17/01/2026
রাজ্যের মেডিকেল কলেজ গুলিতে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ চার বছর নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। নানা টালবাহানার পরে ২০২৫ এর শেষের দিকে ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৬২১ টি সহকারী অধ্যাপক পদে পাঁচ হাজারের উপরে চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন। অথচ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতি ফলে আজ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বিশ বাও জলে। ইতিমধ্যেই একটি বিভাগের তপশিলি জাতিভূক্ত তালিকাটির উপর স্থগিতাদেশ দিতে বাধ্য হয়েছে। ফলে সামগ্রিক ভাবে মেধা তালিকাটি প্রশ্ন চিহ্নের সম্মুখীন হয়েছে।
আমরা মনে করি:
১) ঐ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেভাবে নজির বিহীন ভাবে ১৫ নম্বর ভাইভার জন্য রাখা হয়েছিলো, তার মধ্যে মাত্র ৫ নম্বর কার্যত ছিল পরীক্ষকের হাতে। বাকি ১০ নম্বর দিয়েছে নিয়োগকারী ঐ সস্থার কর্তা ব্যক্তিরা।
২) Domain expert দের নাম অনেক আগে থেকেই জানানো হয়েছিলো। ফলে interviewer and interviewee র মধ্যে চেনা জানা থেকে অশুভ আতাত তৈরির সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। যা হওয়ায় কথা নয়।
৩) GDMO নিয়োগের ক্ষেত্রেও ১১০০ পদের জন্য পরীক্ষায় বসেছিলো ১৬০০০ জন। যোগ্য লিষ্টে নাম বার করা হয়েছে মাত্র ২৭০০ জনের। বাকিরা কেউ জানতেই পারছে না তারা যোগ্যতা মান অর্জন করেছে কিনা। চরম ধোয়াসায় রাখা হয়েছে!
৪) ঐ পরীক্ষায় বসার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার কাগজ পত্র physical verification এর কোনো ব্যবস্থা না থাকায়, যোগ্যতা নেই এমন প্রার্থীরাও পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেয়েছেন। অভিযোগ উঠছে তাদের মধ্যে থেকেও অনেকের চাকরির প্যানেলে নাম উঠেছে।
৫) সিনিয়র রেসিডেন্টসদের এবং কিছু চাকরি রত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষায় বসার জন্য no objection certificate দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে।
৬) প্রশ্ন উঠছে কিছু প্রার্থী বর্তমানে সাসপেন্ডেড থাকা সত্বেও, এমনকি সিনিয়র রেসিডেন্টসীপ শেষ না হওয়া সত্বেও তারা স্বাস্থ্য ভবনের তরফ থেকে no objection certificate পেয়েছে ও প্যানেলে তাদের নাম রয়েছে।
৭) প্রশ্ন উঠছে চিকিৎসক নিয়োগের মতো গ্রুপ এ অফিসার পদে নিয়োগের দায়িত্ব কিভাবে একটি রিক্রুটমেন্ট বোর্ড এর উপর থাকতে পারে? আগে যেখানে এই নিয়োগ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের উপর ছিলো।
৮) হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিগত দিনেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। ২০২১ সালের নিয়োগে দেখা গেছে দুর্নীতি এমন মাত্রায় পৌঁছেচে যেখানে কিছু প্রার্থী ১০/ ১২ টা করে বিভাগে চাকরি পেয়ে গেছে! এতবড় দুর্নীতি ও অনিয়মের পরেও ঐ বোর্ডকে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে না কেন? তাহলে কি দুর্নীতি স্বজন পোষণ ও মোটা অঙ্কের টাকা তোলার জন্যেই এই বোর্ড তৈরি করা হয়েছিল?
চিকিৎসক ও চিকিৎসক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি চলতে থাকলে সামগ্রিক ভাবে সরকারি চিকিসকদের মান ও অবস্থান নিয়েই সমাজে বিরাট প্রশ্ন উঠে যাবে। মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে মেডিকেল শিক্ষা ও চিকিৎসা পরিষেবা। এই ক্ষতির হাত থেকে মেডিকেল শিক্ষাকে বাচাতে আমরা দাবি করছি :১) এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিতে হবে। এবং অনৈতিক ভাবে নিয়োগ হলে তার নিয়োগ বাতিল করতে হবে।
২) আপাদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত পশ্চিমবঙ্গ হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড কে ভেঙে দিতে হবে। এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে চিকিৎসক ও চিকিৎসক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।
৩) সমস্ত শূন্য পদে অবিলম্বে স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ করতে হবে।
সার্ভিস ডক্টরস ফোরাম