ভক্তি ধারা।।

ভক্তি ধারা।। Bhakti Dhara is a platform for religious inspirations.

কথিত আছে, চন্দননগরের কাছে বোড়াইচণ্ডীতলায় ৫০০ বছরের পুরনো এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শ্রীমন্ত সওদাগর।সিংহলে আটক বাবাকে ...
15/11/2025

কথিত আছে, চন্দননগরের কাছে বোড়াইচণ্ডীতলায় ৫০০ বছরের পুরনো এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শ্রীমন্ত সওদাগর।সিংহলে আটক বাবাকে মুক্ত করতে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ঘরের কাছেই এমন একটি অচেনা জায়গায় এলে ভালো লাগবেই। আবার কম খরচে সপরিবারে ঘুরে আসা যাবে। শতাব্দী প্রাচীন শহর চন্দননগর সম্পর্কে অনেকের জানা থাকলেও বোড়াইচণ্ডী মন্দির এখনও তেমন পরিচিত হয়নি। অথচ, চন্দননগরের নামের সঙ্গে অনেকেই এর যোগসূত্র খুঁজে পান। তাঁদের দাবি, চন্দননগর নামে কোনও জনপদ পরিচিত হও্য়ার আগেই বোড়াইচণ্ডীতলায় তৈরি হয় বোড়াইচণ্ডীর মন্দির।আর এই চণ্ডী নাম থেকেই চন্দননগর নামের উৎপত্তি। কারও মতে, এই জায়গার নাম ছিল চণ্ডীনগর। লোকমুখে কালে কালে এই নাম হয়ে যায় চন্দননগর। অন্য একটি মতে, একসময় এই অঞ্চলে চন্দন কাঠের ব্যবসা-বাণিজ্য হতো। তাই নাম হয় চন্দননগর।আবার জনশ্রুতি আছে, একসময় এখানে গঙ্গা চন্দ্রাকার ছিল। আর তখন নাম ছিল চন্দ্রনগর। পরে সেটাই চন্দননগর হয়ে গিয়েছে।তবে এই অঞ্চলে ফরাসীদের বসবাস থাকার কারণে একসময় নাম ছিল ফরাসডাঙ্গা।
জানা গিয়েছে, চন্দননগরের বোড়াইচণ্ডীতলার এই বোড়াইচণ্ডী মন্দির তৈরি হয় উনবিংশ শতাব্দীতে। আগে এই অঞ্চলের নাম ছিল বোড়ো। বাংলা সাহিত্যের বিপ্রদাস পিপলাই রচিত মনসামঙ্গল কাব্যেও চন্দননগরের অন্তর্গত এই ‘বোড়ো’ অঞ্চলের উল্লেখ রয়েছে। বোড়ো অঞ্চলই পরে হয় বোড়াইচণ্ডীতলা। বোড়াইচণ্ডীতলার এই মন্দিরে প্রায় ৫০০ বছর ধরে মা বোড়াইচণ্ডীর পুজো হয়।মা-দুর্গা রূপেই পুজো করা হয় তাঁকে।মা বোড়াইচণ্ডীর এই মন্দিরটি জোড়বাংলা স্থাপত্য শৈলিতে তৈরি। গর্ভগৃহে চতুর্ভুজা মা বোড়াইচণ্ডীর মূর্তিটি তৈরি নিমকাঠ দিয়ে। যদিও তা অষ্টধাতুর পাত দিয়ে মোড়া। মায়ের চারহাতে শঙ্খ, চক্র, পদ্ম ও ত্রিশূল। অন্যদিকে, পাথরের বোড়াইচণ্ডী মূর্তিটি মন্দিরে সংরক্ষিত আছে। মা বোড়াইচণ্ডীর সামনে রয়েছে দেবাদিদেব মহাদেব। আর মন্দিরের প্রবেশপথে রয়েছে বড়ো নাট মন্দির। প্রতিবছর এই মন্দিরে ধুমধাম করে দুর্গাপুজো হয়। বড়ো উৎসব হয় চৈত্র মাসের নীল পুজোয় ও চড়ক সংক্রান্তিতে।পালা করে নিয়মিত মায়ের পুজো অর্চনা পরিচালনা করেন আট ঘর সেবায়েত। প্রতিদিন সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ২টো এবং বিকেলে ৪টে থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকে। বোড়াইচন্ডীতলার এই মন্দিরে যেতে হলে চন্দননগরে আসুন। সেখান থেকে লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার হয়ে চলে যাওয়া যাবে বোড়াইচণ্ডীতলা।🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺

একদিকে কাঠের চিতায় শব পোড়ানো হচ্ছে। ঠিক অপরদিকে শ্মশানের চিতার ওপরেই পূজিত হচ্ছেন মা শ্মশানকালী। কালীপুজোর রাতে মায়ের ...
18/10/2025

একদিকে কাঠের চিতায় শব পোড়ানো হচ্ছে। ঠিক অপরদিকে শ্মশানের চিতার ওপরেই পূজিত হচ্ছেন মা শ্মশানকালী। কালীপুজোর রাতে মায়ের পুজোর ধূপ ধুনোর গন্ধ, আর শব পোড়ানোর গন্ধ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। কেওড়াতলা শ্মশানে এইরকম আবহেই গত ১৪৯ বছর ধরে পুজো হয়ে আসছেন মা শ্মশান কালী। এখানে শ্মশান মায়ের রূপ থেকে শুরু করে পুজো সমস্তটাই ব্যতিক্রমী অন্যান্য কালীপুজোর চেয়ে। অন্যান্য জায়গায় আমরা কালী মূর্তির জিভ বেরিয়ে থাকতে দেখি। কিন্তু শ্মশান কালীর জিভ বেরোনো থাকে না। এখানে মায়ের রূপ খুবই শান্ত এবং স্নিগ্ধ। এই শ্মশান কালীর মূর্তিও বংশ পরম্পরায় একই শিল্পী এবং তাঁর পরিবার করে আসছেন। শিল্পী অরুণ পাল এই শ্মশান কালীর মূর্তি বানানো শুরু করেছিলেন এবং বংশপরম্পরায় তাঁরই পরিবারের লোকজন, বর্তমানে তাঁর স্ত্রী শ্মশান মায়ের মূর্তি বানান। যেমন এখানে একই শিল্পী বংশ পরম্পরায় মায়ের মূর্তি বানিয়ে আসছেন, ঠিক তেমনই শ্মশান কালী মায়ের পুজোও করেন বংশপরম্পরায় একই পুরোহিত। এই শ্মশানেই রয়েছে পঞ্চমুণ্ডির আসন। যেখানে বসে সাধকেরা সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন। এছাড়া এই শ্মশানেই বিরাজ করছেন মহাকাল শিব। এছাড়াও এই শ্মশান কালী পুজো হয় সম্পূর্ণ তন্ত্রমতে। এই পুজোতে সূরা এবং মাংসের ব্যবহার করা হয়। এই পুজোর প্রধান পুরোহিত অরুণ ঠাকুরের কাছ থেকে জেনে নেওয়া গেল কিভাবে শ্মশান মায়ের পুজো হয়। অরুন ঠাকুর জানালেন, ‘ শ্মশান কালীমায়ের পূজা হয় বিরাচার তন্ত্রমতে। এই শ্মশান কালীর পুজোর একটা নিজস্বতা রয়েছে। এখানে যেমন বিরাচার তন্ত্রমতে পুজো করা হয় তেমনই, এই পুজোয় বিশেষ কিছু ক্রিয়া করা হয়, যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা নিষেধ। অরুণ ঠাকুরকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, কেন শ্মশান কালী মায়ের জিভ অন্যান্য কালী মূর্তির মত বাইরে বেরিয়ে নেই? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, পুরান মতে মা অসুরকুল নিধন করে, শ্মশানে এসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এবং সূরা ও মাংস পান করছিলেন। জীবকুল এসে তখন মায়ের আশীর্বাদ নিচ্ছিল। সেই সময় মায়ের যে রূপ ছিল, শান্ত, স্নিগ্ধ, এখানে দেবী শ্মশান কালী মাতা ও সেই রূপেই পূজিত হন। আর সেই সময় যেহেতু মা খাচ্ছিলেন, তাই তাঁর জিভ বাইরে বেরিয়ে থাকে না। তাছাড়াও মা এখানে দ্বিভূজা। মা এখানে মূলত কল্যাণময় রূপে পুজিত হন।’ জানা যায়, শ্মশান কালী মায়ের পুজো শেষ হলেই, পুজোর ঘট শ্মশানের ঘাটেই বিসর্জন দেওয়া হয়। কথিত আছে, যখন শ্মশান মায়ের পুজো শুরু হয়, তখন কোনও না কোনও শব আসে কাঠের শ্মশানে পোড়ানোর জন্য। একদিকে শব পোড়ানো শুরু হয়, আর অন্যদিকে শুরু হয় মায়ের পুজো। এখানে প্রতিবছর ২২ থেকে ২৫ টা ছাগবলি হয়। পুজো কমিটির তরফ থেকে দুটো ছাগ বলি দেওয়া হয়। আর বাদবাকি মানুষের মনস্কামনা পূরণ হলে তাঁরা শ্মশান মায়ের সামনে ছাগবলি দেন। কথিত আছে , শ্মশান মা জাগ্রত এবং সকলের মনস্কামনা পূর্ণ করেন। এখানে যে ছাগ বলি হয়, সেই বলির মাংসই রান্না করে মাকে নিবেদন করা হয়। তাছাড়াও প্রায় ৬০০ কিলো চাল-ডালের ভোগ হয় এখানে। পুজো শেষে যা জনগণের মধ্যে বিতরণ করা হয়। বলা হয়, এই পুজো হরিজনদের। চলতি কথায় আমরা যাকে বলি ডোম। ডোম এবং তাঁদের পরিবার এই পুজোর সমস্ত আয়োজন করে থাকেন। শ্রী শ্রী সাহানগর কেওড়াতলা শ্মশান কালীমাতা পূজা কমিটির সেক্রেটারি উৎপল সাহা জানালেন, এটা হরিজনদের পুজো। আমরা তাঁদের সাহায্য করে থাকি। মায়ের অলৌকিক কৃপায় এখানে আমাদের পুজোর বাজেট নিয়ে কোনদিন চিন্তা করতে হয় না। কিভাবে যেন মায়ের পুজো এবং প্রতিমা নিরঞ্জনের সময়ের এত বিপুল খরচের টাকা ঠিক উঠে আসে। আমরা যে বাজেট নিয়েই পুজো করতে নামি না কেন, মায়ের কৃপায় আমাদের বাজেট ঠিক পূর্ণ হয়ে যায়। লোকের কাছে শ্মশান কালী মায়ের নামে চাঁদার টাকা চাইতে হয় না। লোকে যেচে চাঁদা দিয়ে যায়। এটাই কেওড়াতলা শ্মশান কালীমাতার মাহাত্ম্য। এখানের দেবী খুবই জাগ্রত এবং মনস্কামনা পূর্ণ করেন।’ এই পুজোর সভাপতি দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায়। প্রতিবছর এই শ্মশান কালীমাতার পুজোতে মানুষের ঢল নামে। মানুষ তাঁদের আশা, আকাঙ্ক্ষা, মনোবাসনা জানাতে মায়ের সামনে দাঁড়ান জোর হাত করে।🌺🌺🌺🌑🌑

কালীক্ষেত্র বীরভূমে রয়েছে মা বুংকেশ্বরীর মন্দির। অত্যন্ত জাগ্রত লৌকিক দেবী হলেন বুংকেশ্বরী। অনেক গবেষক বুংকেশ্বরী দেবীকে...
21/09/2025

কালীক্ষেত্র বীরভূমে রয়েছে মা বুংকেশ্বরীর মন্দির। অত্যন্ত জাগ্রত লৌকিক দেবী হলেন বুংকেশ্বরী। অনেক গবেষক বুংকেশ্বরী দেবীকে বৌদ্ধ দেবী বলে মনে করেন। বীরভূম জেলার রামপুরহাট থানার অন্তর্গত বুংকেশ্বরীতলায় দেবীর অধিষ্ঠান। রামপুরহাট স্টেশন থেকে পশ্চিম দিকে তিন কিলোমিটার মতো গেলেই দেবী বুংকেশ্বরীর মন্দিরের দেখা মিলবে। কিংবদন্তি অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের নিমতিতার জমিদার চৌধুরীরা এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মন্দির তৈরির আগে দেবীর অধিষ্ঠান ছিল প্রাচীন নিম ও শেওড়া গাছের নীচে এক বেদীতে, যেমন থানে লৌকিক দেবদেবীরা বিরাজ করেন ঠিক তেমনই। দেবীর স্বপ্নাদেশে পরে পাকা মন্দিরটি নির্মিত হয়। একেবারে প্রথমে মন্দিরটি ছিল উত্তরমুখী। কিন্তু পুনরায় দেবীর স্বপ্নাদেশ পাওয়ায় মন্দিরটি দক্ষিণমুখী করে নির্মিত হয়। আজও মন্দিরটি দক্ষিণমুখী অবস্থাতেই বিদ্যমান। মন্দিরটি দেখে মনে হবে এখনও এটি অসমাপ্ত। একেবারে বাহুল্যবর্জিত মন্দির।
মন্দিরের দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে খাল, স্থানীয়দের মধ্যে খালটি কান্দর নামে পরিচিত। খালটিকে কেউ কেউ ত্রিবেণী বলেও ডাকেন। ত্রিবেণীর জল নীল এবং বেশ স্বচ্ছ। বহু প্রাচীন কয়েকটি শিমুল ও অন্যান্য গাছে ভরা জঙ্গলের মধ্যে রয়েছে শ্মশান। শোনা যায়, প্রতি অমাবস্যায় মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে অন্তত একটি হলেও মৃতদেহ সৎকারের জন্য আসবেই। যুগ যুগ ধরে এমনটা হয়ে আসছে। প্রায় বারো তেরো বিঘা জমির উপর মন্দিরটি অবস্থিত। মন্দিরের পশ্চিমমুখে বামাক্ষ্যাপার সাধনার আসনটি আজও বিদ্যমান। এই আসনে বসেই তন্ত্রসাধনা করেছিলেন মহাসাধক বামদেব। তন্ত্রমতে দীক্ষা না হলে বুংকেশ্বরী মন্দিরে পৌরোহিত্য করা যায় না। জনশ্রুতি হল, এই মন্দিরে সাধারণ মানুষ রাত্রিযাপন করতে পারেন না। বিশেষ তিথিতে কৌল-তান্ত্রিকরা এসে এখানে নিশি পুজো করেন।
পয়লা মাঘ দেবীর বাৎসরিক পুজো হয়। দেবী বুংকেশ্বরীর নামে বুংকেশ্বরীতলায় দেবীর পুজো উপলক্ষ্যে মেলা হয়। প্রায় ৩০০ বছর ধরে এই মেলা চলে আসছে। আগে মেলা অনেকদিন ধরে চললেও, এখন একদিনের মেলা বসে। স্থানীয়দের কাছে বুংকেশ্বরীর মেলা ব্রহ্মদৈত্যর মেলা নামে পরিচিত। দেবীর পুজো হয় দিনের বেলায়। বছরের অন্যান্য দিন দেবীর নিত্যপুজো হয়। সাধারণত প্রতি অমাবস্যায় দেবী বুংকেশ্বরীর পুজো হয়। দিনের বেলাতেই দেবীর আরাধনা চলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দেবী বুংকেশ্বরী আদপে শিব-পার্বতীর মিলিত রূপ। প্রচলিত লোক বিশ্বাস অনুযায়ী, শিবের জটায় গঙ্গাকে অবস্থান করতে দেখে ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন পার্বতী। তাঁকে শান্ত করার জন্যে পার্বতীর শরীরের সঙ্গে মিলিত হন মহেশ্বর। একাংশে বর্তমান থাকে শিবের উপস্থিতি, অন্য অংশে বিরাজ করেন নারী শক্তি পার্বতী। আর এই দূর্গা শিবের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় বুংকেশ্বরী দেবীর। তিনি শক্তির দেবী। ভক্তদের বিশ্বাস, শরীরের কোনও অংশ কেটে গেলে দেবীর কাছে প্রার্থনা জানালেই মনস্কামনা পূরণ হয় অর্থাৎ নিরাময় হয়। আরোগ্য লাভের পর ওই ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে মাথায় করে মাটি বয়ে নিয়ে এসে মন্দিরের সামনে রাখতে হয়।
মন্দির সংলগ্ন শ্মশান পুণ্যভূমি রূপে খ্যাতি লাভ করেছে, এখানে রানিগঞ্জ, মুঙ্গের, পাটনা থেকেও মৃতদেহ সৎকারের উদ্দেশ্যে আনা হয়। শ্মশানের চারদিকে রয়েছে অজস্র বেদি। আত্মীয়দের দাহ করার পর, অনেকেই এই বেদিগুলো তৈরি করিয়েছেন। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী বুংকেশ্বরীর কাছে দুটি প্রাচীন সাপ রয়েছে। দেবীর বিগ্রহের সঙ্গেও দুটি সাপের মূর্তি রয়েছে। মন্দিরের সবচেয়ে কাছাকাছি গ্রাম হল খড়বন। মন্দির থেকে তার দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার মতো। রামপুরহাট থানার পশ্চিমে অবস্থিত খড়বন গ্রামের উত্তরে বুমকদলা নামের এক জায়গায় দেবীর মন্দিরটি অবস্থিত। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মন্দির সংলগ্ন ঝিলের পাশ দিয়ে প্রবাহিত খাল কোনওদিন শুকিয়ে যায় না। গ্রীষ্মকালেও তাতে জল থাকে। এই খালই ত্রিবেণী নামে পরিচিত। এই খালের সামনের দিকটা দেখতে অনেকটা তিনটি বেণীর মতো। এই খালে নাকি গভীর খাদ রয়েছে। তাই কেউ খালে নামতে সাহস পান না।

দেবী বুংকেশ্বরীর সম্পূর্ণ মূর্তিটি পাথরের। জনশ্রুতি অনুযায়ী, ক্যানেল ডিপার্টমেন্টের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জনৈক হরেশ বন্দোপাধ্যায় মূর্তিটি প্রতিষ্ঠাতা করেছিলেন। মূর্তিটি আসলে মা কালীর। মাঘ মাসের প্রথম দিন এখানে জাঁকজমকপূর্নভাবে দেবীর পুজো হয়। মন্দিরে প্রথম থেকে বলি প্রথা না থাকলেও, পরবর্তীকালে বলির প্রচলন হয়। দেবীকে শক্তির দেবী বলে মনে ভক্তরা। দেবী মন্দিরের পাশাপাশি শ্মশানকালী, বিশালাক্ষী ও শিব মন্দির রয়েছে বুংকেশ্বরীতলায়।
এই মন্দিরের সম্পর্কে জনশ্রুতি হল প্রত্যেক অমাবস্যায় মন্দিরের পাশে অবস্থিত শ্মশানে অন্তত একটি মৃতদেহ সৎকার্য করবার জন্য আসবেই। বহু প্রাচীন শিমুল এবং কয়েকটি গাছের দ্বারা জঙ্গলে ঘেরা এই শ্মশান। এ মন্দির এবং শ্মশান এতটাই পবিত্র যে দূর দূরান্ত থেকে মৃতদেহ এখানে নিয়ে এসে সৎকার্য করা হয়।এ শ্মশান ঘুরলে দেখতে পাওয়া যাবে বেশ কয়েকটি বেদি রয়েছে। বিশিষ্টরা তাদের আত্মীয়দের দাহ করবার পর এই বেদি গুলি তৈরি করেছিলেন। ভক্তদের বিশ্বাস দেবী বুংকেশ্বরীর কাছে দুটি সাপ রয়েছে। মন্দিরের কাছাকাছি দুটি গ্রাম রয়েছে একটি হল কুশুম্বা অন্যটি খরবোনা।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺

゚viralシfypシ゚viralシalシfypシ゚viralシfypシ゚viralシalシ ゚viralシfypシ゚viralシalシfalシalシf
゚viralシfypシ゚viralシalシfllowers ゚viralシfypシ゚viralシal

"মানুষই দেবতা গড়ে তাহারই কৃপার 'পরে করে দেব মহিমা নির্ভর..."বিশ্বকর্মার ছবি নিয়ে বেশ তক্ক চলছে। আমার এক ছোট ভাই, সুমন্ত ...
16/09/2025

"মানুষই দেবতা গড়ে
তাহারই কৃপার 'পরে
করে দেব মহিমা নির্ভর..."

বিশ্বকর্মার ছবি নিয়ে বেশ তক্ক চলছে। আমার এক ছোট ভাই, সুমন্ত আলো দ্যাখালো এ বিষয়ে। এবং দেখলাম এক সংগঠনী দল বিশ্বকর্মার যে ছবি পোস্ট করেছে,তা বিশ্বকর্মাই,তবে তা আমাদের চেনা বিশ্বকর্মা নয় ; তা মূলত গো বলয়ের পূজিত বিশ্বকর্মার মূর্তি।

ঠিক এখান থেকেই আমাদের আলোচনা।

বাঙালি বিশ্বকর্মার হাতে ছেনি,হাতুড়ি, দাঁড়ি পাল্লা; যন্ত্রপাতি। খেটে খাওয়া মানুষের ঘামের গন্ধ সেই বিশ্বকর্মার গায়ে। তাই তো গলির মুখের রিক্সাওয়ালা থেকে শুরু করে,কল কারখানার শ্রমিক, ঠ্যালাওয়ালা- ভ্যানওয়ালারাও অনায়াসে নিজের প্রাণের দেবতা করে নিয়েছে বিশ্বকর্মাকে। যে বিশ্বকর্মা গো বলয়ের বিশ্বকর্মার চেয়ে ধারণা এবং আকৃতিতে পৃথক। উত্তর ভারতের বিশ্বকর্মার হাতে কমণ্ডলু,তৈজসপত্র, ফুল ইত্যাদি, হাঁস সেখানে তার বাহন। যেখানে বাঙালি বিশ্বকর্মার বাহন হাতি।

ক'দিন বাদেই পূজো। আমাদের দুর্গা যতটা না পুরাণের চণ্ডী তার চেয়েও বেশি বাঙালি ঘরের উমা।
"যাও যাও গিরি
আনিতে গৌরী ;
উমা বড় দুখে রয়েছে... "

চর্যাপদ, কিম্বা তারও আগে থেকে শূণ্য পুরাণের সময় থেকেই বস্তুবাদী দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে বৃহৎ বঙ্গের দেশজ ধারায়।

ভাববাদের প্ল্যাটফর্মে বস্তুবাদী কথা বলে গিয়েছে তা।

আমাদের শিবায়নে শিব লাঙল চষা চাষী, আমাদের কৃত্তিবাসী রামায়ণে রাম লক্ষ্মণ বাঙালি উঠোনে নেমে আসে। আমাদের মঙ্গল কাব্যতে তো আর্থসামাজিক প্রেক্ষিতটা আর জীবন সংগ্রামই প্রধান।চণ্ডীমঙ্গলে চণ্ডীর পূজা প্রচলনের চেয়ে কালকেতু - ফুল্লরার বারোমাসের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর জীবন-লড়াই বড় হয়ে ওঠে...
"দুঃখ করো অবধান দুঃখ করো অবধান
আমানি খাবার গর্ত দেখো বিদ্যমান"

মনসামঙ্গলেও তাই। অনার্য মনসা কে আর্যীকরণ করার গপ্পের মধ্যে ফুটে ওঠে ইতিহাসের ট্রাজেডি, আবার পৌরুষের সাথে দেবত্বের সংঘাত তাও...

আমাদের ধর্ম মঙ্গলে ধর্ম ঠাকুর বাংলার পাতি খেটে খাওয়া লোক।

আমাদের অন্নদামঙ্গল যতটা না অন্নপূর্ণা র মাহাত্ম্য নিয়ে ব্যস্ত তার চেয়ে বেশি "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে" সেই চিন্তা করে।

আমাদের আউল বাউল, জারি, ভাউইয়া, জারি গান দেবতার নাম নিয়ে শুরু হলেও সে দেবতা শেষ অবধি মানুষ হয়ে যায়।

বৈষ্ণব পদাবলী ও তাই। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের কৃষ্ণও তাই।

এ মাটিতে 'বনদেবি' ধর্মের বেড়া জালে থাকে না। হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে তাকে পূজো করে।

আমাদের মাঝি মাল্লারা জলপথে বিপদে ধর্ম নির্বিশেষে পাঁচ পীরের নাম নেয়।

এখানে সত্যনারায়ণ আর পীর কখন যে মিলে গিয়ে সত্যপীরের সির্নি খাই আমরা।

বাংলার মাটি, আমাদের দেশজ ধারা, লোকায়ত সংস্কৃতি চিরকালই বস্তুবাদী দর্শনকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। দেবতা সেখানে একটা প্ল্যাটফর্ম।

ভারতবর্ষে বিভিন্ন জায়গাতে এভাবেই দেবতা অাঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যকে সাধারণ করে নিয়ে সর্বজনীন হয়ে উঠেছে ; এটাই এ মাটির বৈচিত্র্য।

সে বৈচিত্র্যকে নষ্ট করে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের নামে সবকিছুকে একীভূত করার লক্ষ নিয়ে আমার ঘাম ঝরানো বিশ্বকর্মাকে মুছে দেওয়ার লক্ষেই নেমেছে বিজেপি। যে কারণে আজ হঠাৎ করে বিশ্বকর্মার অচেনা রূপের অবতারণা, যা কে চেনেই না বাংলার মাটি।

゚viralシfypシ゚viralシalシ ゚viralシfypシ゚viralシalシf
゚viralシfypシ゚viralシ

গাণপত্য মত সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা হল যে মহাগণপতি হলেন গাণপত্যদের পরমেশ্বর বা গণপতির সমস্ত রূপের উৎস।এই কথা সত্য নয়...
27/08/2025

গাণপত্য মত সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা হল যে মহাগণপতি হলেন গাণপত্যদের পরমেশ্বর বা গণপতির সমস্ত রূপের উৎস।
এই কথা সত্য নয়। যদিও গাণপত্যরা দেবতাদের শ্রেণিবিন্যাসে বিশ্বাস করেন না, তবুও গাণপত্যদের এই মূর্তিভেদের একটি শ্রেণি রয়েছে:

1. স্বানন্দেশ গণপতি:
ইনি হলেন একাক্ষর গণপতি, বা মূল-ভূত বিনায়ক। ইনি হলেন ব্রহ্মণস্পতি (ব্রহ্মের যাবতীয় প্রকাশের অধিপতি)। ইনি সর্বশ্রেষ্ঠ, কিন্তু একজন দেবতা হিসেবে নয়, বরং ইনি সর্বশ্রেষ্ঠ কারণ ইনিই সর্ববিধ অস্তিত্ত্বের সত্তা। ইনি স্বয়ং তত্ত্বমসি মহাবাক্য। ইনিই সমস্ত গণপতির একক উৎস, সেইসাথে সমস্ত সত্তার সত্তা। এই তত্ত্ব মুদ্গল পুরাণ, গণেশ পুরাণ, বিনায়ক তন্ত্র, মেরু তন্ত্র এবং বিনায়ক রহস্যে বিবৃত, প্রমাণিত এবং সুপ্রতিষ্ঠিত।

2. বক্রতুণ্ড:
একার্ণ স্বানন্দেশ গণপতির ঠিক পরে, বক্রতুণ্ডের স্থান। গাণপত্য ধর্মতত্ত্ব অনুসারে, একাক্ষর/স্বানদেশ হলেন ঈশ্বর, জীব এবং জগতের সম্মিলিত অবয়ব, তবুও ইনি এসবের ঊর্দ্ধে। কিন্তু বক্রতুণ্ড শুধুমাত্রই ঈশ্বর। একাক্ষর হলেন নির্গুণ (নিরাকার), আর বক্রতুণ্ড হলেন সগুণ (সাকার)। বক্রতুণ্ড ইচ্ছা, জ্ঞান এবং ক্রিয়া শক্তির প্রভু। ইনি এই মহাবিশ্ব রচনার জন্য এই শক্তিসমূহের প্রয়োগ করেন।

3. শ্বেত গণপতি বা শারদেশ:
ইনি বক্রতুণ্ডের সেই মূর্তি যা ভগবান বক্রতুণ্ডের জ্ঞান শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। তাই ইনি সরস্বতীপ্রধান। এই রূপের মাধ্যমে ভগবান বক্রতুণ্ড সৃষ্টির ধারণা করেন।

4. মহাগণপতি:
ইনি বক্রতুণ্ডের ক্রিয়া-শক্তি প্রধান মূর্তি। এই রূপের মাধ্যমে ভগবান বক্রতুণ্ড সৃষ্টিতে অংশ নেন। তাই ইনি লক্ষ্মীপ্রধান। গাণপত্য ধর্মতত্ত্ব অনুসারে, সিদ্ধিলক্ষ্মী হলেন ক্রিয়া শক্তি, এবং বুদ্ধিসরস্বতী হলেন জ্ঞান শক্তি। বিনায়কী মহামায়া/ময়ূরী হলেন ইচ্ছা শক্তি। বক্রতুণ্ড এই সমস্ত শক্তির স্বামী। কিন্তু, শ্বেত কেবল সরস্বতীর অধিকারী এবং মহাগণপতি কেবল লক্ষ্মীর অধিকারী। ইচ্ছা উচ্ছিষ্ট গণপতির অধীনে।

5. উচ্ছিষ্ট গণপতি:
গণপতির এই রূপটি সমস্ত গণপতির সারতত্ত্ব (উৎস নয়। উৎস শুধুমাত্র স্বানন্দেশ-একাক্ষর)।
মুদ্গল পুরাণ এবং বিনায়ক তন্ত্র বর্ণনা করে যে, ভগবান বক্রতুণ্ড এই সৃষ্টির সৃষ্টির জন্য পঞ্চ-দেবতাদের (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ, সূর্য এবং শক্তি) নিযুক্ত করার পর, তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব বেঁধে যায় যে, কে কার চেয়ে বড়। এই অহংকার তাঁদের সৃষ্টিকর্মে বিঘ্ন উৎপাদন করে।
তাই, ভগবান বক্রতুণ্ড তাদের ভিত্তিহীন দম্ভ থেকে তাঁদের মুক্ত করার জন্য তাঁদের সম্মুখে একটি শিশুরূপে আবির্ভূত হন। বক্রতুণ্ডের এই শিশুরূপী মানসমূর্তি উচ্ছিষ্ট (উৎকৃষ্টের অবশিষ্ট) নামে পরিচিত হয়।
গণপতির এই রূপটি ইচ্ছাশক্তির অধিপতি, যিনি স্বয়ং মহামায়া। গাণপত্যদের মতে এই দেবীর অনেক নাম রয়েছে, তবুও ময়ূরী, বিনায়কী, বিঘ্নেশ্বরী এবং নীল সরস্বতী তাঁর প্রধান নাম বা মূর্তি।

স্বানন্দেশ স্বানন্দ-লোকে বাস করেন, যেখানে তাঁর নিজের ২১৬টি রূপ রয়েছে, যাঁরা সর্বদা তাঁর সাথে বিহার করে থাকে। সিদ্ধি ও বুদ্ধি তাঁর দুই পত্নী। সিদ্ধি হলেন প্রকৃতি, আর বুদ্ধি হলেন পুরুষ। এই শক্তিদ্বয়ের স্বামীরূপে গণপতি সমস্ত দ্বৈতত্বের উর্ধ্বে।

বক্রতুণ্ডেরও পত্নী হিসেবে সিদ্ধি এবং বুদ্ধি (স্বানন্দ-সিদ্ধি এবং স্বানন্দ-বুদ্ধির সগুণ অবতার)। ইনি চিন্তামণি-দ্বীপে বাস করেন। এখানে ভগবান বক্রতুণ্ডের নিজস্ব ২১৬টি রূপ রয়েছে।

মহাগণপতি শক্তি-লোকে বাস করেন। হ্যাঁ, শুনতে বিস্ময়কর হলেও, বিনায়ক রহস্য অনুসারে মহাগণপতি মণিদ্বীপে বাস করেন। তাঁর প্রাসাদটি স্বানন্দ-ভবন নামে পরিচিত, তবে রাজ্যটি মণিদ্বীপ। ইনি তাঁর নিজের ২১৬টি রূপ নিয়ে এই ধামে বিরাজ করেন। তাঁর শক্তি হলেন সিদ্ধি-লক্ষ্মী বা বল্লভা (চিন্তা-সিদ্ধির অবতার এবং ঋষি মরীচির কন্যা)।

শ্বেত গণপতি ব্রহ্ম-লোকে বাস করেন। তাঁর প্রাসাদ চিন্তামণি-ভবন নামে পরিচিত। তাঁর নিজস্ব ২১৬টি রূপ রয়েছে। তাঁর পত্নী হলেন সারদা-সরস্বতী, (ঋষি অঙ্গিরার কন্যা এবং চিন্তা-বুদ্ধির অবতার)।

উচ্ছিষ্ট গণপতি উচ্ছিষ্ট পুরমে বাস করেন। এটি বক্রতুণ্ডের চিন্তামণি-দ্বীপে অবস্থিত। তাঁর নিজস্ব ২১৬টি রূপ রয়েছে এবং ইনি সর্বদা নীল-সরস্বতীর সাথে অবস্থান করেন। এটিই একমাত্র স্থূল ধাম যা প্রলয়ের পরেও অবশিষ্ট থাকে।
প্রলয়কালে যখন স্বানন্দ-লোক অন্য সমস্ত ধামকে নিজের মধ্যে লীন করে নেয়, এবং নিজ নিত্য ধাম স্বানন্দলোককেও স্বানন্দেশ নিজের সুষুপ্তিতে অন্তরীন করে নেন, তখন শুধুমাত্র উচ্ছিষ্ট গণপতি তাঁর এই সমস্ত লীলার সাক্ষী হিসাবে জাগ্রত থাকেন। ইনিই স্বানন্দেশের হৃদয়ে ইচ্ছাশক্তিকে জাগ্রত করেন, যা পরবর্তী সৃষ্টির উদ্ভব ঘটায়। এই কারণেই উচ্ছিষ্ট গণপতি মহাকাল নামেও পরিচিত, কারণ তিনি কালেরও কাল।

এখন, এই পঞ্চ বিনায়ক এবং তাঁদের ২১৬টি মূর্তি মিলে ১০৮৫টি বিনায়কের মূর্তি তৈরি করে যা সমগ্র গাণপত্য মন্ত্র ক্রম গঠন করে।
অথচ, এই সমস্ত রূপ কেবল এই কল্পের জন্যেই।
সংগৃহিত।।

❤ ** শ্রীশ্রী বলরাম পূর্ণিমা বিশেষ রচনা ** ❤🌹🌹🌹🌹রেবতীরমণ_রাম🌹🌹🌹🌹শেষ সংহিতা মতে বৈশাখী শুক্লা তৃতীয়ায়, গর্গ সংহিতা মতে ভা...
09/08/2025

❤ ** শ্রীশ্রী বলরাম পূর্ণিমা বিশেষ রচনা ** ❤
🌹🌹🌹🌹রেবতীরমণ_রাম🌹🌹🌹🌹

শেষ সংহিতা মতে বৈশাখী শুক্লা তৃতীয়ায়, গর্গ সংহিতা মতে ভাদ্রপদী শুক্লা ষষ্ঠী ও শ্রীপুরুষোত্তম ক্ষেত্রের নিয়মে শ্রাবণী পৌর্ণমাসী তে পরাৎপর আদিগুরুতত্ত্ব অনন্ত মহাপ্রভু শ্রীবলভদ্র এর শুভাবির্ভাব দ্বাপরান্তে চন্দ্র-যদু-বৃষ্ণী-শূর রাজবংশে, নরচন্দ্রমা শ্রীবসুদেব মহারাজ ও পরাশক্তিদ্বয় দেবকী দেবী ও রোহিণী দেবীর আত্মজ রূপে। দেবকী মাতার গর্ভ থেকে রোহিণী মাতার গর্ভে ভগবতী যোগমায়া দ্বারা সংকর্ষিত হ'য়ে রোহিণীগর্ভসিন্ধু থেকেই যদুকুলপূর্ণচন্দ্রমা রূপে আদিশেষাদি অনন্তকলাভূত ভগবান সংকর্ষণ প্রকট হ'ন ভূলোকস্থিত নিত্য ভগবদ্ধাম শ্রীগোকূল মহাবনে কালিন্দীতটে যশোদানন্দভবনে। গোক্ষীরশুভ্রগৌরাঙ্গ জলধরনীলাম্বর এককুণ্ডলধারী কাদম্বরীপ্রমত্ত মহামল্ল পুরুষোত্তম বলদেব অজ্ঞানতিমিরান্ধকারবিনাশী কোটিকন্দর্পমদহারী মদাঘূর্ণিতবিলোচন রোহিণীতনয়, পূর্ণতম পুরুষোত্তম ভগবান নিত্যশ্রীবিহারী শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রের অভিন্নবরতনু পূর্বজ, প্রতি লীলার আধার স্বরূপ। মহাপ্রভু বলের নিত্যশক্তি, নিত্যপ্রেয়সী, নিত্য-অর্ধাঙ্গিনী সাক্ষাৎ পরালক্ষ্মীকলাভূতা নাগলক্ষ্ম্যাত্মিকা বৈবস্বত মনু-আনর্ত-রেবত রাজবংশে আবির্ভূতা, মহারাজ শ্রীককুদ্মী ও ককুদ্মীমহিষীর দিব্যতনয়া ভগবতী রেবতী দেবী এবং রেবতীগর্ভসম্ভূত পুত্রদ্বয় নিশঠ বা বিশঠ ও উল্মুক এবং লোককথানুসারে একমাত্র আত্মজা বৎসলা বা শশীরেখা। পদ্ম সংহিতার বর্ণনানুসারে দেবী রেবতী অসিতবর্ণসুভগা তথা রেবতীরমণ রাম দ্বিভুজ বা চতুর্ভুজ শ্রীবিগ্রহে দক্ষিণে হল, বামে মুসল ও শঙ্খচক্রধারী। প্রলম্বারি রুক্ম্যরি দ্বিবিদারি ভগবানের মহাসর্পসম হল সংবর্তক বা শৌভনিক, মহাবজ্রসম মুসল সৌনন্দ বা সুনন্দ, মহারথ তালধ্বজ বা হলধ্বজ, সারথি সুমতি বা সুদ্যুম্ন বা মাতলি। পদ্মপুরাণের পাতালখণ্ড ও রাধাতন্ত্র অনুসারে হরিচন্দন বনে ও হরিবংশ অনুসারে প্রিয় রৈবতক মহাগিরি ও নিত্যধাম শ্রীদ্বারকাপুরীর সমুদ্র আদি তে রেবতীসহিত গীতবাদ্যনৃত্যরসিকেন্দ্র রেবতীরমণ নিত্য আনন্দবিহার করে'ন। গোমন্ত পর্বতে ও শ্রীবৃন্দাবনে যমুনাপুলিনে বারুণী, কান্তি দেবীদ্বয় ও গোপিকা নাগকন্যাগণের সঙ্গে বাসন্তী পূর্ণচন্দ্রে রাসবিহার করেন রৌহিণেয় বসুদেবতনয়। রুক্মিণীনন্দন প্রদ্যুম্ন, জাম্ববতীনন্দন সাম্ব প্রভৃতি শ্রীকৃষ্ণপুত্র, কৌন্তেয় পাণ্ডব ভীমসেন, গান্ধারীধৃতরাষ্ট্রসুত দুর্যোধন আদির সাক্ষাৎ গুরু, অখিলজগদ্গুরু কামপাল সুভদ্রাগ্রজ রোহিণীহৃদয়ানন্দ রেবতীনয়নোৎসব বলদেব অনন্ত বলবীর্য্যজ্ঞানসৌন্দর্য্যকরুণার মহাবারিধি, মূল সংকর্ষণ, মহা সংকর্ষণ, শাক্ততন্ত্রপথের সাধক যাঁকে অভিন্ন পঞ্চাকাশবিলাসিনী সদ্যোজাতভৈরবী উগ্রতারা কখনও বা ত্রিপুরভৈরবী তথা পরমশিব রূপে জ্ঞান করে থাকেন।
🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼

ভারতে অসংখ্য রহস্যময় মন্দির রয়েছে যেগুলি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ে খোলে। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে এমন একটি মন্দির রয়ে...
16/07/2025

ভারতে অসংখ্য রহস্যময় মন্দির রয়েছে যেগুলি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ে খোলে। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে এমন একটি মন্দির রয়েছে এবং এটি বছরে মাত্র একবার নাগ পঞ্চমীতে খোলে। আসুন এটি সম্পর্কে আরও জেনে নেওয়া যাক।
মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িন শহর, যা তার মন্দিরের জন্য বিখ্যাত, সেখানে মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ অবস্থিত, যা ভারত জুড়ে ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একটি। মহাকাল মন্দির কমপ্লেক্সের শীর্ষে অবস্থিত নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরটি অনন্য কারণ এটি বছরে কেবল একবার নাগ পঞ্চমীতে খোলে। এই দিনে, পুরোহিত প্রথমে মন্দিরটি খুলে পূজা করেন, তারপরে সাধারণ মানুষকে দর্শন করার অনুমতি দেওয়া হয়। তারপর নাগ পঞ্চমীর রাতে মন্দিরটি আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক কেন এই মন্দিরের এত বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
বিশ্বাস করা হয় যে প্রাচীন মহাকাল বনে, তক্ষক নাগ ভগবান শিবকে সন্তুষ্ট করার জন্য তপস্যা করেছিলেন। তাঁর ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে, ভগবান শিব তাঁকে এই পবিত্র স্থানে বসবাসের বর দিয়েছিলেন। বিশ্বাস করা হয় যে তক্ষক নাগ এখনও এই স্থানে বাস করেন। তক্ষক নাগ হলেন একজন বিশিষ্ট নবনাগ এবং অভিমন্যুর পুত্র পরীক্ষিতের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন।
নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরে ভগবান শিবের মূর্তিটি অনন্য কারণ এতে ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতী উভয়কেই শেষনাগের উপর বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের বাহন, নন্দী এবং শেরও মূর্তিটিতে অন্তর্ভুক্ত। একটি মাত্র পাথর দিয়ে খোদাই করা এই মূর্তিটি চমৎকার মারাকাল শিল্পের উদাহরণ। এটাও বিশ্বাস করা হয় যে এই মূর্তিটি দেখার মাধ্যমে কালসর্প দোষে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমস্যা দূর করা সম্ভব। ☘️☘️☘️☘️☘️☘️🔱🔱🔱🔱🔱🔱

🌺নীলমাধব🌺-------------------------------------------------------------------ভারতের পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত ওড়িশা রাজ্যের ...
05/07/2025

🌺নীলমাধব🌺
-------------------------------------------------------------------
ভারতের পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত ওড়িশা রাজ্যের নয়াগড় জেলার কান্তিলো জনপদে মহানদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন মন্দির যা শ্রী বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে সমর্পিত, জগন্নাথদেবের আদি রূপ হিসেবে আখ্যা পান এই নীলমাধব। জগন্নাথদেবের আদি রূপ নীলমাধব দর্শন না করলে জগন্নাথদেবের কৃপা পাওয়া যায় না। তাই নীলমাধবের দর্শন ছাড়া পুরীতে জগন্নাথদেবের দর্শন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
'উৎকল খণ্ড' নামে একটি আধ্যাত্মিক গ্রন্থ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে 'উৎকল'খণ্ড' গ্রন্থটি তিনটি ভাষায় রচিত হয়েছিল উড়িয়া, হিন্দি ও ইংরেজি। পুরীর মন্দিরেই পাওয়া যায় এই বই। এই বই পড়ে জানা যায় জগন্নাথ দেবের মাহাত্ম্য। আসলে জগন্নাথদেব হলেন শবর জাতির উপাস্য দেবতা।
এখান যেখানে পুরী মন্দির তার প্রাচীনকালের নাম ছিল মালব দেশ। মালব ছিল ইন্দ্রদ্যুম্ন রাজার রাজ্যের নাম। আজ যেখানে পুরী মন্দির সেখান থেকে মোটামুটি ১২০ কিলোমিটার দূরে শবর জাতির লোকেরা বাস করত। শবর জাতির রাজা ছিলেন বিশ্ববসু এবং মালব দেশের রাজা ছিলেন ইন্দ্রদ্যুম্ন। তিনি ছিলেন ধার্মিক রাজা। তাঁর সভায় বহু জ্ঞানী গুণী পন্ডিত ব্রাহ্মণ প্রভৃতি থাকতেন। একদিন রাজা স্বপ্নাদেশ পেলেন। নীলমাধবের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে যেন পুজো করা হয়। নীলমাধব বলেছিলেন যে তিনি কোন এক জঙ্গলে আছেন। শ্রীবিষ্ণুর ১০৮ টি নামের মধ্যে নীলমাধব একটি নাম।
ভগবান নীলমাধবের স্বপ্নাদেশ পেয়ে রাজা সেপাই, সান্ত্রী, রাজকর্মচারীদের চারদিকে পাঠালেন। সবাই চারিদিকে খুঁজতে লাগল কিন্তু কোথাও কোন মন্দির পাওয়া গেল না।
রাজার একজন ব্রাহ্মণ পুরোহিত ছিলেন তাঁর নাম ছিল বিদ্যাপতি। তিনিও খুঁজতে বেরিয়ে ছিলেন। খুঁজতে খুঁজতে তিনি সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটা জঙ্গলে ঢুকে যান এবং তারপরে আর পথ খুঁজে পাননি। এদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসছে বিদ্যাপতি কি করবেন বুঝতে পারছেন না এমন সময় একটি অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে, আঠারো থেকে কুড়ির মধ্যে সম্ভবত বয়স, সে বিদ্যাপতিকে দেখতে পেয়ে জানতে চাইল যে তিনি এখানে কি করছেন ?
প্রত্যুত্তরে বিদ্যাপতি নিজের পরিচয় গোপন রেখে নিজেকে একজন সাধারণ ব্রাহ্মণ বলে পরিচয় দিলেন এবং জানালেন যে তিনি পথ হারিয়ে ফেলেছেন। পথ হারিয়ে গেছে শুনে মেয়েটি তাঁকে নিজের বাড়িতে যাওয়ার অনুরোধ জানালো। বিদ্যাপতি তখন রাজি হলেন এবং মেয়েটির বাড়িতে চলে গেলেন। এই মেয়েটির নাম ললিতা। কথাপ্রসঙ্গে মেয়েটি জানিয়েছিল যে সে তার পিতার পূজার জন্য ফুল তুলতে বেরিয়েছে কারণ তার পিতা গভীর রাতে পূজা করেন। সেই রাতে বিদ্যাপতি ললিতার পিতার গৃহে আশ্রয় নিলেন।
শবর রাজার বিশ্ব বসু গভীর রাতে ফিরে এসে বিদ্যাপতিকে দেখে তাঁর পরিচয় জানতে চাইলেন ললিতার কাছে। ললিতা জানালেন যে একজন ব্রাহ্মণ মানুষ পথ হারিয়েছেন তাই সে তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছে। তার পিতা বললেন বেশ। এনাকে ভালোভাবে সেবা করো। ব্রাহ্মণ সেবা করা ভালো।
রাজপুরোহিত বিদ্যাপতি ললিতাকে দেখে প্রথমেই মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং পরে বিবাহ প্রস্তাব দিলে ললিতা রাজি হয়। তবে তার পিতা রাজি হবেন কিনা সে বিষয়ে একটু সংশয় ছিল। কিন্তু শবর রাজা বিশ্ববসুর কাছে প্রস্তাব দেয়া মাত্র তিনিও রাজি হলেন। তারপর ললিতার ও বিদ্যাপতির বিবাহ সম্পন্ন হল।
দিনের পর দিন সন্ধ্যা নামলে শবর রাজা ফুলের ঝুড়ি নিয়ে জঙ্গলের ভিতরে কোথাও চলে যান। একদিন বিদ্যাপতি ললিতার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলেন। ললিতা শুধু জানে যে তার পিতা গভীর জঙ্গলের মধ্যে পুজো করতে যান কিন্তু সে নিজেও জানেনা যে কোন স্থানে কোন দেবতাকে তার বাবা পুজো করেন কারণ ভগবান নীলমাধব নিষেধ করেছিলেন এই পুজোর কথা জানাতে।
বিদ্যাপতির কৌতুহল হল এবং তিনি ললিতাকে বললেন তবে একদিন এই কথাটি তোমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করি। উনি আমারও শ্বশুর মশাই। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন এ বিষয়টি গোপন। কেউ জানেনা আমি গভীর জঙ্গলে কোন দেবতাকে পুজো করি। এরপর তিনি জানালেন যাঁকে পুজো করি তাঁর নাম নীলমাধব। তিনি ভগবান শ্রী বিষ্ণুর রূপ কিন্তু ঠাকুরের নিষেধ থাকায় নিজের মেয়েকেও কখনো নিয়ে যান নি। তবে আজ নিয়ে যাব যদি অনুমতি দেন ভগবান নীলমাধব। এরপর রাতে ললিতা ও বিদ্যাপতিকে নিয়ে তিনি শ্রী নীলমাধব দর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।
গভীর জঙ্গলে একটি ছোট দেবালয় দেখালেন শবর রাজ বিশ্ববসু যেখানে নীলমাধব প্রতিষ্ঠিত। ললিতা জানতে চেয়েছিলেন যে এই দেবালয় কি তার পিতা বিশ্ববসু নির্মাণ করেছেন ? প্রত্যুত্তরে তাঁর পিতা বললেন আমার কি ক্ষমতা আছে যে ভগবানের জন্য মন্দির নির্মাণ করবো। এই মন্দির স্বয়ং নীলমাধব তৈরি করিয়েছেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মাকে দিয়ে। মূর্তিও তিনি তৈরি করেছেন তবে আর কখনো তোমরা এখানে এসো না। নীলমাধব পছন্দ করছেন না। সেদিন তাঁরা ফিরে এলেন কিন্তু বিদ্যাপতি এবার ঠিকানা পেয়ে গিয়েছেন যে নীলমাধব কোথায় আছেন তাই তিনি গোপনে খবর দিলেন রাজাকে।
রাজা ছিলেন বিষ্ণুর উপাসক। তিনি একটি বিষ্ণু মূর্তি পূজা করতেন। নীলমাধবের খোঁজ পাওয়ার পর রাজা লোকলস্কর নিয়ে জঙ্গলে এসে পৌঁছলেন ও দেবালয়টি দেখতে পেলেন কিন্তু দেবালয় গিয়ে নীলমাধবকে দেখতে পেলেন না। কারণ ভগবান অন্তর্হিত হয়েছেন। পড়ে আছে শূন্য বেদি। ওই রাত্রে রাজা আবার স্বপ্ন পেলেন নীলমাধবের কাছ থেকে। ঠাকুর বলছেন যে ওখানে কেন গিয়েছিলে ? তখন রাজা বলছেন আপনি আমার গৃহ মন্দিরে অবস্থান করবেন তাই আপনাকে আনতে গিয়েছিলাম তখন ঠাকুর বললেন তা সম্ভব নয়। আমি শবরদের উপাস্য দেবতা তবে তোমার যদি একান্ত ইচ্ছা হয় তাহলে সমুদ্রে ভেসে আসা দারুব্রহ্ম কাঠের (নিম কাঠ) সাহায্যে আমার দ্বিতীয় মূর্তি নির্মাণ করো। আমি সেখানে জগন্নাথ রূপে অবস্থান করবো।
সত্যিই একটা বিশাল কাঠ একদিন ভেসে এলো। সেটাকে রাজ কর্মচারীরা সংগ্রহ করে মন্দিরে আনলেন। ঠাকুর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তাঁর রূপ কেমন হবে। সেইমতো রাজা শিল্পীদের ডাকিয়ে তাঁদেরকে বুঝিয়ে চেষ্টা করলেন মূর্তি তৈরি করতে। কিন্তু কেউই কাঠখোদাই বা কাঠ কাটার কাজ করতে পারল না। তখন রাজা ধ্যানে বসলেন এবং ধ্যানযোগে নীলমাধব এসে বললেন ঠিক আছে আমি একজন ভালো শিল্পীকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। এরপর স্বয়ং শ্রী বিষ্ণু বৃদ্ধ শিল্পীর রূপ ধরে এলেন। শিল্পী জানালেন যে মূর্তি নির্মাণ করতে দেড় মাস সময় লাগবে তবে একটি শর্ত আছে যে ওই মন্দিরের গর্ভগৃহে যখন মূর্তি তৈরি হবে তখন কেউ সে ঘরে প্রবেশ করতে পারবে না। দরজা বন্ধ থাকবে। তবে মূর্তি হয়ে গেলে আমি নিজেই বেরিয়ে এসে দেখাবো। এই ভাবে মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। এরপর ২৮, ২৯ দিন কেটে গেছে। কিন্তু মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে মূর্তি নির্মাণের কোন শব্দ আর ভেসে আসছে না। ৩২ দিনের দিন রানী গুন্ডিচা আর ধৈর্য রাখতে পারলেন না। কোন শব্দ নেই দেখে মন্দিরের দরজা তিনি খুলে ফেললেন কিন্তু দেখা গেল শিল্পী নেই আর অর্ধনির্মিত মূর্তি পড়ে আছে।
এ ঘটনায় রাজা ক্রুদ্ধ হলেন রানীর উপর। ওই রাতে আবার স্বপ্ন দিলেন ঠাকুর। বললেন আমার শর্ত মানোনি বলে আমি চলে এসেছি কিন্তু তুমি এই রূপেই আমাকে স্থাপন করবে।
এদিকে শবর রাজা দেখলেন মন্দিরে নীলমাধব নেই। তখন তিনিও ধ্যানে বসলেন ও বললেন প্রভু তুমি কেন চলে গেছো কি অপরাধ হয়েছে আমার ? নীলমাধব জানালেন তোমার অপরাধ হয়েছে। আমি বারন করেছিলাম কাউকে এখানে আনতে কিন্তু তুমি মেয়ে জামাই এবং রাজাকে এনেছ। এই ঘটনায় দুঃখিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করার পর নীলমাধব আবার ওই ছোট্ট দেবালয় ফিরে আসতে রাজি হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে তুমি একটি মন্দির নির্মাণ কর সেখানে আমি থাকবো এবং এবার থেকে শুধু শবর নয় সকলকেই আমি দর্শন দেবো। আমার পুরীর মন্দিরে আমি যেমন চিরকাল থাকবো আবার এখানেও থাকবো। তখন শবর রাজা জিজ্ঞাসা করেছিলেন এই ছোট মন্দিরের সবাই আসবে কেন রাজার তৈরি মন্দির তো অনেক বড় সেখানেই সবাই যাবে।
তখন নীলমাধব জানিয়েছিলেন প্রথমে আমাকে দর্শন করে পরে জগন্নাথদেব রূপ দর্শন করতে হবে। তবেই জগন্নাথ দর্শন এর ফল হবে। নীলমাধব দর্শন ও জগন্নাথ দর্শন পর পর না করলে আধ্যাত্মিক ফল লাভ হয় না।
"নীলমাধব" অর্থাৎ নীল - জগন্নাথ, মা - সুভদ্রা, ধব - বলভদ্র; এই তিনে মিলে নীলমাধব।
মন্দির ভোর পাঁচটায় খোলে। সকাল ছটায় বাল্য ভোগ। সকাল এগারোটায় অন্ন ভোগ। দুপুর সাড়ে বারোটায় ভন্ড ভোগ। দুপুর দেড়টায় দুপ্রহর ভোগ। দুপুর আড়াইটায় মন্দির বন্ধ থাকে তিনটে পর্যন্ত। সন্ধ্যা সাতটায় সন্ধ্যারতি। রাত আটটায় অন্ন ভোগ। রাত নটায় ভোগ ও সিঙ্গার। তাহার পর নীলমাধব শয়নে যান। মাঘ মাসের ভীম একাদশীতে মেলা বসে।
জয় নীলমাধব। জয় জগন্নাথদেব।
শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের প্রণাম মন্ত্রঃ —
ॐ নীলাচলনিবাসায় নিত্যায় পরমাত্মনে ।
বলভদ্র সুভদ্রাভ্যাং জগন্নাথায় তে নমঃ ॥
পরমাত্মা স্বরূপ যাঁরা নিত্যকাল নীলাচলে বসবাস করেন, সেই বলভদ্রদেব, সুভদ্রা ও জগন্নাথদেব কে প্রণতি নিবেদন করি🙏💕 (সংগৃহীত)
Thanks devashis chakraborty dada..oshadharon post tir jonno

সকাল সকাল রথের টান হয়ে যায় চন্দননগরে। নিয়ম অনুযায়ী বারবেলার আগেই, চন্দননগর লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে রথের টান হয় প্রতিবার।জ...
27/06/2025

সকাল সকাল রথের টান হয়ে যায় চন্দননগরে। নিয়ম অনুযায়ী বারবেলার আগেই, চন্দননগর লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে রথের টান হয় প্রতিবার।

জানা যায়, ১৭৭৬ সালে চন্দননগর লক্ষীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী যদুবেন্দ্র ঘোষ এই রথের সূচনা করেছিলেন। তিনি পুরী শ্রীক্ষেত্রে যেতে না পেরে জগন্নাথ দেবের স্বপ্নাদেশে এই রথের সূচনা করেন, এমনই জনশ্রুতি আজও। যদিও বর্তমানে যে রথটি টানা হয়ে থাকে, সেটি এখানকার ব্যবসায়ীদের তৈরি লোহার রথ। আগে ছিল কাঠের রথ। কিন্তু সেটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় পরবর্তীকালে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় ৬০ টন ওজনের এই রথ তৈরি করা হয়।

সকাল থেকে রৌদ্রজ্বল আকাশ তাই এবছর রথ দেখতে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে রাস্তার দুপাশে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে সকালের প্রথম টান হয়েছে। এরপর বিকেল তিনটে নগদ রথের দড়িতে পুনরায় টান পড়বে। মাসির বাড়ি তালডাঙা পৌঁছবেন জগন্নাথ দেব।🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼

🙏🌺ॐ জয় মা কামাখ্যা ॐ🌺🙏মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর শহরের খাগড়া অঞ্চলে কালিকাতলা মন্দির প্রাঙ্গণে কামাক্ষ্যা মাতা-র পূজা অ...
23/06/2025

🙏🌺ॐ জয় মা কামাখ্যা ॐ🌺🙏
মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর শহরের খাগড়া অঞ্চলে কালিকাতলা মন্দির প্রাঙ্গণে কামাক্ষ্যা মাতা-র পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সবাই আসুন...মায়ের দর্শন করুন 🙏
মায়ের শ্রীচরণে শত-সহস্র-কোটি প্রণাম । ।

নীলাচলে কামেশ্বরী দেবী 'মা কামাখ্যা' প্রণাম মন্ত্র :

" ॐ ত্বং আদ্যাদেবী কামাখ্যারুপেন জগত্মাতৃকাতত্
চরনারবিন্দ সর্বভূতানাং স্বর্মপয়ামি॥
ॐকামাখ্যে বরদে দেবী নীলপর্ব্বতবাসিনীত্বং দেবী
জগতাং মাতর্যোনিমুদ্রেনমোহস্তুতে।।"

জয়নগরের জয়চণ্ডী  মাতার ইতিহাস-অত্যন্ত জাগ্রত হলেন চণ্ডীতলার জয়চণ্ডী,দেবীর নাম অনুসারেই জায়গাটির নামকরণ জয়নগর। গাছগাছালি...
10/06/2025

জয়নগরের জয়চণ্ডী মাতার ইতিহাস-
অত্যন্ত জাগ্রত হলেন চণ্ডীতলার জয়চণ্ডী,দেবীর নাম অনুসারেই জায়গাটির নামকরণ জয়নগর। গাছগাছালিতে ঘেরা বর্ধিষ্ণু গ্রাম জয়নগর। এই গ্রামের মধ্যেই অবস্থিত দক্ষিণমুখী শ্রীশ্রী জয়চন্ডী মাতার মন্দির।কথিত আছে প্রায় তিনশো বছর আগে জয়চণ্ডীদেবীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন কলকাতার মতিলাল পরিবারের গুণানন্দ মতিলাল।এই মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী চণ্ডীর আবির্ভাব নিয়ে বেশ কিছু কিংবদন্তী আছে। তার মধ্যে একটি হল গুণানন্দ ও জৈনক টুনুপণ্ডিত একদিন নৌকাযোগে আদিগঙ্গা দিয়ে যাওয়ার সময় নদীর তীরে এক সুন্দরী রমণীকে একাকী বিচরণ করতে দেখেন। তাঁরা নৌকা থেকে তীরে নামার পর ওই রমণীকে আর দেখতে পেলেন না। সেইরাতেই গুণানন্দ স্বপ্নাদেশে জানতে পারেন যে, ওই রমণী হলেন শ্রীশ্রীজয়চণ্ডী। স্বপ্নাদেশে দেবী জানালেন যে, তাঁকে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করে সেবাপুজোর ব্যবস্থা করতে।
আরো একটি জনশ্রুতি হল।দয়াময়ী মায়ের লীলার এক কাহিনী শোনা যায় জয়নগরের শ্রীশ্রীজয়চণ্ডী মাতার মন্দিরে। পাঁচ শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দিরে মা জয়চণ্ডী বিরাজমান।নিকটবর্তী পুকুরের জল থেকে মা এক গরীব ব্রাহ্মনকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে উত্থিত হন।ব্রাহ্মনকে তিনি তাঁর পূজার দায়িত্ব দেন।কিন্তু সে তো অত্যন্ত গরীব পূজা করলে কি করে! একথা মাকে জানালে মা তাকে একটি খড়ের চালা নির্মান করে রাখতে বলেন।পরে ভক্তরা মন্দির নির্মাণ করে দেন।মা তাঁকে এক নির্দিষ্ট বকুলবৃক্ষতলে স্থাপন করতে বলেন।পরে মা সেই বকুলবৃক্ষ দিয়েই তাঁর বিগ্রহ নির্মাণ করতে বলেন।তাই পরে মা'র দারুবিগ্রহ নির্মিত হয়। মা'র মন্দিরের সামনে এক কদম্ববৃক্ষ আছে যেখানে একটি মাত্র ফুল ফোটে তাও আবার জৈষ্ঠ্যমাসে।ওই সময় বেশের মেলা হয়ে থাকে।যদিও ফুলটি গভীর রাতে দেখা যায় এবং তা দিয়ে মা'র পূজা হয়।এখানকার লোকজন বলেন মা এখনও রোজ রাতে ভ্রমনে যান।খুব কম সৌভাগ্যবান মানুষই তা দর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। শ্রী জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানার জয়নগর মজিলপুর গ্রামে অতিজাগ্রত জয়চণ্ডী দেবীর ১৫ দিন ব্যাপী বাৎসরিক পূজা ,উৎসব ও মেলা হয় |

দেবীর বর্তমান দক্ষিণমুখী মন্দিরটি ১৯৫০ সালে কলকাতার মহেন্দ্র শ্রীমানি নির্মাণ করেন।আর নাটমন্দিরটি নির্মাণ করেন নিত্যহরি মতিলাল। গর্ভমন্দিরে একটি সিমেন্টের বেদিতে কাঠের মঞ্চের উপর বকুল গাছের নির্মিত আড়াই ফুট উঁচু শাড়ি পরিহিত দেবীর দারুবিগ্রহ আজও বিরাজমান।গৌরবর্ণের ত্রিনয়নী দেবীর হাতদুটি অলঙ্কার শোভিত। অভয় ও বরাভয় মুদ্রায় রতা,মাথায় মুকুট। দেবীর এই অপরুপ বিগ্রহ দেখলেই মনে হবে যেন একটি কিশোরী মেয়ে দাড়িয়ে আছে। স্বপ্নাদেশে প্রাপ্ত ওই দিব্য শিলাখণ্ডটিও ওই দারুবিগ্রহের সহিত নিত্যসেবিত হয়। আপামর গ্রামবাসীর বিশ্বাস দেবী জয়চণ্ডী অত্যন্ত জাগ্রতা।

🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺

সংগৃহিত

Address

Kolkata
700050

Telephone

+919874057334

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ভক্তি ধারা।। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to ভক্তি ধারা।।:

Share

“Bhakti Dhara”

Ata akti BHAKTI group.sobai amra vogobaner kache aksate parthona korte pari sei jonno korahoyache. Page ti Like Korben, Share Korben r kichu proshno thakle bina didhay korben