Dr. Farzana Islam Shaon

  • Home
  • Dr. Farzana Islam Shaon

Dr. Farzana Islam Shaon MBBS, FCPS (Gynecology & Infertility). Assistant Professor, OBGYN. Specialist in infertility, PCOS, pregnancy & women’s health.

Chamber:
Alliance Hospital, Dhaka: 5 PM –7 PM (Except Tue–Fri)
Kaliakair, Gazipur: Every Tuesday
Maona, Gazipur: Every Friday Welcome to the official page of Dr. Farzana Islam Shaon. MBBS, BCS (Health)
FCPS (Obstetrics & Gynecology)
FCPS (Reproductive Endocrinology & Infertility)
Assistant Professor (Obs & Infertility)

Dr. Farzana Islam Shaon is a highly experienced specialist in women’s health, pregnancy care, reproductive endocrinology, and infertility management. She is dedicated to providing safe, ethical and evidence-based treatment for gynecological problems, hormonal disorders, PCOS, menstrual issues, and infertility.

📍 Chamber Schedule:
Alliance Hospital, Dhaka: 5 PM – 7 PM (Saturday–Thursday)
Kaliakair, Gazipur: Every Tuesday
Maona, Gazipur: Every Friday

Committed to ensuring quality healthcare for women with compassionate and professional service.

অনেক নারী নিয়মিত মাথাব্যথায় ভুগলেও এর পেছনের হরমোনগত কারণ সম্পর্কে সচেতন নন। চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, পলিসিস্টিক...
06/02/2026

অনেক নারী নিয়মিত মাথাব্যথায় ভুগলেও এর পেছনের হরমোনগত কারণ সম্পর্কে সচেতন নন। চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) ও থাইরয়েড রোগ নারীদের মাথাব্যথা ও মাইগ্রেইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠছে।

পিসিওএসে নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এই হরমোনগত পরিবর্তন মস্তিষ্কের স্নায়ুকে সংবেদনশীল করে তোলে, ফলে ঘন ঘন টেনশন টাইপ মাথাব্যথা কিংবা মাইগ্রেইনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে থাইরয়েড গ্রন্থি কম কাজ করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এতে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং মাথায় চাপধরা ব্যথা অনুভূত হয়। আবার থাইরয়েড হরমোন বেশি হলে স্নায়বিক উত্তেজনা, উদ্বেগ এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা যুক্ত হতে পারে।

পিসিওএসের সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ওজন বৃদ্ধি ও মানসিক চাপ যুক্ত থাকায় মাথাব্যথার ঝুঁকি আরও বাড়ে। রক্তে শর্করার ওঠানামাও অনেক ক্ষেত্রে মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।

শুধু ব্যথানাশক ওষুধে সাময়িক আরাম মিললেও মূল সমস্যার সমাধান হয় না। পিসিওএস ও থাইরয়েড রোগ সঠিকভাবে শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে হরমোনের ভারসাম্য ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় এবং মাথাব্যথার মাত্রা কমে আসে।

অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, চুল পড়া, দীর্ঘদিনের ক্লান্তি এবং ঘন ঘন মাথাব্যথা একসঙ্গে দেখা দিলে পিসিওএস ও থাইরয়েড পরীক্ষা করা জরুরি। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে মাথাব্যথাসহ অন্যান্য জটিলতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ পিসিওএস ও থাইরয়েডজনিত মাথাব্যথা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।


#মাথাব্যথা #নারীস্বাস্থ্য
#স্বাস্থ্যসচেতনতা

বর্তমানে অনেক নারী গর্ভধারণের পর বারবার গর্ভপাতের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় Recurr...
01/02/2026

বর্তমানে অনেক নারী গর্ভধারণের পর বারবার গর্ভপাতের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় Recurrent Miscarriage। এ ধরনের সমস্যার পেছনে বিভিন্ন শারীরিক কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে অন্যতম হলো PCOS (Polycystic O***y Syndrome)।

PCOS মূলত নারীদের একটি জটিল হরমোনজনিত সমস্যা। এতে ডিম্বস্ফোটন স্বাভাবিক নিয়মে হয় না এবং শরীরে পুরুষ হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর প্রভাবে মাসিক চক্র অনিয়মিত হয়ে পড়ে, গর্ভধারণে বিলম্ব ঘটে এবং অনেক ক্ষেত্রে গর্ভধারণ হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

PCOS আক্রান্ত নারীদের শরীরে প্রায়ই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দেখা যায়, যা হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। ফলে জরায়ুর ভেতরের পরিবেশ ভ্রূণ ধারণের জন্য অনুকূল থাকে না। পাশাপাশি ডিম্বাণুর গুণগত মান কমে যাওয়ায় গর্ভপাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

এই ধরনের রোগীদের মধ্যে সাধারণত মাসিক অনিয়ম, ওজন বেড়ে যাওয়া, মুখে বা শরীরে অতিরিক্ত লোম, ব্রণ এবং গর্ভধারণে সমস্যা দেখা যায়। বারবার গর্ভপাত হলে এসব লক্ষণ থাকুক বা না থাকুক, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা জরুরি।

সমস্যা নির্ণয়ের জন্য হরমোন পরীক্ষা, রক্তে শর্করা ও থাইরয়েড পরীক্ষা এবং আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জীবনযাত্রার পরিবর্তন। ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং মানসিক চাপ কমানো PCOS নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হয় এবং গর্ভধারণের পর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়।

সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করলে PCOS থাকা সত্ত্বেও সুস্থভাবে গর্ভধারণ সম্ভব। তাই বারবার গর্ভপাত হলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মাতৃত্বের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সচেতনতা ও নিয়মিত চিকিৎসাই হতে পারে সবচেয়ে বড় ভরসা।

#নারীস্বাস্থ্য #বারবার_গর্ভপাত #গর্ভধারণ #বন্ধ্যাত্ব #মাতৃত্ব #গাইনী_পরামর্শ

অনেক নারী ও দম্পতি জানেন না যে থাইরয়েড রোগ গর্ভধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ হ...
27/01/2026

অনেক নারী ও দম্পতি জানেন না যে থাইরয়েড রোগ গর্ভধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিয়ন্ত্রক অঙ্গ।

এই গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ না করলে শুধু শরীরের ওজন বা ক্লান্তিই নয়, নারীদের মাসিক ও গর্ভধারণের ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

থাইরয়েড হরমোন ডিম্বাশয় ও জরায়ুর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।এই হরমোন স্বাভাবিক না থাকলে ডিম্বাণু তৈরি ও ডিম্বস্ফোটন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

ফলে মাসিক অনিয়ম, গর্ভধারণে দেরি হওয়া এবং কখনো কখনো বন্ধ্যাত্বের সমস্যা দেখা দেয়।

বিশেষ করে যাদের হাইপোথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড কম কাজ করা) আছে, তাদের শরীরে প্রোল্যাক্টিন হরমোন বেড়ে যেতে পারে।

এতে ডিম্বস্ফোটন ঠিকমতো হয় না এবং গর্ভধারণে সমস্যা হয়।

আবার হাইপারথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড বেশি কাজ করা) হলেও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মাসিক অনিয়ম দেখা দেয়।

কিছু ক্ষেত্রে শরীর নিজেই থাইরয়েড গ্রন্থির বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যাকে বলা হয় অটোইমিউন থাইরয়েড রোগ।এতে জরায়ুর ভেতরের পরিবেশ পরিবর্তিত হয়। ভ্রূণ ঠিকভাবে জরায়ুতে বসতে পারে না।ফলে বারবার গর্ভপাত বা গর্ভধারণে ব্যর্থতা হতে পারে।

থাইরয়েড রোগ শুধু নারীদের নয়, পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলে।

থাইরয়েড ঠিক না থাকলে শুক্রাণুর গতি ও গঠন দুর্বল হয়ে যেতে পারে।যৌন ইচ্ছা কমে যেতে পারে।

কখন থাইরয়েড পরীক্ষা করা জরুরি?

দীর্ঘদিন গর্ভধারণ না হওয়া।

মাসিক অনিয়ম।

বারবার গর্ভপাত।

অস্বাভাবিক ওজন বাড়া বা কমা।

অতিরিক্ত ক্লান্তি।

চুল পড়া।

পরিবারে থাইরয়েড রোগের ইতিহাস।

থাইরয়েড রোগ একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। সঠিক পরীক্ষা ও নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে থাইরয়েড হরমোন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।
চিকিৎসা শুরু করলে অনেক নারীর মাসিক স্বাভাবিক হয়। গর্ভধারণের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ বা শুরু করা উচিত নয়।নিয়মিত ফলোআপ ও রক্ত পরীক্ষা থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

দীর্ঘদিন ধরে গর্ভধারণে সমস্যায় ভুগলে অবশ্যই থাইরয়েড পরীক্ষা করানো জরুরি।

সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থভাবে গর্ভধারণ সম্ভব।



অনেক নারীই জানতে চান, মাসিক নিয়মিত না হলে গর্ভধারণ সম্ভব কি না।চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বললে, মাসিক চক্র সব সময় একদম একই স...
23/01/2026

অনেক নারীই জানতে চান, মাসিক নিয়মিত না হলে গর্ভধারণ সম্ভব কি না।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বললে, মাসিক চক্র সব সময় একদম একই সময়ে হয় না। এক মাসে ২৮ দিন, পরের মাসে ৩০ বা ৩১ দিন হলে সেটাকে আমরা স্বাভাবিকই ধরি। তবে মাসিক যদি ২১ দিনের কম বা ৩৫ দিনের বেশি ব্যবধানে হয়, তখন সেটাকে অনিয়মিত মাসিক বলা হয়।

আমি রোগীদের সব সময়ই বলি, অনিয়মিত মাসিক থাকলেও অনেক নারীর গর্ভধারণ সম্ভব হয়। তবে নিয়মিত মাসিকের তুলনায় এতে সময় বেশি লাগতে পারে এবং বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন হতে পারে।

এর প্রধান কারণ হলো ওভুলেশন। গর্ভধারণের জন্য ডিম্বাশয় থেকে একটি সুস্থ ডিম্বাণু বের হওয়া খুব জরুরি। মাসিক নিয়মিত হলে সাধারণত ওভুলেশনের সময় আন্দাজ করা যায়। কিন্তু মাসিক অনিয়মিত হলে কখন ডিম্বাণু বের হবে বা আদৌ বের হবে কি না, তা অনেক সময় বোঝা যায় না।

অনেক নারীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো মাসে ওভুলেশন হলেও মাসিক হয় না। আবার কোনো কোনো মাসে মাসিকের মতো রক্তপাত হলেও ওভুলেশন হয় না। এর মূল কারণ হলো হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া।

আমার অভিজ্ঞতায় অনিয়মিত মাসিকের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো PCOS (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম)। এতে ডিম্বাণু ঠিকভাবে বড় হতে পারে না বা বের হতে দেরি হয়। এছাড়া থাইরয়েডের সমস্যা, অতিরিক্ত কম বা বেশি ওজন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, এমনকি মেনোপজের আগের সময়েও মাসিক ও ওভুলেশন অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে।

অনিয়মিত মাসিক থাকলেও শরীর অনেক সময় কিছু সংকেত দেয়। যেমন, ওভুলেশনের সময় স্বচ্ছ ও পিচ্ছিল স্রাব বাড়তে পারে। সকালে শরীরের তাপমাত্রাও সামান্য বাড়তে পারে। প্রয়োজনে আমরা ওভুলেশন কিট বা আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে নিশ্চিত হই।

আমি রোগীদের সব সময় পরামর্শ দিই, যদি টানা তিন মাস বা তার বেশি সময় মাসিক না হয়, অস্বাভাবিক বেশি রক্তপাত বা ব্যথা হয়, কিংবা নিয়মিত চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে আসা উচিত।

কারণ সঠিক কারণ জানা গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসার মাধ্যমে ওভুলেশন স্বাভাবিক করা সম্ভব। কিছু ক্ষেত্রে ওভুলেশন বাড়ানোর ওষুধ দেওয়া হয়। PCOS আক্রান্ত অনেক নারীর ক্ষেত্রে আমি দেখি, সামান্য ওজন কমানো ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনেই ভালো ফল পাওয়া যায়। থাইরয়েড সমস্যায় সঠিক ওষুধ নিলে গর্ভধারণের সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।

তবে এটাও মনে রাখা দরকার, PCOS বা নিয়ন্ত্রণহীন থাইরয়েড সমস্যায় গর্ভাবস্থায় কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই গর্ভধারণের আগে ও পরে নিয়মিত ফলোআপ খুবই জরুরি।

সবশেষে আমি সব রোগীকেই একটি কথাই বলি। অনিয়মিত মাসিক মানেই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সঠিক চিকিৎসা, ধৈর্য এবং নিয়মিত ফলোআপ থাকলে অধিকাংশ নারীই সফলভাবে গর্ভধারণ করতে পারেন এবং সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে পারেন।

#নারীস্বাস্থ্য #অনিয়মিত_মাসিক #গর্ভধারণ

আজ আমি Polycystic O***y Syndrome (PCOS) নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেয়ার করতে চাই।বর্তমান সময়ে আমার চেম্বারে অনেক নারীই...
20/01/2026

আজ আমি Polycystic O***y Syndrome (PCOS) নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেয়ার করতে চাই।

বর্তমান সময়ে আমার চেম্বারে অনেক নারীই এই হরমোনজনিত সমস্যাটি নিয়ে আসছেন। PCOS হলে সাধারণত মাসিক অনিয়ম, শরীরে অতিরিক্ত লোম, ব্রণ, ক্লান্তি, মুড পরিবর্তন, যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে—দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গর্ভধারণে ব্যর্থতা দেখা যায়। এটি একটি জটিল হরমোনজনিত সমস্যা এবং এখন পর্যন্ত এর কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই। তবে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করলে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন PCOS নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদনে PCOS ব্যবস্থাপনায় কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

সেই গবেষণা অনুযায়ী, PCOS আক্রান্ত নারীদের ক্ষেত্রে ক্যালোরি গ্রহণের সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেসব নারী দিনের সবচেয়ে বেশি ক্যালোরি সকালে এবং সবচেয়ে কম ক্যালোরি রাতে গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে ইনসুলিন ও গ্লুকোজের মাত্রা কমেছে এবং টেস্টোস্টেরন প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে এসেছে। এর ফলে হরমোনজনিত সমস্যার উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।

আমি রোগীদের আরও যেটা বুঝিয়ে বলি, তা হলো—PCOS রোগীদের রক্তে প্রায়ই Advanced Glycation End Products (AGEs) বেশি থাকে। খাদ্যতালিকায় এই AGEs কমাতে পারলে ইনসুলিনের মাত্রা কমে আসতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রসেসড খাবার এবং উচ্চ তাপে রান্না করা খাবার AGEs বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

এছাড়া PCOS ও বন্ধ্যাত্বে ভোগা অনেক নারীর ক্ষেত্রে Vitamin D ও Calcium গ্রহণে মাসিক অনিয়ম এবং শরীরের ওজন সংক্রান্ত সমস্যার উন্নতি দেখা গেছে—এমন তথ্যও গবেষণায় উঠে এসেছে।

আমার অভিজ্ঞতায় এবং গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অনেক PCOS রোগীর মধ্যেই insulin resistance ও metabolic সমস্যা থাকে। এ ক্ষেত্রে Magnesium গ্রহণে রক্তে শর্করা ও ইনসুলিনের মাত্রা উন্নত হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল হলো Chromium। এটি ইনসুলিন ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত Chromium গ্রহণে PCOS রোগীদের fasting blood sugar ও insulin কমেছে।

সবশেষে, Omega-3 fatty acid–এর কথাও উল্লেখযোগ্য। নির্দিষ্ট সময় ধরে Omega-3 গ্রহণে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন কমেছে এবং মাসিক নিয়মিত হয়েছে—এমন তথ্য গবেষণায় পাওয়া গেছে।

আমি সবসময় রোগীদের বলি—PCOS ব্যবস্থাপনায় এসব প্রাকৃতিক পদ্ধতি অনেক ক্ষেত্রে ঔষধের পাশাপাশি সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট নিজে নিজে শুরু করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই এগুলো গ্রহণ করা সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর।




Vaginal Microbiome (ভেজাইনাল মাইক্রোবায়োম) বলতে নারীর যোনির ভেতরে স্বাভাবিকভাবে থাকা অণুজীবগুলোর সমষ্টিকে বোঝায়। এই অণুজ...
14/01/2026

Vaginal Microbiome (ভেজাইনাল মাইক্রোবায়োম) বলতে নারীর যোনির ভেতরে স্বাভাবিকভাবে থাকা অণুজীবগুলোর সমষ্টিকে বোঝায়। এই অণুজীবগুলো যোনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যোনির ভেতরে ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস ও ভাইরাস থাকে—যার মধ্যে কিছু উপকারী, আবার কিছু ক্ষতিকর। যোনিতে যখন উপকারী অণুজীব বেশি থাকে, তখন যোনির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তবে এই ভারসাম্য নষ্ট হলে যোনিতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, Vaginal Microbiome শুধু যোনি সংক্রমণের বিষয় নয়, বরং এটি বন্ধ্যাত্ব, মাসিকের সমস্যা এবং এমনকি সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের ঝুঁকি-এর সঙ্গে জড়িত। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের যোনির মাইক্রোবায়োম ও প্রজনন স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

সাধারণভাবে, একটি সুস্থ যোনিতে একটি ভালো ব্যাকটেরিয়া বেশি থাকে, যার নাম Lactobacillus। এটি যোনির ভেতরে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে, ফলে যোনির পরিবেশ হালকা অম্লীয় থাকে। এই পরিবেশে ক্ষতিকর জীবাণু সহজে বেঁচে থাকতে পারে না। Lactobacillus যোনির pH ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর জীবাণু দমন করে।

যখন কোনো কারণে যোনির স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন এই অবস্থাকে Vaginal Dysbiosis (ভেজাইনাল ডিসবায়োসিস) বলা হয়। এ সময় ভালো Lactobacillus কমে যায়, আর Gardnerella বা Prevotella-এর মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বেড়ে যায়। এর ফলে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, Bacterial Vaginosis (BV), সময়ের আগে সন্তান জন্মের ঝুঁকি বৃদ্ধি, জরায়ু ও ডিম্বনালিতে সংক্রমণ (PID) এবং অনেক নারীর মাসিকের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মাসিক চক্রের সঙ্গে সঙ্গে যোনির মাইক্রোবায়োমও পরিবর্তিত হয়। মাসিকের সময় যোনির pH সাময়িকভাবে বেড়ে যায় এবং তখন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া কিছুটা বাড়তে পারে। এর কারণ হলো মাসিকের রক্তের pH তুলনামূলকভাবে বেশি বা ক্ষারীয়। সবচেয়ে স্থিতিশীল অবস্থান দেখা যায় Ovulation-এর সময়, যখন শরীরে Estrogen হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে।

Estrogen ও Progesterone—এই দুই হরমোন যোনির পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। সাধারণভাবে, Estrogen বেশি থাকলে ভালো ব্যাকটেরিয়া Lactobacillus বৃদ্ধি পায়। তবে কিশোরীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, হরমোনের চেয়ে যোনির ভেতরের শর্করা বা vaginal glycogen ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে বেশি ভূমিকা রাখে।

কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস যোনির স্বাভাবিক মাইক্রোবায়োম নষ্ট করতে পারে। যেমন—ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, অকারণে vaginal wash বা douching, এবং “ফ্রেশ রাখার” নামে স্প্রে, ওয়াইপস বা পাউডার ব্যবহার। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় Antibiotic ব্যবহারও ভালো ব্যাকটেরিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে Candida বা ইস্ট সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অন্যদিকে, সঠিকভাবে ব্যবহার করা Probiotic যোনির ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে এবং BV বারবার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে।

#নারীস্বাস্থ্য

11/01/2026

আজ কথা বলব Recurrent Pregnancy Loss (বারবার গর্ভপাত) নিয়ে।পরপর ৩ বার গর্ভপাত হলে একে Recurrent Pregnancy Loss বলা হয়। বর্তমানে পরপর ২ বার গর্ভপাত হলেও এই সমস্যার আওতায় ধরা হয়।

এই সমস্যা একজন নারীর জন্য শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি গভীর মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।এর পেছনে হরমোনের সমস্যা, জরায়ুর গঠনগত ত্রুটি, থাইরয়েড বা ডায়াবেটিস, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা এবং জেনেটিক কারণসহ একাধিক বিষয় দায়ী হতে পারে।

এই ভিডিওতে Recurrent Pregnancy Loss-এর সম্ভাব্য কারণ ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

