15/03/2026
আবারো ফিরে দেখা, ফেলে আসা আরও একটি বছর।
আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ আর সাথে সাথে সাত বছরের পথ চলা।
আজকের আলোচনা বাচ্চাদের ক্লাসের থেকেই শুরু করা যাক।
"কিডস যোগা" ক্লাস এখন সপ্তাহে চারদিন করানো হয়। বাচ্চারা যে অন্য সেন্টারে ভায়া হয়ে পরীক্ষা দিত, সেটি এখন বন্ধ হয়েছে। যোগসমৃদ্ধি এখন "সর্বভারতীয় সংগীত ও সংস্কৃতি পরিষদ"- এর অন্তর্গত একটি প্রতিষ্ঠান। তাই সরাসরি পরীক্ষা এবং রেজাল্ট সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা অত্যন্ত সহজলভ্য এবং স্বাচ্ছন্দপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
"থেরাপি যোগা" ক্লাসের ক্লাইন্টদেরকে সপ্তাহে চার দিন বাধ্যতামূলক ক্লাস জয়েন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রোগব্যাধি সংক্রান্ত যোগাসন-প্রাণায়াম- মুদ্রার তালিকা করে দেওয়া হচ্ছে, সেই সঙ্গে প্রতিমাসে তাদের শারীরিক উন্নতির গ্রাফ চেক করা হচ্ছে। প্রত্যেকেই ব্যক্তিগতভাবে সুবিধা-অসুবিধা ভাগ করার জন্য সুযোগ পাচ্ছে।
"ফিটনেস যোগা" ক্লাসের ক্লাইন্টরাও সমৃদ্ধ হচ্ছেন, ফ্যাট-লস্ যোগা, পাওয়ার যোগা ক্লাসের সঙ্গে সঙ্গে ওয়েটট্রেনিং যোগা এবং বিভিন্ন টুলস্ যোগা অভ্যাস করছেন নিয়মমাফিক।
এরই সঙ্গে চলছে বাচ্চাদের "competition yoga batch" কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিনিয়ত অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে একে অন্যের থেকে আরো একটু উন্নত করার প্রচেষ্টা অর্থাৎ লড়াইটা তাদের নিজেদের সাথে সেটাই প্রমাণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে।
২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোর পাঁচটায় তিন দিন থেরাপি এবং তিন দিন ফিটনেস ক্লাস। ক্লাস টি চলবে নভেম্বর মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত। দীর্ঘ নয় মাস কর্ম ব্যস্ত মানুষ এককালীন পেমেন্ট করছেন। আর দুঃস্থ মানুষ মাসিক একশো টাকার বিনিময়ে ক্লাস করছেন। যোগসমৃদ্ধি সমাজের সকল স্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
শারীরিক এবং মানসিক উন্নতিতে যোগাসনের কোন বিকল্প নেই। যোগাসনের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির জন্যই যোগসমৃদ্ধি থেকে আয়োজিত অ্যাওয়ারনেস এবং ওয়েলনেস প্রোগ্রামের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গতবছর তিনটি ওয়েলনেস প্রোগ্রাম এবং চারটি অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম সফলতা পেয়েছে, যার নজির আপনারা ইউটিউবে দেখতে পারেন।
যোগসমৃদ্ধি শুধুমাত্র একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতাও সমান গুরুত্ব রাখে। সেই চিন্তাভাবনা থেকেই আজ যোগসমৃদ্ধি একটি ট্রাস্ট বডি। যোগসমৃদ্ধির নিজস্ব একটি ব্যাংক একাউন্ট হতে চলেছে, এবার থেকে আপনারা অনাথ বাচ্চাদের এবং দুঃস্থ ব্যক্তিদের ও জীর্ণবয়স্ক মানুষকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে সরাসরি একটি YOGSAMRIDDHI ট্রাস্ট বডি কে ডোনেট করতে পারেন। যোগসমৃদ্ধি ট্রাস্ট বডির মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন... প্রেসিডেন্ট- তুহিনা আক্তার। সেক্রেটারি- রুমানা আক্তার। ট্রাউজার- তামান্না আক্তার।
যোগসমৃদ্ধি দুটি অনাথ আশ্রমে কাজ করে চলেছে নিষ্ঠা পরায়ণতার সঙ্গে। আগামী দিনে বৃদ্ধাশ্রম এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা প্রস্ফুটনরত।
একটি সংস্থা মাথা তুলে দাঁড় করাতে অনেক প্ল্যান পরিকল্পনার প্রয়োজন, সময়ানুবর্তিতা, কর্মনিষ্ঠা, কোয়ান্টিটি, কোয়ালিটি, যাই বলেন না কেন! তার সবকিছুর সঙ্গে এই 5G যুগে 'বিজ্ঞাপন' অত্যন্ত ব্র্যান্ড ইমেজ সম্প্রসারণের একটি বিষয়।
হ্যাঁ...! "প্রচার".... গত বছর আকাশবাণী মহিলা মহলে একুশে জুন অর্থাৎ 'Yoga - Day' উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান মাধুর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্মানীয় সঞ্চালিকা চিত্রা মুখার্জি ম্যাম কে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ🙏🏻 আমাকে নির্বাচন করার জন্য।
এরপরেও আরো একটি অনুষ্ঠান আকাশবাণী মহিলা মহলে "অন্তর থেকে বেরিয়ে" প্রোগ্রামটিতে আমার দীর্ঘ পথ চলার অভিজ্ঞতা ভাগ করতে পেরে; কোনো মানুষকে মোটিভেট করার সুযোগ পাওয়ার জন্য আমি অত্যন্ত আপ্লুত। দুটি অনুষ্ঠানই আপনারা যোগসমৃদ্ধি ইউটিউব চ্যানেলে ইন্ট্রোডাকশন প্লে লিস্টে আপনাদের সময়মতো শুনতে পারেন।🙏🏻
কোন একটি সফলতার পিছনে হাজারটা ব্যর্থতার কাহিনী থাকে, আর সেই হাজারটা ব্যর্থতার গল্প তৈরি হয় হাজারটা খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে...!
দীর্ঘ সাত বছরের পথ চলা... জীবনের পথ চলা দূরপাল্লার রেলগাড়ির মতো, এক একটি স্টেশনে ভিন্ন চিন্তা ভাবনার মানুষের সঙ্গে পথ চলা শুরু হয়; আবার যে যার গন্তব্যে হারিয়েও যায়। তবে শিখিয়ে যায় অনেক কিছুই...!
জীবন আমাকে শিখিয়েছে, যদি বাজ পাখির মত উড়তে চাই তাহলে হাঁসের দলের সঙ্গে জলে ভেসে থাকা বন্ধ করতে হবে।
তাই বারবার বদলেছে যোগসমৃদ্ধির অডিটর, অ্যাকাউন্টেন্ট, ফটোগ্রাফার, এডিটর, ভিডিওগ্রাফার, ম্যানেজার... সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। যার যতটুকু সহযোগিতা আমি পেয়েছি, তা প্রতিনিয়ত আমাকে সমৃদ্ধ করেছে।
যোগসমৃদ্ধি তার প্রতিটি সদস্যের "নিজের বর্তমান পরিস্থিতিটা" বোঝাতে সাহায্য করে।
প্রথমতঃ শারীরিক - মানসিক উন্নতি একান্ত কাম্য।
দ্বিতীয়তঃ সার্বিক উন্নতিতে স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট অনেক বেশি গুরুত্ব রাখে।
তবে যতই কম্পিটিশন, এগিয়ে চলার লড়াই, পার্থিব উন্নতিতে সহযোগিতার হাত বাড়াই না কেন! মূলত উদ্দেশ্য "মেডিটেটিভ যোগা"। হ্যাঁ...! মেডিটেশন। একাগ্রতা, মনোসংযোগ, ধ্যান। ধ্যান করার জন্য পর পর যে পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করতে হয় তা পুঁথিগতভাবে আলোচনা করা যাক।
অষ্টাঙ্গিক মার্গ হলো গৌতম বুদ্ধের বর্ণিত দুঃখ মুক্তির আটটি নির্দেশিকা বা পথ, যা বৌদ্ধধর্মের 'চতুরার্য সত্য'-এর (বিশেষ করে চতুর্থ সত্য) অংশ এবং নির্বাণ লাভের উপায়। এটি একটি মধ্যম পন্থা, যা অতিরিক্ত বিলাসিতা বা কঠোর আত্মপীড়ন বর্জন করে জীবনযাপনের মাধ্যমে মানুষের দুঃখ দূর করতে সাহায্য করে।
অষ্টাঙ্গিক মার্গের আটটি ধাপ বা অঙ্গ (সম্যক বা সঠিক পথ):
১. সম্যক দৃষ্টি: চতুরার্য সত্য (সত্য) বোঝা ও অবিদ্যা দূর করা।
২. সম্যক সংকল্প: লোভ-দ্বেষ ত্যাগ করে অহিংসা ও মৈত্রীপূর্ণ মানসিকতা গ্রহণ।
৩. সম্যক বাক্য: মিথ্যা, গালিগালাজ বা পরনিন্দা বর্জন করে সত্য ও মধুর কথা বলা।
৪. সম্যক কর্ম: অহিংসা, চুরি না করা ও ব্যভিচার বর্জনের মতো নৈতিক কাজ করা।
৫. সম্যক আজীব: সৎ উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করা, অনৈতিক ব্যবসা বর্জন।
৬. সম্যক ব্যায়াম/চেষ্টা: কুচিন্তা দূর করা এবং সুচিন্তা বা সৎকর্মের প্রচেষ্টা চালানো।
৭. সম্যক স্মৃতি: শরীর, অনুভূতি ও চিত্তের প্রতি সর্বদা সচেতন থাকা।
৮. সম্যক সমাধি: মনের একাগ্রতা ও ধ্যানের মাধ্যমে চরম মানসিক শান্তি বা নির্বাণ লাভ।
এই আটটি পথকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়: প্রজ্ঞা (দৃষ্টি, সংকল্প), শীল (বাক্য, কর্ম, আজীব) এবং সমাধি (ব্যায়াম, স্মৃতি, সমাধি)।
এটা না হয় বোঝা গেল, গৌতম বুদ্ধের বর্ণিত দুঃখ নিবৃত্তির আটটি ধাপ।
তবে যোগের জায়গাটি কোথায়! তবে আরও একটু পুঁথিগত বিদ্যায় সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠা যাক।
ঋষি পতঞ্জলি কর্তৃক প্রণীত এই আটটি ধাপ, যা অষ্টাঙ্গ যোগ (যোগের আটটি অঙ্গ) নামে পরিচিত, শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক সুস্থতার জন্য একটি সামগ্রিক পথ প্রদান করে, যা নীতিগত শৃঙ্খলা থেকে চূড়ান্ত জ্ঞানার্জনের দিকে পরিচালিত করে। অঙ্গগুলি হল যম (সংযম), নিয়ম (পালন), আসন (ভঙ্গি), প্রাণায়াম (শ্বাস নিয়ন্ত্রণ), প্রত্যাহার (ইন্দ্রিয় ত্যাগ), ধরণ (একসান্দ্রতা), ধ্যান (ধ্যান) এবং সমাধি (আলোকিতকরণ)।
যোগের আটটি অঙ্গ (অষ্টাঙ্গ যোগ):
যম (সামাজিক নীতিশাস্ত্র/নিয়ন্ত্রণ): অন্যদের প্রতি নৈতিক আচরণের নির্দেশিকা। যার মধ্যে রয়েছে অহিংসা (অহিংসা), সত্যবাদিতা (সত্য), অচুরি (অস্তেয়), সংযম (ব্রহ্মচর্য), এবং অলোভ (অপরিগ্রহ)।
নিয়ম (ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা/আচরণ): ব্যক্তিগত আচরণের জন্য নির্দেশিকা, যার মধ্যে রয়েছে পবিত্রতা/পরিষ্কারতা (সৌচ), সন্তুষ্টি (সন্তোষ), তপস্যা (তপস্যা), স্বাধ্যয় (স্বাধ্যায়), এবং ঈশ্বরের কাছে আত্মসমর্পণ (ঈশ্বর প্রাণিধান)।
আসন (ভঙ্গি): ধ্যানের জন্য শরীরকে স্থিতিশীল এবং মনকে শান্ত করার জন্য তৈরি শারীরিক ভঙ্গি।
প্রাণায়াম (শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ): প্রাণশক্তি (প্রাণ) নিয়ন্ত্রণের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রণ।
প্রত্যাহার (ইন্দ্রিয় প্রত্যাহার): ইন্দ্রিয়গুলিকে অভ্যন্তরীণ দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া, বাহ্যিক বিক্ষেপ থেকে বিচ্ছিন্ন করা।
ধরণ (এককন্দ্রীকরণ): মনকে একটি বিন্দু বা বস্তুর উপর স্থির করা।
ধ্যান (ধ্যান): একাগ্রতার নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ, যা গভীর চিন্তাভাবনার দিকে পরিচালিত করে।
সমাধি (আলোকিতকরণ/আবির্ভাব): ঐশ্বরিকতার সাথে মিলনের চূড়ান্ত অবস্থা, অথবা অতিচেতনা।
অতিচেতনা অর্থাৎ ঈশ্বরের সাথে মিলন। এ খানিক ঘরে ফেরার ডাক। "নিজের সাথে নিজের সাক্ষাৎ"। এই বক্তব্য তার কাছেই প্রস্ফুটিত হবে যে প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে, প্রতিক্ষণে ধ্যানরত অবস্থায় জীবনযাপন করে।
দীর্ঘ এক বছরের পথ চলার গল্প এবং কিছু পুঁথিগত বিদ্যা ভাগাভাগি করে আজকের বক্তব্যে লাগাম টানছি।
আরো অনেক কিছু প্ল্যান প্রোগ্রাম রয়েছে আগামী দিনে, যা ক্রমশ প্রকাশ্য...!
আপনারা যোগে থাকুন, যোগাযোগে থাকুন, সাথে থাকুন, সাথে রাখুন। যোগসমৃদ্ধির সাত বছরের বর্ষপূর্তি উদযাপনে আপনাদের সকলকে স্বাগতম।🙏🏻