21/02/2026
🌙 নটিংহ্যামে রমাদ্বান
ইংল্যান্ডে আসার পর থেকেই এক ধরনের শূন্যতা কাজ করে। চারপাশে সব কিছু আছে, কিন্তু বাংলাদেশের সেই প্রাণবন্ত আমেজটা নেই। এখানে পরিচিত লোকজন কম, হঠাৎ করে আড্ডা জমে ওঠে না, রাস্তা-ঘাটে চেনা কোলাহল নেই।
একবার ভাবলাম, যেহেতু জীবনে কখনও বড়দিন কাছ থেকে দেখা হয়নি, তাই পরিবার নিয়ে ক্রিসমাসের দিনে বের হবো। বাইরে তখন মাইনাস তাপমাত্রা। মন ভরে কিছু দেখবো, এই আশায় বের হলাম। কিন্তু শহর নিস্তব্ধ। তেমন কোনো আয়োজন চোখে পড়লো না। শুধু ঠান্ডা হাওয়া আর উবার ভাড়ার খরচ— এই ছিল সেদিনের প্রাপ্তি!
এরপর এলো রমাদ্বান। অথচ মনটা কেমন পানসে লাগছিল। বাংলাদেশে হলে বিকেলে একটা পাঞ্জাবি গায়ে চড়ায়ে বের হতাম। গেরুয়ায় হাঁটতে হাঁটতে ইফতার কিনতাম— আমি, কিংবা মেহেদি বা মাসুদ। বাজারের ভিড়, ইফতারের ঘ্রাণ, পরিচিত মুখের সঙ্গে সইফতার করা, সব মিলিয়ে আলাদা এক আবহ। এখানে তা নেই! যদিও বাসায় ছোট পরিসরে আয়োজন হয়, তবু দেশের সেই প্রাণের টানটা অন্যরকম।
আমরা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাতেই থাকি। তবুও মাইকে আজান শোনা যায় না। পুরো ইংল্যান্ডে কেবল East London Mosque এ নিয়মিত মাইকে আজান হয়। বিষয়টা ভাবলে অবাকই লাগে। তারাবীহ নামাজে যাবো, হয়ে উঠে না! বাসা থেকে মাত্র দশ মিনিট হাঁটার পথ মসজিদ। অবশেষে একদিন গেলাম। গিয়ে সত্যিই তাজ্জব হয়ে গেলাম। জুমার নামাজে অন্য ইমাম পড়ালেও, খতম তারাবীহ পড়াচ্ছেন যিনি, তার কিরাত যেন আগুন! এত সুমধুর তিলাওয়াত জীবনে শুনেছি বলে মনে হয়না! মনে হচ্ছে হোয়াইট ইমাম! আমি সাধারণত আট রাকাতের দলে, কিন্তু এবার ভাবছি পূর্ণ খতম তারাবীহই আদায় করবো।
বাংলাদেশে ইসলাম নিয়ে গুঁতাগুঁতির শেষ নাই! একশ তেচল্লিশ আসনের এ গ্রেডের চর্ম্নাইয়ের এক টুপি পরে, জামায়াতের ভক্তরা আরেক রকম, কওমিরা পাঁচখল্লি টুপি! কিন্তু আমার তারাবিহের ইমামের মাথায় কোনো টুপি নাই! ভাবা যায় এগুলো বাংলাদেশে? তার চেয়েও বড় কথা, মুয়াজ্জিনের দাড়ি নাই! তবুও কারও ঈমান নিয়ে টানাটানি নেই। আলহামদুলিল্লাহ, সূরা শেষে যার ইচ্ছে জোরে “আমীন” বলে, কেউ রাফাদায়েন করে, কেউ করে না— কিন্তু এজন্য কাউকে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয় না।
এখানে ধর্ম পালনে সহনশীলতার একটা সহজ, স্বস্তিদায়ক পরিবেশ আছে। ভিন্নতা আছে, কিন্তু বিভেদ নেই।
ছবি: Westminster Abbey, এখানের কোথাও সমাহিত আছেন জগতখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার Isaac Newton 🔅