15/02/2026
আজ (১৫.০২.২০২৬, রবিবার) শহিদ শিবশঙ্কর সেবা সমিতিতে একটি আলোচনা সভায় অসাধারণ বললেন ডাঃ উদয় চাঁদ ঘোষাল। বিষয় ছিল "পেটের সমস্যা"। সেবা সমিতির সভাপতি ডাঃ তুষারকান্তি বটব্যালের ছাত্র এবং বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তনী ডাঃ ঘোষাল দীর্ঘদিন বর্ধমান শহরের সহ নাগরিক হিসেবে শহিদ শিবশঙ্কর সেবা সমিতি সম্পর্কে অবহিত। তাঁর গবেষণা পত্র সারা পৃথিবীতে স্বীকৃত ও গ্ৰহনযোগ্য। কার্যত তিনি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্যাসট্রোএন্ট্রোলজিষ্ট হিসাবে পরিচিত। অত্যন্ত সাবলীলভাবে তিনি পেটের সমস্যার কারণ গুলো আলোচনা করেন। স্লাইড প্রদর্শনের মাধ্যমে আলোচনা করার জন্য এই আলোচনা সভা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তিনি বলেন প্রকৃতি যেভাবে মানুষের গঠন তৈরি করেছে, সেখানে পেটের গঠন একটি যেন পাইপের মতো। কারখানায় যেমন দ্রব্য উৎপাদনে ধোঁয়া ও বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়, মানবদেহে সারা বছরে ৫০০কেজি খাবার গ্ৰহণ করে, পুষ্টি গ্ৰহণ করার পর প্রচুর গ্যাস ও বর্জ্য (মল) তৈরি হয়। কাজেই মানব শরীর গ্যাস তৈরি করে। তিনি অহেতুক গ্যাসের ওষুধ খাওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার বিরোধিতা করেন। ডায়ারিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য কখনই ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে খাওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন একমাত্র ভারতেই বিনা প্রেসক্রিপশনে ওষুধ বিক্রি করা হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য এখন চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। মূলত বিদেশ থেকে আমদানি করার জন্য খরচ বৃদ্ধি পায়। তাই এই সব যন্ত্রপাতি, ওষুধ আমাদের দেশে তৈরি করার উপর জোর দেন। এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ ডা: ঘোষালের আবিষ্কৃত যন্ত্রটি হচ্ছে একটি রোগনির্ণয়কারী ক্যাপসুল , নাম "ট্রান্সাইমার"। এটির কাজ হল কোলন বা বৃহদন্ত্রে মল কতসময় ধরে যায় (ট্রানজিট টাইম) নির্নয় করা। কোষ্ঠকাঠিন্যর মত বৃহদন্ত্রের রোগ নির্নয় ও চিকিৎসায় এটি খুবই সহায়ক। তিনি তার আবিষ্কারের পেটেন্ট নিয়েছেন এবং এর কারখানা তার জন্মস্থান বাঁকুড়া জেলার বেলিয়াতোর এলাকায় গ্ৰামের বাড়িতে স্থাপন করবেন বলে ঘোষণা করেন। আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে অনেকের প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রাণবন্ত এই আলোচনা উপস্থিত সকলে আন্তরিকভাবে গ্ৰহন করে।
আলোচনা সভার শুরুতে ডাঃ ঘোষালকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন ডাঃ তুষার কান্তি বটব্যাল, পুষ্পস্তবক দিয়ে সন্মানিত করেন সম্পাদক ডঃ সম্বরন প্রামাণিক, স্মারক তুলে দেন সহ সম্পাদক ডাঃ সুধাকর মন্ডল।