02/15/2026
জরুরি সতর্কতা! বিএনপি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে। কিন্তু নাক ডেকে ঘুমানোর সুযোগ নেই। এ বিজয় রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশকে বাঁচাতে দলমত নির্বিশেষে নিচের জিনিসগুলো খেয়াল রাখুন:
১।
জামাতকর্মীরা নিজেদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে “বিএনপি জ্বালিয়ে দিয়েছে, বিএনপি পুড়িয়ে দিয়েছে, দেশবাসী দেখুন কেমন জালিমদের ক্ষমতায় এনেছেন, আল্লাহ রক্ষা করুন, আল্লাহ তুমি ছাড়া কেউ নাই, আল্লাহ জালিমদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাও”— এ ধরণের জিকির তুলবে। এই জিকির প্রতিরোধ করতে হবে।
আগুন লাগানোর আগে তারা মোবাইল, ক্যামেরা, ফেসবুক রেডি রাখবে। কেউ কেউ লাইভ সম্প্রচার করবে। কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত সিনেমাটিক শুটিং-এর মতো ক্যামেরায় সেটাকে ভয়াবহ আকারে দেখাবে। পরিত্যক্ত শনের ঘর, টিনের ঘর, বনগাছ, খড়ের দলা, এগুলো জ্বালিয়ে দেবে, এবং উপযুক্ত ভয়েসওভার ও এডিটিংয়ের পর ফেসবুকে ছড়াবে।
ভিডিও বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য পাশ থেকে নিজেরাই চিৎকার চেঁচামেচি করবে। বাঁচাও বাঁচাও বলবে। প্রশিক্ষিত শিবিরকর্মী বিএনপি সেজে নিম্নরূপ কথোপকথন করবে:
“জ্বালা শালাদের, জ্বালা রাজাকারের বাচ্চাদের, মার, মার”।
আরেকটি দল ভিক্টিম সেজে বলবেঃ
“আল্লাহ, আল্লাহ, তুমি দেখো, দেসবাসী দেখো বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে, নারীদের মারধর করতেছে, নারীদের হিজাব খুলে ফেলতেছে, আল্লাহ শিশুদেরও মারতেছে (ব্যাকগ্রাউন্ডে শিশুর কান্নার আওয়াজ বাজবে)”।
২।
সংখ্যলঘু ও হিন্দুদের আক্রান্ত করবে, গোপনে হিন্দুদের বাড়িঘরে পেট্রোল, কেরোসিন, ইত্যাদি ঢেলে আগুন লাগাবে। সত্যিকার ট্রাজেডি ঘটাবে, এবং বিএনপি’র উপর দায় দিয়ে ফেসবুকে প্রচার করবে। এসব কন্টেন্ট ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে পাঠাবে, ও বিজেপি সমর্থকদেরকে বিএনপি’র বিরুদ্ধে খেপাবে। বিএনপিবিরোধী অন্য রাজনীতিক পক্ষগুলোও এই স্যাবোটাজগুলো লুপে নেবে।
এ জন্য আজ থেকেই হিন্দুপাড়াগুলো আগলে রাখুন। ছাত্রদল ও যুবদলের একটি অংশকে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে সিভিলিয়ান টহলে নিয়োজিত করুন।
৩।
রঙ মেখে, মুরগীর রক্ত লাগিয়ে, ছেঁড়া জামা পরে প্রশিক্ষিত শিবিরকর্মীরা নানা স্থানে আহত ও নিহত মানুষ সেজে ছবি তুলবে, স্টেইজড ভায়োলেন্সের ভিডিও করবে, এবং একযোগে প্রচার করবে। কানসার্টেড প্রোপাগাণ্ডার অংশ হিশেবে দেশী-বিদেশী নানা পক্ষকে ডিস্ট্রিবিউটও করবে।
এ ধরণের ভিক্টিম-প্লেয়িং মঞ্চনাটক প্রতিহত করতে হবে। ফেসবুকে এমন ছবি ও ভিডিও দেখলেই ভিক্টিমের নাম, বাবার নাম, গ্রামের নাম, থানার নাম, এগুলো জানতে চাইতে হবে। যাচাই করতে হবে, আসলেই এমন ঘটনা ঘটেছে কি না। স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের দিয়ে ১০ মিনিটেই এসব প্রোপাগাণ্ডার সত্যতা যাচাই সম্ভব। যদি নাম পরিচয় না পাওয়া যায়, তাহলে ভুয়া ধরে নিয়ে পাল্টা ডিবাংকিং সংবাদ মানুষকে জানাতে হবে।
তবে কোথাও সত্যিকার সহিংসতা ঘটলে ভিক্টিমের পাশে দরদ নিয়ে দাঁড়াতে হবে। পেরপাট্রেটরকে আইনের আওতায় আনতে হবে, সেটা নিজের দলের লোক হলেও।
৪।
নির্বাচনকে ডিলেজিটিমাইজ করতে ভাড়াটে অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞ, এগুলো হাজির করবে। বয়ান তৈরির চেষ্টা চালাবে। ক্রপড ইনফারমেশন ও ক্রপড স্ট্যাটিস্টিক্স দিয়ে দেশী-বিদেশী মানুষকে বিভ্রান্ত করবে। এডিটেড ছবি, ম্যানুফ্যাকচার্ড স্ক্রিনশট, এগুলো ছড়াবে। ডিপ-স্টেট, অমুক, তমুক, এ ধরণের কাল্পনিক ভূতের গল্প ফাঁদবে।
যেমন ইতোমধ্যে রেজাল্ট শিটে কাটাকুটির ছবি ফেসবুকে ভাসছে। এটি কীভাবে করেছে? প্রথমে অরিজিনাল শীটকে ফটোকপি করেছে। তারপর সেই ফটোকপিতে নিজেরা কাটাকুটি করেছে, এবং সেই কাটাকুটিওয়ালা শীটকে পুনরায় ফটোকপি করে মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে বা স্ক্যান করে ছড়িয়ে দিয়েছে।
কপি পোস্ট