

ধূমপান সর্ব অর্থেই আপনার জন্য অকল্যাণকর এবং ক্ষতিকর। আপনি কি বার বার ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন?

আপনার কাজটি একটু সহজ করতে রইল ১০টি জরুরি টিপস :

•আপনার ধূমপানের পক্ষের এবং বিপক্ষের যুক্তিগুলোর তালিকা তৈরি করুন। তালিকাটি পরিবার এবং বন্ধুদের দেখান। অন্যদের যুক্তিগুলোও তালিকাতে যোগ করুন। নিশ্চিতভাবেই আপনার বিপক্ষের যুক্তির তালিকাটি বড় হয়ে যাবে।

•ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলির বড় একটি তালিকা চোখের সামনে রাখার ব্যবস্থা করুন।

•ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করুন এবং না করার ব্যাপারে নিজেকে উৎসাহিত করুন।

•ঠিক কোন কোন সময় আপনি ধূমপান করেন এবং তখন আপনি কী করেন সেটি নোট করুন। পরবর্তী সময়ে ওই কাজ করার সময় আর ধূমপান করবেন না। সিগারেটের বদলে বরং বাদাম, লজেন্স, চুইংগাম এগুলো খেতে পারেন।

•এক মাস পরের একটি দিন ঠিক করে ফেলুন এবং নিজেকে কথা দিন ওই দিনের পর আপনি আর কখনও ধূমপান করবেন না।

•একসঙ্গে দু’টি সিগারেটের বেশি কিনবেন না।

•সিগারেট না কেনার কারণে প্রতিদিন যে টাকা জমবে তা একটি কাচের পাত্রে রাখুন যাতে টাকাগুলো বাহির থেকে দেখা যায়। এক মাস পর ওই টাকায় প্রিয়জনকে সুন্দর কিছু দেয়ার পরিকল্পনা করুন।

•সিগারেট খাবার সময় হলেই অন্যকিছুতে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলুন। গান শুনুন, কম্পিউটারে গেম খেলুন অথবা বাগানে নতুন কোনও গাছ লাগান।

•অতিথি বা সবার ক্ষেত্রেই বাড়িতে ধূমপান নিষিদ্ধ করুন।

•নিজের অগ্রগতির প্রশংসা করুন এবং নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে আরও স্থির হোন। পরিবারের সদস্যদের উৎসাহিত করতে বলুন। সবচেয়ে বড় কথা হলো নিজের ইচ্ছাশক্তি। ধূমপানের বিরুদ্ধে নিজের ইচ্ছাশক্তিকে জাগিয়ে তুলুন।

Address

M/s SALIM MEDICAL HALL, MYMENSINGH Road
Tangail
MADHUPUR

Telephone

01713539929

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মেসার্স সেলিম মেডিক্যাল হল।ডাঃ মো মোস্তাফিজুর রহমান posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share