WBJDF - West Bengal Junior Doctors' Front

WBJDF - West Bengal Junior Doctors' Front This is the official page of West Bengal Junior Doctors' Front (WBJDF). All the official updates and announcements will be notified here.
(4)

15/04/2026

সামনেই রাজ্যের নির্বাচন, বহু বৈধ ভোটার প্রশাসনিক গাফিলতিতে ভোটাধিকার হারিয়েছেন, অন্তত ২৭ লক্ষ নাগরিক 'ট্রাইব্যুনাল' এর দরজায় দরজায় বিচারের অপেক্ষায় লাইন দিয়ে ভোটাধিকার ফিরে পাবার অপেক্ষায়।
আধিকারিক হিসেবে নির্বাচন পরিচালনায় তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও এবারের SIR নিয়ে কী বলছেন জহর সরকার?
সম্পূর্ণ ভিডিও দেখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে। লিঙ্ক প্রথম কমেন্টে।

13/04/2026

কেন রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়েছিলেন জহর সরকার? রাজ্যের শাসকদলের সম্পর্কে কী বললেন তিনি? জানতে হলে দেখুন “কথোপকথন with WBJDF: Episode-2” আমাদের YouTube চ্যানেলে।

সম্পূর্ণ ভিডিওর লিঙ্ক প্রথম কমেন্টে 🔗

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, সমাজ ও নাগরিক চেতনায় অভয়া আন্দোলনের প্রভাব এই নিয়ে এক খোলামেলা ও স্পষ্ট আলোচনায় প্রাক্তন সাংসদ ...
11/04/2026

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, সমাজ ও নাগরিক চেতনায় অভয়া আন্দোলনের প্রভাব এই নিয়ে এক খোলামেলা ও স্পষ্ট আলোচনায় প্রাক্তন সাংসদ ও IAS জহর সরকার।
আলোচনায় উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ, নাগরিক সমাজ ও ভবিষ্যতের প্রতিবাদের পথ। সম্পূর্ণ কথোপকথন দেখুন আমাদের YouTube চ্যানেলে। লিঙ্ক প্রথম কমেন্টে।

09/04/2026

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কী বললেন জহর সরকার? জানতে হলে আগামীকাল ১০ই এপ্রিল নজর রাখুন West Bengal Junior Doctors’ Front- YouTube চ্যানেলে, আসছে “কথোপকথন with WBJDF”- ২য় পর্ব।
Link in first comment 🔗

08/04/2026

“কথোপকথন with WBJDF”- এর দ্বিতীয় পর্ব আসছে আগামী শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল। এই পর্বে সাথে থাকছেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ ও IAS জহর সরকার। আমাদের কথোপকথন শুনতে চোখ রাখুন আমাদের YouTube চ্যানেলে। Channel link প্রথম কমেন্টে 🔗

গত ২রা এপ্রিল ছিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। আজকের দিনেও এই সমস্যাকে নিয়ে সমাজে প্রচলিত ট্যাবু, ভুল ধারণার শেষ নেই। এই প...
05/04/2026

গত ২রা এপ্রিল ছিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। আজকের দিনেও এই সমস্যাকে নিয়ে সমাজে প্রচলিত ট্যাবু, ভুল ধারণার শেষ নেই। এই প্রেক্ষিতেই এবারের অভয়া ক্লিনিক আয়োজিত হল গোবরডাঙা "জাগরী" এর উদ্যোগে অটিজম সমন্বিত শিশুদের কথা ভেবে, তাদের জন্যেই।

সাধারণ শারীরিক সমস্যা দেখার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দের পরামর্শ দেওয়া, চক্ষু বিশেষজ্ঞ , ENT বিশেষজ্ঞদের দেখা মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশের বেশি শিশুকে এই স্বাস্থ্য শিবিরে দেখা ও চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হল। বেশির ভাগ শিশুর চোখ ও কান এর বেশ কিছু বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়। এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে বহু ক্ষেত্রেই আনুষঙ্গিক চোখ ও কানের সমস্যা থাকে এই বাচ্চাদের, যা অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার - এই বিষয়টিকে
নিয়ে সামাজিক ভাবে অনেক ভুল ধারণা বিদ্যমান। যেন এ এক আলাদা দুনিয়া, ভয়ের বা অস্বস্তির। অথচ সত্যিটা খুব সহজ - এই শিশুরা অন্যরকম, তাই তাদের বিকাশের পথও আলাদা। তাদের শেখা, কথা বলা, অভিব্যক্তি সবকিছুই আলাদা ছন্দে আসে। ধৈর্য, সঠিক চিকিৎসা, বিভিন্ন থেরাপি, সঠিক সহায়তা আর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পেলে তারা এক এক করে নিজেদের জায়গা করে নেয়।

"জাগরী" বহুদিন ধরেই এসব শিশু ও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে চলেছে। তাদের উদ্যোগে নিয়মিত স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, কাউন্সেলিং, স্পেশাল এডুকেশন থেরাপি, ডান্স মুভমেন্ট থেরাপি - এসবই বহু শিশুর জীবনে বাস্তব পরিবর্তন এনেছে।

ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট এর উদ্যোগে ও জাগরীর সহায়তায় আয়োজিত এই ক্লিনিকের প্রসঙ্গে যে কথাটি না বললেই নয়, অতি সম্প্রতি আমরা যে মানুষটিকে অকারণে, অসময়ে হারিয়েছি, জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি তিনি জাগরীর এই কাজের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁকে মনে রেখে জাগরীর পক্ষ থেকে আজকের শিবির তাঁকেই উৎসর্গ করা হয়েছিল।

কিন্তু এখানে আরেকটা কথা বলা প্রয়োজন, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে তাঁকে স্মরণ করাটাই যথেষ্ট নয়, তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর পেছনে যাদের গাফিলতি দায়ী, যে নিরাপত্তাহীন কাজের পরিবেশ দায়ী তার স্পষ্ট পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তি হোক এই দাবি আমরা সোচ্চারে জানাচ্ছি, কারণ ন্যায়বিচার ছাড়া কোনও স্মরণই মর্যাদা পায় না।

সবকিছুর শেষে অটিজম সচেতনতার কথায় ফিরলে এই কথাই বলা চলে যে, এমন একটা সমাজ আমরা চাই যেখানে কোনো রোগ নিয়েই আলাদা কোনো সামাজিক ট্যাবু থাকবে না, প্রতিটি শিশু নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ ও সহায়তা পাবে, প্রতিটি পরিবার পাবে সামাজিক সংহতি। ব্যাপক সচেতনতার প্রসারই একমাত্র অটিজমের বিরুদ্ধে এই লড়াইকে সফল করে তুলতে পারে।

কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়! সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো দাম নেই, নিরাপত্তাহীন ভাবে কাজ করতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে যাওয়া হোক বা সরক...
03/04/2026

কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়!

সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো দাম নেই, নিরাপত্তাহীন ভাবে কাজ করতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে যাওয়া হোক বা সরকারি হাসপাতালে এসে লিফটের মধ্যে থেঁতলে মৃত্যু, সরকারি আবাসনের চাঙর মাথায় ভেঙে পড়ে শিশুমৃত্যু হোক, বা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রেফার হতে হতে নিস্তেজ হয়ে পড়া রোগীর মৃত্যু। সব গুলোতেই একটাই সাধারণ ব্যাপার, দায়টা ঠিক কার সেই জায়গাটা ইচ্ছাকৃত ভাবেই ঝাপসা, অস্পষ্ট! বছর বছর নির্বাচিত হয়ে আসা সরকার যে কাজটা সম্ভবত সবচেয়ে ভালোভাবে করতে পারে সেটা হল - দায় অস্বীকার করা! পলিসিগত বা পরিকল্পনাগত অব্যবস্থার জাঁতাকলে নাগরিকের মৃত্যুর কোনো দায় রাষ্ট্র নেবে না - এটাই যেন আজকের দস্তুর!

শেষ কয়েকদিনের কয়েকটা উদাহরণ নিয়ে যদি আলোচনা করা যায়, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও তার উপভোক্তা সাধারণ মানুষ এর অবস্থার যে চিত্র উঠে আসে তা ভয়াবহ!

অভয়ার মৃত্যুর সময় আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি, অভয়ার মৃত্যু একপ্রকার পরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক মৃত্যু। সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা, আর জি কর সহ পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ এবং সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগের লাগামছাড়া দুর্নীতি এই ঘটনায় সঙ্গে পরোক্ষ ভাবে জড়িত। সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের এই বক্তব্য অভয়ার মৃত্যুর আগেও ছিল, (কালের নিয়মে তা কোনোদিনই সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি, অভয়া আমাদের মাঝে থাকলে মিডিয়া আজও গুরুত্ব দিত না), পরেও আছে।

সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কিছু ঘটনার দিকে যদি আমরা দেখি ---

১) নীলরতন সরকার হাসপাতালে , ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিট (CCU) এর ছাদ ভেঙে পড়ে যাওয়ায় রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত। আপনারা শুধু একবার ভাববেন , যে পর্যাপ্ত রোগীর অনুপাতে বেডের অভাব , পরিকাঠামোর অভাব , দালাল চক্র পেরিয়ে কলকাতার ৭-৮ টা হাসপাতালে সারাদিন সারারাত ঘুরে ঘুরে আপনার বাড়ির মুমূর্ষ রোগীকে একটা হাসপাতালের CCU তে ভর্তি করার সুযোগ পেয়েছেন , আর আপনি জানতে পারলেন সেই CCU এর ছাদের চাঙ্গর খুলে পড়ে আপনার মুমূর্ষ রোগীর উপর , তাহলে সেই ঘটনার বিচার আপনাকে কে দেবে? এর দায় কার?

২) কিছুদিন আগে আর জি কর হাসপাতালে মহিলা ডাক্তারদের হোস্টেলের ছাদ ভেঙে পড়ে। আপনি হাসপাতালে আপনার বাড়ির মুমূর্ষ রোগীকে নিয়ে এসে শুনলেন যে ডাক্তার ম্যাডাম চিকিৎসা করবেন তাঁরই থাকার জায়গা নেই , ছাদ ভেঙে পড়ে , আপনার রোগীকে চিকিৎসা কে দেবে? ডাক্তারই বেঁচে নেই, রোগী কীভাবে বাঁচবে? আপনার বাড়ির রোগীর চিকিৎসার দায় কার কার?

৩) খুবই সাম্প্রতিক, আর জি কর হাসপাতালের লিফটে ও বাথরুমে যাওয়ার পথে প্রাণ হারান দুজন মানুষ, যাঁরা চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। তাঁদের মৃত্যুতে বহু আলোচনা তর্ক বিতর্ক হয়েছিল কিন্তু তার পরেও কি পরিস্থিতি বদলেছে সব জায়গায়? না। এখনও লিফটের দায় কর্তৃপক্ষের নেই। লিফট চালানোর এবং ম্যানেজ করার মতো লোকই নেই সরকারের।

৪) ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের ঘটনা, ১১ বছরের বাচ্চার ক্ষুদ্রান্ত্রের অংশ বাদ দেওয়ার পর ইনফেকশন হওয়ায় মারা যায়। বাচ্চাটি নীলরতন সরকার , এস এস কে এম , কলকাতা মেডিক্যাল সহ একাধিক হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে শেষে রাস্তায় মারা যায়। কারণ তাকে ভর্তি করার মতো বেডই ছিল না। আর রাজ্যের ৯৯.৯৯% হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে তো তাকে ভর্তি করার মতো পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগটাই নেই। ১১ বছরের শিশুর মৃত্যুর দায় কার?

আমরা বারবার প্রশ্ন করেছি ,

১) শুধু এক এর পর এক নতুন মেডিক্যাল কলেজ খুলে, বিল্ডিং বাড়িয়ে, অথচ তার ভিতরে ন্যূনতম কোনো পরিকাঠামোর উন্নতি না করে, স্বাস্থ্য দপ্তর সাধারণ মানুষের কী উপকার করতে চায়?

২) কলকাতার অপেক্ষাকৃত বড় (রোগী উপস্থিতির হারের সাপেক্ষে) শতাব্দী প্রাচীন মেডিক্যাল কলেজ সহ জেলার বড় হাসপাতাল গুলোতে রোগীর সংখ্যা ও রোগীর স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন যে অনুপাতে হওয়ার কথা, তার ছিটে ফোঁটাও হাসপাতাল গুলোতে নেই। রক্ষণাবেক্ষণ করার ন্যূনতম পরিকাঠামো সরকারি হাসপাতালে নেই।

৩) ক্রম বর্ধমান সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, অথচ তাতে না আছে কোনো বড় অপারেশনের ব্যবস্থা, না আছে প্রাথমিক ইমারজেন্সি পরিষেবার ব্যবস্থা। কাকদ্বীপ থেকে দিনহাটা, উত্তর থেকে দক্ষিণ , এত সুপারস্পেসালিটি হাসপাতালের বাহ্যিক চকচকে চেহারা, অথচ এই হাসপাতাল গুলোতে রোগীকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান করে যে অপারেশন হওয়ার কথা, সেইসব অপারেশন করার কোনো ব্যবস্থাই নেই।

৪) প্রায় ৪ বছর পর গ্রামীণ হাসপাতালে ডাক্তার ও সরকারী ক্ষেত্রে নার্স নিয়োগ হয়েছে ও ৬ বছর পর সরকারি মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষক-চিকিৎসক নিয়োগ হয়েছে। এত এত মেডিক্যাল কলেজ করে কী লাভ যদি চিকিৎসা কর্মীদের রিক্রুটমেন্টই না হয়? হাসপাতাল গুলোতে ডাক্তার নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী না থাকলে রোগীর চিকিৎসা করবে কারা? তাহলে এত হাসপাতাল বাড়িয়ে, আট তলা - দশ তলা বাড়ির বাহ্যিক আড়ম্বরে মানুষের জীবনের গুরুত্ব আসলে কোথায়? চিকিৎসার পরিকাঠামো কোথায়?

৫) স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বাজেট কত? তা কোথায় কীভাবে ব্যবহার করা হয়? প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ল্যাব গ্রামীন হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলিতে থাকেনা কেনো? চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা হয়না কেন? এত টাকা, কোথায় যায়? সাধারণ গরিব মানুষের জীবনের দাম নেই? সন্দীপ ঘোষ আসলে কতজন মানুষ মিলে তৈরি হয়? আসলে কতজন সন্দীপ ঘোষ ঢুকে আছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়?

চাইলে এই তালিকা আরও দীর্ঘ করা যেতে পারে আমরা শুরু থেকেই এই সমস্ত প্রশ্ন করেছি আগামীতেও করবো।

প্রশ্ন অনেক, উত্তর অমীমাংসিত, অথচ প্রত্যেকদিন নতুন অনিয়ম। মানুষের জীবনের দায় কার?

মন্দারমনির সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার খবরে আমরা চিকিৎসক সমাজ গভীরভাবে শোকাহত। ডাঃ শৈলজা ভরদ্বাজ এবং ডাঃ কুন্তল চক্রবর্তী, তরুণ...
02/04/2026

মন্দারমনির সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার খবরে আমরা চিকিৎসক সমাজ গভীরভাবে শোকাহত।

ডাঃ শৈলজা ভরদ্বাজ এবং ডাঃ কুন্তল চক্রবর্তী, তরুণ চিকিৎসক দম্পতি, আমাদের মাঝে আর নেই।

তাঁরা দুজনেই ছিলেন সংবেদনশীল, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মানবিক মননের মানুষ। চিকিৎসা পেশার কঠিন চাপের মধ্যেও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সাহস তাঁদের আলাদা করে চেনাত। অভয়া আন্দোলনের প্রতিটি মিছিল এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে তাঁদের নীরব কিন্তু অটল উপস্থিতি আমাদের সংগ্রামের শক্তি ছিল।

তাঁদের এই আকস্মিক প্রয়াণ এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছে, যা কোনও ভাষায় ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। পরিবার, সহকর্মী এবং যাঁরা তাঁদের কাজ ও মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সকলেই আজ এক গভীর ক্ষতির মুখোমুখি।
এই শোক ব্যক্ত করার মতো যথার্থ শব্দ আমাদের কাছে নেই।

ডাঃ শৈলজা ভরদ্বাজ এবং ডাঃ কুন্তল চক্রবর্তীর স্মৃতি চিরদিন আমাদের চিন্তা ও চেতনায় থেকে যাবেন।

গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা সহ,
ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট।

The tragic incident at Mandarmani has left the entire medical community in shock.
Dr Shailaja Bhardwaj and Dr Kuntal Chakraborty, a young doctor couple, are no longer with us.

Two extraordinary, compassionate human beings. As doctors, they carried a deep sense of responsibility and humanity in everything they did. Even within their demanding professional lives, they stood firmly beside every fight for justice. They walked with us in every Abhaya march, every programme, quietly yet unshakeably. Their presence always gave strength to the movement.

Losing both of them so suddenly is beyond comprehension. This is an irreparable loss for their families, for their colleagues, for their friends, for their students and for everyone who walked with them in life and in struggle.

There are no words to express this grief.
The memory of Dr Shailaja Bhardwaj and Dr Kuntal Chakraborty will remain with all of us forever.

WBJDF expresses its deepest condolences and grief.

২০২৪ এর সেই নির্মম ৯ই আগস্টের পর ১৯ মাস পেরিয়ে এসে “অভয়া” আবার সংবাদ শিরোনামে। আবার রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রে আর জি করের...
27/03/2026

২০২৪ এর সেই নির্মম ৯ই আগস্টের পর ১৯ মাস পেরিয়ে এসে “অভয়া” আবার সংবাদ শিরোনামে। আবার রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রে আর জি করের নারকীয় খুন, ধর্ষণ এবং তারপর রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের গাফিলতির অভিযোগ। তরজার উপলক্ষ্য পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে অভয়ার মা’র আত্মপ্রকাশ। এরপর থেকেই আমাদের সংগঠনগত ভাবে এবং সংগঠনের বহু সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে অসংখ্য প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। প্রধান প্রশ্ন হচ্ছে যে এই বিষয়ে আমাদের অবস্থান কী।

প্রথমেই খুব স্পষ্ট করে বলা দরকার যে কে কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে ভোটে দাঁড়াবেন সেটি একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এই নিয়ে আমাদের সমর্থন বা আপত্তি, কোনো কিছুই থাকার কথা নয়, উচিতও নয়। যারা মনে করছেন যে এই পদক্ষেপের ফলে আন্দোলনের অবমাননা হচ্ছে, তারা আগে প্রশ্ন করুন যে এই নিষ্ঠুর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সেই ব্যবস্থাই কি দায়ী নয়, যে ব্যবস্থা একজন সন্তানহীনা মাকে এই অনুভূতিতে পৌঁছে দিয়েছে যে ক্ষমতার অলিন্দে না গেলে ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না।

এই দেশে প্রতি সতেরো মিনিটে একটি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। বহু ঘটনার অভিযোগ পর্যন্ত জানানো সম্ভব হয়না আক্রান্তের। এই প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্ষণ এবং যৌন হেনস্থার মামলায় যদি বিচার পেতে গেলে মানুষকে ভোটে দাঁড়িয়ে জিতে নিজেকে "প্রভাবশালী" বানাতে হয় তবে নির্বাচিত সরকারগুলোর ভূমিকা কী রইল? প্রশ্ন তো উঠবেই যে যেসব দল বছর বছর ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসে তাদের দায়িত্ব কি নয় নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতনের ঘটনায় সঠিক তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা?

এই আন্দোলন ছিল মানুষের তীব্র ক্ষোভের স্বতঃস্ফূর্ত বিস্ফোরণ। মানুষ অভয়ার বিচার চাইতে যেমন পথে নেমেছিল, তেমনই নিজের ঘরের মেয়েদের নিরাপত্তার কথা ভেবে নেমেছিল। প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলি মানুষের এই যন্ত্রণা নিজেদের পতাকাতলে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল, কারণ তাদের সবাই কোনো না কোনোভাবে একই অপরাধ, ক্ষমতাকাঠামো কে ব্যবহার করে চালিয়েছে বা চালাচ্ছে। সেই কারণেই এই ঐতিহাসিক গণ আন্দোলন দলীয় পতাকা বিহীন ও অদলীয় ছিল।

তাই বলে কি রাজনৈতিক দলগুলি আন্দোলনে ছিল না? অবশ্যই ছিল। CPM, BJP, SUCI, Congress সহ (এমনকি তৃণমূলের) সমস্ত রাজনৈতিক দলের কর্মীরাই ছিলেন, কিন্তু নির্বাচনের সময় প্রতিটি দলই নিজেদের কর্মীদের উপস্থিতিকে আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসাবে দেখাতে চাইছে এবং সেখান থেকে নির্বাচনী মাইলেজ পেতে চাইছে যেটা কার্যত অসততা। কিন্তু এটাকে নির্বাচনী রাজনীতির স্বাভাবিক প্রবণতা বলেই মেনে নিতে হবে।

আমাদের আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। CBI কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কেন্দ্র সরকার অর্থাৎ বিজেপি সরকার তাকে যে সরাসরি চালনা করে তা দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি। এবং এই ঘটনার তদন্তে CBI এর ভূমিকা কতটা ন্যক্কারজনক ছিল আমরা দেখেছি। খুন ধর্ষণের তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার ওসি ৯০ দিন হেফাজতে থাকার পরেও কোনো অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনে CBI তাদের বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দাখিল করেনি। ফলে তারা এই মামলায় জামিনে মুক্ত। (যদিও দুর্নীতি মামলায় সন্দীপ ঘোষ এখনও জেলে আছেন)। এখন যদি সেই CBI এর সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেওয়ার পূর্বশর্ত হয়ে দাঁড়ায় যে নির্যাতিতার পরিবার বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়াবে তবে তা গণতন্ত্রের জন্য শুধু লজ্জাজনক নয় তা ভয়ানক।

এই জায়গাতেই আমাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করতে হয়। আমাদের অদলীয় রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই অভয়ার মা যে কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচন লড়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাকে সমর্থন করার কোনো সুযোগ আমাদের নেই। সেটা বিজেপি হোক, সিপিএম হোক, SUCI হোক বা কংগ্রেস হোক। তবে এটাও সত্যি যে, তিনি রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী বিরোধীশক্তি হিসেবে একটি দলকে বেছে নিয়েছেন শাসকদলকে ক্ষমতা থেকে উপড়ে ফেলার লক্ষ্যে, সেখানে অংশগ্রহণ করে তিনি বিচার ছিনিয়ে আনবেন বলে ভাবছেন। কিন্তু সেই দল অন্যান্য বহু রাজ্যে ক্ষমতায়। এবং সেই রাজ্যগুলোতে বিভেদকামী রাজনীতির উদাহরণ বাদ রাখলেও কেবল নারী নির্যাতনের সাপেক্ষে রেকর্ড ও তাদের ভূমিকা ভয়ানক।
তারা এমন একটি দলের হয়ে দাঁড়াচ্ছেন যারা ধর্ষকের গলায় মালা পরিয়ে উল্লাস করে এবং যাদের বহু প্রভাবশালী নেতা নারী নির্যাতনের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থেকেও ক্ষমতার বলে দমন পীড়ন চালিয়েছে নির্যাতিতা ও তার পরিবারের ওপর। সেই দল শর্তসাপেক্ষে ন্যায়বিচার এনে দেবে এই ধারণা সোনার পাথরবাটি ছাড়া কিছু নয়।কিন্তু এই কঠিন বাস্তবতাও স্বীকার করতে হয় যে একজন সন্তানহীনা মা কতটা অসহায় অবস্থায় থাকলে নিজেকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হতে দেন তা তার জায়গায় না থাকলে বোঝা অসম্ভব। তাই যারা সামাজিক মাধ্যমে তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন তাদের কাছে আবেদন যে অন্তত তার অসহায়তার অনুভূতিটুকু মনে রাখুন।

কিন্তু আন্দোলনকারীরা সবাই নিজের স্বার্থে আন্দোলন করেছে - কাকু কাকিমার এই বক্তব্য আমাদের গভীরভাবে আহত করেছে। রাজনৈতিক দল গুলোর কথা জানা নেই, আমরা কেবল আমাদের অবস্থান বলতে পারি। এই আন্দোলনে আমরা যাদের আমাদের প্রতিনিধি বলে মনে করি, যারা টানা বৃষ্টি ভিজে রাত জেগে রাস্তায় ছিলেন তারা কেউই ক্ষমতা বা নির্বাচনী "স্বার্থের" জন্য নয় বরং ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষায় নেমেছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল অভয়ার মতো নারকীয় অপরাধের পেছনে যে রাজনৈতিক প্রশাসনিক পরিবেশ কাজ করেছে তা সামনে আনা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন দাবি করা।

এখন নির্বাচনের আবহে আমরা ভুলে যেতে পারি না যে সন্দীপ ঘোষ এবং তার মাফিয়া চক্র কীভাবে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে প্রভাব বিস্তার করেছিল। শাসকদলের প্রত্যক্ষ মদতে অবাধ দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, অবাধ ভয়ের রাজনীতি, যৌন হেনস্তার মত অপরাধের স্বভাবিকীকরণ চলেছে দিনের পর দিন। ঘটনার দিন আর জি কর মেডিকেল কলেজ যখন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ডাক্তার এবং ছাত্রছাত্রীতে ভরে উঠেছে তখন সংগঠিত না থাকা সত্ত্বেও হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিল। সেই সময় সন্দীপ ঘোষ বাহিনী এবং বিরূপাক্ষ, আশীষ পাণ্ডের গুণ্ডাদল এটিকে "ইন্টার্নাল ম্যাটার" বলে অন্যদের বের করে দিতে চাইছিল, হুমকি দিচ্ছিল। পরদিন জেনারেল বডি মিটিংয়ে সন্দীপ ঘোষের পদত্যাগের দাবি উঠতেই তাদেরই বহুজন "সম্মানীয় প্রিন্সিপাল দারুণ তদন্ত করছেন" বা "দাবি মেনে নতুন রেস্ট রুম তৈরি করে দেবেন" বা "সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলা যাবে না" বলে মিটিং পন্ড করে দেয়, সেখানে তখন সমস্ত মেডিকেল কলেজের অন্তত তিনশো জুনিয়র ডাক্তার ও মেডিকেল পড়ুয়া।তখনই হঠাৎ লেকচার থিয়েটারের আলো বন্ধ করে গুণ্ডা ও পুলিশ দিয়ে জিবি ভন্ডুল করার ঘটনাও আমাদের মনে আছে। এত বাধা পেরিয়েও কিন্তু আন্দোলনকে সংগঠিত করা গিয়েছিল কারণ সকলে নিজেদের সবটুকু বাজি রেখে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এরপর মুখ্যমন্ত্রী সন্দীপ ঘোষকে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল করে পাঠালেন। কিন্তু সেখানকার জুনিয়র ডাক্তার এবং ছাত্রছাত্রীদের ঐতিহাসিক প্রতিরোধে পুলিশি প্রহরা থাকা সত্ত্বেও সন্দীপ ঘোষ প্রিন্সিপালের অফিসে পৌঁছতে পারেননি এবং রণেভঙ্গ দিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই সব কথা বলার কারণ একটাই। আন্দোলন কোনো এক-দুজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে নি, রাস্তায় থাকা প্রতিটি মানুষই আন্দোলনের নির্মাতা।

আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। ক্ষমতায় লাল সবুজ গেরুয়া যে রঙই থাকুক ক্ষমতার ভাষা একই। তার তীব্রতা বদলাতে পারে কিন্তু ক্ষমতায় টিকে থাকতে গেলে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতারই ভাষায় কথা বলতে হয়। আমরা সেই ক্ষমতার রাজনীতির বিপরীতে একটি স্বাধীন সচেতন নাগরিক স্বর। যে স্বর ভুলকে ভুল বলবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে ক্ষমতাসীন দল যেই হোক না কেন।

আমরা বিশ্বাস করি নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে একটি নিরপেক্ষ নির্ভীক অদলীয় ও রাজনৈতিক নাগরিক কণ্ঠ থাকা অত্যন্ত জরুরি যাতে কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসেই ইচ্ছেমতো সব কিছু করতে না পারে এবং যাতে স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যেতে না পারে।

আবার ঝরে পড়লো প্রাণ, আবার শুরু হয়ে গেলো দায় এড়ানোর খেলা, আবার শোনা যাচ্ছে অসহায় পরিবারের আর্তনাদ, আবারও হাসপাতাল কত...
23/03/2026

আবার ঝরে পড়লো প্রাণ, আবার শুরু হয়ে গেলো দায় এড়ানোর খেলা, আবার শোনা যাচ্ছে অসহায় পরিবারের আর্তনাদ, আবারও হাসপাতাল কতৃপক্ষসহ রোগী কল্যাণসমিতির ভুরি ভুরি প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি- কিন্ত এভাবে আর কতদিন?

ঝাঁ চকচকে নীল সাদা ইমারতের অন্তঃসারশূন্যতার যে কথা প্রতিনিয়ত west bengal junior doctors front আন্দোলনের শুরু থেকে বলে আসছে তা শুধু ডাক্তার বা নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের নয় আসলে সমগ্র স্বাস্থ্যপরিষেবার সাথে যুক্ত রোগীদেরও সুনির্দিষ্ট পরিষেবা প্রদানের অঙ্গীকার।

খাতায় কলমে, হলফনামা দিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যদফতর যে পরিকাঠামোর ঠুনকো ছবি চতুর্দিকে ছড়িয়ে দিয়েছে আসলে তা মরীচিকা, আসলে প্রতিমুহূর্তের রোগী পরিষেবার মরণফাঁদ।
তাই বারবার শিরোনামে উঠে আসে রাজ্যের নানান মেডিকেল কলেজের নাম। শুক্রবার, লিফট বিপর্যয়ে মৃত্যুর পর আবার সোমবার, অব্যবস্থায় মৃত্যুর অভিযোগ, ফারাক মাত্র ৭২ ঘণ্টার আর প্রশ্নের মুখে সেই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সেই ট্রমা সেন্টার! লিফট বিপর্যয়ে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ক্ষত এখনও যেখানে দগদগে সেখানেই সোমবার সকালে,নিজের চিকিৎসা করাতে এসে প্রাণ গেল প্রৌঢ়ের, নাম বিশ্বজিৎ সামন্ত উত্তর ২৪ পরগনার বিশরপাড়ার বাসিন্দা।

বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভোর ৪ টে নাগাদ তিনি আর জি কর হাসপাতালে আসেন পরিবারের লোকজনকে সাথে নিয়ে । পরিবার সূত্রে খবর, ট্রমা সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওই ব্যক্তি শৌচাগারে যেতে চান। অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ রোগীকে ট্রমা সেন্টারের থেকে বেরিয়ে বেশ কিছুটা দূরে হাসপাতালের গেটের পাশে থাকা সুলভ শৌচালয়ে যেতে হয়, কারণ ট্রমা সেন্টারে রোগী বা পরিজনদের শৌচাগার না থাকা। পরিবারের দাবি, ট্রমা সেন্টার থেকে ৫০ মিটার দূরত্বে হেঁটে যেতে গিয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন প্রৌঢ়। তারপরে শেষ চেষ্টা করা হলেও অবশেষে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ।

ট্রমা সেন্টারের মুখেই থাকা শৌচাগার তালাবন্ধ ছিলো কেনো, মৃতের স্ত্রী অভিযোগ অনুসারে গুরতর অসুস্থ রোগী হওয়া সত্ত্বেও স্ট্রেচার পাওয়া যায় নি কেনো, CISF এর কাছে সাহায্যের আর্জি করলেও সাড়া মেলেনি কেনো, এতো হাজার মানুষের উপস্থিতি যে হাসপাতালে তার শৌচাগার অপরিমিত কেনো, অসুস্থ রোগীকে কেনো এতো দূরে যেতে হবে শৌচাগারের খোঁজে? ফলত আমরা মনে করি, পরিকাঠামোগত অপর্যাপ্ততা ও চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতায় এভাবে প্রাণ হারাতে হলো প্রৌঢ়কে।

এই মৃত্যু শুধু রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসনেকে আবারও একবার কাঠগড়ায় দাঁড় করালো শুধু নয়, আপামর জনসাধারণের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রতি এক প্রকার অনাস্থার ক্ষেত্র প্রস্তুত করল। এর সার্বিক দায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রককে নিতে হবে ।

22/03/2026

ন্যায়বিচার তো এখনও পাওয়া গেলো না! তাহলে কি আন্দোলন বৃথা? সম্পূর্ণ আলোচনা শুনুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে। লিঙ্ক প্রথম কমেন্টে 🔗

সাধারণ মানুষের জীবনের দাম নেই। যেমন দাম নেই ওয়াও মোমো কারখানায় জীবন্ত দগ্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের জীবনের, দাম নেই ছেলের...
21/03/2026

সাধারণ মানুষের জীবনের দাম নেই। যেমন দাম নেই ওয়াও মোমো কারখানায় জীবন্ত দগ্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের জীবনের, দাম নেই ছেলের চিকিৎসা করাতে এসে সরকারি হাসপাতালের বন্ধ লিফটে আটকে মৃত আমাদের সহ নাগরিকের জীবনের।

এবং এ মুহূর্তে ক্ষমতার অলিন্দে প্রবেশ না করলে ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না এই ধারণাই যেহেতু ট্রেন্ডিং ফলে ধরে নেওয়া যায় সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায় বিচার ও নেই।

আর জি কর হাসপাতাল, ট্রমা কেয়ার বিল্ডিং। নিজের ছেলেকে চিকিৎসা করাতে দেখাতে এসে লিফটে বন্ধ হয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বাবার, আমাদের একজন সহ নাগরিকের। দেড় ঘন্টা আটকে ছিলেন, তারপরেও লিফট ম্যানের দেখা মেলে নি, অপারেটর কে ফোনে পাওয়া যায়নি। আমরা যারা সরকারি হাসপাতালে কাজ করি তাদের এই অভিজ্ঞতা নতুন নয়। লিফট আটকে যাওয়া, কোনো ইমার্জেন্সী রেসপন্স না পাওয়া, এমনকি দমকলের গাড়ি এসে লিফটের দরজা খুলে উদ্ধারের ঘটনাও অতীতে ঘটেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল মানুষের টনক নড়তে মৃত্যু প্রয়োজন, সরকারের অপদার্থতা অকর্মন্যতার প্রমাণ সামনে আসতে হলে সাধারণ মানুষের অসহায়ের মতো মৃত্যু প্রয়োজন, এবং বারংবার প্রয়োজন কারণ আমাদের স্মৃতিশক্তি ক্ষণস্থায়ী, আমরা রাগ, ক্ষোভ বিষয়ান্তরে পাল্টে যায় অহরহ।

অভয়া আন্দোলনের দাবি গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল সরকারি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের পরিকাঠামোর উন্নতি, স্বাস্থ্যকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী সহ হাসপাতাল চালাতে যে যে জায়গায় লোকবল প্রয়োজন সেখানে নিয়োগ এর দাবি।
কেন এই কথা গুলো বলা? কারণ হাসপাতাল গুলোতে বেশির ভাগ জায়গায় কোনো লিফটম্যান নেই, কারণ নিয়োগ নেই। যেখানে আছে সেখানে বেসরকারি কোম্পানির সাথে চুক্তিভিত্তিক অত্যন্ত স্বল্প মাইনের কর্মচারী যার দায়িত্বে হয়তো একসাথে চার পাঁচটা লিফ্ট সামলানোর দায়িত্ব। আজ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে এই বিষয় গুলো সামনে আসছে, কাল অন্য কোনো একটা বিপর্যয় অন্য পরিকাঠামোর অভাব গুলোকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাবে।

বারবার চিৎকার করে বলা, সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে। উল্টোদিকে প্রতিশ্রুতির বন্যা, সব হয়ে গেছে, সব হয়ে যাবে। সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে রাজ্য সরকার জানালো নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ৯০% কাজ হয়ে গেছে, সে প্রায় বছর দেড়েক আগে। কী হয়ে গেছে আর কী হওয়া বাকি আছে তার হিসেব সবার চোখের সামনেই স্পষ্ট। কখনো বা ভেসে এসেছে তির্যক বাক্যবাণ, এই দাবি গুলো নাকি ‘নিজেদের স্বার্থের দাবি’। একটা হাসপাতালে পরিকাঠামোর দাবি, পর্যাপ্ত নিয়োগের দাবি, নিরাপত্তার দাবি আসলে রোগী ও রোগী পরিজনদের স্বার্থে তোলা দাবি তা মেনে নিতেও শাসক বা শাসক হতে চাওয়া দল গুলোর সেকি সমস্যা!

আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, পরিকাঠামোগত দুর্বলতা এবং তদারকির চরম ব্যর্থতার ফল। একই সঙ্গে অন্যান্য সরকারি হাসপাতালেও নিরাপত্তা ও যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত সমস্যাগুলি ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে, কলকাতা মেডিকেল কলেজে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সংক্রান্ত ভয়ানক অভিযোগ উঠেছে। দামী বিদেশী যন্ত্রে নিম্নমানের সরঞ্জাম বসিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করার অভিযোগ এনেছেন বিভাগীয় প্রধান রাই, তার নাকি আবার তদন্ত(!) শুরু হয়েছে, আবার অন্যদিকে একই দিনে এস.এস.কে.এম হাসপাতালে এক সাফাই কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের মতো ঘটনা.. গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা গভীর সংকটের মধ্যে আছে তারই প্রমাণ!

ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি, এই মৃত্যুর দায় এড়ানোর কোনও সুযোগ নেই। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ভবনের এসি ঘরে বসে থাকা কর্তাব্যক্তিরা সহ স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ভূমিকা এই দুর্ঘটনার পিছনে রয়েছে!

এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির পাশাপাশি আমাদের দাবি এখনই সমস্ত সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোর পূর্ণাঙ্গ অডিট শুরু করতে হবে ও প্রকাশ্যে আনতে হবে। লিফট সহ প্রতিটি জরুরি ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল স্টাফ, লিফট অপারেটর এবং সাপোর্ট স্টাফ নিয়োগ করতে হবে। উন্নতমানের যন্ত্রপাতি কেনা এবং তার স্বচ্ছ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত উন্নতির যে দাবি আমরা অভয়া আন্দোলনের শুরু থেকে করে আসছি খাতায় কলমে সেসব দাবি পূরণের প্রহসন না করে বাস্তব রূপায়ণ করতে হবে।

প্রতিটি প্রাণহানির পর দায় অস্বীকারের চিরাচরিত যে রাজনীতি প্রশাসন তথা সরকারের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে তার উল্টোদিকে শক্তিশালী নাগরিক স্বরকে সোচ্চার হতে হবে। সাধারণ গণমানুষের ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তুলতে হবে।

Address

Satara

Website

https://youtube.com/@westbengaljuniordoctorsfro-w2r?si=Ydr8sv-ztKUhtsAC

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when WBJDF - West Bengal Junior Doctors' Front posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to WBJDF - West Bengal Junior Doctors' Front:

Share