12/10/2022
পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম।
এটি সারা বিশ্বের নারীদের একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীরা এ সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে ১ জনের এ সমস্যা আছে। পিসিওএস আক্রান্ত নারীরা অনিয়মিত মাসিক, ত্বক কালচে হয়ে যাওয়া, ওজন বৃদ্ধি, ব্রণ ও আঁচিল, মুখে অবাঞ্ছিত লোম, চুল পড়ে যাওয়াসহ নানা বিব্রতকর শারীরিক সমস্যার শিকার হন।
কেন হয়
এটি বংশগত এবং হরমোনাল সমস্যা। নারীর শরীরে পুরুষ হরমোন এন্ড্রোজেন স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে এ সমস্যা দেখা দেয়।
জটিলতা
পিসিওএস একটি মেটাবলিক সমস্যা। চিকিৎসা না করা হলে দীর্ঘ মেয়াদে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, ফ্যাটি লিভার ডিজিজ, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার বা জরায়ুর ক্যানসার ইত্যাদি জটিলতা হতে পারে। বন্ধ্যাত্বের একটি অন্যতম কারণও হলো পিসিওএস।
সন্তানধারণ
পিসিওএস আক্রান্ত নারীদের ডিম্বাশয় থেকে প্রতি মাসে ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশনে সমস্যা হয় বলে তাঁরা বন্ধ্যত্বের শিকার হন। পিসিওএসে আক্রান্ত অনেকেরই ধারণা, তাঁদের কখনো সন্তান হবে না। কিন্তু ওজন কমিয়ে এবং চিকিৎসার মাধ্যমে মাসিক নিয়মিত করে আবার ডিম্বস্ফোটন সম্ভব, ফলে সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনাও বাড়ে।
কীভাবে জীবনাচরণ পাল্টাবেন
- নিয়মিত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটার অভ্যাস।
- সুষম খাদ্য- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া।
- প্রচুর পরিমানে তাজা ফল ও শাকসবজি খাওয়া।
- দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস তরল জাতীয় খাবার/পানি পান করা।
- জাংক ফুড, ফাস্ট ফুড, উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার পরিহার করা।
- ঘুমানোর অন্তত চার ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া।
- রাতজাগা যাবে না। জীবনযাপনে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।
_
ডা: নাফিয়া শারমিন
এমবিবিএস, ডিজিও (বিএসএমএমইউ), বিসিএস (স্বাস্থ্য)
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল।