04/02/2026
কেন্দ্রীয় বাজেট দেখে মনে হচ্ছে, সরকার মানসিক স্বাস্থ্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। কোনো সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করার পর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গোড়া থেকে সমস্যা আটকানোর কোনো চেষ্টা বাজেট পরিকল্পনায় নেই।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, সরকারের নিজস্ব 'ইকোনমিক সার্ভে' মানসিক স্বাস্থ্যকে একটি বড় সংকট হিসেবে মেনে নিয়েছে। যুবক-যুবতী-তরুণদের দুশ্চিন্তা, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং একাকীত্ব যে বিপদ বাড়াচ্ছে, তা সরকার জানে। কিন্তু কাজের বেলায় দেখা যাচ্ছে, সেই অনুযায়ী টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে না।
মানসিক স্বাস্থ্যের খাতে যেটুকু খরচ করা হয়, তার সিংহভাগই চলে যায় বড় দুটি হাসপাতালে। এর ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা ছোট ছোট ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কোনো সাহায্য পায় না। আমাদের দেশে এখন মানসিক চিকিৎসা মানেই বড় হাসপাতাল। পাড়ায় বা জেলা স্তরে কোনো পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি।
আজকাল মানুষের মানসিক চাপ বাড়ে মূলত চাকরি না থাকা বা একাকীত্বের মতো নানা সামাজিক কারণে। তাই সমাধানটাও হওয়া উচিত সামাজিক ও স্থানীয় স্তরে। সরকার কেবল বড় বড় সেন্টার বা হাসপাতাল বানাতে ব্যস্ত। সাধারণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে যে ধরনের স্থায়ী উদ্যোগ দরকার, বাজেটে তার অভাব স্পষ্ট।
সবশেষে, জাতীয় স্তরের মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচিগুলোও এখন গুরুত্ব হারিয়েছে। আলাদা করে সেগুলোর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। ফলে সরকারের কাজকর্মে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা কমে যাচ্ছে। হাসপাতাল অবশ্যই দরকার, কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো বেশি জরুরি।
যদি সত্যিই মানসিক স্বাস্থ্যকে জনস্বার্থের একটি বড় অংশ হিসেবে ধরা হয়, তাহলে বিনিয়োগ কেবল হাসপাতাল আর বড় বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। জোর দিতে হবে আগে থেকে সমস্যা প্রতিরোধে, প্রাথমিক স্তরে সহায়তায়, এবং পাড়া-মহল্লা ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর।
এই মুহূর্তে কিছু খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা দরকার—
বাজেটে বরাদ্দ অর্থের মাধ্যমে কি এই অগ্রাধিকারগুলো সত্যিই প্রতিফলিত হচ্ছে?
মানসিক চিকিৎসা যদি মূলত বড় বড় হাসপাতালকেন্দ্রিক হয়, তাহলে কারা পরিষেবা পাচ্ছেন, আর কারা তার বাইরে থেকে যাচ্ছেন?
একমাত্র সমস্যা চরমে পৌঁছলেই পরিষেবা দেওয়া—এর সামগ্রিক পরিণতি কী?