Dr. Prosenjit Kumar Kundu

Dr. Prosenjit Kumar Kundu Consultant Homoeopathic Physician

ড্রেসিং টেবিলে সাজানো নামীদামী ব্র্যান্ডের সিরাম, ময়েশ্চারাইজার আর অ্যান্টি-এজিং নাইট ক্রিম। প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা...
31/01/2026

ড্রেসিং টেবিলে সাজানো নামীদামী ব্র্যান্ডের সিরাম, ময়েশ্চারাইজার আর অ্যান্টি-এজিং নাইট ক্রিম। প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা খরচ করছেন এই আশায় যে, এই ক্রিমগুলো আপনার ত্বককে টানটান রাখবে আর ভেতর থেকে গ্লো আনবে। কিন্তু বিজ্ঞানের কটু সত্যটা হলো—আপনি যা মাখছেন, তা আপনার ত্বকের 'জীবিত' কোনো অংশেই পৌঁছাচ্ছে না। আপনি মূলত টাকা খরচ করে চামড়ার ওপরের মৃত কোষগুলোকে খাওয়াচ্ছেন!

​শুনতে খুব খারাপ লাগছে, তাই না? কিন্তু আমাদের ত্বকের গঠনশৈলী বা অ্যানাটমি জানলে আপনি নিজেই বিষয়টি বুঝতে পারবেন। আমাদের ত্বকের মূলত দুটি প্রধান স্তর থাকে। ওপরের যে স্তরটি আমরা চোখে দেখি এবং স্পর্শ করি, তাকে বলা হয় 'এপিডার্মিস' (Epidermis)। অবাক করা বিষয় হলো, এই এপিডার্মিসের ওপরের দিকের কোষগুলো মূলত মৃত (Dead Cells) এবং এখানে কোনো রক্ত চলাচল নেই। এর কাজ শুধুই শরীরকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা।
​অথচ, আপনার ত্বকের আসল প্রাণকেন্দ্র হলো এর ঠিক নিচের স্তরটি, যার নাম 'ডার্মিস' (Dermis)। এখানেই থাকে কোলাজেন (যা ত্বক টানটান রাখে) এবং ইলাস্টিন (যা নমনীয়তা দেয়)। আপনার ত্বক বুড়ো হবে নাকি জৌলুসপূর্ণ থাকবে—তা ঠিক হয় এই ডার্মিসে।

​সমস্যা হলো, বিজ্ঞাপনে যতই বলুক "ত্বকের গভীরে গিয়ে কাজ করে", বাস্তবতা হলো—কোনো সাধারণ কসমেটিক ক্রিম বা লোশনের ক্ষমতা নেই এপিডার্মিসের শক্ত দেয়াল ভেদ করে নিচের ডার্মিস পর্যন্ত পৌঁছানোর। তাই আপনি যখন দামী ক্রিম মাখছেন, তা মূলত ওই ওপরের মৃত কোষ বা এপিডার্মিসকেই ভিজিয়ে রাখছে। অনেকটা ভাঙা দেয়ালের ওপর রঙচঙে 'পুটি' লাগানোর মতো—বাইরে থেকে চকচকে দেখাবে, কিন্তু ভেতরের ইট ঠিক হবে না।

​তাহলে আসল 'গ্লো' বা উজ্জ্বলতা আসবে কোথা থেকে?
জীবিত ডার্মিস স্তরে পুষ্টি পৌঁছানোর একমাত্র রাস্তা হলো 'রক্তনালী'। আপনার সারা শরীরে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা রক্তনালীগুলোই কেবল ডার্মিসে অক্সিজেন, ভিটামিন, প্রোটিন এবং ফ্যাট পৌঁছে দিতে পারে। আর রক্তে এই পুষ্টিগুলো তখনই যাবে, যখন আপনি সঠিক খাবার খাবেন।

​তাই ড্রেসিং টেবিলের ওপর ভরসা কমিয়ে খাবার টেবিলের দিকে নজর দিন। ওপর থেকে যতই ক্রিম মাখুন, ভেতর থেকে যদি ভালো ফ্যাট (ওমেগা-৩), প্রোটিন আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট না পাঠান, তবে ডার্মিস শুকিয়ে যাবেই। আসল সৌন্দর্য কোনো বয়ামে ভরে বিক্রি হয় না, আসল সৌন্দর্য আপনার প্লেটে সাজানো থাকে।
​মরা চামড়ায় পালিশ না করে, জীবন্ত কোষকে খাবার দিন।

বয়স মাত্র পঁচিশের কোঠায়, জীবনটা যেখানে রঙিন হওয়ার কথা, সেখানে আয়নার সামনে দাঁড়ালে আপনার মনটাই কি ধূসর হয়ে যায়? মাথার এক...
31/01/2026

বয়স মাত্র পঁচিশের কোঠায়, জীবনটা যেখানে রঙিন হওয়ার কথা, সেখানে আয়নার সামনে দাঁড়ালে আপনার মনটাই কি ধূসর হয়ে যায়? মাথার একরাশ ঘন কালো চুলের ভিড়ে হঠাত করেই যখন দু-একটা ধবধবে সাদা চুল উঁকি দেয়, তখন বুকের ভেতরটা কি অজান্তেই হাহাকার করে ওঠে না? বন্ধু-বান্ধব বা অফিস কলিগরা হয়তো হাসাহাসি করে বলে, "কিরে, এত অল্প বয়সেই তো বুড়ো হয়ে গেলি! প্রেমিকা পালিয়েছে নাকি? সারাদিন কী এত চিন্তা করিস?" এই কথাগুলো শুনতে শুনতে আপনি হয়তো মানসিকভাবে ক্লান্ত। লজ্জায় বা অস্বস্তিতে বারবার পার্লারে ছুটছেন, ক্ষতিকর কেমিক্যাল ডাই বা মেহেদি দিয়ে সেই সাদা চুল ঢাকার প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, ওপর থেকে রং মেখে সাময়িকভাবে সাদা চুল ঢাকা গেলেও, ভেতর থেকে কেন চুলগুলো তার স্বাভাবিক রং হারিয়ে ফেলছে? আমরা অনেকেই ভাবি, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস থেকেই বুঝি চুল পাকে। স্ট্রেস অবশ্যই পরোক্ষভাবে একটি কারণ, কিন্তু অকালে চুল পাকার নেপথ্যে থাকা আসল জৈব-রাসায়নিক কারণটি প্রায়শই আমাদের চোখের আড়ালে থেকে যায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের গভীরে গেলে দেখা যায়, এই সমস্যার মূলে রয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিনারেলের অভাব, যার নাম 'কপার' (Copper) বা তামা। বিষয়টি একটু সহজ করে বুঝিয়ে বলি। আমাদের চুলের গোড়ায় প্রাকৃতিকভাবেই মেটাবোলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়ার ফলে 'হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড' তৈরি হয়। আমরা অনেকেই জানি, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড একটি শক্তিশালী 'ব্লিচিং এজেন্ট', যা সাধারণত রং ফর্সা করতে বা ব্লিচ করতে ব্যবহৃত হয়। স্বাভাবিক ও সুস্থ অবস্থায় আমাদের শরীরে 'ক্যাটালেজ' (Catalase) নামক একটি সুপার-হিরো এনজাইম থাকে। এই এনজাইমের কাজ হলো চুলের গোড়ায় তৈরি হওয়া ওই বিষাক্ত ব্লিচ বা হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডকে ভেঙে জল ও অক্সিজেনে রূপান্তর করা, যাতে তা চুলের কালো পিগমেন্ট বা মেলানিনকে ধ্বংস করতে না পারে। কিন্তু সমস্যা বাধে তখন, যখন আপনার শরীরে কপারের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দেয়। কারণ, এই ক্যাটালেজ এনজাইমটি সক্রিয় হতে এবং কাজ করতে কপারের ওপর নির্ভরশীল। শরীরে পর্যাপ্ত কপার না থাকলে ক্যাটালেজ এনজাইমটি অলস বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে চুলের গোড়ায় ধীরে ধীরে জমতে থাকে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড। ফলাফল? আপনার চুল ভেতর থেকেই প্রাকৃতিকভাবে ব্লিচ হয়ে সাদা হয়ে যায়।

তাই অযথা দুশ্চিন্তা বা শুধুই 'বংশগত দোষ' বলে হাল ছেড়ে না দিয়ে নিজের খাবারের প্লেটের দিকে নজর দিন। বাজার থেকে দামী হেয়ার কালার বা কলপ কিনে চুলের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি না করে, রান্নাঘরে প্রাকৃতিক কপারের জোগান বাড়ান। সপ্তাহে অন্তত একদিন খাসির মেটে (লিভার) খাওয়ার অভ্যাস করুন, যা কপারের খনি হিসেবে পরিচিত। বিকেলের খাবারের তালিকায় ভাজাপোড়ার বদলে এক মুঠো সাদা তিল (Sesame seeds), কাজুবাদাম, বা এক টুকরো ৭০% ডার্ক চকলেট খান। এছাড়া মাশরুম এবং বিভিন্ন ধরণের বীজ কপারের দারুণ উৎস। মনে রাখবেন, মেলানিন বা চুলের রং ধরে রাখার ক্ষমতা আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব, যদি আপনি শরীরকে তার প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা পুষ্টি সঠিক সময়ে সরবরাহ করতে পারেন। সাদা চুল ঢাকতে নয়, বরং চুলকে ভেতর থেকে কালো ও সজীব রাখতে পুষ্টির ওপরেই ভরসা রাখুন।

টয়লেটে বসে এক টান বিড়ি না দিলে আমার 'প্রেসার' আসে না!"—এই কথাটি আমাদের সমাজে বেশ প্রচলিত। অনেকেই আছেন যারা টয়লেটে দীর্ঘক...
31/01/2026

টয়লেটে বসে এক টান বিড়ি না দিলে আমার 'প্রেসার' আসে না!"—এই কথাটি আমাদের সমাজে বেশ প্রচলিত। অনেকেই আছেন যারা টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন, কিন্তু যতক্ষণ না ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগারেট বা বিড়ি ছোঁয়াচ্ছেন, ততক্ষণ পেট পরিষ্কার হওয়ার কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। অনেকে বিষয়টিকে নিছক মানসিক সমস্যা বা সাধারণ 'বদভ্যাস' মনে করলেও এর নেপথ্যে রয়েছে নিকোটিনের এক শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ক্রিয়া, যা আদতে আপনার শরীরকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। বিড়ি বা সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা নিকোটিন দ্রুত রক্তে মিশে আমাদের শরীরের 'প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম'কে উত্তেজিত করে তোলে এবং অন্ত্রের মাংসপেশীকে কৃত্রিমভাবে সংকুচিত হতে বাধ্য করে। বিজ্ঞানের ভাষায় অন্ত্রের এই ঢেউয়ের মতো নড়াচড়াকে বলা হয় 'পেরিস্তালসিস' (Peristalsis), যা মলের বেগ তৈরি করে। অর্থাৎ, নিকোটিন অনেকটা অন্ত্রকে জোর করে ধাক্কা দিয়ে মল বের করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ বা 'পাভলভিয়ান কন্ডিশনিং'ও বটে; দীর্ঘদিন অভ্যাসের ফলে মস্তিষ্ক শিখে নেয় যে টয়লেটে সিগারেট পেলেই কেবল বাউয়েল মুভমেন্টের সুইচ অন করতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে সমাধান মনে হলেও এটি মূলত একটি ভয়ঙ্কর 'ল্যাক্সেটিভ ট্র্যাপ'। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে কোলন বা অন্ত্র তার নিজস্ব বা প্রাকৃতিক সংকোচন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং পুরোপুরি নিকোটিন-নির্ভর হয়ে পড়ে। ফলে যখন কেউ ধূমপান ছাড়তে চান বা রোজা রাখেন, তখন তিনি তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। তাই টয়লেটে বসে ফুসফুস ও পেট—উভয়কেই বিষাক্ত না করে প্রাকৃতিক উপায়ে ফেরা জরুরি। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস উষ্ণ গরম জল পান করা, যা 'গ্যাস্ট্রো-কলিক রিফ্লেক্স' তৈরি করে চাপ বাড়ায় এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার বা ইসবগুল খাওয়া এই সমস্যার সুস্থ সমাধান। বিড়ি দিয়ে পেট সাফ করা কোনো কৃতিত্ব নয়, বরং এটি অন্ত্রের অক্ষমতা; তাই মস্তিষ্কের ভুল কন্ডিশনিং ভেঙে শরীরকে বিষমুক্ত ও স্বাভাবিক অভ্যাসে ফিরিয়ে আনাই বুদ্ধিমানের কাজ।

চিনির চেয়েও ভয়ংকর ময়দা? ইনসুলিনের আসল শত্রু কে? আমরা ছোটবেলা থেকে জানি, "চিনি খাওয়া খারাপ, চিনিতে ডায়াবেটিস বাড়ে।" তাই আ...
31/01/2026

চিনির চেয়েও ভয়ংকর ময়দা? ইনসুলিনের আসল শত্রু কে?

আমরা ছোটবেলা থেকে জানি, "চিনি খাওয়া খারাপ, চিনিতে ডায়াবেটিস বাড়ে।" তাই আমরা চায়ে চিনি খাওয়া বন্ধ করে দিই, কিন্তু অবলীলায় বিস্কুট, পরোটা, পুরি বা সাদা পাউরুটি খেয়ে যাচ্ছি। ভাবছি—"এগুলো তো আর মিষ্টি না, এগুলো নিরাপদ।"
কিন্তু বিজ্ঞান বলছে এক ভয়ংকর সত্য কথা— আপনার রক্তে সুগার বা ইনসুলিন স্পাইক করার ক্ষেত্রে সাদা চিনি (Table Sugar)-এর চেয়েও বেশি শক্তিশালী হলো সাদা ময়দা (Refined Flour)।
শুনতে অবাক লাগছে? চিনি তো মিষ্টি, আর ময়দা তো পানসে! তাহলে ময়দা কেন বেশি ক্ষতিকর? এর উত্তর লুকিয়ে আছে বায়োকেমিস্ট্রি বা রাসায়নিক গঠনের ভেতরে।

১. গ্লুকোজ বনাম ফ্রুক্টোজ (The Structure):

চিনি (Table Sugar): চিনি বা সুক্রোজ হলো ৫০% গ্লুকোজ এবং ৫০% ফ্রুক্টোজের মিশ্রণ। আপনি যখন চিনি খান, এর অর্ধেক অংশ (ফ্রুক্টোজ) লিভারে চলে যায় প্রসেস হওয়ার জন্য (যা ফ্যাটি লিভার বানায়, কিন্তু তাৎক্ষণিক রক্তে সুগার বাড়ায় না)। বাকি অর্ধেক (গ্লুকোজ) রক্তে যায়।

ময়দা (Maida): ময়দা হলো ১০০% স্টার্চ। আর স্টার্চ মানেই হলো হাজার হাজার গ্লুকোজের অণু দিয়ে তৈরি একটি লম্বা চেইন (Chain of Glucose)। এতে কোনো ফ্রুক্টোজ নেই। অর্থাৎ, ময়দা খাওয়া মানে আপনি সরাসরি ১০০% গ্লুকোজ খাচ্ছেন।

২. অ্যামাইলোপেকটিন-এ (The Super Starch):

গমের মধ্যে এক বিশেষ ধরণের স্টার্চ থাকে যার নাম 'অ্যামাইলোপেকটিন-এ' (Amylopectin A)। এটি এতটাই দুর্বল বন্ধনে আবদ্ধ থাকে যে, মুখের লালায় থাকা এনজাইম (Amylase) স্পর্শ করার সাথে সাথেই এটি ভেঙে গ্লুকোজ হয়ে যায়।

৩. মিহি কণা (Surface Area):
ময়দাকে মেশিনে পিষে এতটাই মিহি পাউডার করা হয় যে, এর হজম হতে কোনো সময়ই লাগে না। পেটে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এটি গ্লুকোজ হয়ে রক্তের স্রোতে মিশে যায়।

গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) এর খেলা:
খাবার কত দ্রুত রক্তে সুগার বাড়ায়, তার মাপকাঠি হলো জিআই (GI)।
সাদা চিনির GI: ৬৫ (মাঝারি)
সাদা ময়দার GI: ৮৫ (অনেক বেশি!)
তার মানে, এক চামচ চিনি খাওয়ার চেয়ে এক টুকরো সাদা পাউরুটি বা বিস্কুট খাওয়া আপনার ইনসুলিনকে আরও দ্রুত এবং উঁচুতে (Spike) নিয়ে যায়।

ফলাফল:
এই তীব্র ইনসুলিন স্পাইক আপনার শরীরকে ৩টি নির্দেশ দেয়:
১. ফ্যাট জমাও: ইনসুলিন হলো 'ফ্যাট স্টোরেজ হরমোন'।
২. তেল বাড়াও: ইনসুলিন সিবাম বা ত্বকের তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় = ব্রণ (Acne)।
৩. ক্ষুধা বাড়াও: দ্রুত সুগার বেড়ে আবার দ্রুত কমে যায় (Crash), ফলে কিছুক্ষণ পরেই আবার প্রচণ্ড ক্ষুধা পায়।

মিষ্টি খাচ্ছেন না বলে আত্মতুষ্টিতে ভুগবেন না। যদি সকালের ব্রেকফাস্টে পরোটা, বিকেলে বিস্কুট বা নুডলস আর রাতে ময়দার লুচি-পরোটা বা নানরুটি খান—তবে আপনি চিনির চেয়েও খারাপ কিছু প্রবেশ করিয়ে ফেলছেন শরীরে। ইনসুলিন এবং ত্বক ঠিক রাখতে চাইলে চিনি এবং ময়দা—দুটোকেই 'না' বলুন।

গলার ভাঁজে, বগলে, চোখের পাতায় বা কুঁচকিতে ছোট ছোট নরম মাংসের টুকরো ঝুলে থাকতে দেখে অনেকেই অস্বস্তিতে ভোগেন। দেখতে অনেকটা...
31/01/2026

গলার ভাঁজে, বগলে, চোখের পাতায় বা কুঁচকিতে ছোট ছোট নরম মাংসের টুকরো ঝুলে থাকতে দেখে অনেকেই অস্বস্তিতে ভোগেন। দেখতে অনেকটা ছোট আঁচিলের মতো এই মাংসপিণ্ডগুলোকে আমরা অনেকেই নিছক চামড়ার সমস্যা বা ‘সৌন্দর্যহানি’ বলে মনে করি। বিরক্ত হয়ে বা লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই গ্রাম্য টোটকা হিসেবে সুতো দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ করে এগুলোকে ফেলার চেষ্টা করেন, কেউ কেউ আবার সাহসে ভর করে ব্লেড, রেজার বা কেঁচি দিয়ে কেটে ফেলার মতো ভয়ংকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজও করে বসেন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কেন শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায়, বিশেষ করে ভাঁজগুলোতে এই অনাহূত মাংসপিণ্ডগুলো গজিয়ে উঠছে? এটি কি শুধুই ত্বকের সমস্যা, নাকি শরীরের ভেতরের কোনো গভীর অসুখের সংকেত?

​চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘স্কিন ট্যাগ’ (Skin Tags) বা অ্যাক্রোকর্ডন (Acrochordons)। এটি আসলে আপনার চামড়ার কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের ভেতরের ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রি-ডায়াবেটিসের একটি জ্বলজ্বলে সতর্কবার্তা। যখন আপনার দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস বা অতিরিক্ত চিনি ও রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার ফলে রক্তে ইনসুলিন হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন এই বাড়তি ইনসুলিন শরীরে ‘গ্রোথ ফ্যাক্টর’ হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, এটি ত্বকের কোষগুলোকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দ্রুত বংশবিস্তার করতে বা বাড়তে উদ্দীপনা যোগায়। ফলে ত্বকের ভাঁজগুলোতে, যেখানে ঘর্ষণ বেশি লাগে, সেখানে কোষের স্তূপ জমে এই বাড়তি মাংসপিণ্ড তৈরি হয়। ঘাড়ের কালো দাগের মতো এটিও আপনার মেটাবলিক স্বাস্থ্যের একটি ‘লাল বাতি’ বা রেড ফ্ল্যাগ।

​তাই স্কিন ট্যাগ ব্লেড দিয়ে কাটার আগে নিজের ডাইনিং টেবিল থেকে চিনির কৌটাটি সরিয়ে ফেলুন। চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার কমান এবং ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (Intermittent Fasting) শুরু করুন। রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমলে নতুন করে স্কিন ট্যাগ গজানো এমনিতেই বন্ধ হবে। আর যেগুলো ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, সেগুলো জোর করে না ছিঁড়ে ঘরোয়া উপায় হিসেবে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার (Apple Cider Vinegar) ব্যবহার করতে পারেন। এক টুকরো ছোট তুলো ভিনেগারে ভিজিয়ে স্কিন ট্যাগের ওপর দিয়ে ব্যান্ডেজ বা টেপ দিয়ে আটকে রাখুন সারারাত। নিয়মিত ব্যবহারে এটি শুকিয়ে কালো হয়ে আপনাআপনি পড়ে যাবে।কিন্তু এটি শুধু একটি ঘরোয়া টিপস মাত্র। মনে রাখবেন, বাইরের ট্যাগ কেটে ফেললেই রোগ সারে না, রোগ সারাতে হয় ভেতর থেকে ইনসুলিন কমিয়ে। এবং তার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

08/01/2026
01/01/2026

Happy New Year 2026

শীতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে কেন?শীত সবার কাছে উপভোগ্য হলেও এই সময়টি স্নায়বিক এবং হৃদরোগের সমস্যার জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ । বি...
30/12/2025

শীতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে কেন?

শীত সবার কাছে উপভোগ্য হলেও এই সময়টি স্নায়বিক এবং হৃদরোগের সমস্যার জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ । বিশেষ করে শীতকালে স্ট্রোকের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বয়স্ক এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরো প্রবল।

কেন শীতকালে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং কিভাবে সতর্ক থাকবেন, তা একটু আলোচনা করা যাক।

🔺শীতে স্ট্রোক বাড়ার প্রধান কারণ:

বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে শীতকালে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ রয়েছে।

👉রক্তনালীর সংকোচন:

শীতের ঠাণ্ডার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শরীর তার তাপমাত্রা ধরে রাখার চেষ্টা করে। এর ফলে রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। রক্তনালি সরু হয়ে যাওয়ার কারণে রক্তের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং রক্তচাপ দ্রুত বেড়ে যায়।

এই অতিরিক্ত রক্তচাপের কারণে মস্তিষ্কের সরু ধমনী ফেটে যেতে পারে অথবা রক্ত জমাট বাঁধতে পারে।


👉রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধি:

ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় মানুষের রক্ত কিছুটা ঘন বা চটচটে হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় রক্তের ‘সান্দ্রতা’ বৃদ্ধি। রক্ত ঘন হয়ে গেলে ধমনীর ভেতরে ক্লট বা চাকা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

👉শারীরিক পরিশ্রমের অভাব:

শীতকালে অলসতা বা ঠাণ্ডার কারণে মানুষের শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে শরীরের বিপাকীয় হার কমে এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা পরোক্ষভাবে স্ট্রোকের জন্য দায়ী।

👉ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা:

শীতকালে তৃষ্ণা কম পাওয়ার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত জল পান করেন না। শরীরে জলের অভাব ঘটলে রক্ত আরো ঘন হয়ে যায় এবং রক্তচাপের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।

👉লবণের ব্যবহার বৃদ্ধি:

শীতকালীন বিভিন্ন মুখরোচক খাবারে লবণের ব্যবহার বেশি হয়।

অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে জল ধরে রাখে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।


🔺স্ট্রোকের আগাম লক্ষণ:

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এর লক্ষণগুলো দ্রুত চেনা জরুরি। চিকিৎসকরা একে FAST পদ্ধতির মাধ্যমে মনে রাখার পরামর্শ দেন।

F (Face) : মুখ একদিকে বেঁকে যাওয়া বা হাসতে গেলে অসামঞ্জস্য দেখা দেওয়া।
A (Arms) : হাত অবশ হয়ে আসা বা হাত ওপরে তুলতে সমস্যা হওয়া।
S (Speech) : কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্ট করে কথা বলতে না পারা।
T (Time) : এই লক্ষণগুলো দেখা মাত্র সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।

🔺সুরক্ষার উপায়:

👉পর্যাপ্ত উষ্ণতা : শরীরকে সবসময় গরম রাখার চেষ্টা করুন, বিশেষ করে মাথা ও কান ঢেকে রাখুন।
👉রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ : নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।
👉হালকা ব্যায়াম : ঘরের ভেতরেই নিয়মিত হালকা যোগব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি বজায় রাখুন।
👉সঠিক খাদ্যাভ্যাস : অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন এবং পর্যাপ্ত জল পান করুন।


🔺সতর্কতা:

শীতকাল মানেই কেবল উৎসব নয়, এটি শরীরের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার সময়। সামান্য অসাবধানতাও জীবনঘাতী হতে পারে। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে ভুগছেন, তাদের জন্য শীতের প্রতিটি দিন সতর্ক থাকা জরুরি।

30/12/2025

শীতকাল মানেই কেবল উৎসব নয়, এটি শরীরের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার সময়। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে ভুগছেন, তাদের জন্য শীতের প্রতিটি দিন সতর্ক থাকা জরুরি। শীতেই বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি।

Address

B. S. Road (Near B. S Road Club Durga Mandir)
English Bazar
732101

Opening Hours

Monday 7pm - 9pm
Tuesday 7pm - 9pm
Wednesday 7pm - 9pm
Thursday 7pm - 9pm
Friday 7pm - 9pm
Saturday 11am - 1pm
Sunday 11am - 1pm

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Prosenjit Kumar Kundu posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category