Syed Ahmed Tanshir Uddin

Syed Ahmed Tanshir Uddin I want lead a simple life.

03/03/2026

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে আবিষ্কার হয়েছিল অ্যান্টিবায়োটিক। জীবাণুনাশক ওষুধকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট...

03/03/2026

🏥ঢাকার আইসিইউতে উদ্বেগজনক ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক জনিত ‘সুপারবাগ’— আইসিডিডিআর,বি-এর গবেষণা

ক্যানডিডা অরিস নামের সহজে নিরাময়যোগ্য নয় এমন একটি ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ঢাকার বিভিন্ন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)-তে ছড়িয়ে পড়ছে— এমন তথ্য উঠে এসেছে আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত এক গবেষণায়। গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, এই তথাকথিত ‘সুপারবাগ’ শুধু নবজাতক আইসিইউতেই (এনআইসিইউ) সীমাবদ্ধ নয়; বরং অন্যান্য গুরুতর অসুস্থ প্রাপ্তবয়ষ্ক রোগীদের মধ্যেও এটি সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। এতে হাসপাতালে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পূর্ববর্তী গবেষণায় এনআইসিইউ-তে এই ছত্রাকের বিস্তার দেখা গেলেও, নতুন এই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে সমস্যাটি আরও বিস্তৃত এবং অন্যান্য আইসিইউ-তেও এর প্রভাব বিস্তার করছে।

মাইক্রোবায়োলজি স্পেকট্রাম জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত এই গবেষণাটি ঢাকার একটি সরকারি এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে পরিচালিত হয়। আইইডিসিআর-এর সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-র কারিগরি সহায়তায় এটি পরিচালিত হয়। ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৭২ জন আইসিইউ রোগীকে এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ক্যানডিডা অরিস উপসর্গ ছাড়াই ত্বকে বসবাস (কলোনাইজেশন) করতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি রক্তে প্রবেশ করে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটায়। গুরুতর অসুস্থ রোগী এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল— তাদের জন্য এই ছত্রাক বেশি ক্ষতিকর। এছাড়া, প্রায় সব ধরনের সি. অরিস সাধারণত ব্যবহৃত অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হওয়ায় এর চিকিৎসা বেশ কঠিন। এসব কারণে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষ ক্যানডিডা অরিস-কে গুরুতর একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

এই গবেষণায় দেখা গেছে, আইসিইউ-তে থাকার কোনো এক পর্যায়ে প্রায় ৭ শতাংশ রোগীর শরীরে সি. অরিস পাওয়া গেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই রোগীদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি আইসিইউ-তে থাকার সময়ই ছত্রাকটির দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন— যা থেকে বোঝা যায় যে এই সংক্রমণ মূলত হাসপাতাল থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে। আরও দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালে এই হার বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেশি। সরকারি হাসপাতালে প্রায় ১৩ শতাংশ রোগী আইসিইউ-তে থাকার সময় সি. অরিস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন, যেখানে বেসরকারি হাসপাতালে এই হার ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। এর মাধ্যমে এই দু’টি হাসপাতালে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পার্থক্যের বিষয়টি বুঝা যায়।

🔗আরও পড়ুন: https://www.icddrb.org/storage/file/mediaNewsDocument/69a6a46acd4f3.pdf

03/01/2026

We Need Complete Nursing College in Coxsbaxar:

✅ 1. Improve Local Healthcare Services:

* More trained nurses means better patient care in hospitals and clinics.
* Cox’s Bazar has many health needs (especially with population growth and tourism), so trained professionals are essential.

✅ 2. Reduce Nurse Shortage:

* Bangladesh overall has fewer nurses than required.
* A local nursing college would help produce more qualified nurses from the region itself.

✅ 3. Easier Access to Education:

* Students in Cox’s Bazar currently may have to travel far (to Chattogram, Dhaka, etc.) to study nursing.
* A local college means more young people can afford and access nursing education.

✅ 4. Boost Local Economy:

* A nursing college creates jobs (teachers, staff, support services).
* Students spending locally help businesses, housing, food services, transport, etc.

✅ 5. Serve Vulnerable Communities**

* There are underserved areas, especially in remote or rural parts of Cox’s Bazar district.
* Local nurses, knowing the language and culture, can provide better care.

✅ 6. Support Tourism and Emergency Needs**

* Cox’s Bazar has millions of tourists yearly.
* Efficient healthcare and emergency response becomes more critical with more trained professionals available nearby.

✅ 7. Empower Women and Youth:

* Nursing is a profession many women and youth choose.
* Local education opportunities help increase female workforce participation and financial independence.

A nursing college in Cox’s Bazar would help **strengthen healthcare, expand education, grow the economy, and benefit the community overall.

03/01/2026
03/01/2026

নার্সিং পেশার সংকট, সম্ভবনা ও সাফল্যের বার্তা
লেখক ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন
নার্সিং পেশার উৎপত্তি প্রাচীনকালে পরিবার ও সমাজকেন্দ্রিক সেবামূলক কাজের মাধ্যমে হলেও, আধুনিক পেশাদার নার্সিংয়ের সূচনা ১৯শ শতকে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল-এর হাত ধরে । ক্রিমিয়ার যুদ্ধে (১৮৫৪) আহত সৈনিকদের সেবায় নাইটিঙ্গেলের বৈজ্ঞানিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ১৮৬০ সালে লন্ডনে প্রথম নার্সিং স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এটি একটি সম্মানজনক ও কাঠামোগত পেশায় পরিণত হয় ।
বাংলাদেশের বর্তমান নার্সিং পেশার ,স্বাস্থ্যব্যবস্থার চিত্র ও সাফল্য :
বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করলেও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য অর্জন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনিরাপত্তা সূচক ও স্বাস্থ্য অন্তর্ভুক্তিমূলকতা সূচকে অনেক পিছিয়ে আছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য অর্জনের সার্ভিস কভারেজ ইনডেক্সে ১০০-এর মধ্যে বর্তমান স্কোর ৫২, যা ২০৩০ সাল নাগাদ কমপক্ষে ৮০-তে উন্নীত করতে হবে। স্বাস্থ্যের মোট ব্যয়ে ব্যক্তির নিজস্ব অংশ বর্তমান ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। ২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনিরাপত্তা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০০-এর মধ্যে ৩৫ দশমিক ৫ এবং ১৯৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৫তম। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অন্তর্ভুক্তিমূলকতা সূচকে ৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর সর্বনিম্ন (৩০.৮)।
আমরা বিগত একযুগ ধরে ‘উন্নয়ন’ আর ‘প্রবৃদ্ধির’ গল্প শুনে আসছি। এ সময়ে চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের একটি বাণী স্মরণে আনতে চাই। তিনি বলেছেন, ‘তরতর করে উপরে ওঠার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই, কৃতিত্ব হল গর্তে পড়ে গেলে উঠে আসতে পারো কিনা।’ অতীতের কথা এ সময়ে টেনে আনার প্রয়োজন বোধ করছি না, তবে ভবিষ্যতে যেন এমন অন্ধকারে না পড়তে হয়, সেদিক বিবেচনায় একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
বিভিন্ন স্বাস্থ্যসূচকে আমাদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চয়ই উন্নয়ন, উন্নয়নচিন্তা ও উন্নয়নস্বপ্নের সঙ্গে মানানসই নয়। অন্যদিকে এই সূচকগুলোর বৈশিষ্ট্যগুলো যে বার্তা দেয়, তা হলো স্বাস্থ্য গঠন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্তি শুধু স্বাস্থ্য খাতের ওপর নির্ভর করে না।
এক হাজার রোগীর বিপরীতে একজন নার্স:
ডব্লিউএইচওর মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ১,০০০ জনে অন্তত ৩ জন নার্স থাকা প্রয়োজন। এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের নার্সের প্রাপ্যতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১,০০০ জনে ১১.৭ জন নার্স রয়েছে, যা ডব্লিউএইচওর মানদণ্ডের তুলনায় অনেক বেশি এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবার ইঙ্গিত দেয়। কিউবায় নার্সের সংখ্যা প্রতি ১,০০০ জনে ৭.৬ থেকে ৮.২ জন, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডের উপরে এবং এই দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরে। ভারতের অবস্থান তুলনামূলকভাবে দুর্বল, যেখানে প্রতি ১,০০০ জনে ১.৯৬ জন নার্স রয়েছে—ডব্লিউএইচওর মানদণ্ডের নিচে। বাংলাদেশে এ চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক, যেখানে প্রতি ১,০০০ জনে মাত্র ০.২ জন নার্স রয়েছে। এটি ডব্লিউএইচও’র মানদণ্ডের তুলনায় অনেক নিচে এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে গুরুতর জনবল সংকটের বিষয়টি নির্দেশ করে। এই পরিসংখ্যানগুলো স্পষ্টভাবে দেখায়, নার্সের পর্যাপ্ত সরবরাহ একটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো দেশ গরিব না ধনী তার ওপর স্বাস্থ্যনীতি নির্ভর করে না। স্বাস্থ্যনীতি নির্ভর করে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই কিউবাকে কারও আমলে নেয়ার কথা নয়। কিন্তু জনগণের রাষ্ট্র বিবেচনায় সেই দেশটিকে অবজ্ঞা করার কোনো সুযোগ নেই, যা একটি পরিকল্পিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধারক। একজন চিকিৎসকের পাশাপাশি তিনজন নিবন্ধিত নার্স প্রয়োজন। বাংলাদেশে ১ লাখ ৩৪ হাজার চিকিৎসকের বিপরীতে নার্স প্রয়োজন ৪ লাখ ২ হাজার। অথচ বর্তমানে ১ লাখ 17 হাজার নিবন্ধিত নার্স রয়েছেন। এই হিসাবে দেশে নার্স সংকট প্রায় ২ লাখ ৯৯ হাজার। নার্স সংকটে রোগীরা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে নার্সদের বেতন কাঠামো নিুমানের। উন্নত বিশ্বের তুলনায় এ দেশের নার্সদের বেতন প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ কম। তাই এদেশের নার্সরা মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। নার্সদের প্রতি সরকারের অবহেলা এজন্য দায়ী।
যেভাবে নারীবান্ধব হলো নার্সিং পেশা:
রুফাইদা আল আসলামিয়া (রহঃ) মেডিসিন ইতিহাসে প্রথম নার্স হিসেবে স্বীকৃত রুফাইদা (রহঃ)-এর পুরো নাম রুফাইদা বিনতে সাদ আল আসলামিয়া। তিনি মদিনার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সাদ আল আসলামি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। ছোটবেলা থেকেই তিনি তাঁর বাবার সঙ্গে চিকিৎসা শিখতে থাকেন এবং ধীরে ধীরে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ নার্স হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। রুফাইদা আহতদের সেবায় মসজিদে একটি তাঁবু করেছিলেন, খন্দকের যুদ্ধে সাদ বিন মুয়াজ বনু মখজুম গোত্রের আবু ওসামা জাশমী কর্তৃক নিক্ষিপ্ত একটি তীর দ্বারা আহত হন। মুহাম্মদ বলেন তাকে দ্রুত রুফাইদার তাঁবুতে নিয়ে যাও।[৩] খাইবার যুদ্ধে আহত মুসলিম মুজাহিদদের সুস্থ করতে তিনি মাতৃত্বের মমতাময়ী হাত বাড়িয়ে দেন। তার এই অবিস্মরণীয় কুরবানী এবং সেবা-শুশ্রূষার স্বীকৃতিস্বরূপ রাসূল পুরুষ মুজাহিদদের সাথে তাকেও গনিমতের মালের হিস্যা দেন।
১৮৫৪ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধে আহত যোদ্ধাদের পাশে এক নারী বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সেবার হাত। ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল ১৭ বছর বয়সে ঠিক করেছিলেন সেবিকা হবেন। সে যুগে ধনী পরিবারের শিক্ষিত নারীরা এ কাজ করতেন না, সমাজে এটি বিবেচিত হতো ছোট কাজ হিসেবে। মা-বাবার ঘোর আপত্তি সত্ত্বেও ফ্লোরেন্স নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। অবশেষে মা-বাবা বাধ্য হয়ে তাঁকে অনুমতি দিলেন।
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল (নার্সিংয়ের জনক) তিনিও বিশ্বাস করতেন নার্সিংটা মেয়েদের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ নার্স বললে মেয়েদের অবয়ব বা কোমলপ্রাণ এটি বোঝায়। তাই তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা নারীদের জন্য শুরু করেছিলেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, নার্সিংয়ে ৯০ শতাংশই নারীরা। বাংলাদেশে পুরুষ নার্সের সংখ্যা শতকরা মাত্র ১০ ভাগ। বাকি ৯০ শতাংশই নারী নার্স। নার্সিং মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বলছে, নারী জাতি মমতাময়ী, এজন্যই তাদের সেবার মহান এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে, পুরুষ নার্সদের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনাধীন আছে।
নারীবান্ধব পেশা হওয়ার ক্ষেত্রে নার্সদের কর্মঘন্টা বড় বাঁধা:
হাসপাতালে যেহেতু ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা সেবা চালু রাখতে হয় তাই নার্সদের রোষ্টার অনুযায়ী মাসে চারদিন ছুটি বাদে বাকী দিন ডিউটি করতে হয়। মাসে ২৬ দিন ডিউটি করতে হয়। নাইট শিফট( ৬×১২)= ৭২ ঘন্টা ২০ দিন সকাল বিকাল( ২০×৬) =১২০ ঘন্টা কাজ করেন চাকুরী বিধি অনুযায়ী সপ্তাহে ৪০ ঘন্টা কাজ করবেন। সে হিসেবে তিনি মাসে অতিরিক্ত ৩২ ঘন্ট ডিউটি বেশী করেন সেটার কোন পারিশ্রমিক পাননা।
এক্ষেত্রে যেহেতু নারীর আধিক্য বেশী তাই অতিরিক্ত কর্মঘন্টা বিবেচনায় অতিরিক্ত ডিউটি গুলো ওভারটাইম এলাউন্স ( ১. ঠিক ওই পরিমান কর্মঘন্টা বিনিময়ে দিগুণ বেতন ভাতা প্রদান করা।
স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির পেছনে নার্সদের গুরুত্ব:
পর্যালোচনা করে দেখা যায় সিঙ্গাপুর,ভারত, ইংলান্ড আমেরিকাসহ যেসব দেশের স্বাস্থ্য সেবসর মান উন্নত ওইসব দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির পেছনে নার্সদের সেবা প্রদানটা দায়ী। পাশের দেশ ভারত, মায়ানমার, সিঙ্গাপুর সহ যেসব দেশগুলোতে আমরা দেখি স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত তারা তাদের নার্সিং পেশাকে উন্নতি করে সম্ভব করেছে। নার্সদের উন্নতিকল্পে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেওয়া জন্য গুরুত্বারোপ করেছি।
জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া। দেশের স্বাস্থ্য সেবাকে গ্রামের মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে স্বাস্থ্য সেবার মান ও সুবিধা বৃদ্ধি করেছে স্বাস্থ্য সেবার ৮০ শতাংশ কাজ করেন নার্সরা রোগীর পথ্যসেবন থেকে শুরু করে বেডসাইড নার্সিং কেয়ারসহ রোগীর স্বাস্থ্য সেবার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ করেন নার্সরা। রোগীকে নার্সিং সেবা প্রদানের নিমিত্তে নার্সদের অন্যন্য স্বাস্থ্য কর্মীদের চেয়ে বেশি সময় রোগীর কাছে থাকতে হয়।
নার্সিং পেশার মান্নোয়ন প্রয়োজন:
২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে দুই লাখ ৫০ হাজার নার্সের প্রয়োজন হবে। কারণ তখন আমাদের ষাটোর্ধ মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য জেরিয়াট্রিক সেবা কেন্দ্র দরকার। সেবার মান বেড়েছে যেভাবে সে অনুপাতে বেড়েছে জনবল নার্সিং খাতে। তাই এ বিশাল জনবলকে সুষ্ঠুভাবে মনিটরিং দরকার।
জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার যে প্রয়াস তা সঠিকভাবে পালন করতে হলে অপার সম্ভাবনাময়ী এ নার্সিং পেশায় পদ বিন্যাস প্রয়োজন। জনগণের সেবা প্রাপ্তি সহজীকরণ ও নার্সদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (অটোমেশন) সময়োপযোগী দক্ষ ও আধুনিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে, এ পেশায় প্রশাসনিক সক্ষমতা ও পদবিন্যাস বা উচ্চতর গ্রেডের নতুন পদ সৃজন অনেকটা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুতরাং বলা চলে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন করতে হলে, নার্সিং পেশার মান্নোয়নে প্রয়োজন। নার্সদের সুষ্ঠু জনবল কাঠামো বা পদসোপান তৈরির মাধ্যমে নার্সিং পেশার মান্নোয়ন সর্বোপরি স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমান একটি উদ্যোগ হচ্ছে বিশেষায়িত নার্স তৈরি করা। বিশ্বের অন্যন্য দেশের ন্যায় বিশেষায়িত নার্স তৈরি হলে, এ দেশের স্বাস্থ্য সেবা অভুতপুর্ব পরিবর্তন আসবে। এজন্য নার্স কনসালটেন্ট পদ সৃজন করা প্রয়োজন।
সেবা সহজীকরণ অবাধ তথ্য প্রবাহ বর্তমান সরকারের একটি যুগপৎ সিদ্ধান্ত। নার্সিং পেশায় ও এ ধারাবাহিকতা প্রয়োজন এজন্য জেলার সেবাগুলো যেন জেলা সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হতে একটা সুবিন্যস্ত প্রশাসনিক কাঠামো প্রয়োজন। অনেক সময় দেখা যায়, আলাদাভাবে বণ্টিত পদ সৃজন না হওয়ার কারণে সেবা সহজলভ্যতা থাকে না এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
নার্সিং খাতের আরেকটি সহযোগী খাত হচ্ছে মিডওয়াইফারি খাত। নার্সিং বিদ্যমান প্রশাসনিক জনবল কাঠামো দিয়ে মিডওয়াইফারিকে দেখভাল করা হচ্ছে। বর্তমানে মিডওয়াইফ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। ফলে এটিও বর্তমান নার্সিং প্রশাসনিক কাঠামোর উপর নতুন করে চাপ তৈরি করছে। এজন্য নতুন প্রস্তাবিত পদ বিন্যাস বহুলাংশে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টেকসই উন্নয়নে নার্সদের ভূমিকা অপরিহার্য:
টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নার্সদের ভূমিকা অপরিহার্য। যদি নার্সদের পদ বিন্যাস সৃজন করা যায়, তাহলে এসডিজি অর্জন সহজতর হবে এবং আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যাবো।
বিকেন্দ্রীকরণ ও সেবার সহজলভ্যতা করতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভুত সমস্যা গুলো দ্রুত সমাধান ও সেবা গ্রহীতাদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে হলে প্রস্তাবিত পদবিন্যাস বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
মোটা দাগে বলতে হয় বর্তমানে স্বাস্থ্যখাতে চলমান ধারাকে অব্যাহত রাখতে, জাতির জনকের স্বপ্ন জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া, নার্সিং পেশায় কলেবর বৃদ্ধি পাওয়ায় এর মনিটরিং নিশ্চিতকল্পে, এসডিজি অর্জন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও দক্ষ বিশেষায়িত নার্স তৈরিসহ জনগণের সন্তুষ্টি অর্জনে প্রস্তাবিত গ্রেড ও পদ বিন্যাস বাস্তবায়নই একমাত্র সমাধান।যদি নার্সদের পদ বিন্যাস সৃজন করা যায়, তাহলে এসডিজি অর্জন সহজতর হবে এবং আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যাবো।
বিদ্যামান সমস্যা গুলো কাটিয়ে নার্সিং পেশাকে সমুজ্জ্বল পদমর্যাদায় ফিরিয়ে আনা জরুরি :
নার্সিং প্রতিষ্ঠানগুলি ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে, সেবার মান হ্রাস পাচ্ছে এবং দক্ষ নার্সরা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। মূল নীতিগত সমস্যা গুলো স্পষ্ট: ক্যারিয়ারের পথের অভাব, ডিজিএনএমের মধ্যে দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা, বিশেষজ্ঞতার অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে নার্সদের বাদ দেওয়া। বারবার সংস্কার প্রস্তাব সত্ত্বেও, এই কাঠামোগত বাধাগুলি কয়েক দশক ধরে অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

এই সংকট কাটিয়ে উঠতে, তিনটি জরুরি সংস্কার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে
১. উচ্চতর গ্রেডের পদ এবং পদোন্নতির মানদণ্ড সহ একটি কাঠামোগত ক্যারিয়ার পথ ( Carrier Path & Carrier Ladder) প্রতিষ্ঠা করা যা উন্নত যোগ্যতাকে স্বীকৃতি দেয়।
২. পরিষেবা, শিক্ষা এবং প্রশাসন জুড়ে একটি আদর্শ প্রাতিষ্ঠানিক সেটআপ এবং অর্গানোগ্রাম অনুমোদন এবং প্রয়োগ করুন।
৩. নিয়মিত পদোন্নতির মাধ্যমে কার্যকরী কমান্ড চেইন পুনরুদ্ধার করে অবিলম্বে সমস্ত শূন্য পদ পূরণ করুন।
এই সংস্কারগুলি ছাড়া, বাংলাদেশ নার্সিং শিক্ষা, পরিষেবা প্রদান এবং জনস্বাস্থ্যের স্থিতিস্থাপকতার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত পতনের ঝুঁকিতে পড়বে। তবে, সিদ্ধান্তমূলক নেতৃত্বের মাধ্যমে, নার্সিং সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।

নার্স ও পুষ্টিবিদ, কক্সবাজার
syedahmedtanshiruddin@gmail.com

02/25/2026

নারী ও শিশুর টিকে থাকার জন্য কর্মস্থলে ও স্কুলে নিরাপদ শৌচাগার জরুরী :
ছৈয়দ আহমেদ তানশীর উদ্দিন

সাড়ে ছয় কোটিরও বেশি মানুষ অর্থাৎ বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার সুবিধাবঞ্চিত। প্রতিদিন শুধু ঢাকাতেই আনুমানিক ২৩০ টন১ মানব বর্জ্য উন্মুক্ত জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে। এর ফলে গুরুতর পরিবেশ দূষণ ঘটছে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

খোলা জায়গায় মলত্যাগ শিশুদের স্বাস্থ্য ও বিকাশের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়; তবে এই ক্ষতিকর চর্চা বন্ধে বাংলাদেশ অন্যন্য দেশের তুলনায় অনেক দ্রুত এবং প্রশংসনীয় সফলতা অর্জন করেছে যার ফলে শিশুরা উপকৃত হচ্ছে।শিশুদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে আর যথাযথ পয়ঃনিষ্কাশনের অভাবে তাদের সুস্থভাবে ও নিরাপদে বেড়ে ওঠা বিঘ্নিত হয়। নারী ও শিশুসহ সবচেয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য যথাযথ পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া দরকার‌, সেই সঙ্গে ওয়াশ (পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধি) খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা দরকার; দরকার ভূপৃষ্ঠের উপরিতলের পানির দূষণ ও এর ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি টেকসই সমাধান ও মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামোগুলোকে জোরদার করা।

বন্যা ও চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাবলীর প্রকোপ বৃদ্ধিসহ জলবায়ু সংকটের প্রভাব বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ পয়ঃনিষ্কাশন বা স্যানিটেশন পরিষেবার পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ গত বছর ফেনীতে যা ঘটলো, তার কথা বলা যেতে পারে; গত ৫০ বছরে এমন পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। এই দুর্যোগগুলো সারা দেশে বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও উপকূলীয় কমিউনিটিগুলোতে বিদ্যমান অবকাঠামো ও পানি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে।

প্রতিটি শিশুর স্কুলে টিকে থাকার জন্য একটি শৌচাগার প্রয়োজন, প্রতিটি নারীর মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার জন্য নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রয়োজন আর আমাদের গ্রহকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন প্রতিটি কমিউনিটির দায়িত্বের সাথে নিজ কমিউনিটিতে সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। উপযুক্ত শৌচাগার ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের সবার ভাবতে হবে।”

অনুন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশের আনুমানিক ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, যা এদেশের ২০১৮ সালের জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ২। অবশ্য ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিচালিত জয়েন্ট মনিটরিং প্রোগ্রাম ২০২২– এ বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বর্তমানে যে গতিতে কাজ হচ্ছে তা অন্তত আট গুণ বাড়ানো প্রয়োজন।

ইউনিসেফ ও ওয়াটার এইড বাংলাদেশে পয়ঃনিষ্কাশন (স্যানিটেশন) সংকট মোকাবেলায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও জরুরী ভিত্তিতে নতুন টেকসই সমাধান উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে; তার সাথে প্রয়োজনঃ

জাতীয় জলবায়ু কৌশলসমূহে পয়ঃনিষ্কাশনকে অন্তর্ভুক্ত করা: জলবায়ু-সহিষ্ণু অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে জলবায়ু অর্থায়ন সহায়তা নিশ্চিতের জন্য ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনস-এ (এনডিসিএস) পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) এজেন্ডা অন্তর্ভুক্ত করা।

প্রয়োজনীয় সম্পদের সংস্থান ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলা: ওয়াশ খাতে অর্থায়নের যে ঘাটতি রয়েছে, তা নিরসনে বেসরকারি খাত ও অন্যান্য দাতাদের মধ্যে সংযোগ ও অংশীদারত্ব বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি দরকার, প্রয়োজনীয় অর্থায়নের জন্য নতুন ও কার্যকরী প্রক্রিয়ার উদ্ভাবন ও অন্বেষণ, এবং সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।
লেখক : নার্স ও পুষ্টিবীদ

02/25/2026

দেরিতে স্কুল শুরু: কেন বিশ্বজুড়ে এই পরিবর্তনের ঢেউ

জানেন কি, প্রতিদিন ভোরে আপনার সন্তানকে যখন জোর করে ঘুম থেকে তোলা হয়, তখন তার মস্তিষ্কে ঠিক কী ঘটে? গবেষণায় দেখা গেছে, একজন কিশোরের জন্য সকাল ৭টায় দিন শুরু করা আর একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য ভোর ৪টায় দিন শুরু করা সমান ধকলের। বিজ্ঞান স্পষ্ট করে বলছে, কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্ক প্রাপ্তবয়স্কদের মত কাজ করে না। তাদের শরীরের জৈবিক ঘড়িটাই আলাদা।

এ বিষয়ে সচেতনতার অভাবে বিশ্বের লাখো শিক্ষার্থী প্রতিদিন এক দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ও শারীরিক ঝুঁকির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক দেশই স্কুলের সময় পিছিয়ে দিয়ে জরুরি পরিবর্তন নিয়ে আসছে। জানা দরকার, কেন বিশ্বজুড়ে হাজারো স্কুল তাদের সময়সূচি পরিবর্তন করছে এবং কেন আমাদের দেশেও এই পরিবর্তন জরুরি।

কিশোর মস্তিষ্কের রহস্য: যা আমরা জানি না

আপনি কি জানেন, আপনার ১৪ বছরের সন্তান রাত ১০টায় ঘুমাতে পারে না কেন?

এটা তার ইচ্ছার ব্যাপার নয়, এটা শরীরের রসায়ন। বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর পর শিশুদের শরীরে একটা আশ্চর্য পরিবর্তন ঘটে। তাদের শরীরে 'মেলাটোনিন' নামক ঘুমের হরমোন প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে নিঃসৃত হয়।

সহজ ভাষায়, যখন আপনি রাত ১০টায় ঘুম অনুভব করেন, আপনার কিশোর সন্তান সেই একই ঘুম অনুভব করে রাত ১২টায়।

এটা তাদের দোষ নয়। এটা তাদের শরীরের 'সারকাডিয়ান রিদম' বা জৈবিক ঘড়ির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমেরিকান একাডেমি অফ স্লিপ মেডিসিন বলছে, ১৩-১৮ বছর বয়সীদের দিনে ৮-১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার। কিন্তু বাস্তবে কী হচ্ছে? বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পাচ্ছে মাত্র ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম। ফলাফল? একটা ক্লান্ত, খিটখিটে, অমনোযোগী প্রজন্ম।

মানসিক স্বাস্থ্য: যে ক্ষতিটা চোখে দেখা যায় না

ঘুমের অভাব মানে শুধু ক্লান্তি নয়। এটা মস্তিষ্কের 'প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স', যে অংশটি আবেগ ও সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে, সেটিকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ভাবুন তো, আপনার সন্তান প্রতিদিন ঘুমের ঘাটতি নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। ফলে তার মধ্যে দেখা দিচ্ছে খিটখিটে মেজাজ ও অকারণ রাগ, মনোযোগের অভাব, দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্নতার লক্ষণ এবং পরিবারের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন।

সিয়াটলে ২০১৮ সালে একটি চমকপ্রদ পরীক্ষা হয়েছিল। স্কুল শুরুর সময় সকাল ৭:৫০ থেকে বাড়িয়ে ৮:৪৫ করা হল—মাত্র ৫৫ মিনিটের পার্থক্য। ফলাফল? শিক্ষার্থীরা প্রতি রাতে অতিরিক্ত ৩৪ মিনিট ঘুমাতে পারল।

আর এই ৩৪ মিনিট কী করল? শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা ও বিষণ্নতার হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গেল। এটা কোনো ছোট ব্যাপার নয়। এটা জীবন বাঁচানোর ব্যাপার।

পড়াশোনা: দেরিতে শুরু করলে কী ক্ষতি হয়

অনেক অভিভাবক চিন্তিত থাকেন—“দেরিতে স্কুল শুরু হলে তো পড়াশোনার সময় কমে যাবে!” কিন্তু গবেষণা বলছে ঠিক উল্টা কথা। একটা ক্লান্ত, ঘুমন্ত মস্তিষ্ক যতই পড়ুক না কেন, কিছুই মনে রাখতে পারে না। আর একটা সতেজ মস্তিষ্ক অল্প সময়েই অনেক বেশি শিখতে পারে। মিনেসোটা ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে এটা পর্যবেক্ষণ করেছেন।

তাদের ফলাফল: যেসব স্কুল সকাল ৮:৩০ এর পর শুরু হয়, সেখানে গণিত ও ইংরেজিতে ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে ভাল; সিয়াটলে জীববিজ্ঞানে গ্রেড বেড়েছে ৪.৫ শতাংশ; ৩০,০০০ শিক্ষার্থীর ওপর জরিপে দেখা গেছে—স্নাতক সম্পন্নের হার ৭৯% থেকে বেড়ে ৮৮% হয়েছে।

কারণটা সহজ। যখন শিক্ষার্থীরা জেগে থেকে, পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করে, তখন তাদের স্মৃতিশক্তি ভাল কাজ করে। জটিল অঙ্ক, কঠিন তত্ত্ব সবকিছু সহজে বুঝতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য: আজকের ক্ষতি, কালকের রোগ

সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠে তড়িঘড়ি স্কুলে যাওয়া মানে কী? মানে হল—সকালে নাশতা না খাওয়া বা তাড়াহুড়ায় খাওয়া, জাঙ্ক ফুডের প্রতি নির্ভরতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার ঝুঁকি বৃদ্ধি।

লন্ডনের কিছু স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে সময় পিছিয়ে দেওয়ার পর দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাধারণ ফ্লু ও মাথাব্যথার সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কারণ তারা পর্যাপ্ত ঘুম, সঠিক খাবার এবং সুস্থ রুটিন পাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে পরিবর্তনের ঢেউ

এটা আর কোনো থিওরি নয়—এটা বাস্তবতা। ২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়া আমেরিকার প্রথম রাজ্য হিসাবে একটি আইন পাস করেছে: হাই স্কুল সকাল ৮:৩০ এর আগে শুরু করা যাবে না এবং মিডল স্কুল সকাল ৮:০০ এর আগে শুরু করা যাবে না।

এই আইন ২০২২ সাল থেকে কার্যকর এবং লাখো শিক্ষার্থী এর সুবিধা পাচ্ছে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটসও একই পথে হাঁটছে। শুধু তাই নয়—আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স, সিডিসি এবং আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন সবাই একযোগে সুপারিশ করেছে যে স্কুল সকাল ৮:৩০ এর আগে শুরু করা উচিত নয়।

খরচের ভয়? সমাধান আছে

অনেকে বলবেন, “এত বড় পরিবর্তন করতে তো অনেক টাকা লাগবে!” কিন্তু সান ফ্রান্সিসকো স্কুল ডিস্ট্রিক্ট দেখিয়ে দিয়েছে—সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এটা করা সম্ভব।
সান ফ্রান্সিসকো স্কুল ডিস্ট্রিক্ট মূলত 'টিয়ারড বাস শিডিউলিং' বা স্তরীভূত বাস চলাচলের পদ্ধতি ব্যবহার করে এই সাশ্রয় করেছে।

আগে সব স্কুল একই সময়ে শুরু হওয়ায় অনেক বেশি বাসের প্রয়োজন হত। তারা প্রাথমিক, মিডল ও হাই স্কুলের সময়কে আলাদা আলাদা স্তরে বিন্যস্ত করেছে, যাতে একই বাস দিয়ে পর্যায়ক্রমে সব স্তরের শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করা যায়।

স্কুলের সময় পেছানোর ফলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফলে বেশ ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ পাওয়ায় তাদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বেড়েছে এবং ক্লাসে ঝিমুনি কমেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেরিতে স্কুল শুরু করার পর শিক্ষার্থীদের গণিত ও ইংরেজির মত মূল বিষয়গুলিতে গ্রেড আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে।

বিশেষ করে শেষ দিকের পিরিয়ডগুলিতে শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি সজাগ থাকে, যা তাদের পাঠগ্রহণের মান বাড়িয়ে দিয়েছে।

চ্যালেঞ্জ কী কী?

অবশ্যই এই পরিবর্তনের কিছু সমস্যা আছে এবং সেগুলি সমাধানযোগ্য। বাসের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করতে হবে। স্কুলগুলিতে খেলাধুলা ও অন্যান্য কার্যক্রম দেরিতে শেষ হবে ঠিকই, কিন্তু আলোর ব্যবস্থা এবং শীতকালীন সময়সূচি সামঞ্জস্য করে সমাধান করা যায়। কর্মজীবী অভিভাবকদের চিন্তা থাকবে–তবে গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ পরিবার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন রুটিনে মানিয়ে নিতে পারে।

আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে

তিন দশকের নিবিড় গবেষণা, লাখো শিক্ষার্থীর বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং শত শত স্কুলের সফল বিবর্তন আমাদের সামনে একটাই অকাট্য বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে—আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা শিশুদের মৌলিক জৈবিক প্রয়োজনের ঠিক বিপরীতে কাজ করছে।

পরিসংখ্যান বলছে, স্কুল শুরুর সময় আরেকটু বেলা করে দিলে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট বাড়তি ঘুমের সুযোগ পায়, যা তাদের একাডেমিক ফলাফল ৪ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিষণ্নতা ও উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় মনোবিজ্ঞানীরা পর্যাপ্ত ঘুমকে সবচেয়ে বড় 'ওষুধ' হিসাবে দেখছেন।

শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য সিলেবাস শেষ করা নয়। বরং একটি সুস্থ, সুখী ও সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলা। এবং সেই পথের প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে—আমাদের সন্তানদের ঘুমের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।

পরিবর্তনের সময় এসেছে। প্রশ্ন হল, আমরা কি প্রস্তুত?

#স্কুল #সময় #ঘুম

02/24/2026

গবেষনা বলছে শীঘ্রই প্রচলিত এন্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়বে :
দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা (এএমআর) বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, দেশের আইসিইউতে ভর্তি রোগীর ৪১ শতাংশ কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে সাড়া দিচ্ছে না। ২৪ নভেম্বর ২০২৫ আইইডিসিআর ন্যাশনাল এএমআর সার্ভেলেন্স রিপোর্ট ২০২৫' প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত দেশের ৯৬,৪৭৭ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পাঁচটি আইসিইউতে ৭১ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হলে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যান-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (পিডিআর) জীবাণু সব নমুনার ৭ শতাংশ এবং আইসিইউতে ৪১ শতাংশ পাওয়া গেছে। মাল্টি-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (এমডিআর) জীবাণু সব নমুনার ৪৬ শতাংশ এবং আইসিইউতে ৮৯ শতাংশ দেখা গেছে। এছাড়া, হু ওয়াচ-গ্রুপ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেড়ে ৭৭ শতাংশ থেকে ৯০.৯ শতাংশ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ছিল সেফট্রিয়াক্সোন (৩৩ শতাংশ) এবং মেরোপেনেম (১৬ শতাংশ)।
২০২৩ সালের পর থেকে গাজায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার দশগুণ বেড়েছে; এবং মৃত্যুর প্রায় ৫৫ শতাংশই নবজাতক। জীবাণুনাশক যন্ত্রপাতি, অ্যান্টিবায়োটিক, এমনকি ক্লোরিন পর্যন্ত গাজায় প্রবেশে বাধা দেওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে—এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে অত্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু ও তথাকথিত সুপারবাগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ব্যাপক। ২০২৩ সালের এক জরিপে বলা হয়, পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া ছয়টির মধ্যে একটি সংক্রামক রোগ অ্যান্টিবায়োটিকে সারানো যাচ্ছে না। রক্ত, অন্ত্র, মূত্রনালি এবং যৌন সংক্রমণের মতো সাধারণ সংক্রামক রোগে ৪০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হলো, গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে বেশির ভাগ অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা দেখাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০৫০ সাল নাগাদ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ৭০ শতাংশে পৌঁছাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বছরে দুই লক্ষাধিক, যার মধ্যে ২৩ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। বিশ্বজুড়ে সাত লক্ষাধিক লোক মৃত্যুবরণ করে একই কারণে।বিশেষজ্ঞদের হিসাবে এখনই সাবধান না হলে ২০৫০ সালের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার কারণে প্রতি বছর এক কোটির বেশি লোক মারা যাবে এবং ১০০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতি হবে।

02/23/2026

রোজা রেখে যা করা যাবে যা করা যাবে না।

ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দিন:

চলছে রোজার মাস,মুসলিম ধর্মালম্বীরা ভাবগাম্ভীর্যের সাথে এই সিয়াম সাধনা পালন করেন।তবে রোজায় পানাহারে যেমন বিধিনিষেধ রয়েছে পাশাপাশি রোগীদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় স্বাস্থ্য বিধিতে কিছু সর্তকর্তা রয়েছে।

