03/01/2026
নার্সিং পেশার সংকট, সম্ভবনা ও সাফল্যের বার্তা
লেখক ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন
নার্সিং পেশার উৎপত্তি প্রাচীনকালে পরিবার ও সমাজকেন্দ্রিক সেবামূলক কাজের মাধ্যমে হলেও, আধুনিক পেশাদার নার্সিংয়ের সূচনা ১৯শ শতকে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল-এর হাত ধরে । ক্রিমিয়ার যুদ্ধে (১৮৫৪) আহত সৈনিকদের সেবায় নাইটিঙ্গেলের বৈজ্ঞানিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ১৮৬০ সালে লন্ডনে প্রথম নার্সিং স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এটি একটি সম্মানজনক ও কাঠামোগত পেশায় পরিণত হয় ।
বাংলাদেশের বর্তমান নার্সিং পেশার ,স্বাস্থ্যব্যবস্থার চিত্র ও সাফল্য :
বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করলেও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য অর্জন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনিরাপত্তা সূচক ও স্বাস্থ্য অন্তর্ভুক্তিমূলকতা সূচকে অনেক পিছিয়ে আছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য অর্জনের সার্ভিস কভারেজ ইনডেক্সে ১০০-এর মধ্যে বর্তমান স্কোর ৫২, যা ২০৩০ সাল নাগাদ কমপক্ষে ৮০-তে উন্নীত করতে হবে। স্বাস্থ্যের মোট ব্যয়ে ব্যক্তির নিজস্ব অংশ বর্তমান ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। ২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনিরাপত্তা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০০-এর মধ্যে ৩৫ দশমিক ৫ এবং ১৯৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৫তম। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অন্তর্ভুক্তিমূলকতা সূচকে ৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর সর্বনিম্ন (৩০.৮)।
আমরা বিগত একযুগ ধরে ‘উন্নয়ন’ আর ‘প্রবৃদ্ধির’ গল্প শুনে আসছি। এ সময়ে চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের একটি বাণী স্মরণে আনতে চাই। তিনি বলেছেন, ‘তরতর করে উপরে ওঠার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই, কৃতিত্ব হল গর্তে পড়ে গেলে উঠে আসতে পারো কিনা।’ অতীতের কথা এ সময়ে টেনে আনার প্রয়োজন বোধ করছি না, তবে ভবিষ্যতে যেন এমন অন্ধকারে না পড়তে হয়, সেদিক বিবেচনায় একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
বিভিন্ন স্বাস্থ্যসূচকে আমাদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চয়ই উন্নয়ন, উন্নয়নচিন্তা ও উন্নয়নস্বপ্নের সঙ্গে মানানসই নয়। অন্যদিকে এই সূচকগুলোর বৈশিষ্ট্যগুলো যে বার্তা দেয়, তা হলো স্বাস্থ্য গঠন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্তি শুধু স্বাস্থ্য খাতের ওপর নির্ভর করে না।
এক হাজার রোগীর বিপরীতে একজন নার্স:
ডব্লিউএইচওর মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ১,০০০ জনে অন্তত ৩ জন নার্স থাকা প্রয়োজন। এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের নার্সের প্রাপ্যতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১,০০০ জনে ১১.৭ জন নার্স রয়েছে, যা ডব্লিউএইচওর মানদণ্ডের তুলনায় অনেক বেশি এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবার ইঙ্গিত দেয়। কিউবায় নার্সের সংখ্যা প্রতি ১,০০০ জনে ৭.৬ থেকে ৮.২ জন, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডের উপরে এবং এই দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরে। ভারতের অবস্থান তুলনামূলকভাবে দুর্বল, যেখানে প্রতি ১,০০০ জনে ১.৯৬ জন নার্স রয়েছে—ডব্লিউএইচওর মানদণ্ডের নিচে। বাংলাদেশে এ চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক, যেখানে প্রতি ১,০০০ জনে মাত্র ০.২ জন নার্স রয়েছে। এটি ডব্লিউএইচও’র মানদণ্ডের তুলনায় অনেক নিচে এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে গুরুতর জনবল সংকটের বিষয়টি নির্দেশ করে। এই পরিসংখ্যানগুলো স্পষ্টভাবে দেখায়, নার্সের পর্যাপ্ত সরবরাহ একটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো দেশ গরিব না ধনী তার ওপর স্বাস্থ্যনীতি নির্ভর করে না। স্বাস্থ্যনীতি নির্ভর করে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই কিউবাকে কারও আমলে নেয়ার কথা নয়। কিন্তু জনগণের রাষ্ট্র বিবেচনায় সেই দেশটিকে অবজ্ঞা করার কোনো সুযোগ নেই, যা একটি পরিকল্পিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধারক। একজন চিকিৎসকের পাশাপাশি তিনজন নিবন্ধিত নার্স প্রয়োজন। বাংলাদেশে ১ লাখ ৩৪ হাজার চিকিৎসকের বিপরীতে নার্স প্রয়োজন ৪ লাখ ২ হাজার। অথচ বর্তমানে ১ লাখ 17 হাজার নিবন্ধিত নার্স রয়েছেন। এই হিসাবে দেশে নার্স সংকট প্রায় ২ লাখ ৯৯ হাজার। নার্স সংকটে রোগীরা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে নার্সদের বেতন কাঠামো নিুমানের। উন্নত বিশ্বের তুলনায় এ দেশের নার্সদের বেতন প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ কম। তাই এদেশের নার্সরা মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। নার্সদের প্রতি সরকারের অবহেলা এজন্য দায়ী।
যেভাবে নারীবান্ধব হলো নার্সিং পেশা:
রুফাইদা আল আসলামিয়া (রহঃ) মেডিসিন ইতিহাসে প্রথম নার্স হিসেবে স্বীকৃত রুফাইদা (রহঃ)-এর পুরো নাম রুফাইদা বিনতে সাদ আল আসলামিয়া। তিনি মদিনার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সাদ আল আসলামি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। ছোটবেলা থেকেই তিনি তাঁর বাবার সঙ্গে চিকিৎসা শিখতে থাকেন এবং ধীরে ধীরে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ নার্স হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। রুফাইদা আহতদের সেবায় মসজিদে একটি তাঁবু করেছিলেন, খন্দকের যুদ্ধে সাদ বিন মুয়াজ বনু মখজুম গোত্রের আবু ওসামা জাশমী কর্তৃক নিক্ষিপ্ত একটি তীর দ্বারা আহত হন। মুহাম্মদ বলেন তাকে দ্রুত রুফাইদার তাঁবুতে নিয়ে যাও।[৩] খাইবার যুদ্ধে আহত মুসলিম মুজাহিদদের সুস্থ করতে তিনি মাতৃত্বের মমতাময়ী হাত বাড়িয়ে দেন। তার এই অবিস্মরণীয় কুরবানী এবং সেবা-শুশ্রূষার স্বীকৃতিস্বরূপ রাসূল পুরুষ মুজাহিদদের সাথে তাকেও গনিমতের মালের হিস্যা দেন।
১৮৫৪ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধে আহত যোদ্ধাদের পাশে এক নারী বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সেবার হাত। ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল ১৭ বছর বয়সে ঠিক করেছিলেন সেবিকা হবেন। সে যুগে ধনী পরিবারের শিক্ষিত নারীরা এ কাজ করতেন না, সমাজে এটি বিবেচিত হতো ছোট কাজ হিসেবে। মা-বাবার ঘোর আপত্তি সত্ত্বেও ফ্লোরেন্স নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। অবশেষে মা-বাবা বাধ্য হয়ে তাঁকে অনুমতি দিলেন।
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল (নার্সিংয়ের জনক) তিনিও বিশ্বাস করতেন নার্সিংটা মেয়েদের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ নার্স বললে মেয়েদের অবয়ব বা কোমলপ্রাণ এটি বোঝায়। তাই তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা নারীদের জন্য শুরু করেছিলেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, নার্সিংয়ে ৯০ শতাংশই নারীরা। বাংলাদেশে পুরুষ নার্সের সংখ্যা শতকরা মাত্র ১০ ভাগ। বাকি ৯০ শতাংশই নারী নার্স। নার্সিং মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বলছে, নারী জাতি মমতাময়ী, এজন্যই তাদের সেবার মহান এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে, পুরুষ নার্সদের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনাধীন আছে।
নারীবান্ধব পেশা হওয়ার ক্ষেত্রে নার্সদের কর্মঘন্টা বড় বাঁধা:
হাসপাতালে যেহেতু ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা সেবা চালু রাখতে হয় তাই নার্সদের রোষ্টার অনুযায়ী মাসে চারদিন ছুটি বাদে বাকী দিন ডিউটি করতে হয়। মাসে ২৬ দিন ডিউটি করতে হয়। নাইট শিফট( ৬×১২)= ৭২ ঘন্টা ২০ দিন সকাল বিকাল( ২০×৬) =১২০ ঘন্টা কাজ করেন চাকুরী বিধি অনুযায়ী সপ্তাহে ৪০ ঘন্টা কাজ করবেন। সে হিসেবে তিনি মাসে অতিরিক্ত ৩২ ঘন্ট ডিউটি বেশী করেন সেটার কোন পারিশ্রমিক পাননা।
এক্ষেত্রে যেহেতু নারীর আধিক্য বেশী তাই অতিরিক্ত কর্মঘন্টা বিবেচনায় অতিরিক্ত ডিউটি গুলো ওভারটাইম এলাউন্স ( ১. ঠিক ওই পরিমান কর্মঘন্টা বিনিময়ে দিগুণ বেতন ভাতা প্রদান করা।
স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির পেছনে নার্সদের গুরুত্ব:
পর্যালোচনা করে দেখা যায় সিঙ্গাপুর,ভারত, ইংলান্ড আমেরিকাসহ যেসব দেশের স্বাস্থ্য সেবসর মান উন্নত ওইসব দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির পেছনে নার্সদের সেবা প্রদানটা দায়ী। পাশের দেশ ভারত, মায়ানমার, সিঙ্গাপুর সহ যেসব দেশগুলোতে আমরা দেখি স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত তারা তাদের নার্সিং পেশাকে উন্নতি করে সম্ভব করেছে। নার্সদের উন্নতিকল্পে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেওয়া জন্য গুরুত্বারোপ করেছি।
জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া। দেশের স্বাস্থ্য সেবাকে গ্রামের মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে স্বাস্থ্য সেবার মান ও সুবিধা বৃদ্ধি করেছে স্বাস্থ্য সেবার ৮০ শতাংশ কাজ করেন নার্সরা রোগীর পথ্যসেবন থেকে শুরু করে বেডসাইড নার্সিং কেয়ারসহ রোগীর স্বাস্থ্য সেবার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ করেন নার্সরা। রোগীকে নার্সিং সেবা প্রদানের নিমিত্তে নার্সদের অন্যন্য স্বাস্থ্য কর্মীদের চেয়ে বেশি সময় রোগীর কাছে থাকতে হয়।
নার্সিং পেশার মান্নোয়ন প্রয়োজন:
২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে দুই লাখ ৫০ হাজার নার্সের প্রয়োজন হবে। কারণ তখন আমাদের ষাটোর্ধ মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য জেরিয়াট্রিক সেবা কেন্দ্র দরকার। সেবার মান বেড়েছে যেভাবে সে অনুপাতে বেড়েছে জনবল নার্সিং খাতে। তাই এ বিশাল জনবলকে সুষ্ঠুভাবে মনিটরিং দরকার।
জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার যে প্রয়াস তা সঠিকভাবে পালন করতে হলে অপার সম্ভাবনাময়ী এ নার্সিং পেশায় পদ বিন্যাস প্রয়োজন। জনগণের সেবা প্রাপ্তি সহজীকরণ ও নার্সদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (অটোমেশন) সময়োপযোগী দক্ষ ও আধুনিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে, এ পেশায় প্রশাসনিক সক্ষমতা ও পদবিন্যাস বা উচ্চতর গ্রেডের নতুন পদ সৃজন অনেকটা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুতরাং বলা চলে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন করতে হলে, নার্সিং পেশার মান্নোয়নে প্রয়োজন। নার্সদের সুষ্ঠু জনবল কাঠামো বা পদসোপান তৈরির মাধ্যমে নার্সিং পেশার মান্নোয়ন সর্বোপরি স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমান একটি উদ্যোগ হচ্ছে বিশেষায়িত নার্স তৈরি করা। বিশ্বের অন্যন্য দেশের ন্যায় বিশেষায়িত নার্স তৈরি হলে, এ দেশের স্বাস্থ্য সেবা অভুতপুর্ব পরিবর্তন আসবে। এজন্য নার্স কনসালটেন্ট পদ সৃজন করা প্রয়োজন।
সেবা সহজীকরণ অবাধ তথ্য প্রবাহ বর্তমান সরকারের একটি যুগপৎ সিদ্ধান্ত। নার্সিং পেশায় ও এ ধারাবাহিকতা প্রয়োজন এজন্য জেলার সেবাগুলো যেন জেলা সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হতে একটা সুবিন্যস্ত প্রশাসনিক কাঠামো প্রয়োজন। অনেক সময় দেখা যায়, আলাদাভাবে বণ্টিত পদ সৃজন না হওয়ার কারণে সেবা সহজলভ্যতা থাকে না এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
নার্সিং খাতের আরেকটি সহযোগী খাত হচ্ছে মিডওয়াইফারি খাত। নার্সিং বিদ্যমান প্রশাসনিক জনবল কাঠামো দিয়ে মিডওয়াইফারিকে দেখভাল করা হচ্ছে। বর্তমানে মিডওয়াইফ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। ফলে এটিও বর্তমান নার্সিং প্রশাসনিক কাঠামোর উপর নতুন করে চাপ তৈরি করছে। এজন্য নতুন প্রস্তাবিত পদ বিন্যাস বহুলাংশে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টেকসই উন্নয়নে নার্সদের ভূমিকা অপরিহার্য:
টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নার্সদের ভূমিকা অপরিহার্য। যদি নার্সদের পদ বিন্যাস সৃজন করা যায়, তাহলে এসডিজি অর্জন সহজতর হবে এবং আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যাবো।
বিকেন্দ্রীকরণ ও সেবার সহজলভ্যতা করতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভুত সমস্যা গুলো দ্রুত সমাধান ও সেবা গ্রহীতাদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে হলে প্রস্তাবিত পদবিন্যাস বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
মোটা দাগে বলতে হয় বর্তমানে স্বাস্থ্যখাতে চলমান ধারাকে অব্যাহত রাখতে, জাতির জনকের স্বপ্ন জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া, নার্সিং পেশায় কলেবর বৃদ্ধি পাওয়ায় এর মনিটরিং নিশ্চিতকল্পে, এসডিজি অর্জন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও দক্ষ বিশেষায়িত নার্স তৈরিসহ জনগণের সন্তুষ্টি অর্জনে প্রস্তাবিত গ্রেড ও পদ বিন্যাস বাস্তবায়নই একমাত্র সমাধান।যদি নার্সদের পদ বিন্যাস সৃজন করা যায়, তাহলে এসডিজি অর্জন সহজতর হবে এবং আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যাবো।
বিদ্যামান সমস্যা গুলো কাটিয়ে নার্সিং পেশাকে সমুজ্জ্বল পদমর্যাদায় ফিরিয়ে আনা জরুরি :
নার্সিং প্রতিষ্ঠানগুলি ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে, সেবার মান হ্রাস পাচ্ছে এবং দক্ষ নার্সরা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। মূল নীতিগত সমস্যা গুলো স্পষ্ট: ক্যারিয়ারের পথের অভাব, ডিজিএনএমের মধ্যে দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা, বিশেষজ্ঞতার অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে নার্সদের বাদ দেওয়া। বারবার সংস্কার প্রস্তাব সত্ত্বেও, এই কাঠামোগত বাধাগুলি কয়েক দশক ধরে অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
এই সংকট কাটিয়ে উঠতে, তিনটি জরুরি সংস্কার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে
১. উচ্চতর গ্রেডের পদ এবং পদোন্নতির মানদণ্ড সহ একটি কাঠামোগত ক্যারিয়ার পথ ( Carrier Path & Carrier Ladder) প্রতিষ্ঠা করা যা উন্নত যোগ্যতাকে স্বীকৃতি দেয়।
২. পরিষেবা, শিক্ষা এবং প্রশাসন জুড়ে একটি আদর্শ প্রাতিষ্ঠানিক সেটআপ এবং অর্গানোগ্রাম অনুমোদন এবং প্রয়োগ করুন।
৩. নিয়মিত পদোন্নতির মাধ্যমে কার্যকরী কমান্ড চেইন পুনরুদ্ধার করে অবিলম্বে সমস্ত শূন্য পদ পূরণ করুন।
এই সংস্কারগুলি ছাড়া, বাংলাদেশ নার্সিং শিক্ষা, পরিষেবা প্রদান এবং জনস্বাস্থ্যের স্থিতিস্থাপকতার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত পতনের ঝুঁকিতে পড়বে। তবে, সিদ্ধান্তমূলক নেতৃত্বের মাধ্যমে, নার্সিং সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।
নার্স ও পুষ্টিবিদ, কক্সবাজার
syedahmedtanshiruddin@gmail.com