19/11/2025
আমার এক পেশেন্ট এর wall থেকে নেওয়া।
ডাক্তারবাবু আমার চোখ পরীক্ষা করে রোজ তিনবার একটা ড্রপ দিতে বললেন। সঙ্গে একটা করে ভিটামিন ক্যাপসুল। পাশে বসে চিকু মুনু খুব মন দিয়ে শুনছিল। আমি যেখানে যাব ওরা সেখানে যাবেই। বাইরে বসতে বলেছিলাম, চিকু খ্যাঁক করে উঠে বলেছিল,'ডাক্তার যদি তোমার চোখ ফোক খুবলে নেয়? আমরা তোমার সঙ্গেই থাকব।' ডাক্তারবাবুও দেখলাম ওদের অনুপ্রবেশে বিশেষ অখুশি হলেন না। উল্টে ওদের কেই বেশি গুরুত্ব দিলেন। প্রেসক্রিপশন লিখে বললেন,'তিনবার করে ড্রপ টা কিন্তু ভুললে চলবে না। তোমরা বাবাকে মনে করিয়ে দেবে। কেমন? আর ক্যাপসুল ও খেতে হবে।' মুনু ঘাড় নাড়ল। চিকু তার বিশেষ টিপ্পনী রাখল। 'বাওয়া কে খাওয়ার কথা মনে করাতে হয় না। নিজেই খাই খাই করে। মা এর মাথা খারাপ করে দেয়। ওইজন্য তো অত্ত ভুঁড়ি।' মুনু ভাইকে চোখ পাকাল। 'চুপ কর চিকা। নিজের বাবা কে এসব বলতে নেই?' ডাক্তারবাবু হেসে ফেললেন। চেম্বার থেকে বেরিয়ে ওষুধের দোকান। আমি নেওয়ার আগেই চিকু হাত বাড়িয়ে ওষুধের প্যাকেট তুলে নিল। টি শার্টের বুক পকেটে সেটা গুঁজে বলল,' বাওয়া কো ড্রপ হাম দেংগে। মুনু ক্যাপসুল খিলাবি।' শুনেই বুক টা ছ্যাঁত করে উঠল। তাড়াতাড়ি বললাম,' তুই ড্রপ দিতে গিয়ে চোখেই খুঁচিয়ে দিবি। তার চেয়ে মুনু ড্রপ দিক। তুই ক্যাপসুল।' 'আরে মুনু ভুলক্কড় আছে বাওয়া। কুত্তা-বিল্লী খাওয়াতে গিয়ে সব ভুলে যাবে। তিনবার ড্রপ দিতে হবে। বুঝলে? চিকু ছাড়া কেউ পারবে না।' শুনেই মুনু চটে গেল। 'তুই একটা পড়া মনে রাখতে পারিস না? আর আমাকে ভুলক্কড় বলছিস?' খ্যাঁক খ্যাঁক করে হেসে চিকু উত্তর দিল,'পড়নে সে ক্যা হোতা হ্যায় মুনু? আসলি চিজ হ্যায় কম্পিউটার। আমি কম্পিউটার করি। আমি সব জানি।' 'হাতির মাথা জানিস। লোগো ড্রইং করতে হলেই তো ষাঁড়ের মত বাওয়া বাওয়া করে চেঁচাস।' 'আরে সে তো বাওয়া কে টেস্ট করি। নাহলে বাওয়া সব কমান্ড ভুলে যাবে। তুই বোকা না কি?' অনেক তর্কবিতর্কের পর সিদ্ধান্ত হল ড্রপ চিকুই দেবে। তার পরেই বিপদের শুরু। ড্রপ দেওয়ার জন্য বিচিত্র বিচিত্র সময় বেছে নিতে লাগল চিকু। চা খেতে বসলে ড্রপ দিতে আসে, বই পড়তে বসলে ড্রপ দিতে আসে, বাথরুমে গিয়েও শান্তি নেই। বাইরে থেকে সজোরে ধাক্কা আর চিৎকার,'বাওয়া, ড্রপ টা নেবে এসো এক্ষুনি।' তিনবারের বদলে তিরিশ বার করে ড্রপ নিয়ে ধেয়ে আসতে লাগল। যেই বলছি, এই তো একঘণ্টা আগে ড্রপ দিয়ে গেলি, আবার পরে দিস। অমনি বাবুর গোঁসা হয়ে যাচ্ছে। এক ফোঁটা করে ড্রপ দেওয়ার কথা। কিন্তু সেই এক ফোঁটায় চিকুর মন উঠছে না। গজগজ করছে,'বোকা ডাক্তার বাবু। বাওয়ার এত্ত বড় বড় চোখ। এক ফোটায় কী করে ভাল হবে? দু তিন ফোঁটা করে ঢেলে দিই বাওয়া? চোখ পুরো ধুয়ে পোস্কার হয়ে যাবে।' আঁতকে উঠে ড্রপ টা কেড়ে নিয়ে বললাম,'থাক মানিক। খুব হয়েছে। তোকে ড্রপ দিতে হবে না।' 'হবে না মানে? আমার বাওয়ার চোখ খারাপ হয়ে গেলে তখন কী হবে?' 'সে আমি বুঝব। তুই পালা।' 'অ্যাই! তুমি কেন বুঝবে? তোমার বাওয়া? এইটা আমার বাওয়া, আমি বুঝব। দাও ড্রপটা। দাও।' বিবাহিত মানুষের বিপদে বউ ই ভরসা। তারস্বরে চেঁচালাম,' এই দ্যাখো, এ ছেলে কী শুরু করেছে? মনে হচ্ছে আমাকে কানা করে দেবে।' ওয়াশিং মেশিনের কাছ থেকে গর্জন এল,'চিকু, বেশি বাড়াবাড়ি করিস না। পড়তে বোস গিয়ে। ড্রপ আমি দিয়ে দোব বাবাকে।' বাঘের ডাকের পর জঙ্গলে যেমন ক্ষণিকের নিস্তব্ধতা আসে, তাই নেমে এল। কটমট করে আমার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল চিকু। তারপর দাঁত কিড়মিড় করে চাপা গলায় বলে গেল,' ওক্কে। বউ এর কাছেই ড্রপ নাও। সে তো আর জানে না ডাক্তার বাবু কী কী বলেছে? তাপ্পর যখন এদ্দম দেখতে পাবে না তখন আমায় বলবে না, চিকু , মানিক আমার, এট্টু হাত ধরে নিয়ে চল বাথথুমে। আমি তখন কচুপোড়া নিয়ে যাব। বুঝলে?'