♥♥রোজা রেখে নিচের স্বাস্থ্য সেবা গ্রহন করলে আপনার রোজা ভাঙ্গবে –

১. রোজা রেখে সাপোজিটরি (পায়খানার রাস্তায় দেওয়া ওষুধ) দেওয়া হলে।
২. রোজা রেখে ইনজেকশন স্যালাইন নিলে যেমন : ৫% ডিএনএস,নরমাল স্যালাইন,কলেরা স্যালাইন ও গ্লুকোজ স্যালাইন।
৩. রক্ত গ্রহণ করলে /রক্ত নিলে।
৪. এন্ডোস্কোপি করানো হলে / গলায় নল দিয়ে পরীক্ষা করলে।
৫. নাকে খাবারের নল দিলে।
৬. পায়খানার রাস্তায় পরীক্ষা যেমন কোলনস্কোপি/ প্রক্টোস্কোপি করলে।
৭. ইনহেলার ব্যবহার করলে ( এক্ষেত্রে দুই ধরণের বক্তব্য পাওয়া যায়, এক শ্রেণীর ফকীহ দের মতামত রোজা ভাঙবে না, আরেক শ্রেণী বলেছেন রোজা ভাঙ্গবে, ব্যক্তিগতভাবে আমি রোজা ভেঙ্গে যাবার মতামত কে অধিকতর যৌক্তিক মনে করি)।
৮. নেবুলাইজেশন করলে
৯. নাকের ড্রপ দিলে
১০. কানের ড্রপ দিলে (যদি কানের পর্দায় ছিদ্র থাকে)
১১. ডায়ালাইসিস করলে
১২. পায়খানার রাস্তায় e***a দিলে।

♥♥ রোজা রেখে নিম্নোক্ত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহনে রোজা ভাঙ্গবে না –

১. রক্ত দিলে।
২. রক্তের স্যাম্পল দিলে / রক্ত পরীক্ষা করলে।
৩.মাংসে /চামড়ায় কোনো ইনজেকশন দিলে, ইনসুলিন দিলে।
৪. শিরায় ইনজেকশন দিলে ( ইনজেকশনে যদি ১০০ মিলি এর চেয়ে বেশি পানি থাকে তাহলে রোজা ভাঙতে পারে: Al Balagh Academy, UK এর মতামত, তাই অপ্রয়োজনে ইনজেকশন না নেওয়া উত্তম)।
৫. চোখের ড্রপ দিলে (তবে যদি ড্রপ দেওয়ার পর মুখে স্বাদ অনুভূত হলে সেই ক্ষেত্রে সেটা থুতু দিয়ে বের করতে হবে, তাই অনেক আলেম বলেন চোখের ড্রপ অপ্রয়োজনে না নিতে)
৬. ক্যাথেটার করানো হলে।
৭. ক্যানুলা করানো হলে।
৮. ডায়াবেটিস পরীক্ষা করলে।
৯.ভ্যাকসিন দিলে।
১০. মাসিকের রাস্তায় কোনো ওষুধ দিলে (Al Balagh Academy)।
১১. হিজামা করলে ( তবে হাম্বলী মাজহাব ও অন্যান্য কিছু আলেমদের মতে রোজা ভাঙ্গবে)।
সূত্র: পয়েন্টগুলো রিসার্চ একাডেমি ফর মেডিকেল ফিকহ এন্ড ইসলামিক ট্রিটমেন্ট (RAMFIT) এর ক্লাস ও বিভিন্ন অনলাইন ফিকহ ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা। কোনো ব্যাপারে জিজ্ঞাসা থাকলে আলেমদের থেকে বিস্তারিত জেনে নিবেন।
লেখক : নার্স ও পুষ্টিবিদ,কক্সবাজার।
syedahmedtanshiruddin@gmail.com

