28/02/2026
এইচপিভি টিকা — ক্যান্সার প্রতিরোধের সবচেয়ে সহজ সুযোগ, যেটা আমরা এতদিন হাতছাড়া করেছি
ধরুন এমন একটা ক্যান্সার আছে, যেটা হওয়ার আগেই আটকানো যায়। অপারেশন লাগবে না, কেমোথেরাপি লাগবে না, হাসপাতালের দৌড়ঝাঁপ লাগবে না। শুধু সময়মতো একটা টিকা।
শুনতে অবাক লাগলেও — জরায়ুমুখের ক্যান্সার ঠিক এমনই একটি রোগ।
এই ক্যান্সারের প্রধান কারণ HPV (Human Papilloma Virus) নামের একটি ভাইরাস। বহু বছর ধরে শরীরে নীরবে থেকে এই ভাইরাস ধীরে ধীরে কোষের পরিবর্তন ঘটায়, আর একসময় ক্যান্সার তৈরি হয়। অর্থাৎ ক্যান্সার হঠাৎ হয় না — সময় নিয়ে তৈরি হয়। আর সেই সময়টার আগেই আমরা প্রতিরোধ করতে পারি।
এখানেই আসে HPV ভ্যাকসিন।
সম্প্রতি সরকার ঘোষণা করেছে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হবে। নিঃসন্দেহে এটা খুব ভালো খবর। কারণ ভারতে এখনও অসংখ্য মহিলা সার্ভিক্যাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হন — যাদের বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য ছিল।
এই টিকা শরীরকে আগে থেকেই ভাইরাস চিনতে শেখায়। ভবিষ্যতে সংক্রমণ হলে শরীর নিজেই লড়াই করে নেয়। শুধু জরায়ুমুখের ক্যান্সার নয়, কিছু গলা, অ্যানাল এবং জেনিটাল সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকিও কমে।
তবে এখানেই একটা ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে।
টিকা মানে কিন্তু একবার সুচ ফোটানো নয়। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য নির্দিষ্ট ডোজ শেষ করা খুব জরুরি। 14 থেকে 15 বছর বয়সে সাধারণত একটি টিকা দেওয়া হবে
আমাদের দেশে অনেক সময় স্বাস্থ্য প্রকল্প খুব উৎসাহ দিয়ে শুরু হয়, ছবি তোলা হয়, ঘোষণা হয়… তারপর দ্বিতীয় ডোজের সময় কে মনে রাখল, কে পেল — সেটা একটু ঝাপসা হয়ে যায়। অথচ অর্ধেক টিকা মানে অর্ধেক সুরক্ষা।
তবুও সত্যি কথা বলতে কী — দেরিতে হলেও এটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। আমরা এতদিন ক্যান্সার হলে চিকিৎসা নিয়ে কথা বলেছি, এবার প্রথমবার বড় আকারে ক্যান্সার না হওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র সবসময় নতুন ওষুধ নয়। অনেক সময় একটি সাধারণ প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।
এখন দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়l অভিভাবকদের জানতে হবে। স্কুলকে সচেতন হতে হবে। আর আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে — এই টিকা ভবিষ্যতের একটি ক্যান্সার কমাতে পারে।
শুরুটা হয়েছে। এবার দরকার — যেন প্রতিটি মেয়ের পূর্ণ ডোজ সম্পূর্ণ হয়। প্রতিরোধের সুযোগ বারবার আসে না।
゚viralvideo