12/01/2023
শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীমা আনন্দময়ী
মা বলছেন ভক্ত কুমুদ ভট্টাচার্য মহাশয়কে। কাশীতে নর্মদা থেকে মা ফিরে এসেছেন কাশীতে। উঠেছেন ধর্মশালায়। বহু ভক্ত সমাগম হয়েছে। ভক্তরা মনের সংশয় দূর করবার জন্য প্রশ্ন করছেন। মা হাসি হাসি মুখে তৃপ্তিকর ভাষায় উত্তর দিচ্ছেন। ভক্ত কুমুদবাবু শান্তি পাওয়ার কথা তুলেছেন, তারই উত্তরে শ্রীশ্রীমা সুন্দর করে, সহজ করে শান্তি পাওয়ার পথের নির্দেশ দিলেন। মা আবার কাব্যায়িত করে তৃপ্তিকর ভাষায় ভক্তদের বোঝাচ্ছেন কৃষ্ণতত্ত্ব।
দেখ ত’—গরু ত পশু। পশু কি? না পশুর বৃত্তি। সেই বৃত্তিগুলির রক্ষক রাখাল কি করে? গরুগুলিকে রক্ষা করে যাতে তাদের নিকট হতে দুধ পাওয়া যায় তারই চেষ্টা করে। দুধ হলো শুভ্র বর্ণ। শুভ্র বর্ণ হলো কি-না, সত্ত্বগুণ। বৃত্তিগুলিকে সেই রকম ভাবে রক্ষা করতে হয়। যাতে তা হতে সত্ত্বগুণ বের হয় । তারপর মন্থন করে সত্ত্বের সার বস্তু মাখন উঠল। সেই মাখনের পরিণতি কোথায়? পরমাত্মায়। তাই মাখন চোর কৃষ্ণ। এখন পরমাত্মাকে 'তুমি তুমিই' বল—'আমি আমিই' বল, একই কথা৷
আবার দেখ গোপিনীরা ছিলেন। তাঁরা কে? দশ ইন্দ্রিয়, ছয় রিপু, এই ষোল। ষোলর উপর যে সত্য, স্বরূপ, সেই যে এক রস ধর না, সেই রসই ঋষি নামে কথিত। ঋষিরা কি করলেন? রাম অবতারে, রামের কাছে গিয়ে তাঁকে পতি ভাবে কামনা করলেন। রাম বললেন, 'এখন নয়। কৃষ্ণ অবতারে তোমাদের মনোবাসনা পূর্ণ হবে।' সেই এক রস গিয়ে যখন রামের কাছে দাঁড়ালো মিলন রসের জন্য, তখন আকর্ষণ ব্যতীত সেই রসের পরিণতি হয় না বলে, রামের কাছে গিয়ে পতিভাবে কামনা করলো। রাম বললেন, 'কৃষ্ণ আসলে তোমাদের বাসনা পূর্ণ হবে।' কৃষ্ণ কি? না—আকর্ষণ৷ রামের কাছে গেলেই আকর্ষণ আসবেই। তাই রামকে পতিভাবে চাওয়ার কথা আসলো। তারপর দ্বাপরে শ্রীধাম বৃন্দাবনে যখন কৃষ্ণ আসলেন তখনই লীলা আরম্ভ হলো। কারণ সেই রসই লীলার অধিকারী কি না! তাই কাত্যায়নী পূজা করে পূজ্য পূজকের সীমা অতিক্রম করে লীলার অধিকারী হয়। লীলা নিত্য বলা হয়। সত্যই লীলা কিন্তু নিত্য। নিত্যকাল ধরে শ্রীরাধিকা শ্রীকৃষ্ণের মাধুর্যামৃত আস্বাদ করছেন। আর এই লীলায় যোগ দিল কারা? না—গোপিনীরা । গোপিনী কি? না,—সেই এক রস। ঋষিরাই গোপিনী হয়েছিল। এ হলো অতীন্দ্রিয়ের বিষয়। তাই জাগতিক ভাবে তা ধরতে পারা যায় না। এই প্রাকৃতিক বিষয় ভাব হতে সেই অপ্রাকৃত খেলা। লীলারস গোপন কিনা তাই গোপিনী নামে কথিত ও সেই রসে অধিকারী।
আবার দেখ বাইরের দিক হতে দেখলে গরু রক্ষা করে গোপেরা। গোপ নাম হলো কেন?—না দুধের মধ্যে মাখন গুপ্তভাবে থাকে তা ত সাধারণ ভাবে দেখতে পাওয়া যায় না। এই মাখন অর্থাৎ গুপ্ত জিনিস বের করে বলে তারা গোপ।
(গঙ্গেশচন্দ্র চক্রবর্তী, 'পরমযোগিনী আনন্দময়ী মা')