02/02/2026
“আহা রে! আমার সাথে কি খারাপটা-ই না হচ্ছে।”
আমি, আপনি , আমরা অধিকাংশ মানুষ-ই কি দুঃখ কতরই না হয়ে উঠি কিছু হলে- কখনও ভেবে দেখি কি? যেটাকে আমরা মারাত্মক দুঃখ ভেবে নিয়েছি হতেই পারে অন্য কেউ, অন্য কোনও জায়গায় বা আমাদের আসে পাশেই হয়তো এর চেয়ে ঢের বেশি বড় লড়াই লড়ছে নীরবে?
আজকে আমার এমন এক পেশেন্ট এর কথা আপনাদের বলব, যার পর হয়তো আপনার “ হোপ” বা জীবনের প্রতি আশা আরও অনেক অনেক বেড়ে যাবে|
১১ বছরের বিবাহিত জীবন আমার পেশেন্ট দেবশ্রী-র, প্রথম গর্ভবতী হয় ২০১২ সালে, কিন্তু ঈশ্বরের ইচ্ছা, গর্ভপাত হয়| আবার ২০১৩ সালে গর্ভবতী হয় দেবশ্রী, সব রকম প্রিকশন নেয় সে, তবে নিয়তির হাথে আমরা সবাই জব্দ- ভয়ানক নুমোনিয়া-র কবলে পড়ে সে, যারা একটু আধটু চিকিৎসার ভাষা বোঝেন তারা জানবেন যে হাইড্রন্যুমথরাক্স কতটা মারাত্মক ব্যাধি| এই সি ইউ তে জীবনের লড়াই তখন তুঙ্গে, আর অন্য দিকে হটাৎ প্রে-টার্ম লেবার| এবার ও শেষ রক্ষ্যা হলো না- আবার সন্তানকে হারাল দেবশ্রী|
বছর পেরোল বছরের পর- রুগ্ন থেকে রুগ্নতর হলো দেবশ্রী, নুমনিয়ার রাক্ষস এখন টিউবারকুলোসিস এর দানবের রূপ নিয়েছে| রক্ত শূন্যতা, রুগ্নতা, স্টেরইড ওষুধের কারণে বোন মেরো সাপ্রেশন, ল্যাপ্রস্ক্রোপিক কলি সার্জারি, ভিটামিন বি-১২ ঘাটতি,সব মিলিয়ে জর্জরিত দেবশ্রী মাত্র ৩৫ বছর বয়েসেই তাঁর মাসিক শ্রাব বন্ধ হয়ে যায়।
ভাবুন তোঃ কত শারীরক ধকল সয়েছে মেয়েটা, তাও মা হবে বলে আশার হাথ ছাড়ে নি। ২০২২ সাল এ ডাক্তার ব্যানার্জির উত্তরপাড়া চেম্বার প্রথমবার আসে দেবশ্রী, স্বামীর সাথে, একটাই আর্তি- “আমি মা হতে চাই”
প্রথম স্ক্যান এর পর-ই বোঝা গেছিল, ওর স্বপ্ন পূরণ করা সহজ হবে না, আর ডাক্তার ব্যানার্জি সহজ পথ খুব একটা পছন্দ করেন ও না। শুরু হল আরেক যুদ্ধ- এবার দেবশ্রীর সারথী ম্যাডাম, প্রথম হার্ডেল, দেবশ্রীর এন্ড্রিমেটরাম প্রায় লুপ্ত- এ.এম.এইচ পরন্ত- মানে দেবশ্রীর প্রিম্যাচিওর মেনোপজ হয়েছে- তাহলে উপায়? এগ ডোনার দিয়ে আইভিএফ।
বিজ্ঞান কে কুর্নিশ, আর সুপর্ণা ব্যানার্জির মতো দক্ষ ডাক্তারের হাথে সেই বিজ্ঞান ধরা দিয়েছে পরম বন্ধুর মতো। না হলে মাসিক স্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া দেবশ্রীর মা হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ করা স্বম্ভব ছিলো?
ঋতুস্রাব নরমালাইজ করলেন ডাক্তার ম্যাডাম ওষুধ দিয়ে, প্রথম সাইকেল এ গর্ভবতী হলো দেবশ্রী, কিন্তু ওর মেডিকেল কমপ্লিকেশন এত বেশি ছিলো যে এই বারও গর্ভপাত হয় ওর|
তবে হার মানার মানুষ দেবশ্রী বা ওর ডাক্তার ম্যাডাম কেউ না| আবার আইভিএফ প্রসেস শুরু করলেন, এবার ৩৬ সপ্তাহের প্রতিনিয়ত লড়াই যেমন জরায়ুর মুখ ছোট হয়ে যাওয়া, রক্ত অল্পতা সব দক্ষ হাথে সামলে, দেবশ্রী কে তার কন্যা সন্তান উপহার দেন তার ডাক্তার ম্যাডাম।
আজ ওর মেয়ের বয়স আড়াই বছর- উত্তরপাড়া ক্লিনিক এ প্রায় এ দেখা করতে আসে সে তার ডাক্তার আন্টির সাথে|
একবার ভাবুন, যদি দেবশ্রী হার মেনে নিত? যদি আশাহত হয়ে যেত সে? না আসত সেদিন উত্তরপাড়ার ডাক্তার সুপর্ণা ব্যানার্জির ক্লিনিক এ? আসত কি ছোট পরী ওদের জীবনে?