#বারবার_গর্ভপাত
#নারীস্বাস্থ্য

আমার হাতের উছিলায় আল্লাহ তায়ালা আরেকটি সুন্দর সফলতা দান করেছেন।রোগিণীর বিয়ে হয়েছিল দীর্ঘ ৮ বছর আগে। এত বছরেও সন্তান না হ...
10/01/2026

আমার হাতের উছিলায় আল্লাহ তায়ালা আরেকটি সুন্দর সফলতা দান করেছেন।

রোগিণীর বিয়ে হয়েছিল দীর্ঘ ৮ বছর আগে। এত বছরেও সন্তান না হওয়ায় তিনি বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়েছেন, কিন্তু কোনোভাবেই সফলতা আসেনি। সময়ের সাথে সাথে তিনি মানসিকভাবে ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েন।

এক পর্যায়ে তিনি আমার চেম্বারে আসেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, তাঁর একটি ফ্যালোপিয়ান টিউব (ডিম্বনালী) ব্লক ছিল। সঠিক রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে আমরা সেই সমস্যার সমাধান করি। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর আল্লাহর রহমতে তিনি গর্ভধারণ করেন।

দীর্ঘ ৮ বছর অপেক্ষার পর তিনি একজন মা হয়েছেন। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ আছেন। আল্লাহ তায়ালা মা ও শিশুকে নেক হায়াত দান করুন।আমিন।

যাদের সন্তান ধারণে সমস্যা হচ্ছে, তারা যেন হতাশ না হন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে ইনশাআল্লাহ সফলতা আসবেই। তবে এক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি।

#বন্ধ্যাত্বচিকিৎসা #সন্তানসুখ #মাতৃত্ব #সফলচিকিৎসা
#রোগীরসাফল্য

09/01/2026

এমবিবিএস (MBBS), এফসিপিএস (গাইনোকোলজি ও বন্ধ্যাত্ব) সহকারী অধ্যাপক, অবস্টেট্রিক্স ও গাইনোকোলজি (OBGYN)

বিশেষজ্ঞ: বন্ধ্যাত্ব, পিসিওএস (PCOS), গর্ভাবস্থা, মাসিক সমস্যা, জরায়ুর ফাইব্রয়েড, ওভারি সিস্ট, এন্ডোমেট্রিওসিস ও নারীস্বাস্থ্য

চেম্বার সময়সূচি:

📍 অ্যালায়েন্স হাসপাতাল, ঢাকা
🕔 বিকাল ৫টা – সন্ধ্যা ৭টা
(মঙ্গলবার–শুক্রবার ব্যতীত)

📍 কালিয়াকৈর, গাজীপুর
🗓 প্রতি মঙ্গলবার

📍 মাওনা, গাজীপুর
🗓 প্রতি শুক্রবার

সিরিয়াল নিতে কল করুন: ০১৭২০৪২২৪৪৮


#নারীস্বাস্থ্য #নারীরোগ #ফাইব্রয়েড #বন্ধ্যাত্ব #গর্ভধারণ #ডাক্তারেরপরামর্শ

09/01/2026

Fibroid Uterus বলতে জরায়ুতে এক বা একাধিক ফাইব্রয়েড থাকা বোঝায়। ফাইব্রয়েড হলো জরায়ুর মাংসপেশির ভেতরে বা গায়ে হওয়া একটি অস্বাভাবিক গাঁট, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যানসার নয়। অনেক নারীই এ সমস্যায় ভুগলেও শুরুতে উপসর্গ না থাকায় বিষয়টি নজরে আসে না।

এই ভিডিওতে আমি Fibroid Uterus কী, কেন হয়, এর লক্ষণগুলো কী এবং কখন চিকিৎসা প্রয়োজন—এসব বিষয় সহজ ভাষায় বিস্তারিতভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। ভিডিওটি দেখুন এবং সচেতন থাকুন।

#ফাইব্রয়েড #জরায়ুরফাইব্রয়েড
#নারীস্বাস্থ্য #মাসিকসমস্যা #নারীরোগ #স্বাস্থ্যসচেতনতা

07/01/2026

Chocolate cyst (Endometrioma) হলো ডিম্বাশয়ে হওয়া এক ধরনের সিস্ট, যা Endometriosis রোগের কারণে হয়। এতে পুরোনো জমাট বাঁধা রক্ত জমে থাকে, দেখতে চকলেটের মতো হওয়ায় এ নাম। এই সমস্যায় মাসিকের তীব্র ব্যথা, তলপেট ব্যথা ও গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। ভিডিওতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ।

#নারীস্বাস্থ্য #বন্ধ্যাত্ব #মাসিকেরব্যথা

অনেকেই মনে করেন বন্ধ্যাত্ব একটি নির্দিষ্ট রোগ। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। আমার চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বন্ধ্যাত্ব মূলত শ...
04/01/2026

অনেকেই মনে করেন বন্ধ্যাত্ব একটি নির্দিষ্ট রোগ। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। আমার চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বন্ধ্যাত্ব মূলত শরীরের একাধিক শারীরিক ব্যবস্থার সম্মিলিত ভারসাম্যহীনতার ফল। হরমোন ব্যবস্থা, পরিপাকতন্ত্র, লিভার, রক্ত সঞ্চালন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের দীর্ঘদিনের সমস্যাই ধীরে ধীরে প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শরীর যদি দীর্ঘ সময় অপুষ্টি ও বিষাক্ত খাবারের প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সন্তান ধারণের সক্ষমতা হ্রাস পায়।

বর্তমান সময়ে আধুনিক জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণে নারী ও পুরুষ—উভয়ের মধ্যেই বন্ধ্যাত্বের সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তাই আমি সব সময় বলি, বন্ধ্যাত্ব সমাধানে সরাসরি ওষুধে যাওয়ার আগে প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরকে সন্তান ধারণের উপযোগী করে তোলা জরুরি।

এই ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ট্রান্স ফ্যাট (ক্ষতিকর কৃত্রিম চর্বি) এবং কৃত্রিম হরমোনযুক্ত খাবার প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে শাকসবজি, ফল, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার, স্বাস্থ্যকর চর্বি, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ফার্টাইল হতে সহায়তা করে।

আমি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখি—ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি–কমপ্লেক্স, ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি থাকলে গর্ভধারণে সমস্যা হয়। এসব পুষ্টির অভাবে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে এবং ভবিষ্যতে শিশুর জন্মগত সমস্যার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।

নারীদের বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাগুলো দেখি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে পিসিওএস (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম), অনিয়মিত মাসিক, ডিম্বাণু তৈরি না হওয়া, প্রোজেস্টেরন হরমোনের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন হরমোন। এসব সমস্যার সমাধান শুধু হরমোনের ওষুধে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দীর্ঘদিনের ভুল খাদ্যাভ্যাস ও অস্বাস্থ্যকর জীবনধারাই এসব সমস্যার মূল কারণ হয়ে থাকে।

আরেকটি বিষয় অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়—ইস্ট ইনফেকশন (Yeast infection) ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য। শরীরে দীর্ঘদিন ক্যান্ডিডা বা ইস্ট জাতীয় জীবাণু অতিরিক্ত বেড়ে গেলে প্রদাহ তৈরি হয়, হরমোন রিসেপ্টর ঠিকমতো কাজ করে না এবং ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর গুণগত মান কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে তথাকথিত ‘কারণহীন বন্ধ্যাত্ব’-এর পেছনেও এই সমস্যা দায়ী থাকে।

পুরুষদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি আলাদা নয়। কম শুক্রাণু সংখ্যা বা দুর্বল শুক্রাণুর পেছনে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে জিঙ্ক ও সেলেনিয়ামের অভাব পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।

আমি আরও লক্ষ্য করেছি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব সরাসরি প্রজনন হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে। স্ট্রেসের কারণে শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন বেড়ে যায়, যা সন্তান ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনগুলোকে দমন করে।

তাই আমার পরামর্শ একটাই—শরীরকে আগে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ ও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। ওষুধের আগে সঠিক খাবার, প্রয়োজনীয় পুষ্টি, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীরকে সন্তান ধারণের জন্য প্রস্তুত করাই বন্ধ্যাত্ব মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ পথ।
#বন্ধ্যাত্ব #সন্তান_ধারণ #নারীর_স্বাস্থ্য #পুরুষের_স্বাস্থ্য

Address

Alliance Hospital Limited, 24/3 Khilji Road, Ring Rd

1207

Telephone

+8801912335039

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Farzana Islam Shaon posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

  • Want your practice to be the top-listed Clinic?

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram