25/01/2026
ভারতে মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে ক্যান্সারটা দেখা যায়, সেটা এখন ব্রেস্ট ক্যান্সার। কিন্তু ভয়ের কথা হলো, আমাদের দেশে এখনও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগটা অনেক দেরিতে ধরা পড়ে। কারণ একটাই নিজের শরীরটা আমরা ঠিকমতো খেয়াল করি না। অথচ ২০ বছর বয়সের পর থেকে মাসে একবার Self Breast Examination, মানে নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করা, করলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগটা একেবারে শুরুর দিকে ধরা পড়তে পারে। যাদের পিরিয়ড চলছে , তারা পিরিয়ড শেষ হওয়ার ৫-৭ দিনের মধ্যে এই পরীক্ষা করলে সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়।
Self Breast Examination খুব কঠিন কিছু নয়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমে স্তনের আকার, shape বা চামড়ায় কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না খেয়াল করতে হয়। তারপর হাত দিয়ে পুরো স্তন, নিপলের চারপাশ আর বগল পর্যন্ত গোল করে চেপে দেখতে হয়, কোথাও শক্ত lump , অস্বাভাবিক ফোলা বা শক্তভাব আছে কি না। স্নানের সময় সাবান বা জলের মধ্যে এই পরীক্ষা করলে অনেক সময় আরও সহজে বোঝা যায়। মনে রাখতে হবে, ব্রেস্ট ক্যান্সার অনেক সময় একদম ব্যথাহীন হয়, তাই ব্যথা নেই মানেই সমস্যা নেই এই ধারণাটা খুব বিপজ্জনক।
স্তনে বা বগলে নতুন গিঁট বা লাম্প হওয়া, স্তনের আকার বা shape হঠাৎ বদলে যাওয়া, চামড়া কুঁচকে যাওয়া বা কমলালেবুর খোসার মতো দেখানো, ni**le ঢুকে যাওয়া, ni**le থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক secretion বের হওয়া, কিংবা একপাশের স্তনে অনেকদিন ধরে অদ্ভুত ব্যথা বা জ্বালা এই লক্ষণগুলো কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। আবার এটাও মনে রাখা দরকার, স্তনের সব lump বা ফোলা মানেই ক্যান্সার নয়। অনেক সময় হরমোনজনিত সমস্যা, সিস্ট বা ফাইব্রোঅ্যাডিনোমার মতো সাধারণ কারণেও গিঁট বা লাম্প হতে পারে।
সন্দেহ হলে নিজে থেকে আতঙ্কিত হয়ে সরাসরি oncologist বা surgeon এর কাছে ছোটাছুটি করার দরকার নেই। আবার ভয়ে বসে থাকাও ঠিক নয়। সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হলো, আগে একজন physician-এর কাছে দেখানো। তিনি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করে প্রয়োজনে আল্ট্রাসাউন্ড, ম্যামোগ্রাফি বা অন্য টেস্ট করাতে পারেন, আর যদি দরকার হয় তবেই specialist এর কাছে পাঠান। সব গিঁটের জন্য biopsy লাগে না, সব সমস্যার জন্য অপারেশনও লাগে না।
প্রতি বছর ভারতে প্রায় ২ লক্ষের বেশি নতুন ব্রেস্ট ক্যান্সারের রোগী শনাক্ত হন। অর্থাৎ, প্রায় প্রতি ৮ জন ভারতীয় নারীর মধ্যে ১ জনের জীবনে কোনো না কোনো সময় ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। শহরাঞ্চলে এই সংখ্যা আরও বেশি, তবে গ্রামাঞ্চলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো ভারতের প্রায় ৫০-৬০% রোগী দেরিতে ডাক্তারের কাছে আসেন। কারণ?
লক্ষণ উপেক্ষা করা, লজ্জা, ভয়, সচেতনতার অভাব । তাই ভয় নয়, লজ্জা নয়, অবহেলাও নয়। নিজের শরীরটা নিজেই জানুন, মাসে একদিন সময় দিন। আগে ধরা পড়লে, এই রোগ চিকিৎসাযোগ্য, নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব।
AIMS CLINIC
BADAMTALA, TAMLUK, PURBA MEDINIPUR
📞 093393 72490