02/23/2026

এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ করুন—ঝুঁকি কমান
লেখক ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন
এন্টিবায়োটিক বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিস্কার: ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে আবিস্কার হয়েছিল এন্টিবায়োটিক। জীবাণুনাশক ঔষধকে বলা হয় এন্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট বলা হয়। এর মধ্যে এন্টিবায়োটিক একটি। প্রথম আবিস্কৃত এন্টিবায়েটিক দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, পেনিসিলিন আবিষ্কারের ১০ বছরেরও কম সময়ে, এমনকি স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কারের জন্য পাওয়া নোবেল পুরস্কার গ্রহণের আগেই এক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া হয়ে ওঠে পেনিসিলিন-প্রতিরোধী। সেই থেকে গত ৭০ বছর ধরে ব্যাকটেরিয়া অার মানুষে চলছে ‘ইঁদুর-বেড়াল খেলা’। আবিষ্কৃত হয়েছে নতুন প্রজন্মের নতুন প্রজাতির অ্যান্টিবায়োটিক। তার সঙ্গে তাল রেখে ব্যাকটেরিয়াও গড়ে তোলে নতুন নতুন প্রতিরোধী ক্ষমতা।অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকা অথবা প্রতিরোধী ক্ষমতা অর্জন করা ব্যাকটেরিয়ার একটি সহজাত প্রক্রিয়া। এটি মূলত শুরু হয় ব্যাকটেরিয়ার জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে। এটি তখনই ঘটে যখন কোনো এক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া কোনো এক সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের সম্মুখীন হয়। অ্যান্টিবায়োটিক থেকে নিজেদের বাঁচাতে ব্যাকটেরিয়া হয় নিজেদের কোনোভাবে পাল্টে ফেলে, অথবা এমন সব রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে যা দিয়ে অ্যান্টিবায়োটিককে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা যায়।
যদিও এটা অবধারিত যে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে এর বিরুদ্ধে একসময় না একসময় প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হবেই। কিন্তু আমাদের অসচেতনতা, স্বভাব এবং অবহেলার কারণে এসব প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার গুণ দ্রুতগতিতে।
আপনার সচেতনতাই পারে এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধ করতে:
আমরা না জেনে, না বুঝে যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করছি, এমনকি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই। ডাক্তাররাও প্রায়শই যথাযথ ল্যাব টেস্ট না করে অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশনে লিখে দিচ্ছেন অবলীলায়। ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে রোগের প্রকৃত কারণ বের না করে অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশন দিলে তাতে চিকিৎসায় ভুল হওয়ার অনেক বেশি আশঙ্কা থাকে। আর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স সম্পূর্ণ না করা। গবেষণায় দেখা গেছে, অল্পমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিরোধী হয়ে উঠতে সহযোগিতা করে এবং পরবর্তীতে বেশি মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলেও তাতে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকতে পারে। কাজেই অ্যান্টিবায়োটিকের সুপারিশকৃত ডোজ সম্পূর্ণ করা উচিত যাতে ব্যাকটেরিয়া সহজে প্রতিরোধী হয়ে উঠতে না পারে।
অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ব্যতীত আরও যেসব দৈনন্দিন চর্চা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তৃতিতে সহায়ক তা হল, ল্যাব টেস্টিং এবং মনিটরিংয়ের অভাব। হাসপাতালে বা নিজের বাড়িতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, রোগ সংক্ৰমণে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকা, ঘন ঘন হাত না ধোয়ার অভ্যাস, হাত ধুতে সাবানের ব্যবহার না করা, ঠিকভাবে হাত ধুতে না জানা, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ বিষয়ে জনসচেতনতার অভাব ইত্যাদি।
গবেষনা বলছে শীঘ্রই প্রচলিত এন্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়বে :
দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা (এএমআর) বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, দেশের আইসিইউতে ভর্তি রোগীর ৪১ শতাংশ কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে সাড়া দিচ্ছে না। ২৪ নভেম্বর ২০২৫ আইইডিসিআর ন্যাশনাল এএমআর সার্ভেলেন্স রিপোর্ট ২০২৫' প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত দেশের ৯৬,৪৭৭ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পাঁচটি আইসিইউতে ৭১ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হলে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যান-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (পিডিআর) জীবাণু সব নমুনার ৭ শতাংশ এবং আইসিইউতে ৪১ শতাংশ পাওয়া গেছে। মাল্টি-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (এমডিআর) জীবাণু সব নমুনার ৪৬ শতাংশ এবং আইসিইউতে ৮৯ শতাংশ দেখা গেছে। এছাড়া, হু ওয়াচ-গ্রুপ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেড়ে ৭৭ শতাংশ থেকে ৯০.৯ শতাংশ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ছিল সেফট্রিয়াক্সোন (৩৩ শতাংশ) এবং মেরোপেনেম (১৬ শতাংশ)।
২০২৩ সালের পর থেকে গাজায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার দশগুণ বেড়েছে; এবং মৃত্যুর প্রায় ৫৫ শতাংশই নবজাতক। জীবাণুনাশক যন্ত্রপাতি, অ্যান্টিবায়োটিক, এমনকি ক্লোরিন পর্যন্ত গাজায় প্রবেশে বাধা দেওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে—এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে অত্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু ও তথাকথিত সুপারবাগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ব্যাপক। ২০২৩ সালের এক জরিপে বলা হয়, পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া ছয়টির মধ্যে একটি সংক্রামক রোগ অ্যান্টিবায়োটিকে সারানো যাচ্ছে না। রক্ত, অন্ত্র, মূত্রনালি এবং যৌন সংক্রমণের মতো সাধারণ সংক্রামক রোগে ৪০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হলো, গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে বেশির ভাগ অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা দেখাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০৫০ সাল নাগাদ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ৭০ শতাংশে পৌঁছাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বছরে দুই লক্ষাধিক, যার মধ্যে ২৩ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। বিশ্বজুড়ে সাত লক্ষাধিক লোক মৃত্যুবরণ করে একই কারণে।বিশেষজ্ঞদের হিসাবে এখনই সাবধান না হলে ২০৫০ সালের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার কারণে প্রতি বছর এক কোটির বেশি লোক মারা যাবে এবং ১০০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতি হবে।
অ্যান্টিবায়োটিক সংরক্ষণ করুন, নিজের জীবন রক্ষা করুন:
বাজারে যেসব অ্যান্টিবায়োটিক প্রচলিত আছে, তার বেশির ভাগই এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। যে হারে জীবাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হচ্ছে, সে হারে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হচ্ছে না। যে গতিতে পৃথিবী থেকে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক নিঃশেষ হচ্ছে, তাতে অচিরেই চিকিৎসকদের সংক্রামক রোগ চিকিৎসায় হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হবে।
২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একইভাবে উদ্বেগজনক সংবাদ প্রচার করেছিল। দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ রানিং আউট অব অ্যান্টিবায়োটিকস শিরোনামের খবরে বলা হয়, অতি দ্রুত পৃথিবী থেকে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক নিঃশেষ হচ্ছে। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্টস ইন ক্লিনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট পাইপলাইন ইনক্লুডিং টিউবারকিউলোসিস শীর্ষক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক রিপোর্টে বলা হয়, বাজারে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আসা স্থবির হয়ে গেছে। রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু সংক্রমণের ভয়ে অতি ছোট সার্জারি করতেও চিকিৎসকেরা সাহস পাবেন না। বর্তমানে বাজারে যেসব অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যাচ্ছে, তা পুরোনো বা প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের সংক্ষিপ্ত রাসায়নিক রূপান্তরমাত্র। এসব অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছে না বা পারবে না।
বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধ বিষয়ক এবারে IEDCR গবেষণা করেছে । সীমিত গবেষণাপত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে যার মধ্যে বহু অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সুপারবাগ রয়েছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির আইসিইউতেই শতকরা ২৫ ভাগ ব্যাকটেরিয়া হল সুপারবাগ, যা কিনা সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী। এসব তথ্য নিঃসন্দেহে প্রকৃত চিত্রের খুব সামান্য প্রকাশ, কিন্তু আতংকিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এএমআর( এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্স) সম্মিলিত প্রয়াসে প্রতিরোধ করা সম্ভব:
অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই এর সমাধানও হতে হবে বৈশ্বিকভাবে। সত্যি বলতে কী, কোনো এক দেশ এককভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। কেননা উন্নত যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ এখন একই সূত্রে বাঁধা। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যতই নিশ্ছিদ্র হোক না কেন, সাদা চোখে অদৃশ্য, এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সুপারবাগের প্রবেশ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। এর প্রমাণ হল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে পৃথিবীর খুব কম দেশই আছে যেখান থেকে কোনো না কোনো অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সুপারবাগের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। সুপারবাগরবাগ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের বিরুদ্ধে এখনই তাই যুদ্ধ ঘোষণার সর্বশেষ সময়। এ যুদ্ধ কোনো সুনির্দিষ্ট পেশাজীবীদের নয়। এ যুদ্ধে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ, গণমাধ্যম, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, বিজ্ঞানী এবং ডায়াগনস্টিক ল্যাবসহ সবারই কিছু না কিছু করার আছে। আশার কথা হল, ২০২০ জাতিসংঘের ১৯৩টি দেশ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে লড়তে একমত হয়েছে এবং একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
সুপারবাগ বনাম মানুষ– এ লড়াইয়ে মানুষ জিততে পারবে কি?

নার্স ও পুষ্টিবিদ, কক্সবাজার
syedahmedtanshiruddin@gmail.com

Address

Coxs Bazar Chittagong
Santa Barbara, CA
4700

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Syed Ahmed Tanshir Uddin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Syed Ahmed Tanshir Uddin:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram