15/03/2026
পুরুলিয়া স্টেশন থেকে টাটানগর যাওয়ার রেলপথের মাঝে ছোট্ট স্টেশন টামনা। স্টেশনের কাছে বিস্তৃত রুক্ষ পতিত জমি, সেখানেই ২০০৪ তৈরি হয় বিদ্যাসাগর আবাসিক বালিকা বিদ্যালয়।
মানভূম অঞ্চলের তথাকথিত 'পিছিয়ে পড়া' জনগোষ্ঠীর মেয়েদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত ও প্রতিষ্ঠিত করার কঠিন কর্মযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজও ধারাবাহিক ভাবে বহমান। শুরু হয়েছিল খুব অল্প সংখ্যক মেয়ে কে নিয়ে, সেটা বাড়তে বাড়তে আজ ৫৫০ এর কাছাকাছি ছাত্রী। গোটা স্কুল ক্যাম্পাস জুড়ে ফুল ফলের গাছ। রুক্ষ জমিকে সমস্ত ছাত্রীরা মিলে দায়িত্ব নিয়ে সবুজে সবুজে ভরিয়ে তুলেছে। কঠিন অনুশাসনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের অনুশীলন - এভাবেই আস্তে আস্তে নতুন মানুষ তৈরির এই মন্দির ভবিষ্যতের উজ্জ্বল সম্ভাবনার পথে যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই স্কুলের উদ্যোগেই স্কুল লাগোয়া প্রাঙ্গণে চলছে
বিদ্যাসাগর মেলা। সেখানে একদিকে চলছে বিজ্ঞান, ভূগোল, অঙ্কের নানান মডেল ও ব্যাখ্যা, অন্যদিকে মঞ্চে নাচ, গান, আবৃত্তি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সবটাই স্কুলের ছাত্রীদের অয়োজনে ও অংশগ্রহণে।
এখানেই ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট এর উদ্যোগে আয়োজিত হল অভয়া ক্লিনিক। আগে থেকে স্ক্রিনিং এর মাধ্যমে যে ছাত্রীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা প্রয়োজন তাদের বেছে নিয়েছিলেন শিক্ষিকারা। তারা বাদেও স্কুলের অন্যান্য কর্মচারী, স্থানীয় মানুষেরা দেখালেন স্বাস্থ্য শিবিরে। প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কিছু সাধারণ রোগ নিয়ে সহজ ভাষায় আলোচনা করা হল ছাত্রীদের সাথে। পুরুলিয়া দেবেন মাহাত মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও যোগ দিলেন অভয়া ক্লিনিকে।
স্বাস্থ্যশিবিরের পাশাপাশি অভয়া আন্দোলন নিয়ে আলোচনা, ও তাতে একসাথে থাকার অঙ্গীকার নেওয়া হলো সকলে মিলে। এই স্কুল থেকে বেরিয়ে মেয়েরা যখন নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হবে তখনও এই লড়াই এর আঁচ সমাজের নানান কোণে ছড়িয়ে দেবে এই আশা নিয়েই এবারের এই অভয়া ক্লিনিক শেষ হল। আগামীতেও এভাবেই আমরা স্বাস্থ্যশিবিরের পাশাপাশি লড়াই এর অঙ্গীকার কে বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাব।